,

খালেদার ইফতারে বিদিশার পাশে সামা ওবায়েদ বেদিশা

বিশেষ প্রতিবেদক #  এবারের বিএনপি আয়োজিত ইফতারের বড়  আকর্ষণ ছিল পতিত স্বৈরাচার এরশাদের সাবেক স্ত্রী আইটেম গার্ল বিদিশা ছিদ্দিকী তার পাশে ছিলেন প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা আইটেম গার্ল সামা ওবায়েদ বেদিশা। সাংবাদিক সহ সকলের দৃষ্টি ছিল সাবেক আইটেম গার্ল বিদিসা এবং হালের আইটেম গার্ল বেদিশা।সকল অন লাইন পত্রিকায় সহ বেশ কিছু জাতীয় দৈনিকে প্রাধান্য পায় এই দুই আইটেম গার্লের ছবি।মঞ্চের চাইতে সকলের দৃষ্টি ছিল এই টেবিলের প্রতি।

এক প্রবীণ নেতা দুঃখ করে বলেন এই ভাবে হাই সোসাইটির কল গার্ল থাকবে জানলে ইফতার পার্টিতে ই আসতাম না।বিএনপির অনেক সাবেক এমপি সিনিয়র নেতারা চেয়ার না পেলে ও জোটের নেতাদের টেবিলে মুল আকর্ষণ ছিল বিদিসা এবং বেদিশা। বিদিসাকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে অধিকাংশ প্রশের জবাব দেন বেদিশা। একজন আক্ষেপ করে বলেন তারেক এবং বেগম জিয়ার কারনে বিদিসার সংসার ভাংগে। বিদিসাকে এনে কি করতে চাচ্ছেন বেগম জিয়া? হয়তো ছিলের ভুলের সংশোধন করতে চাচ্ছেন।যে রওশনের জন্য সেদিন বিদিসাকে জেলে পুরা হয়েছিল সে রওশন ও বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বেইমানী করে আজ সংসদে বিরুধি দলের নেত্রী। এখন হাসিনার সব চাইতে বিস্বাস ভাজন। আর বেদিশা হচ্ছেন কে এম ওবায়দুর রহমানের একমাত্র সন্তান মাতৃ পরিচয় হীন বেদিশা।

বেশ কদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় উঠে বেদিশাকে নিয়ে। আর বেদিশার অতি মুল্যায়নের কারনে ত্যাগী নারী নেত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন।আর অপেক্ষা করছেন বিদিসা তার স্বামী হারানোর প্রতিশোধ নেয় আর বেদিশা তার বাবার মত গাদ্দারি করে সরকারের সাথে আতাত করে দলের চরম সর্বনাশ করে সরকারের সাথে আতাত করে। পাঠক সে দিনটি দেখার অপেক্ষায় আছেন।টিভি টক শোতে পারদর্শী সামা ওবায়েদ বেদিশা ভালই করছেন? টক শো তে নীতি আদর্শের কথা বললেও ব্যক্তি জীবনে তার নীতি বলতে কিছুই নেই। বরাবরই ছেলে বন্ধু দ্বারা পরিবেষ্টিত বেদিশাকে ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলা নেত্রীরা বেগম জিয়া তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।এরই মধ্যে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সামা ওবায়েদ বেদিশা।

ডেমোক্রেসি ইফতার পার্টিতে আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদুরে সাথে একই টেবিলে হাসি ইফতার করা নিয়ে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিবেদক ১২ ই জুন তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বেগম জিয়ার সাথে কথা বলতে বলেন। বিএনপির অন লাইন এক্যাক্টেবেটিসরা চরম ক্ষুব্ধ প্রতিকায় ব্যক্ত করেন। এবং তাকে বর্জনের আহবান জানান।তিনি প্রায়ই টক শোতে একটা কথা বলেন তার পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতিতে এসেছেন। আমাদের প্রতিবেদক জানতে চেয়েছিল তিনি তার পিতার কোন স্বপ্নটা বাস্তবায়ন করতে চান। তার বাবা সাবেক ছাত্র নেতা প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামীলীগের সাবেক উপমন্ত্রী, ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর খন্দকার মোস্তাকের মন্ত্রী সভার মন্ত্রী ছিলেন, জেনারেল জিয়ার আমলে জেলে যান। জেল থেকে বাহির হয়ে ৭৯ সংসদ নির্বাচন করে নির্বাচিত হন এবং জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী সভার সদস্য হিসেবে যোগ দেন, এক পর্যায়ে জেনারেল জিয়ার মৃত্যুর পর বেগম জিয়ার আমলে বিএনপির মহাসচিব হন।

