,

“বিবেকদংশন” নাটক ও চরিত্রের মুখোশ ।। এস.কে.দোয়েল

চলমান সময়টা ভুক্তভোগীদের জন্য একেকটি ঘটনার বিবর্ণ নাটক। এসব বিবর্ণ নাটকের অসহায় চরিত্রের শিকার আজকাল সর্বসাধারণ। আর এর অপর পৃষ্ঠের খলনায়কের কলকাঠি নাড়ছে আধুনিক পুজিবাদী সমাজের প্রভাবশালী ও মুখোশধারী মানুষগুলো। যারা প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করছে নিত্য নতুন নাটক। সেসব নাটকে চরম অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে উঠছে। ক্ষমতার অর্থ দম্ভের নিকট আজকের আইন প্রশাসনও নীরবতা পালন করছে তাতে সন্দেহ নেই। অবশ্য সবক্ষেত্রে নয়। আজকের পুজিবাদীর প্রতিযোগীতাই চরম এই অস্থির নাটক তৈরি হচ্ছে। যার খলনায়করা হচ্ছেন পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির লেবাসধারী আন্ডারওযার্ল্ডের মানুষগুলো। যারা দৃশ্যপটে আরেক সভ্যসাজের মানুষ।

তাদের লেবাস এক, কাজের ধরণ আরেক। তাদের অদৃশ্যের কলকাঠিতে অর্থ প্রাচুর্যের খেলায় বিবেক বিক্রি করে থাকে সেইসব আমলা। যারা স্বাধীন দেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকারের পোষা বিভিন্ন দফতরের আমলা। অথচ তারা বিবেককে বিক্রি করে কিংবা চাকরি বা প্রাণ হারানোর ভয়ে  অথবা রাতারাতি প্রাচুর্যের মালিক হওয়ার লোভে তারা এমন সাজানো রিপোর্ট করে, যেখানে ঘটনার সাথে রিপোর্টের কোন মিল নেই। যেটা সম্প্র্রতি সংঘটিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের  ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্র্থী ও নাট্যকর্র্মী তনু হত্যার প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জেনে ধারণা করা যায়।

২০ মার্চ রাতে সোহাগী জাহান তনু টিউশনি করে বাড়ি ফেরার পথে যে স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তার রক্তমাখা লাশের ছবি দেখে তো এ রিপোর্টের কোন ভিত্তি নেই। এ রিপোর্টটা যেন নাটকের কাহিনী সূত্রে সাজানো হয়েছে, হয়তো এটা করা হয়েছে অদৃশ্যের শক্তিশালী কোন কল নাড়ার কারণে। যেটা আমরা সাধারণত সিনেমার বেলায় দেখে থাকি। আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদারের সন্তান কোন নারীকে রেপ করেছে কিংবা রেপ করে হত্যা পর্যন্ত করেছে। পরে সেটা ধামাচাপা দিতে প্রশাসনকে দেওয়া হচ্ছে ব্রিটকেসভর্তি টাকা, বাদীপক্ষকে থামাতে হামলা-মামলার আর প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে অস্থির ও চরম বিপদাপন্ন করে তুলে।

সোহাগী জাহান তনু হত্যাও যে এমন নয়, তা অবিশ্বাস করতে পারছি না। কেননা, কুমিল্লার সেনানীবাসে তনুর বাবা কর্মচারী ছিলেন। সেই সেনানীবাসের মধ্যেই সে বড় হয়েছে, লেখাপড়া করেছে। স্বপ্ন দেখে নাট্যকলার নৃত্য প্রশিক্ষকের। স্বাভাবিকভাবে মানুষের যে জৈবিক যৌন চাহিদা রয়েছে, তার প্রতিফলনই ঘটে পুরুষের বেলায় নারী কামনায়। নারীদের বেলায় পুরুষের সান্নিধ্য কামনায়। এক্ষেত্রে ক্যান্টেমেন্ট যেহেতু সেনা সদস্যের ঘাটি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে রাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব দিতে নিয়োগ দিয়ে থাকে। সবদিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সেনা জওয়ানদের এই অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তো ক্যান্টমেন্ট এলাকায় নারী নিরাপত্তাহীনতায় হত্যার শিকার হবে, তাহলে দেশের যেখানে ক্যান্টমেন্ট নেই সেসব স্থানগুলোতে কী পরিমাণ নারীরা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় তা সহজেই অনুমান করা যায়।

