,

‘বিজ্ঞান চৈতন্য বোধে স্বরচিত সংগীত রচয়িতা শফি সরকারের অর্ধশতক ফোক গান’

নজরুল ইসলাম তোফা # যুগে যুগে কিছু মানুষ সৃষ্টি হয়েছে, তাদের রয়েছে কোটি কোটি টাকা, ভোগ-বিলাস, ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি তারাই জীবন স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু এমন কিছু বিকল্প চিন্তা চেতনার মানুষকে খোঁজে পাওয়া যায়, জীবনে কোন কিছুর মোহ নেই, নেই নূন্যতম মনের ইচ্ছা পূরণের উচ্চাকাঙ্খা। জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনার উদ্দেশ্য তাদের অতীব ক্ষিন। অর্থের লোভ না থাকলেও প্রয়োজন আছে মনের তৃপ্তি মিটানোর ইচ্ছা। তাই বলা যায় এই সরল, প্রতিভাবান, কোমল মনের মানুষ, শুধুই স্বপ্ন দেখেন গানের জগৎ। এই জগতে বহুগুনের অধিকারী মানুষটি, সবাইকে অবাক করে দেয়ার মতোই রেখেছেন প্রতিভা। স্বরচিত গানের নেশাটা নিত্য দিনের জীবন সঙ্গী। নাম তার মো: মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি সরকার।

ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে তার সঙ্গে বিস্তর কথা বার্তা হয়েছে। ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সংঘর্ষ নাকি মানুষের যথেষ্ঠ সন্ধিহান রয়েছে। কোন কোন ধর্মের সাথে রক্তা রক্তির ঘটনাও আছে ইতিহাসের পাতায়। তবে পবিত্র কুরআন থেকে উৎসারিত ধর্ম, ইসলামের সাথে প্রকৃত বিজ্ঞানের বিরোধ ছিলনা অতীতে, বর্তমানেও কোন বিবোধ নেই এবং ভবিষ্যতেও হবেনা তা তিনি বললেন। ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথার প্রতিফলনেই তিনি লিখেন স্বরচিত গান। আর তা নিয়ে নজরুল ইসলাম তোফা লিখলেন তার জীবন কাহিনী। প্রাকৃতিক জগতকে জানার এটাই একটা বিনোদন মাধ্যম তার। সঠিজ ভাবে বিজ্ঞানের জ্ঞান ও কর্মের মাঝে রয়েছে যে সব জ্ঞান তাকেই কাজে লাগিয়েই গান লিখেন। উক্ত বিষয়ের ওপর কোন ব্যক্তির যথাযথ জ্ঞান থাকে তাহলেই তা সে রপ্ত করতে সক্ষম। কোন ব্যক্তি যদি বিজ্ঞানের আলোকে এ পন্থায় সংগীত চর্চায় অগ্রসর হন তাহলে তাঁদের বিদ্যা বুদ্ধির স্বীকৃতি স্বরূপ অনেক বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, প্রগতিশীল, সুশীল ও আরো অনেক শিহরণ সৃষ্টিকারী লোক গানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধি করতে পারবেন বলে তার ধারনা। তার সৃষ্টি গানের সুর ও শব্দ ফোক গানের অাদলে সমৃদ্ধ রয়েছে। সমাজে তার অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, বিজ্ঞানের মূল কথাই হচ্ছে যুক্তি ও প্রমাণ। তাই তিনি গানের সুরেই বলেন,
চলছে গাড়ী পজেটিভ,
ব্রেক মারিলে হয়রে নেগেটিভ।
গানের কথায় শফিকুল,
বিজ্ঞানীদের বাজাই ঢোল।
আলোক বর্ষ গেছে কতদূর।
ঐ দর্শন হইতে দার্শনিক হয়,
যুক্তি বিদ্যা নাম সপ্তম আসমান।
কত দূরে নবীর হাদীস টান,
আলোক বর্ষ কে বুঝে।
বিজ্ঞানীদের খবর দে।
সপ্তম আসমান পরে আছে কে?

