,

পীর হাবিব ও সৈয়দ বোরহান কবিররা কি আওয়ামী লিফলেটবাজ?

নুর এ আলম ছিদ্দিকীঃ মানবসেবামূলক কয়েকটি পেশার মধ্যে সাংবাদিকতা অন্যতম। অনেকেই আবার সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের অন্যতম একটি স্তম্ভ বলে ও মনে করেন। সততা আর নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে অনেক সাংবাদিক লাখো মানুষের ভালোবাসায় যেমন সিক্ত হয়ে নিজেকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন,তার বিপরীতে নানান ধরনের লোভ-লালসার মোহে পরে মিথ্যে আর বানোয়াট খবর পরিবেশন করার উদহারণ ও কম নয়।

অবশ্য তাদের জায়গা হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে। সৈয়দ বোরহান কবির ও পীর হাবিবুর রহমান সেই কলঙ্কিত সাংবাদিকদেরই যেনো প্রতিচ্ছবি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিএনপি দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া এখন লন্ডন অবস্থান করছেন। তিনি লন্ডন যাওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বক্তৃতায় বেগম জিয়াকে ঘিরে এক ধরণের নেতিবাচক মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলীয় কাঁদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি এ উপমহাদেশের বহু পুরোনো সংস্কৃতি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা বিষয়টিকে আওয়ামী লীগের জুজুর ভয় বা এক অজানা আতঙ্ক বলে মনে করছেন। তবে সৈয়দ বোরহান কবীর এবং পীর হাবিবুর রহমান নামে দুজন সাংবাদিক এক ভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনসাইডার নামে একটি অনলাইন পোর্টালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিন সদস‍্য তরিকুল ইসলাম,এমকে আনোয়ার ও লে,জে মাহবুবুর রহমানকে নিয়ে তিনটি বির্তকিত সাক্ষাৎকার ভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এত গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম থাকতে একটি অনলাইন পোর্টালে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতা সাক্ষাৎকার দিতে পারেন, তা কারো কাছেই বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়নি। রিপোর্ট তিনটি এই তিন নেতার নজরে আসলে তারা অবাক হন,এবং এই নামে কোন সংবাদপত্রের নাম শুনেছেন বলেও মনে করতে পারেনি। এবং ধিক্কার জানিয়ে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন।

তবে এই প্রতিবেদক খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, বাংলাদেশ ইনসাইডার নামক অনলাইন পোর্টালটির আগাগোড়া দায়িত্বে আছেন সৈয়দ বোরহান কবীর। তিনি আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই এমন একটি অপকর্ম করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। সাংবাদিকতার লেবাস ধারণ করে সারা জীবনই তিনি এমন অপকর্ম করে টাকার পাহাড় করেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বোরহান কবীর তার সাংবাদিকতার জীবনে এই ধরনের নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। তার ব‍্যক্তি জীবনও নানাভাবে বির্তকিত। দৈনিক আজকের কাগজ দিয়ে তার সাংবাদিকতা শুরু হলেও সাংবাদিকতার আড়ালে সারা জীবন তিনি অর্থ,নারী ও ব‍্যবসা বানিজ‍্য নিয়ে ব‍্যস্ত থেকেছেন।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, মোঃ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, অধ্যাপক আবু সাঈদ,ডাক্তার মোদাচ্ছের এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন ৯৬-২০০১ সালের আওয়ামী সরকারের সময়ে। ধীরে ধীরে এ সম্পর্ক মদ ও নারী পর্যন্ত পৌঁছায় বলে সর্বমহলে তৎকালীন সময়ে বেশ আলোচিত ছিল। মলি নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে রাজধানীর গ্রীণরোডে বসবাস করতেন এই বোরহান কবীর। সেখানে মদ ও নারীর আসরে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাদেরই নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সে সময়ে তৎকালীন তথ‍্য-প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদের এমন একটি অপকর্মের ভিডিও চিত্র ধারণ করেন বোরহান কবীর। আর এতেই আবু সাঈদকে ব্ল‍্যাকমেইল করে বিটিভিতে ‘পরিপ্রেক্ষিত’ নামক একটি অনুষ্ঠানের ঘন্টাব‍্যাপী চাঙ্ক পেয়ে যান বোরহান। এর সুবাধে দূর্নীতির প্রতিবেদন প্রচারের ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতড়ে নেন ব‍্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কাছ থেকে। একবার মদ‍্যপান অবস্থায় নাইমুল ইসলাম খানের তৎকালীন স্ত্রী তসলিমা নাসরিনকে জাপটে ধরে লাঞ্চিত হয়েছিলেন যা শেষ পর্যন্ত জুতাপেটা পর্যন্ত গড়ায় বলে বাজারে চাউর আছে। বিএনপি বিরোধী এই ষড়যন্ত্রে বোরহান কবীরের সাথে যুক্ত হয়েছেন পীর হাবীব।

