,

জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৩৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে গোল টেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব ভি আই পি লাউঞ্জ (২য় তলা) ঢাকায় খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্মৃতি পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৩৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে “মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদান” শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিশেষ অতিথি  হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এ্যাড. সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া, সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ছড়াকার আবু সালেহ, অধ্যাপক ড. সুকোমল বডুয়া, অধ্যাপক ড. মোঃ খলিলুর রহমান, কবি ফেরদৌসী মাহমুদ, রফিকুল ইসলাম, আল মামুন প্রমূখ এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ত্ব করেন ড. খোন্দকার আকবর হোসেন (বাবলু) ও অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. সৈয়দ রনো। শহীদ প্রেসীডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার প্রতি মাগফিরাত কামনার জন্য একমিনিট দাড়িয়ে নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

Syead Rano.05

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর ৩৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সৈয়দ রনো স্বরচিত কবিতা “মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ” পাঠ করেন।

ক্লান্ত বিছানায় এপাশ ওপাশ ফিরি
স্ত্রী-সন্তান গভীর ঘূমে অচেতন
রাতের কোনো এক প্রহর
বেজে উঠে টুংটাং শব্দ
কেটে যায় তন্দ্রার ঘোর
বেলকুনিতে দাঁড়াই
চারপাশে ভৌতিক নীরবতা
যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল নেই
নেই কোনো মানুষের উর্ধশ্বাস
ছুটে চলার করুণ চিত্র

গভীর ঘুমে অচেতন মহল্লার প্রতিটি তল্লাট
কেবল কতোগুলো অর্ধ উলঙ্গ সোডিয়াম বাতি দেখি
দেখি জোনাকীর মতো মিট মিট করে জ্বলছে
জ্বলছে দেয়াল সাটানো মহামানবের ঘুমন্ত ছবি
না! বিখ্যাত কোনো চিত্রকল্প নয়
নয় কোনো কারুকাজ
সাধারণ রঙতুলিতে আঁকা একটি ছবি

সাধারণ হলে কি হবে
হঠাৎ ছবিটি জীবন্ত হয়ে উঠে
ঘুরজুড়ে বিলাতে থাকে সুমিষ্ট ঘ্রাণ

আমি তন্ময় হয়ে দেখি নগরায়নে গড়ে ওঠা
দালান কোঠা
যেখানে বিলীন হয়েছে সারি সারি পাইনের বন
বিনষ্ট হয়েছে বিশাল ধান কাউনের মাঠ
প্রকৃতির বুক চিরে তর তর করে বইছে রক্ত নহর

গত অমবস্যার গভীর অন্ধকারে
ঐ খানে দেখেছিলাম বাতাবী লেবুর বাগান
রক্তকরবীর চারা
জুঁই চামেলী টগর হাসনা হেনা ফুলের
গন্ধে মৌ মৌ বাতাস
এখন আর নেই হারিয়ে গেছে সব
হারিয়ে গেছে কালের বিবর্তে কাল
তাহলে কি আমিও হারিয়ে যাব একদিন

ভাবছিলাম স্মৃতির এ্যালবাম খুলে
হঠাৎ প্রচ- গুলির শব্দ
ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় সার্কিট হাউজ
ক্ষণিকেই বাংলার ভাগ্যাকাশে
নেমে আসে ঘোর অন্ধকার
থমকে পড়ে গোটা দেশ
সমরে সাহসী সেই বলিষ্ঠ কন্ঠের মহান পুরুষ
বাংলার মানচিএ বুকে আগলে মেঝেতে পড়ে থাকেন

কালের সাক্ষী হয়ে পাশে পড়ে থাকে রৌদ্রুচশমা
মানুষের এক মুঠো ভাত
ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায়
ছুটেছেন বাংলার আনাচে কানাচে শ্যামলীয়া গাঁয়
শহীদ হন সেই মহান স্বধীনতার ঘোষক
আমার জানতে ইচ্ছে করে
তোমার রক্তের বদলে
কতটুকু এগিয়েছে বাংলাদেশ ?

