,

বিএনপিকে ঘিরে ভন্ড পীর হাবিবের হলুদ সাংবাদিকতা

নুর এ আলম ছিদ্দিকীঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে লন্ডন যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ সরকার ও আওয়ামী লীগ নানা ধরনের ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ বিএনপির। রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত কাদা ছোড়াছুড়ি দেশীয় রাজনীতির চিরায়ত রুপ। এর মাঝে কিছু অপরাজনীতির চর্চাও দেখা যায়। কিন্তু সাংবাদিক সমাজ তাদের অনুসন্ধানী রিপোর্টের মাধ্যমে সত‍্য-মিথ‍্যার বিচার বিশ্লেষণ করে প্রকৃত সত‍্য পাঠক সমীপে তুলে ধরেন। বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা কর্মীদের মাঝে অবিশ্বাসের ধুম্রজাল তৈরীর জন্য আওয়ামী লীগের কিছু ব‍্যবসায়ী নেতা মাঠে নেমেছেন বলে খোঁজ পাওয়া গেছে। তাঁরা বড় অঙ্কের টাকা লগ্নি করে বিএনপি নেতা কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দিতে চান। সে লক্ষ্যে গণমাধ্যম নেতৃস্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে হাত করেছেন তারা। পীর হাবিবুর রহমান তাদের মধ্যে একজন বলে একাধিক বিশ্বস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়,পীর হাবিব আগা-গোড়াই আওয়ামী ঘড়ানার সাংবাদিক। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি মুজিববাদী ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। তিনি তার পূর্বপশ্চিম বিডিনিউজ নামক অনলাইন পোর্টালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সন্মানিত সদস‍্য তরিকুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, লে.জে. মাহবুবুর রহমান ও ব‍্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে নিয়ে সাক্ষাৎকার ভিত্তিক পরপর ৪ টি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। উল্লেখিত চার সিনিয়র নেতাই এমন কোন সাক্ষাৎকার কাউকে দেননি বলে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন। যা বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল গুলো ছাপিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিকতার জন‍্য বারবার চাকুরী হারিয়েছেন এই পীর হাবিব। সাংবাদিককতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আপন ভাইকে সংসদ সদস্য পর্যন্ত বানিয়েছেন। সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে কোটিপতি বনে গিয়ে সোনারগাঁও,শেরাটনে নারীবেষ্টিত প্রমোদানন্দে রাত্রি যাপনে অভ‍্যস্থ হয়ে পরেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়,১৯৯২ সালে বাংলা বাজার পত্রিকার নির্মাণকালীন সময় থেকে জুনিয়র রিপোর্টার হিসেবে তার সাংবাদিকতার হাতে-খড়ি। তারপর যুগান্তরের প্রকাশকালীন সময়ে সেখানে বিশেষ সংবাদদাতা বনে যান। এ সময়ে বড় বড় ব‍্যবসায়ীদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভয় দেখিয়ে তিনি বিপুল কালো টাকার মালিক হন বলে জানা যায়। এরপর বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেড বাংলাদেশ প্রতিদিন বের করলে তিনি সেখানে উপ-সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুগান্তরের মালিক যমুনা গ্রুপের কর্নধার ব‍্যবসায়ী বাবুল আহমেদের সাথে বসুন্ধরা গ্রুপের কর্নধার আহমদ আকবর সোবহানের ব‍্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহ নানা ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে।

মূলতঃ সে লক্ষ্যেই তিনি বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে যুগান্তরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিদিন বের করেন। আর যুগান্তর থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক টোপে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনে যোগদান করান তৎকালীন আলোচিত সমালোচিত পীর হাবিবকে। যা একজন ব‍্যক্তির পেশাগত নৈতিকতা বিরোধী। শুধু তাই নয় যুগান্তরের ব‍্যবসায়ীক পলিসি ও ইনডোর ম‍্যানেজমেন্টের অনেক গোপন তথ‍্য ফাঁস করে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সার্কুলার বৃদ্ধি করেন এবং যুগান্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করান। যা কমার্শিয়াল ল’ এবং বিজনেস ল’ এর বিধানে গুরুতর অপরাধ। যমুনা গ্রুপ ও যুগান্তর আইনী পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা করলেও প‍্যাটেন্ট- কপিরাইট আইনে ডকুমেন্টারি প্রমানের অভাবে আর এগুতে পারেননি তারা। এইসব অপকর্মের পুরষ্কার হিসেবে রাতারাতি তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদকে পদোন্নতি পান। কিন্তু বিধিবাম,এ পদ থেকে কিছুদিন পরেই তাকে অব‍্যাহতি দেয় ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া তথা বসুন্ধরা গ্রুপ। তবে বিশ্বস্থসূত্রে জানা যায়, বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মুহাম্মদ আবু তৈয়ব নানা জায়গায় বলেছেন-মূলতঃ ক্রমাগত আর্থিক অনিয়মের কারনেই তাকে অব‍্যাহতি দিতে বাধ‍্য হন বসুন্ধরা গ্রুপ। এসব জানাজানি হয়ে গেলে অন‍্য কোন দৈনিক বা কোন ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়া তাকে কাজে নেয়ার ঝুঁকি নেয়নি।

