,

নারীদের ইজ্জত ও জীবন রক্ষার্থে মানবাধিকার সংস্থার পরামর্শ

বর্তমান পরিস্থিতিতে নারীদের ইজ্জত ও জীবন রক্ষার্থে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও বিশেষ অনুরোধ করেছেন ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান, সিনিয়র সাংবাদিক লেখক ও শিক্ষক আতিকুর রহমান।

আতিকুর রহমান সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। মানবাধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য সে নিজেই  এবং ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সদস্যবৃন্দ দিনরাত যথেষ্ট পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।                                                                                                                 নারীদের স্বার্থে আতিকুর রহমান’র মূল্যবান মতামত নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হয়েছে।

নারীদের ইজ্জত ও  জীবন রক্ষার্থে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও বিশেষ অনুরোধ । বর্তমানে সব ধরনের অপরাধের শীর্ষে ধর্ষণ বা গণধর্ষণের  অপরাধ চলছে।  দ্বিতীয় স্থানে আছে খুন  বা গুম। তৃতীয় স্থানে আছে  প্রতারণা। এছাড়াও আরো অনেক ধরণের অপরাধ চলছে। নারী হচ্ছে আমাদের মায়ের জাত, বোনের জাত এবং স্ত্রীর জাত তাই যে কোন কিছুর বিনিময়ে নারীর সম্মান ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্তমানে এগুলো কি হচ্ছে ?  এই ধরনের জগন্য অপরাধের খবর শুনলে লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে । আমরা কি মানব জাতি না অন্য কিছু ? আমাদের ধর্ম-কর্ম কোথায় ?  আমাদের ভিবেক কোথায় ? আমাদের মানবতা কোথায় পালিয়েছে ? বাবার দ্বারা মেয়ে ধর্ষিত হচ্ছে। সন্তানের দ্বারা মা ধর্ষিত হচ্ছেন। ভাইয়ের দ্বারা বোন ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। মামা,  চাচা, কাকা ফুফা সহ পরিচিত ও অপরিচিত যে কোন ব্যাক্তির দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছেন। এগুলো কোন কাল্পনিক বা বানোয়াট কথা নয় বাস্তব সত্য যাহা নিয়মিত চলছে। যারা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সব মিডিয়ার খবর  পড়েন বা দেখেন তারা আমার সাথে ১০০% একমত পোষন করবেন। এমনকি এই নরপশুদের হাত থেকে দুই তিন বছরের শিশু কন্যাও রক্ষা পাচ্ছে না। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই ধর্ম কর্ম বাদ দিয়ে পশুর মত আচরণ করছে। যারা এই জগন্য ঘৃণিত কাজগুলো  করছেন এরা এখন মানুষ রুপি জানোয়ার। এদের দ্বারা সব ধরনের অপরাধ সম্ভব। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ধর্ষণ বা গণধর্ষণের প্রতিযোগিতা চলছে। শুধু ধর্ষণ বা গণধর্ষণ করেই ছেড়ে দিচ্ছে না এই ঘৃণ্যত কাজ করার পরে ঐ ধর্ষণের শিকার নারীকে খুন করে লাশ গুম করেও ফেলছে । আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অপহরণ করে মাসের পর মাস ধর্ষণ করে যাচ্ছে। এমন খবরও শোনা যাচ্ছে গণধর্ষণ করে ভারতে বিক্রি করে দিচ্ছে। কথায় বলে সাবধানের মাইর নেই। যে কোন ঘটনা ঘটার আগেই এদের থেকে সবাইকে সাবধান হতে হবে। ঘটনা ঘটার পরে সাবধান হয়ে কোন লাভ নেই। আপনি সব ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করার পরেও  যদি ঐ নরপশুদের দ্বারা ক্ষতির সম্মুখীন হন  তবে যে   কোন উপায় ঐ জানোয়ারকে খুন করুন। এতে আপনার ভয় পাওয়ার কিছুই নেই কারণ আপনার ইজ্জত ও আপনার জীবন  রক্ষা করার জন্য এই ধরনের কুকুরকে খুন করার অধিকার আমাদের সংবিধান এবং প্রতিটি  ধর্মেই  দিয়েছেন।  এই ধরনের সব জানোয়ারদেরকে এখনই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচার করতে হবে তবেই অনেক মা বোনেরা  নিরাপদে থাকতে পারবেন।  এরা পাগলা  কুকুর হয়ে গেছে তাই এদেরকে জেল হাজতে খাঁচার মধ্যে রাখতে হবে।