তিনি তার পূর্বপশ্চিম অনলাইন পোর্টালে বোরহানের প্রতিবেদনগুলো প্রচার করে যাচ্ছেন। পীর হাবীব এক সময়ে মুজিববাদী ছাত্রলীগ করতেন। তার ভাই গত ৫ জানুয়ারীর বিনা ভোটের একজন এমপি বনে গেছেন। পীর হাবীব নানা সময়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে টকশোসহ ও গণমাধ্যমে বিরুপ মন্তব্য করে থাকেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা কর্মীদের মাঝে অবিশ্বাসের ধুম্রজাল তৈরীর জন্য আওয়ামী লীগের কিছু ব‍্যবসায়ী নেতা মাঠে নেমেছেন। তাঁরা বড় অঙ্কের টাকা লগ্নি করে বিএনপি নেতা কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে চান। সে লক্ষ্যে গণমাধ্যম নেতৃস্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে হাত করেছেন তারা।

পীর হাবিবুর রহমান তাদের মধ্যে একজন বলে একাধিক বিশ্বস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে। খবর নিয়ে জানা যায়,১৯৯২ সালে বাংলা বাজার পত্রিকার নির্মাণকালীন সময় থেকে জুনিয়র রিপোর্টার হিসেবে তার সাংবাদিকতার হাতে খড়ি,তারপর যুগান্তরের প্রকাশকালীন সময়ে বিশেষ সংবাদদাতা বনে যান। এ সময় বড়ো বড়ো ব্যবসায়ীদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভয় দেখিয়ে বিপুল কালো টাকার মালিক হন বলে জানা যায়।

এরপর বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেড বাংলাদেশ প্রতিদিন বের করলে তিনি সেখানে উপসম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। যুগান্তরের মালিক,যমুনা গ্রুপের কর্ণধার ব্যবসায়ী বাবুল আহমেদের সাথে বসুন্ধরার আহমেদ আকবর সোবহানের ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহ নানা ধরণের প্রতিযোগিতা রয়েছে,মূলত সে লক্ষ‍্যেই তিনি বিপুল অর্থের ভর্তুকী দিয়ে যুগান্তরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিদিন বের করেন। যুগান্তর থেকে বড়ো অংকের আর্থিক টোপে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনে যোগদান করান তৎকালীন আলোচিত-সমালোচিত পীর হাবিবকে যা একজন ব্যক্তির পেশাগত নৈতিকতা বিরুধী।

শুধু তাই নয়,যুগান্তরের ব্যবসায়িক অনেক পলিসি এবং ইনডোর ম্যানেজমেন্ট সহ অনেক গোপন খবরাখবর ফাঁস করে দেন তিনি। শাকুর মজিদ, রোকেয়া প্রাচী আর পীর হাবিবের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক। তবে রোকেয়া প্রাচী আর পীর হাবিবের মধ্যকার সম্পর্ক রাতের আধার পর্যন্তু গড়িয়েছে বলে সাংবাদিকদের আড্ডায় এ নিয়ে রসালো আলোচনা হয়ে থাকে।

অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদনে যা বেড়িয়ে এসেছে,তা সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার নামে অর্থের কাছে বিক্রি হওয়া ছাড়া আর বেশী কিছু নয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com