,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া – ৪ আসনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের গুডবুকে নাছরুল্লাহ খান জুনায়েদ

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের গুডবুকে নাছরুল্লাহ খান জুনায়েদ। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে গত ৭ই মে ২০১৭ রাজনীতিতে নতুন ধারা ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত রূপকল্প-২০৩০ উপস্থাপন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

ভিশন ২০৩০ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সুনীতি, সুশাসন এবং সু-সরকার (৩ জি) সমন্বয়ে বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে পরিনত করার লক্ষ্যে ৩৭ টি বিষয়ে মোট ২৫৬ টি দফা তুলে ধরেন বেগম খালেদা জিয়া। গণমানুষের ভাগ্যবদলের এই ভিশন বাস্তবায়নের জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত জাতিয়তাবাদি ছাত্রদলের অভিজ্ঞ, ত্যাগী, মেধাবী, তরুণ ও উদীয়মান নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে চাচ্ছেন।

সংশিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে দেশের ক্লান্তিকালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মাত্র ৪ বছরে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির অভিশাপ থেকে মুক্ত করে অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার ইমাজিং টাইগার হিসাবে বাংলাদেশকে রুপান্তরিত করেন। যেহেতু দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও আগামীতে তারেক রহমানকে দলের নেতৃত্বে আনতে চাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে সুসংহত করতে দলের তরুণ নেতাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের জাতীয় সংসদ সদস্য করে আনাটাকে অপরিহার্য মনে করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের গুডবুকে আছেন নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সিপাহসালা, এক সময়কার ছাত্রদলের ডাকসাইডের নেতা, সূর্যসেন হলের সাবেক আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, লন্ডন স্কুল অফ কমার্স অ্যান্ড আইটির চেয়ারম্যান, তরুণ রাজনীতিবিদ নাছরুল্লাহ খান জুনায়েদ।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আর্দশ বুকে ধারন করে নাসরুল্লাহ খান জুনায়েদ স্কুল জীবন থেকেই জড়িয়ে পরেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে। ১৯৮৬ সালে ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সদস্য, পরবর্তীতে সহ-সম্পাদক, যুগ্ন সম্পাদক হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৯৩ সালে মাষ্টার দ্যা সূর্যসেন হলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য (সভাপতি ফজলুল হক মিলম, সাধারণ সাম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম) একই সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মেম্বার নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন (সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরি এনি-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুন নবী খান সোহেল)। তৎকালীন সময়ে ছাত্রদেলের এই আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাহসী, মেধাবী ও দক্ষ সংগঠকদেরকেই এই পদে রাখা হতো পরবর্তীতে ছাত্রদলের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সুবিবেচনায়।

মাহবুবুল হক বাবলু ১৯৮৩ সালে আবুল কাসেম চৌধুরি ও জালাল আহমেদ কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন, পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে সাধারণ সম্পাদক হন। সানাঊল হক নীরু আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন, পরবর্তীতে যুগ্ন আহ্বায়ক হন।গোলাম ফারুক অভি ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন, পরবর্তীতে এমপি হন। হাবিবুন নবী খান সোহেল আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন পরবর্তীতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি হন,বর্তমানে বিএনপির তিনি যুগ্ন সম্পাদক।

নাসরুল্লাহ খান জুনায়েদ এর পরবর্তী কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হন বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোয়ার হোসেন রানা কে আহ্বায়ক করে সদস্য এবিএম মোশারফ হোসেন, সাহাবুদ্দিন লাল্টু, নাসরুল্লাহ খান জুনায়েদ এবং মনির হোসেন এই ৫ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রদল কমিটি করেন। বর্তমানে এবিএম মোশারফ হোসেন ও নাসরুল্লাহ খান জুনায়েদ ছাড়া বাকি সবাই রাজনীতি থেকে নির্বাসিত। সাবেক এই ছাত্রদল নেতা নিজেকে শুধু ছাত্র রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। নিজেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ১৯৯৮ সালে এই সাবেক ছাত্রদল নেতা উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান। রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় প্রবাসেও তিনি বিএনপিকে সু-সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক দল (জাসাস) এর আহ্বায়ক এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্ঠা ছিলেন।

সম্মেলিত পেশাজীবী পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখা গঠন করেন, বর্তমানে তিনি সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২৪ অগাস্ট ২০১৪ সালে এ “স্ট্রাটেজি ফর এ প্রোসপেরিয়াস বাংলাদেশ” নামে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রায় ৩৫০ জন প্রফেশনালদের কে নিয়ে তারেক রহমানকে প্রধান অতিথি করে সেমিনার করেন। তারেক রহমান শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো, শক্তি ও পরিবেশ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বর্তমানে এই সাবেক ছাত্রনেতা তারেক রহমানের নিজস্ব তত্ত্বাবধায়নে গঠিত বিএনপির বহির্বিশ্ব সম্পর্কিত বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত এই সাবেক ছাত্রনেতা।

যুক্তরাজ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে রয়েছে তার আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা। যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন লন্ডন স্কুল অফ কমার্স অ্যান্ড আইটি মত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। একদিকে রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা বিষয়ক অভিজ্ঞতা এই দুই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বিএনপির ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে সুফল পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বিএনপির হাইকমান্ডদের এক নেতা বলেন বিএনপি অতীতেও প্রবাসী ছাত্রদলের নেতাদের মূল্যায়ন করেছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন। তিনি বলেন ২০০১ সালে চাঁদপুর জেলায় কচুয়া থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা সদস্য আ ন ম এহসানুল হক মিলন কে নমিনেশন দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছিলেন । শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি ব্যাপক সফলতা অর্জন করেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com