মিথ্যা অজুহাতেই তৈরি হয় একেকটি সৃষ্টিজাল নাটক। ঘটনার মাকরশা জালের মত বুনন হতে থাকে চরম বিপদাপন্ন এইসব নাটক। সারাবিশ্ব জুড়েই চলছে এই মিথ্যাচারের নাটক। এটা অবশ্য রাজনৈতিক কুটচাল। বুদ্ধির কুটচালে চলে দাবা খেলার প্রতিযোগিতা। আধুনিক পুজিবাদী হওয়ার স্বপ্ন আর ক্ষমতার লোভে মানুষ তার নির্মল বিবেককে বিকিকিনি করতে শুরু করেছে দিন দিন। ক্ষমতার আসন টিকে রাখার চেষ্টা রাজনীতি হাতিয়ার পুজি করে কুটকৌশল ঘটনার জাল তৈরি করে। ইতিহাস বলছে এদেশের স্বাধীনতা অর্জন পূর্বক এবং তার পরবর্তী সময়ের যেসব নাটকীয়তা উদ্ভব ও সৃজিত হয়েছে, সেইসব নাটকের পরিণতি হয়েছে চরম হিংস্রতর আর স্পর্শকাতর। যে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের একটা রাষ্ট্র, এক খন্ড পৃথিবীর মানচিত্রের সবুজ বাংলাদেশ, মাতৃভাষা বাংলাকে অর্জন করতে গিয়ে দেশভাগের পর থেকে যে পরিমাণ রক্ত ঝরেছে, এর মূল হোতারা কারা ছিলেন? নিশ্চয় উত্তর আসবে এই খলনায়করা ছিলেন পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খান, জুলফিকার আলী ভুট্টু, লিয়াকত আলী খানের মত রাজনৈতিক ও ক্ষমতাসীন মানুষগুলো। স্বাধীনতার পূর্বোত্তর সময়ে নাটকের শেষ ছিল না।

বাঙালির জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যে ঘটনার পান্ডুলিপি তৈরি হয়েছিল, তার আর্কাইভ হিস্টোরি হচ্ছে পাকিস্তানীরা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে বিভিন্ন সময় কারাগারে আটক রেখে আন্দোলন দমানো চেষ্টা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও যুদ্ধের মত একই রক্ত ঝরতে দেখা গেছে, ৭৫’এর ১৫ আগষ্ট কালো রাতে বঙ্গবন্ধুসহ তার সপরিবারকে হত্যাকান্ডের বিবর্ণ চিত্র।

যে জাতির জন্য এই মানুষটি বারবার কারারুদ্ধ হয়েছেন, নানা নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন সেই জাতির হাতেই পরিকল্পিত একটা অজুহাত নাটকের মাধ্যমে সপরিবারকে প্রাণ দিতে হলো। এই ঘটনার পর থেকেই এদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার জন্য যেসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এর প্রত্যেকটিতে সংস্পর্শ ছিল একের উপর আরেক মিথ্যাচার কিংবা সংকল্পিত সাজানো নাটক। ৯ বছরের শাসনামলে স্বৈরাচারী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পদে পদে নাটক তৈরি করেছিলেন। মূখ্যত রাজনীতিতে নাটক তৈরি করার কুটকৌশল জানা না থাকলে ক্ষমতা পাওয়ার নিছক কল্পনা মাত্র হয়ে দাড়ায়। তীক্ষ্ম বুদ্ধি, দুরদর্শী দৃষ্টি, উপস্থিত জ্ঞানের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতাই হচ্ছে একজন রাজনৈতিকের সফল দক্ষতা। যার কারণে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার জন্য এ ক’টি খুব প্রয়োজন হয়।