চট্টগ্রামের সার্কিট হাইজের মেঝেতে
লেগে থাকে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ
দূর থেকে ভেসে আসে
অর্ধাহারী অনাহারী মানুষ কিংবা
পশুপাখির করুণ আর্তনাদ
যতোদূর চোখ যায় দেখি চার দেয়ালে বন্দী
কারফিওঘেরা পূর্ণিমা রাত
আকাশ দেখি গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা
অপুষ্টিতে ভোগা অর্ধাকৃতির এক ফালি চাঁদ
ঘুমিয়ে পড়েছে আকাশের বুকে

দেখি দেয়ালে সাটানো সেই চিরচেনা ছবি
শাহাদৎ আঙুল উঁচিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছেন
ছবি খানিকটা নড়েচড়ে ওঠে
কানের কাছে ফিস ফিস করে বলে
যারা একাত্তর দেখেনি
যারা কালোর ঘাট বেতার কেন্দ্রের
স্বধীনতার ঘোষণা শোনেনি
যারা রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি
তাদের বলছি
দেশটা স্বধীন হয়েছে স্বনির্ভরতার জন্য
দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য
বন্ধ হবে বৈষম্যের দ্বার
উন্মুক্ত হবে মত প্রকাশের অধিকার

যারা চুয়াত্তরের ভয়াল দুর্ভিক্ষ দেখেনি
দেখেনি মানুষের হাহাকার
অর্ধাহারে অনাহারে
বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরা মানুষের কংঙ্কাল
তাদের বলবো
বাংলাদেশের কলঙ্ক মুছে
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি
মানুষের মুখে তুলে দিয়েছি
দু’বেলা দু’মুঠো ভাত
তাইতো আজ ইতিহাস এগিয়ে গেছে বহুদূর

আমার চোখের সামনে
ইতিহাসের বাস্তব চিত্র
স্মৃতি মন্থনে নির্মম হয়ে ওঠে
মনের গভীরে চলে ভাঙ্গনের খেলা
অসহ্য মানষিক যন্ত্রণায়
রেলিং ধরে খোলা আকাশের দিকে তাকাই
দেয়ালে সাটানো
সেই মহামানবের বজ্র শপথ মুষ্ঠিবদ্ধ হাত
দেয়াল ভেদ করে ক্রমশ আকাশের দিকে ওঠে যায়
সপ্ত আকাশ ভেদ করে আরশ কুরসীতে
এরপর হাত দুটি মেলে প্রর্থনা করেন
শত ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে
দেশ এগিয়ে যাক আগামীর পথে
গড়ে উঠুক ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ
আমি তাকিয়ে থাকি গভীর অনুরাগে
দেখি স্বধীনতার ঘোষকের চোখে মুখে তৃপ্তির হাসি
হাস্যোজ্জ্বল নেতার কণ্ঠে স্পষ্ট শুনতে পাই
স্বধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা
‘আমি মেজর জিয়া বলছি’

বজ্র কণ্ঠে স্বধীনতা যুদ্ধের ঘোষণায়
লক্ষ কোটি আবাল বৃদ্ধ বণিতা
ঝাপিয়ে পড়েন যুদ্ধে
চুলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
নয় মাস প্রত্যক্ষ সমরে
অবতীর্ণ হয়ে ছিনিয়ে আনেন
লাল সবুজের পতাকা
অখ- মানচিত্র
অতঃপর বাংলাদেশ

যুদ্ধ শেষে ক্লান্তি মুছে নেমে আসেন
পদ্মা মেঘনা যমুনার মোহনায়
শহীদ জিয়ার শরীর দিয়ে
চুইয়ে চুইয়ে পড়ে অফুরন্ত লবণাক্ত ঘাম
মিশে যায় পদ্মা নদীর বহমান স্রোতে
হাতে তুলে নেন উন্নয়নের কোদাল
গবীর দুখিদের যাপিত জীবনের কলরব শুনে
তাদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলান
নেতা দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেন
‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! বাংলাদেশ!’

[URIS id=12926]

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং বিচার বিভাগ ও মিডিয়ার স্বাধীনতার জন্যে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি গঠনে তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবার জন্যে সাহসী তরুনদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন- শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জাতীয়তাবাদী দলকে পরিক্ষিত সৈনিকদের দ্বারা পুর্ণগঠন করে শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মত সাহসী নেতা আর হয়ত জন্মাবে না। তার রেখে যাওয়া আদর্শকে বাস্তবায়নের জন্যে আমাদের প্রত্যেককে আদর্শবান মানুষ হিসেবে নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে।

আগামী দিনে বেগম খালেদা জিয়ার নেত্রীত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, সেই আন্দোলনে সবার ভূমিকা থাকবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে সভাপতির বক্তব্যে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন (বাবলু) গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কারা নির্যাতিত নেতাদের পাশে দাড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সভা সমাপ্ত ঘোষনা করেণ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com