 

অনেক আগে এই ধরনের ঘটনার কথা ইউরোপ আমেরিকাতে হতো যাহা এখনও অব্যাহত আছে । তারপর শুরু হল ভারতে যাহা এখনও চলমান আছে। এগুলো শুনে ঐ রাষ্ট্রেগুলোকে খুব ঘৃণা করতাম। আমাদের বাংলাদেশের মত একটা মুসলিম দেশে এই জগন্য অপরাধ চলবে তা কখনো মানুষ কল্পনাও করেনি কিন্তু বর্তমানে নিয়মিত চলছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো কেন হচ্ছে ?  আমার মতে প্রধান কারণ হচ্ছে বর্তমানে আমাদের ধর্ম-কর্ম নেই বললেই চলে । বর্তমানে বেশীরভাগ মানুষই ধর্মের সাইনবোর্ড ব্যবহার করেন। কোরআন হাদিস যেভাবে ধর্ম পালন করতে বলেছেন ঠিক সেই ভাবে কতজন ধর্ম পালন করছে ?  প্রতিটি ধর্মেরই নারীদের পর্দা ফরজ বা বাধ্যতামূলক করেছেন কিন্তু বাস্তবে কতজন মানছে ? সব ধর্মের অধিকাংশ লোকজনই তার ধর্ম সঠিকভাবে মানছেনা।  বর্তমানে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাটে,  হাট-বাজার, সব জায়গায় নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা চলছে। কে স্বামী- স্ত্রী ? কে বাবা – মেয়ে ? কে মা – ছেলে ?  সঠিক সম্পর্ক বুঝা খুবই কঠিন। ধর্ষণের ঘটনাগুলো হঠাৎ খুব কমই ঘটে। অপরিচিত মানুষের দ্বারা হঠাৎ ঘটে তাও অসাবধানোতার কারণেই বেশি ঘটে। আত্মীয়- স্বজন , বন্ধু – বান্ধব , পরিচিত ও অপরিচিত মানুষের দ্বারা এই ধরনের ঘটনা ঘটার আগে কিছু লক্ষন বা  আলামত পাওয়া যায় কিন্তু অনেকেই  আপনজন মনে করে বিষয়টি এড়িয়ে যান বা ধৈর্য্য ধরেন । এই ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমেই প্রতিটি মেয়েদের খাঁটি বা সঠিক পদ্ধতিতে পর্দা করতে হবে। দ্বিতীয়ত খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হবে।

 