এরশাদ সরকারের সাথে আতাতের কারনে দল থেকে বহিষ্কার হন। বিএনপি ওবায়েদ নামে দল গঠন করেন ৯০ সালে জনতা পার্টি নামে নতুন দল করেন, ৯৬ সালে আবার বিএনপিতে যোগ দেন। জেল হত্যার আসামী হিসেবে দীর্ঘ দিন কারারুদ্ধ ছিলেন, ২০০৭ সালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেন।তিনি তার পিতার কোন আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতিতে এসেছেন এই প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। তার পিতার মুল আদর্শ ছিল সুবিধাবাধি রাজনীতি, সব সময় সরকারের সাথে আতাত করে চলা।সাম্প্রতিক সামা ওয়বায়েদ বেদিশার ঘটনা বলী তৃণমূল নেতাকর্মী দের মনে সন্দেহ জেগেছে তার বাবার জন্য বেগম জিয়াকে মুল্য দিতে হয়েছে সামা ওবায়েদ বেদিশার জন্য ও মুল্য দিতে হবে।জাতীয় কাউন্সিলের প্রায় তিন মাস পরও নতুন স্থায়ী কমিটি ঘোষণা করতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, এরই মধ্যে ঘোষিত ৪১ সদস্যের কমিটিতে বেশ কিছু পদ বা জায়গায় যে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এটা তিনিও বুঝতে পেরেছেন। দলে এ নিয়ে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। ফলে কে সন্তুষ্ট বা কে অসন্তুষ্ট হবেন এমন ভাবনায় চলছে কালক্ষেপণ। পাশাপাশি ঘোষিত কমিটির ব্যাপারে ছেলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও অসন্তোষ প্রকাশ করায় কমিটি আটকে গেছে।যদিও খালেদা জিয়া তাঁর ‘ভুল’ এ পর্যন্ত কারো কাছে স্বীকার করেননি। বরং প্রথমদিকে এ বিষয়ে কথা তুললে বা প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি উল্টো ‘রিঅ্যাকট’ করেছেন প্রায় সবার সঙ্গে। সবাইকে থামিয়ে দিয়েছেন এই বলে যে তিনি যা করছেন তাই সঠিক। কিন্তু এ নিয়ে দিনে দিনে প্রতিবাদ ও অসন্তোষ সমানতালে বেড়েছে।

কিছু কিছু জায়গার অসংগতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন নেতারা। তারেক রহমানের কাছ থেকেও বার্তা এসেছে, যা হয়েছে সঠিক হয়নি।বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মতে, এসব কারণে সম্প্রতি হয়তো কিছুটা আত্মোপলব্ধি হয়েছে খালেদার। তাঁদের মতে, বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য যাওয়ায় চেয়ারপারসন বুঝতে পেরেছেন, ঘোষিত কমিটির দু-একটি ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই ক্ষেত্রগুলোয় কোনো রদবদল ঘটবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিয়র এক নেতা বলেন, কমিটি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারা তাঁকে ভুল বুঝিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন—এটিও হয়তো  চেয়ারপারসনের উপলব্ধিতে এখন আসতে পারে; যা হয়তো তিনি কাউকে বলতে পারছেন না। তবে এ জন্যই যে বাদবাকি কমিটি ঘোষণায় দেরি হচ্ছে, এটি বোঝা যায়। 

শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের মতে, ঘোষিত কমিটির কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতার বিষয়টি হয়তো বিএনপি নেত্রী বুঝতে পেরেছেন। ফলে বাদবাকি কমিটি তিনি দেখে-শুনে সতর্কতার সঙ্গে দেবেন বলেই মনে হয়। কমিটি ঘোষণায় দেরি হওয়ার এটি অন্যতম কারণ।গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কমিটি ঘোষণায় কেন দেরি হচ্ছে তা আমার জানা নেই। তবে যতদূর মনে হচ্ছে; খালেদা জিয়া ভয় পাচ্ছেন। কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল হবে—এর কূলকিনারা করতে না পেরে সম্ভবত তিনি এখন বসে আছেন। বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী বলে পরিচিত এই বুদ্ধিজীবীর মতে, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দিলে যা হবার তাই হয়েছে বিএনপিতে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থায়ী কমিটিসহ অন্যান্য কমিটি যেকোনো দিন ঘোষণা হবে। চেয়ারপারসন এ নিয়ে কাজ করছেন দাবি করে তিনি বলেন, এ রকম বড় একটি দলে সব পর্যায়ে কমিটি সমন্বয় করতে হয়তো কিছুটা সময় লাগছে। তা ছাড়া কমিটি নিয়ে চেয়ারপারসন হয়তো বেশি সতর্ক বলেই দেরি হচ্ছে, যোগ করেন মির্জা ফখরুল।   সূত্র মতে, নতুন কমিটিতে দুই মহিলা সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়েও দলের সর্বস্তরে কথা উঠেছে। বলা হচ্ছে এই দুজনকে পদায়ন করতে গিয়ে দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। অনেকেই কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদের অবদানের কথা অনেকে স্বীকার করলেও হঠাৎ করে তাঁকে ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক করায় দলের ভেতরে-বাইরে প্রায় সবাই বিস্মিত। কারণ রাজনীতিতে তিনি নবীন।

সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার আগে তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সভাপতি; যেটি আবার বিএনপির অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা হলো শামা নিজেই এত বড় পদ চাননি। দলে একটি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদ পেলেই তিনি খুশি ছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতাও নেই। তাঁকে সাংগঠনিক সম্পাদক করায় দলে সিনিয়র-জুনিয়র সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সাবেক ছাত্র নেত্রীরা প্রায় সবাই এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ। বাবা কে এম ওবায়েদুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করা ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজাদা মিয়াকে এখন রাজনীতি করতে হবে শামার নির্দেশনায়।

একইভাবে তিনবারের মেয়র ও এমপি রাজবাড়ী জেলার আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে করা হয়েছে সহসাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে তিনিও পদমর্যাদায় শামার নিচে চলে গেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর ওই দুই নেতাসহ অনেকেই শামার বিষয়ে খালেদা জিয়ার কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জানতে চাইলে শাহাজাদা মিয়া অবশ্য এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি পদ নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমার নেতা ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা বড় পদ পাওয়ায় আমি খুশি।’ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ‘এখন কিছু বলতে চাই না। সময় হলে বলব।’প্রসঙ্গত, শামা ওবায়েদ ও বিলকিস শিরিনের বড় পদের উদাহরণ দিতে গিয়েই সম্প্রতি গুলশান কার্যালয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। বহু বছরের পরীক্ষিত নেতা শিরিন সুলতানা ও রেহেনা আক্তার রানু ওই দুজনের উদাহরণ টেনে তাঁদের চেয়ে সিনিয়র পদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন খালেদা জিয়ার কাছে।

আর এতেই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে খালেদা এখন শিরিনের বদলে আরেক মহিলা নেত্রী সুলতানা আহমেদের হাত ধরে হাঁটছেন, যা নিয়ে বিএনপিতে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।এদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার আগে বিলকিস শিরিন ছিলেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও মহানগরী মহিলা দলের সভাপতি। কিন্তু ওই জেলার সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র সাত-আটজন নেতাকে টপকে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। অনেকের মতে, শামার পদকে যৌক্তিক করতেই বিলকিস শিরিনকে একই পদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে সবার সঙ্গে সদ্ভাব রেখে তিনি দলকে কতটা শক্তিশালী করতে পারবেন তা নিয়ে প্রায় সবারই সংশয় রয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com