তিনি লেখাপড়া বাদ দিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে কৃষি কাজে নেমেছিলেন। বিকেলে তার আড্ডা স্হান কুলার বিল থেকে পদ্মা নদীতে প্রবাহিত মধ্যবর্তী এক ‘শিবো’ নদীর পাশেই ধানুরা গ্রামে। সেই শিবো নদীর পাড়ে বসে সূর্য্যাস্তের লগ্নে মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি সরকার আকাশ দেখেন আর বিজ্ঞান জগৎ ভাবনায় জাগ্রত থাকেন। তার অত্যন্ত জনপ্রিয় স্বরচিত গান। যেমন: মহাশূন্যের রকেট ঘাঁটি দেখতে যাব নাকি,
বিজ্ঞান বেটা কর্মের সাথী হাতে লাগাও তালি। তোমরা কেন বুঝনা মঙ্গল গ্রহের ঘটনা, কর্ম ছাড়া ধর্ম হবে না।

তার সৃষ্টিশীল স্বরচিত গানের বাঁকে বাঁকে সুরের মুর্সনা ও কথার ভেতর দিয়ে ভুবনকে দেখার যে আনন্দ, মহান আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আসল দিক, মানুষের মাঝে প্রকৃত মানুষ খোঁজার এক আদর্শীক দৃষ্টান্ত, প্রকৃতির রূপ বদলের নান্দনিক ও ভয়ানক দুর্যোগ, দূর্ঘটনার ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক তোলে ধরার প্রবনতা রয়েছে। কৃষি কাজ করতে গিয়ে কৃষক-শ্রমিকদের আচার আচরন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেও অত্যন্ত জনপ্রিয় গান লিখা ও তা গেয়ে গ্রামের অগনিত মানুষদের আনন্দ জুগিয়েছন। তাঁর গানে যে কমল ফোক সুরের ছোঁয়া ধানুরা গ্রামবাসি ও তানোর থানার মানুষকে অবাক করিয়েছেন। জেনে নিই এমন মানুষটির পরিপূর্ণ জীবন কাহিনীর আদ্যোপান্ত।