কেননা প্রত্যেকটা প্রতিদ্বন্ধীর বিপরীতে আরেকজন প্রতিদ্বন্ধীর মধ্যে জন্ম নেয় হিংস্র শত্র“তার মানসিকতা। আমি জিততে চাই, আমাকে জিততেই হবে’ এই জিৎটা যখন প্রত্যেক প্রতিদ্বন্ধীর মনে যখন চরমভাবে কাজ করে তখনই উপদ্রব ঘটে আরেকটি নাটকের অনাকাংখিত ঘটনা। লক্ষ্য স্থিরকৃত প্রতিদ্বন্ধীকে যেভাবেই হোক পরাজিত করতেই হবে এই লক্ষ্যকে কাজে লাগাতেই তৈরি হয় কঠিন সব বাস্তব নাটক। যার প্রতিফলনে আমরা দেখতে পাই এক প্রতিদ্বন্ধী আরেক প্রতিদ্বন্ধী হিংস্রতর দৃষ্টি, কখনো ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে পরাজিত করেন। অস্বাভাবিকভাবে প্রতিদ্বন্ধীদের বিজয়ী হওয়ার পিছনে নিগুঢ়ভাবে জড়িত থাকে পলিটিক্স বা রাজনীতি।

মিথ্যাচার কিংবা নাটকীয়তা ছাড়া যে রাজনীতি হয় না তার বর্তমান উৎকৃষ্ট উদাহরণ আজকের বিশ্বরাজনীতির পেক্ষাপট। ২০০৩ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ও তার ইরাক আক্রমনের কথা সবার মনে আছে। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। রাসায়নিক অস্ত্র রয়েছে এমন নাটক তৈরি করে ইরাকে যে অপারেশন চালিয়ে হাজার হাজার নিরাপরাধ ইরাকি হত্যা করা হয়েছিল, ইরাক দখল করে প্রেসিডেন্ট সাদ্দামকে শেষ পর্যন্ত ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল এ ঘটনা পরবর্তী সময়ে চরম ভুল হিসেবে অনুতাপ প্রকাশ করা হয়েছে। ইরাক যুদ্ধ যে ভুল ছিল-এটা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার নিঃসংকোচে বলেছিলেন। অথচ সেই সময় এই টনি ব্লেয়ারও জজ ডব্লিউ বুশের সাজানো নাটকে সম্পৃক্ত হয়ে সহযোগি হিসেবে ইরাকে হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষদের হত্যা করেছিলেন। সেই এরকমই হাজারও অজুহাতে আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়ার মত রাষ্ট্রগুলোকে আমেরিকা তার সৈন্য পেন্টাগণ দিয়ে যে নির্বিচার হামলা চালিয়ে আসছে এর পিছনে রয়েছে মহা আন্তর্জাল নাটক।