তৃতীয়ত   আপন -পর যেই পুরুষই  হোক না কেন তার কথা-বার্তা ও আচার – আচরণে যখনই এই ধরনের কোন পূর্ব আলামত পাবেন সাথে সাথেই ঐ জানোয়ারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। পাশাপাশি নষ্টা দুশ্চরিত্র নারীদের থেকেও আপনাকে  সাবধান থাকতে হবে কারন ঐ নারী তার খারাপ কাজের মাধ্যমে অনেক আগেই সে  এবং তার পরিবারের জন্য জাহান্নামের টিকিট কেটে রেখেছেন এখন আপনারটা চেষ্টা করতেছেন । ঐ জানোয়ার পুরুষ মানুষ থেকে ঐ ধরনের আলামত পেয়েও যখন চুপ করে থাকবেন বা ধৈর্য ধারণ করবেন  তখনই ঐ জানোয়ারের দ্বারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। ইতোমধ্যে যারা ঐ জানোয়ারদের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা আমার কথাগুলোর সাথে ১০০% একমত হবেন বলে আমার বিশ্বাস। এখন  প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে ঐ জানোয়ারদের   বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন তা হয়তোবা অনেকেই জানেন না। প্রতিটি নাগরিকের আইন জানা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু আপনি আইন না জেনেও ১০০% আইনগত সহযোগিতা আমাদের থেকে পেতে পারেন ।  আপনাদের যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য আমি আতিকুর রহমান আপনাদের সেবায় ২৪ ঘন্টা নিয়োজিত আছি এবং থাকবো ইনশাল্লাহ। আপনাদের সকলকে সঠিক সেবা দেওয়ার জন্য ২৪ ঘন্টা আমার মোবাইল নাম্বার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইডি চালু রাখি ।

শুধু একটা ফোন বা মিসকল দিবেন বাকিটা আমাদের  দায়িত্ব ইনশাল্লাহ। মা বোনদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ সবাই পর্দা করুন এবং যে কোন পুরুষদের সাথে চলা এবং কথা বলার ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করুন। কথায় বলে ভয় পেলে জয় করা সম্ভব না তাই সব ভয় ভীতি অতিক্রম করে ঐ জানোয়ারদেরকে মোকাবিলা করতে হবে। আপনি নিজেকে রক্ষা  করুন এবং অন্যকেও সাহায্য করুন। বর্তমানে আমাদের  মা বোনদের সাথে যা হচ্ছে তা দেখে আমার চোখের পানি একমাত্র আল্লাহ দেখেন। অতি শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান দেখতে চাই। এই পর্যন্ত এই ধরনের যত ঘটনা ঘটেছে সেই সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ইতোমধ্যে  যারা ঐ পশুদের দ্বারা  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং যারা এখনও ক্ষতিগ্রস্ত হননি কিন্তু  ক্ষতির সম্ভাবনা আছে  তারা সবাই অতি শীঘ্রই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। সঠিক বিচার পাওয়া লক্ষ্যে আপনাদেরকে আমাদের ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ১০০% আইনগত সহযোগিতা করা হবে ইনশাল্লাহ। প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্য করা হবে। অপরাধ মূক্ত বাংলাদেশ চাই। সব ধরনের অপরাধ ও অনিয়মের খবর আমাকে জানাতে পারেন। আমরা সব সময় অসহায় গরীব ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশেই আছি এবং থাকবো ইনশাল্লাহ।

 

পরিশেষে বর্তমান সরকারের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ সকল ধর্ষণ ও খুনিদের দ্রুত বিচার করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় একটি দ্রুত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল  গঠন করে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে বিচার করা হোক। পাশাপাশি বিচার চলাকালীন সময়ে প্রত্যেক অসহায় গরীব ও ক্ষতিগ্রস্ত বাদী ও তার পরিবারের থাকা ও খাওয়ার সু ব্যবস্থা করা হউক এবং বাদী পক্ষকে ফ্রি ওকালতির  সুবিধা পাওয়ার জন্য সরকারি উকিল নিয়োগ দেওয়া হোক। সকল উকিলদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ কোন ধর্ষক ও খুনিদের পক্ষে কাজ করিবেন না। এই ধরনের ঘটনার শিকার যদি আপনার পরিবারের কেউ হয় তখন আপনি কি করবেন উকিল সাহেবরা ?  শুধু টাকার জন্য নিজের ধর্ম-কর্ম ভিবেক – বুদ্ধি ধ্বংস করে দিবেন না। অপরাধ মূক্ত  বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

 

 

 

আতিকুর রহমান

চেয়ারম্যান, ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা

সিনিয়র সাংবাদিক , লেখক ও শিক্ষক।

01718473647, 01913964694

ইমেইল  atiqurrahman8222@gmail.com

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com