,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে বিএনপিতে কোন্দল, ২ কেন্দ্রীয় নেতা মাঠে

নুর এ আলম ছিদ্দিকী # একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে ঢাকার অদূরের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া – ৩ (সদর – বিজয়নগর) আসনে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।মনোনয়ন পেতে অনেকেই তৃণমূলের পাশাপাশি কেন্দ্রেও তৎপরতা বাড়িয়েছেন। তবে এ জেলায় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বয়সে প্রবীণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে নেমেছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থীও। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে এলাকার নেতাকর্মী,এলাকাবাসীসহ দলীয় হাইকমান্ডের ব্যাপক দৌড়-ঝাপ করছেন। গত মে মাস থেকে মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায় সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও তৎপরতা বেড়ে যায়। গোটা রমজান মাসে প্রার্থীদের পদাচারণায় মুখরিত হয় গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

হাইকমান্ডের যোগাযোগের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার জনবহুল স্থলে গণসংযোগ চালাচ্ছে। নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা, ই্ফতার মাহফিল, আলোচনাসভা, নেতাকর্মী সহ সকল জনসাধারণের মাঝে বিএনপির চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত ভিশন-২০৩০ একটি বই বিতরণ করছেন। তবে সাবেক মন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার অসুস্থতার কারণে তিনি মাঠে থাকতে পারছেন না বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার বিশেষ করে যুবক ভোটাররা প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন মুখ ও তরুণ নেতাদের বেশি পছন্দ করছেন। প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন সর্বাধিক সংখ্যক সদস্য নবায়ন ও সংগ্রহের লক্ষ্যে। বিএনপির প্রধান দুই প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এই আসনের পাঁচ বারের সাংসদ হারুন-আল-রশীদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

বিএনপির অন্য দুই সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা কমিটির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি এবং জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জেলার রাজনীতিতে হারুন আল রশীদের অনুসারী বলে পরিচিত। ২০১১ সালে উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাংসদ হিসেবে আওয়ামী লীগে মোকতাদির চৌধুরীর অভিষেক হয়, তাতে বিএনপি তাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হারুন-আল-রশীদের পরিবর্তে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলকে প্রার্থী করে। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুল হাই সাচ্চু এক লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৩ এবং বিএনপির প্রার্থী হারুন-আল-রশীদ ৮৬ হাজার ৪৯৮ ভোট পেয়েছিলেন। লুৎফুল হাই সাচ্চুর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোকতাদির চৌধুরী এক লাখ ২৪ হাজার ৩৫০ এবং খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ৮৪ হাজার ৫৩০ ভোট পান। নির্বাচনী ফলাফলে ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং সেই থেকে মাঠে থাকার পরও শ্যামল জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে পারেননি।

এ ছাড়া ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জহির। জেলা বিএনপির ২ বারের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন একজন দক্ষ সংগঠক । ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহির তৃনমূল নেতাকর্মীদের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনে একাধিক জনপ্রিয় বিকল্প প্রার্থী আছে। হারুন আল রশীদ বলেন, এই আসনটি বিএনপিকে উপহার দিয়েছিলাম। তৃণমূলের সবাই সঙ্গে আছে। তাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাব বলে আশা করছি। খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারপারসন। ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যে অবদান রাখছি, তা নিশ্চয়ই তার সুবিবেচনায় থাকবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com