যে নাটকের গডফাদার আজকের মুখোশধারী ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। যাদের বাইরের পরিবেশ এক আর ভিতর আরেক। এদের হাতের ইশারায় আজকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সিরিয়া থেকে উদ্বাস্তু হয়ে ইউরোপের পথে নানা দেশে জীবনের নিরাপত্তা নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য মহাসংকটে পড়ায় লক্ষ লক্ষ উদ্ভাস্তু শরনার্থী ঘিরে চলছে নানা অস্থিরতা। বিবেকহীনতা। চলছে রাজনৈতিক কুটচাল। অবশ্য অধিকাংশ বেলায় মিথ্যাচারই হচ্ছে রাষ্ট্রের জনগণের মন ভূলানো মহা অ্যান্টিবায়েটিক মেডিসিন। যেটা কথায় প্রকাশ ঘটে, হিংস্রতায় প্রয়োগ করা হয়। মূলত ক্ষমতায় টিকে থাকার অন্যতম মুখ্যম শক্তিই হচ্ছে নিত্য নতুন নাটক তৈরি। বিরোধীদল চায় সরকারকে চাপে ফেলে তার দাবি আদায় করতে, আর সরকার দল চায় বিরোধীদলকে কোণঠাসা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। যা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির হালচিত্রের অবস্থা দেখে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে আমার মতো সকলের।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বির্তকিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে ঘটনাগুলো আমরা দেখেছি তাতে তো দর্শিত হয়েছে প্রতি পদে পদে নাটক। বিশেষ করে বিরোধীদল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ঘিরে অবরুদ্ধ করে রাখা, নিরাপত্তার নামে ট্রাক ভর্তি বালুর বস্তা বাসার ধারে ফেলে রাখা, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চট্টগ্রামের হাটহাজারির কওমী মাদ্রাসার হেফাজত ইসলামের আমির আহম্মদ সুফী হুজুরের হাত বুলানো দো’আ নেওয়া, একবার এদিক আরেকবার ওদিক ঢেউতোলা তরীর মত দোল তোলা নাটকের কারিশমা আমাদের টিভির পর্দায়, পত্রিকায় পাতায় দৃশ্যে দৃশ্যে ও অক্ষরে অক্ষরে দেখতে হয়েছে। ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত ওই নির্বাচন জুড়ে সর্বদলের প্রতিবাদ, আন্দোলন ও নির্বাচন বর্জন ছিল কঠিন বাস্তব সংঘটিত নাটক। আর ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে রাজপথে আন্দোলনের নামে গত ২০১৪ সালে যে পরিমাণ মানুষ অগ্নিকান্ডে শিকার হয়েছে। দগ্ধ দেহ নিয়ে কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন আবার কারও সেই দগ্ধ শরীরের ঘা এখনো শুকায়নি। জাতি স্বচক্ষে দেখেছে সরকার ও বিরোধীদলের পরস্পর সংলাপ ও সমঝোতাহীন, দমন-পীড়ন আর অগ্নি বারুদের বিস্ফোরিত নিষ্ঠুর রাজনৈতিক খেলায় তারা চরম অসহায়ত্বের শিকার। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চায় মানুষ।

রাজনৈতিক আর ক্ষমতার প্রদত্ত নাটকগুলো একটু ভিন্ন ও স্পর্শকাতর হয়। যেটা সম্প্রতি সাংবাদিক ও বিজ্ঞ বুদ্ধিজীবি শফিক রেহমানকে গ্রেফতার ও রিমান্ড নিয়ে একটু আশ্চর্যই হতে হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র  সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টা এমন একটা ফেসবুকের স্ট্যাটাসের ওপর ভিত্তি করে শফিক রেহমানকে গ্রেফতার এবং পরপর দুইবার ৫দিনের করে ১০দিনের রিমান্ড। এটার কারণ হিসেবে ডিবির উপকমিশনার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার বিষয়ে মোহাম্মদউল্লাহ মামুন নামে একজনকে আসামি ও অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো। ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছিলো। তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার ঘটনায় শফিক রেহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে আসামি তালিকাভুক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অবাকই হতে হয়েছে ৮২ বয়েসে তাকে রিমান্ডে যেতে হবে! পত্রিকায় জেনেছি সাংবাদিক শফিক রেহমান সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকার মাধ্যমে এ দেশে সাংবাদিকতার জগতে খ্যাতির শীর্ষে আসেন। এর আগে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক ও বিবিসিতে কাজ করেন। এরশাদের স্বৈরশাসনামলে সাপ্তাহিক যায় যায় দিনের কারনে তাকে নির্বাসনে থাকতে হয়। পরবর্তীতে তিনি যায়যায়দিনকে দৈনিকে রুপান্তর করেন। ফখরুদ্দিন আহমদের জরুরি সরকারের সময় দৈনিক যায় যায় দিন হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি দৈনিক পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত কলাম লিখছিলেন। বাংলাভিশনে লালগোলাপ নামে নিয়মিত তার আর্টশো প্রচারিত হচ্ছিলো। দার্শনিক অধ্যাপক সাইদুর রহমানের পুত্র শফিক রেহমান একজন চার্টাড একাউন্টটেন্ট। তিনি লন্ডনে প্রথম বহুভাষা ভিত্তিক রেডিও স্পেকট্রাম চালু করেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লন্ডনে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন। দৃশ্যত চোখে মনে হয়েছে, তাঁর দোষ রাজনৈতিক মতাদর্শে তিনি বিরোধীদল বিএনপি সমর্থন করেন। তাদের পক্ষে কথা বলেন। ব্যক্তি দল পছন্দ থাকতেই পারে। তাই বলে এরকম একজন মানুষের দ্বারা বাংলাদেশে থেকে লন্ডনে বঙ্গবন্ধু দৌহিত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করার চেষ্টা করবেন কথাটি কেমন খটকা লাগে। তাঁকে গ্রেফতার করতে বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখী থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বলে বাসায় ঢুকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জানিনা আসলে এর গুঢ় রহস্যটা কী? রিমান্ডে সাংবাদিক শফিক রেহমানের এই ষড়যন্ত্রের সত্যতা বেরিয়ে আসছে এমন সংবাদ পত্রিকা ও টিভিতে দেখলাম।

