,

নারীই নারীকে অধিকার আদায়ে রাজপথে নামিয়ে বিবস্ত্র করে

দশজন পুরুষ একঘরে থাকতে পারে কিন্তু তিনজন নারী একঘরে থাকতে পারে না। সেটা হয়ে যায় হাঁট-বাজার। তেমনি একটা ওয়েব সাইট হলো উইমেন চ্যাপ্টার, সেখানে শুধু নারীকে পুরুষ এটা করেছে ওটা করেছে, এটা করে দিচ্ছে না ওটা দিচ্ছে না, আরে বাবা, পুরুষ যদি এতোটাই অমানুষ হয় তবে ক্যানো তাদের সঙ্গ?

আপন ঘর থেকে আপনার ঘরে আসা মাত্রই কিছু কিছু নারীর চাহিদা তৈরী হয়, বেড়ে যায় অধিকার সম্পর্কে বস্তাপচা ভুল ধারণা, অবশ্য এজন্য বেশির ভাগ নারী দায়ি, নারীই নারীকে অধিকার আদায়ে রাজপথে নামিয়ে বিবস্ত্র করে। প্রশ্ন হলো কিন্তু ক্যানো পিতা-মাতার সংসারে থেকে সেই সকল চাহিদা পূর্ণতার জন্য লড়াই করেন না?

আমি মনে করি ঘর, সমাজ এবং প্রত্যেক রাষ্ট্রের উন্নয়ন নারী স্পর্শ ছাড়া সম্ভব নয়। নারীরাই সমাজের দর্পণ কিন্তু সেই সকল নারীদের অন্য কিছু নারী দৃষ্টি এবং মনে ঘুণপোকার বাসা তৈরী করে দেয়। স্বামীর সংসার মানে নিজের সংসার কিন্তু সেই নিজের সংসার এসে যদি নারীরা প্রতিটি কাজের বিনিময়ে বেতন-ভাতা চান আর সেটা না দেয়া হলে যদি এটা অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে মনে করেন। তবে সংসারের সংজ্ঞাটা খুব জানতে ইচ্ছে করছে তাদের নিকট।

ধরা যাক সকল পুরুষ তার সহধর্মীনিদের বেতন পূর্ণ করে দিলেন। আচ্ছা ঐ অর্থটা কোথায় ব্যবহার করবেন? বাড়িতে নাকি পার্টিতে, নাকি পাল্লারে? এটা জানি অনেকেই এমনটা উত্তর দিবেন যে, তার অর্থ সে যেভাবেই খরচ করুন না ক্যানো সেটার হিসেব তাকে দিবো ক্যানো। এমন কথা শুনলে জানতে ইচ্ছে করে সেই সকল নারী অধিকার গুলো কি কি?

বেশ ভালো কথা। এবার বলতে চাই, একজন স্বামী রোজগার করে পরিবারের সবার জন্য, সহধর্মীনির জন্য, সন্তানদের জন্য, পিতামাতার জন্য সর্বোপরি সবার ভালো থাকার জন্য। আচ্ছা এটা কি এতোটাই নগণ্য কাজ? যদি এটাই নিয়ম হয় তাহলে প্রত্যেক পুরুষের বিয়েকে না বলে দেয়াই উত্তম বলে মনে করি। পুরুষও ইচ্ছে মতো নিজের টাকা যেখানে সেখানে খরচ করবে, তাকে কি বলার আছে!

হ্যাঁ, কোনো স্ত্রী চাইবে না তার সংসার ধবংস হোক। শুধু তারাই চাইবে যাদের সংসারের প্রতি মায়া নেই, অধিকার, সমতা, আর অপসংস্কৃতি নিয়ে ব্যস্ত। কথা হবে “তারা পারলে ক্যানো আমরা নই”। কিন্তু একটা কথা, যেটা সৃষ্টি থেকেই যে শরীরিক বল-এ পুরুষ শক্তিশালী নারীর তুলনায়। হ্যাঁ একজন স্বামী তার স্ত্রীকে স্বাধীনতা দিলেন আর সে সেই স্বাধীনতার দরুণ মন খুশী চলাফেরা করতে লাগলেন কিন্তু একটি বারও ভাবলেন না, একজন নারী রাত বিরাতে চলাফেরা করলে পশু নামের কিছু পুরুষ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন, ক্ষতি হলে কি তার স্বামী নামক পুরুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না? নাকি শুধুই নারী ক্ষতিগ্রস্থ হবেন?

আমরা পাহাড় ঘুরে পাহাড় দেখতে যাই, সেখানেও হিংস্র বন্যপ্রাণী আছে আর সকল বন্যপ্রাণী কি এক? সব এক তা কিন্তু নয়…ভালো মন্দ দুটো মিলেই পৃথিবীর ভারসাম্য।

আমি মনে করি. নারী পুরুষের আলাদা আলাদা সম্মান ভাগ করা উচিত নয়। প্রত্যককে সম্মান করা সবার নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্তব্য। পুরুষ যদি এতোটা খারাপ হইতো তাহলে নারীর বিপদে পুরুষ কখনোই পাশে দাঁড়াতো না। কিংবা নারী যদি এতোটাই খারাপ হতো তবে পুরুষের পাশে কোনো নারীই থাকতো না।

সবার মনে রাখা উচিত কার কি দায়িত্ব এবং কর্তব্য। নারী যদি সংসার না করে বাহিরে বাহিরে ঘুরে বেড়ান তাহলে তার সংসারে আবদ্ধ হওয়া উচিত নয়। তেমন পুরুষ যদি একজন স্ত্রীকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিতে পারেন তবে তার সংসার বাঁধা উচিত নয়।

সর্বশেষ বর্তমান হালচিত্র দেখে বলবো, একজন নারীর চাহিদা তৈরী হয় তার পিতার ঘর থেকে বাহিরে আসার পরই, মানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর। কিন্তু তখন ক্যানো পিতার নিকট সেই সকল চাহিদা পূর্ণতার জন্য লড়াই করেন না?

—লেখক # রুদ্র আমিন

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com