আজ শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
National Election
কৃষ্ণচূড়া-জারুল-সোনালুদের জয়হোক

কৃষ্ণচূড়া-জারুল-সোনালুদের জয়হোক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাদিকুল ইসলাম সাচ্চু # খুব ইচ্ছে হয় একটা মাঠজোড়া বাগানের। তা কমপক্ষে ৫ একর জায়গার! অাপনি হয়তো একে ঘোড়ারোগ বলবেন। হতে পারে, রোগ কি অার মানুষকে বলে অাসে। অামার হয়তো ঘোড়ারোগই হয়েছে। অাচ্ছা এতবড় দেশ থেকে ৫ একর জায়গার একটা মাঠ পাব না কিংবা এই যে এত রাস্তা হচ্ছে সেখান থেকে একটা রাস্তা। যেখানে সোনালু-জারুল-কৃষ্ণচূড়া-রাঁধাচূড়া- শিমুল- পলাশ-কদম-বকুল-হিজল-বরুনা অার গাবের বন হবে। সারাটা বছর যেখানে লেগে থাকবে হাজার ফুলের মেলা।

এবার অাসি অাজ কি দেখলাম সারাদিন?
পলাশ অার শিমুলের দিন শেষ হয়েছে বেশ অাগেই। এখন চলছে কৃষ্ণচূড়া-জারুল-সোনালুদের দিন। সকাল ৭ টায় বের হয়ে ৮ টার মধ্যে গিলন্ড রংধনু রেষ্টুরেন্টে নাস্তার টেবিল পর্যন্ত পৌছানোর অাগেই দেখা হয়ে গেল কৃষ্ণচূড়া অার জারুলের সাথে। কৃষ্ণচূড়াকে বেশ খাতির করে লাগিয়েছে সবাই, কিন্তু জারুলের বেলায় বেশ অবহেলা লক্ষ্য করলাম। রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ে বেড়ে ওঠেছে। তাতে অবশ্য ফুল ফোটাতে তার অাপত্তি নেই। সবথেকে বড় জারুল একটি দেখলাম জয়নগর স্কু্লের বিপরিতে এক বাড়ির সামনে, দ্বিতীয়টি দেখলাম জয়নগর স্কুলের মাঠের পাশে। অার কৃষ্ণচূড়া দেখে মুগ্ধ হয়েছি মুন্নু মেডিকেল কলেজের ভেতর অার ঘিওর সরকারি কলেজে। যদি মানিকগনঞ্জে কৃষ্ণচূড়ার বন বলে কিছু বোঝাতে হয় তাহলে ঘিওর সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসকে বোঝাতে হবে। এত বড় কৃষ্ণচূড়া খুব কমই অাছে সম্ভবত। এছাড়া বানিয়াজুরি থেকে অারিচা পর্যন্ত হাইওয়েতেও বেশ কিছু কৃষ্ণচূড়া মন কেড়েছে।

সবথেকে কষ্ট হয়েছে সোনালুর দেখা পেতে। প্রায় তিনশো কিঃ মিঃ চলার মধ্যে সোনালুর দেখা পেয়েছি সর্বোচ্চ চার কি পাঁচটির। ঘিওর উপজেলা সদরে ঢোকার মুখেরটি উল্লেখযোগ্য। এত কম দেখে মনটা বেশ খারাপই লাগলো। তাই একটা প্রস্তাব রাখতে চাই, হেমায়েতপুর থেকে সিঙ্গাইর হয়ে বালিরটেক পর্যন্ত যে রাস্তাটি ফোর লেন হচ্ছে তার দু’পাশে এখন অার কোন গাছ নেই। এই রাস্তাটি জুড়ে শুধু সোনালু-জারুল-কৃষ্ণচূড়া-রাঁধাচূড়া- শিমুল- পলাশ-কদম-বকুল-হিজল-বরুনা অার গাবের সমারোহ দেখতে চাই, একটা জায়গা থাকুক যেখানে শুধু শান্তি ও উৎসব থাকবে। এমনটা পূর্ণ হতে পারে দেশের সরকার প্রধান এবং জেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে।

বৃক্ষ মানুষকে শুধু দিতেই জানে নিতে নয়। সৌন্দর্য কে না ভালোবাসে, নরম প্রকৃতি, সুন্দর পরিবেশই পারে মানুষকে মানুষ করে তুলতে। যে হারে বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে তাতে যে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে একদিন দ্যাখা যাবে মানুষ আর মানুষ নেই। প্রকৃতির ছোয়া ছাড়া মানুষ, মানুষ হতে পারে না। প্রশাসনের নিকট একটাই দাবি প্রতিটি ইউনিয়ন ভরে উঠুক বৃক্ষে, প্রতিটি রাস্তার দু’পাশে বেড়ে উঠুক বৃক্ষ, পূর্ণ হোক বনাঞ্চল, রক্ষা পাক পরিবেশ ও মানুষ। শুধু প্রশাসন নয় আমাদেরও বৃক্ষ রপনে সবাইকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com