রিমান্ডে তিনজনের নাম বলেছেন। তবে অপরাধের শাস্তি সর্বত্র কাম্য যে বয়েসেই এটা হয়ে থাকুক। তবে অনেকে বলছেন এটা রাজনৈতিক ইস্যু। রাজনৈতিক ইস্যুই ঘিরেই যতসব অভাবনীয় নাটক হয়ে থাকে। এ রাজনীতির সাথে সহজে পেরে উঠা যায় না। চলতি সাল আর গতসালের ঘটনাপুঞ্জিতে এমন কিছু ঘটনা আমরা দেখেছি সেটা রাজনৈতিক ইস্যুই মনে হয়েছে। ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে নিয়ে ১/১১ ঘিরে একের পর এক মামলা করা হয়েছে। অবশ্য আদালত এসব মামলায় মাহফুজ আনামকে গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত করেছেন। একটা বিষয় জানতে ইচ্ছে করে, রাজনৈতিক ইস্যু কি এরকম-একটা বিষয়ের ওপর মামলা যখন হবে, তখন সেই বিষয়টার ওপর একের পর এক মামলা হতেই থাকবে? এরকম ঘটনা অনেক ঘটেছে বিগত সালে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর প্রশাসনের যদি পুজিবাদের প্র্রতি যদি অত্যাধিক লোভ-লালসা নিহিত থাকে তাহলে সেখানে মানুুষ পদে পদে ভোগান্তির শিকার হবেন এটা নিশ্চিত। বর্তমান সময়ের মানুষ জমা-জমি বিরোধ, পরকীয়া, চিকিৎসা সেবা, ভোগ্যপণ্যে ভেজাল, প্রেম-প্রতারণা, খুন-ধর্ষণ, মামলা-মোকদ্দমা এবং বিচার ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এসব বিষয়গুলোতে এতো পরিমাণ নাটকীয়তা তৈরি হয় যার দৃশ্যমান সময়ের আয়নায় প্রতিফলিত। বিগত সময়ের ঘটনাগুলোর আলোকে দেখেছি যে. রাজনৈতিক সংগত কারণেই হোক কিংবা অন্য কোন কারণেই হোক মানুষ মূলত নিজ স্বার্থের জন্য, নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পদে পদে নাটক তৈরি করে। স্বার্থ নাটকের সৃষ্টির প্রভাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণই হচ্ছে মানুষ ক্রমশ ধর্মীয় আদর্শবোধ হতে সরে আসছে।