এরপর এক প্রকার নিরুপায় হয়ে তার দীর্ঘদিনের পরিচিত অনুজ সাংবাদিক সৈয়দ সারোয়ার প্রিন্সকে সাথে নিয়ে পূর্বপশ্চিমবিডিনিউজ নামক এই অনলাইন পোর্টালটি বের করেন। আর এর মাধ্যমে তিনি আরো স্বাধীন অপকর্মের শতভাগ সুযোগ করে নেন। এখানে উল্লেখ্য যে,বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া নামীয় অনুকরণে তিনি পূর্বপশ্চিম বাংলা নাম দিয়ে এখানেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। আইনী ফাঁকফোকর ব‍্যবহার করে এমন অনৈতিক নীচু মানের কাজ করতেও তিনি দ্বিধান্বিত হননি। অধিকতর অনুসন্ধানে জানা যায়,খুজিস্তা নূর-ই নাহরীন মুন্নী নামে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একজন সাবেক পরিচালকের কালো টাকার সহযোগিতায় প্রথম থেকে ব‍্যয়ভার চলছে এই পূর্বপশ্চিম অনলাইন পোর্টিলটির। মর্ডান সিকিউরিটিস এর কর্নধার এই খুজিস্তা মুন্নী আগা-গোড়া আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক পদে তাঁর নিয়োগ দেখে সহজেই তা অনুমিত হয়। ব্রোকারেজ এসোসিয়েশনের সাবেক এই সহ-সভাপতিও পীর হাবিবের এমন হীন অপকর্মের সাথে জড়িত বলে প্রমান মিলেছে। পীর হাবিবকে নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তার নানা ধরনের চারিত্রিক কুকীর্তিও উন্মোচিত হয়। শাকুর মজিদ, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ও পীর হাবিবের মধ্যে রয়েছে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কিন্তু রোকেয়া প্রাচীর সাথে পীর হাবিবের সম্পর্কটি বন্ধুত্বের গন্ডি পেরিয়ে রাতের আধার পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে প্রেস ক্লাবের চায়ের আড্ডায় ও হাল্কা সময়ে সাংবাদিকদের রসালো বিনোদন হিসেবে ধরা দিয়েছে। শুধু তাই নয় সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বৈরশাসক এরশাদের নারী সংশ্লিষ্ট নানা অপকর্মেও পীর হাবিব জড়িত বলে জানা যায়। এর পুরষ্কার হিসেবে তিনি তার ভাই পীর ফজলুর রহমান মেজবাহকে সুনামগঞ্জ-৪ তথা সদর আসনের জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন এমপি বানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পীর ফজলুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে প্রত‍্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

এরশাদের পীড়াপীড়িতে শেখ হাসিনা তাঁর স্বদলীয় এমপি মোঃ মতিউর বহমানকে কুরবানী দিতে বাধ‍্য হন। পীর হাবিবের পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জ পৌরসভার হাসান নগরে হিন্দুদের জমিদখল সহ নানাধরনের অপকর্মে সরকারী প্রভাব খাঁটিয়ে চলেছেন বলে জানা যায়। তাই টাকার কাছে বিক্রি হয়ে বিএনপির সর্বজন শ্রদ্ধেয় এমকে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম,লে.জে. মাহবুবুর রহমান ও ব‍্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার মত ক্লিন ইমেজের নেতাদের নিয়ে বিষোদগার করে,অপপ্রচার চালিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে অবিশ্বাসের বীজ বপন করাতে চান বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com