তা না হলে রাজনৈতিকরা নিঃস্বার্থ ত্যাগ করে জনগনের সেবায়, দেশের স্বার্থে রাজনীতি করতেন। গৃহের নারীরা কিংবা স্বামীরা তাদের বৈবাহিক পবিত্র বন্ধন ব্যতিরেকে পরকীয়া সম্পর্ক জড়িয়ে পড়তেন না। মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আস্থার স্থান হচ্ছে চিকিৎসালয় অর্থাৎ সেখানে জীবন নিয়ে অর্থ স্বার্থে নাটকের তৈরি হতো না। মৃত লাশ নিয়ে অপারেশনের সাজানো নাটক সৃষ্টি হতো না। বিচার ব্যবস্থাতেও রায় আর মামলার তারিখ নিয়ে নাটক তৈরি হতো না। অল্প সময়ে অধিক পুজিবাদী হয়ে উঠার প্রতিযোগিতা তৈরি হতো না। ভোগ্যপণ্যে ফরমালিন ব্যবহার বিবেকহীনতার শামিল। এটা সত্য যে বিবেক যখন মরে যায় তখন বুদ্ধি-বিচার লোপ পায় বিধায় মানুষ কাম-চারিতার্থ অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। যার কারণে পাশ্চাত্যের নগ্ন সংস্কৃতি চালু করাও সভ্যতা কুলষিত করার ষড়যন্ত্র নাটকে আমরা প্রতিনিয়ত যেন ব্যাটারিত চালিত পুতুলের মত নাচছি, গাইছি এবং তার নির্দেশ পালন করে চলেছি।

যখন দেখা যাবে, ধর্মের লেবাসে মানুষ একজন আরেকজনকে নির্দয়ভাবে, বিনা অজুহাতে হত্যা করছে, পিতা দ্বারা তার কন্যা, পুত্র দ্বারা মাতা অর্থাৎ আপন আত্মীয়তার মধ্যে যৌন লিপ্সার দ্বারা অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন বুঝতে হবে আমরা ভিনদেশীয় কোন ষড়যন্ত্র নষ্টকালচার নাটকের শিকার হচ্ছি। এটা পরিস্কার যে, বাংলাদেশে যে মৌলবাদ শব্দটি উত্থান ঘটেছে, মৌলবাদ থেকে জঙ্গীবাদ। জঙ্গীবাদের ভিন্ন ভিন্ন সংগঠন জেএমবি, হরকাত-উল জিহাদ (হুজি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ জঙ্গী সংগঠনগুলো। ধর্মীয় মূল ব্যাখ্যা, নবী রাসুলের জীবনাদর্শ না আয়ত্ত করেই সম্প্রতি যে কয়জন মুক্তিবুদ্ধি চর্চার ব্লগারকে যেসব অজুহাতে হত্যা করা হয়েছে, এটা মূলত কিসের ইংগিত! হেদায়েতের মালিক পরম আল্লাহ্ তাআলা হয়ে থাকেন তাহলে মানুষের কোন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে, কোন বিধর্মী বা নাস্তিকবাদী ব্যক্তিকে হত্যা করতে হবে? আর মাতা-পিতাই বা কেন ক্রোধের বশে নিজ সন্তানকে হত্যা করবেন? আমার মনে হয়েছে, মানুষ এখন ফরমালিন আসক্ত।

লেবাস লাগিয়ে যেমন নাটকের চরিত্র হওয়া যায়, তেমনি ফরমালিন ব্যবহার করে নিরবে মানুষ হত্যা করা যায় এর ভিতরকার রহস্যগুলো কী? পোশাকের ভেতর যদি বিবেকের কেনাবেচা হয় সেখানে সত্য ঢাকা পড়ে, মিথ্যার জয় ঘটে। বস্তুত মিথ্যার জালে সত্যকে আড়াল করলেও একসময় সত্য প্রকাশিত হয়, কিন্তু ততোক্ষনে সত্যবাদী অসহায় ব্যক্তির অঙ্গহানি কিংবা জীবনহানি ঘটে। এই যে এক চরম অবস্থা, কোথায় দাঁড়াবে আজকের মানুষ। তাই যতক্ষন পর্যন্ত না মানুষ তার ধর্মীয় সেই আদর্শবোধে ফিরে না আসবে ততোক্ষণ পর্যন্ত একজন আরেকজনের অকল্যাণের জন্য, নিজের স্বার্থের জন্য, ক্ষমতার জন্য আর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়তই নাটক তৈরি হতে থাকবে। আর সেই নাটকের ভয়ংকর মারণাস্ত্রের আঘাতে জর্জরিত হবে নেহাৎ সাধারণ মানুষ। হরকাত-উল জহিাদ (হুজ), আনসারুল্লাহ বাংলা টমিসহ জঙ্গী সংগঠনগুলো।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক
তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com