রাজশাহী জেলার তানোর থানায় ছয় নম্বর কামার গাঁ ইউনিয়নের ধানুরা গ্রামে তার জন্ম। বাবা স্কুল মাষ্টার মোঃ আব্দুর রহমান এবং তার মাতা মোছা: শুরভান বেওয়া একজন পর্দাশীল গৃহিণী মহিলা। বাবা সারা জীবন শিক্ষার গর্ভে গ্রামে অজস্র মানুষকে পরিচালিত করেছেন। আবার ভাল ছাত্রকে ভালো করে পড়িয়েও বৃত্তি ধরিয়েছেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তার বাবা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। এ থেকেই মোঃ শফিকুক ইসলাম শফি সরকার উদ্বোধ্য হয়েই গানের জগতে আসে। আর বড় ভাই মোঃ শহিদ মাষ্টার নিজ প্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। একমাত্র বোন মোছাঃ শামসুন নাহার হেলেনা সহ দুই ভাইকে নিয়ে বাবার এক ছোট সংসার। তার বাবা আঠার বিঘা পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারার মধ্যে শফি সরকার পান সাত বিঘা। বড় ভাই তিরিশ বিঘা সম্পত্তি ক্রয় করলেও তিনি কোনই সম্পত্তি ক্রয় করতে পারেনি। সহধর্মিণী মোছাঃ রহিমা বিবি ও এক পুত্র সন্তান মোঃ রাজুকে নিয়ে তিনি গ্রামেই থাকতেন। পরে তিনি গ্রাম থেকে শহরে আসলেন জীবন জীবিকার উদ্দ্যেশে রাজশাহী। তবুও স্বরিত গান রচনায় থেমে থাকেননি তার মেধা। তিনি চাকরী পেলেন রংপুরের রহিমদ্দীন ভরসার সিগারেট কোম্পানীতে। কর্মরত থাকেন রাজশাহী সিটি করর্পোরেশন অর্থাৎ বিভাগীয় এলাকা জুড়ে। সে কোম্পানীর বিভিন্ন পন্য বাজারজাত করনের সৌজন্যে প্রতি মাসে পান প্রায় আট নয় হাজার টাকা। অর্থ কষ্টেই চলেন তাই তো তার চেহারা দেখলেই টের পাওয়া যায়। সারাদিন কর্ম ব্যস্ততায় কাটান এবং ভর দুপুরে বর্নালীর মোড়ে শরিফ চা স্টলে একটু জিরিয়ে নেন। আর সে সুবাদেই তিনার সহিত সেখানেই নজরুল ইসলাম তোফার হঠাৎ সাক্ষাৎ হয়। তার জীবন কথা সহ স্বরচিত গানের এক বৃহৎ ভান্ডার রয়েছে জানতে পারেন নজরুল ইসলাম তোফা। স্টলের টেবিল বাজিয়ে শুনিয়েও দিলেন অনেক গুলো গান। মুগ্ধ হওয়ার মতো একটি গান তা হলো:
ডিপটিউবলে ফসল ফলায় আসমান ছাড়া জমিনে,
কি যুগ আসিলো গুরু মনে পড়ে তোমারে।
আকাশেতে মেঘ ভাসেরে এক ফসলেই জ্বালা,
বৃষ্টি ছাড়া ভালো ফসল যায়না ঘরে তোলা।
অনাবৃষ্টি ধুধু খরাই ফসল কত মইরাছে,
কি যুগ আসিলো গুরু মনে পড়ে তোমারে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিভাবান তারুণ্যের প্রতিক, স্বল্প ভাষী, মিউজিক ম্যান ও স্বরচিত গানের শিল্পী মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি সরকার অল্প বয়সেই জয় করেছেন অসংখ্য শ্রোতা ও দর্শকের হৃদয়। ধানুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম স্বরচিত গান গেয়ে দর্শকপ্রিয় হন। এখন তার বয়স প্রায় ৪১ বছর হয়তো হবে। তিনি এখন রাজশাহী এক মনোরম পরিবেশ অর্থৎ উত্তর বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী আম নিয়ে নির্মিত ‘আম চত্ত্বর’ ভাস্কর্য্যের পূর্ব দিকে জিয়া পার্কের পার্শ্ববর্তী নওদা পাড়া প্রামে নিজ সন্তান ও সহধর্মণীকে নিয়ে বর্তমানে অবস্হান করেন। ভাড়া বাসায় ছেলেকে লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন। বাবার দেয়া সাত বিঘা সম্পত্তিই এখন তার জীবনের চলার মুল পাথেও। নবম শ্রেনীতে লেখা পড়া করা ছেলেকে মোবাইল ফোন কিনে দিতে নারাজ। ছেলে নাছড় বান্দা হয়ে বাবার সঙ্গে জেদ করলে তাকে এ যুগের হালচাল ও অতীতে প্রেমের হালচালে স্বরচিত গান গেয়ে শুনান। তা হলো: আধুনিক যুগ আর মড়ান যুগে,
প্রেম আলাপে জমায় রে,
কে বানাইলো মোবাইল ফোনটা রে।
আগে আমরা প্রেম করিতাম চিঠি দিয়া হাতে,
যাওয়া আসা অনেক দুরে,
প্রেমের আলাপ হয় না রে।

সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেই তার বেড়ে ওঠা। কিন্তু বাল্য বয়সে মস্তিষ্কের কোষে কোষে গেঁথে গেল যাত্রা দলের গান এবং যাত্রার মিউজিক। সব কিছু ছাপিয়ে যাত্রার যে ডুগী তবলা মিউজিক তা নিয়ে মাতিয়ে তোলে মন্ত্রমুগ্ধ বাদ্যের ঢংঙে। তরুণ বয়সে নিজ গ্রামের স্কুলে প্রতি বছর যাত্রা গানে দল আসতো। মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি সরকার শৈশব থেকেই তার প্রতি অনেক আগ্রহ দেখিয়েছেন। যশোহরের জি,এস অয়েল অপেরা যাত্রাদল ধানোরা প্রামে এলে তাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে মিউজিক বাজিয়েছেন এবং শৈশবে মনেও করেছেন দলটির সঙ্গে চলে মন্দ হয় না। কিন্তু বাস্তবতায় বাবার কারণে সে সিদ্ধান্তের কবর হয়েছিল। তবে বাড়ির পাশে একজন দক্ষ প্রবীণ ব্যক্তি উস্তাদ তাসির উদ্দীন সঙ্গে এলাকায় মিউজিক বাজিয়েছেন। খুব সুন্দর হারমোনিয়াম ও অর্গান বাজাতো উস্তাদ তাসির উদ্দীন। তার সঙ্গেই শফির উঠা বসা স্কুল জীবনে। উস্তাদ তাসির উদ্দীনের সঙ্গী সাথী হয়ে দূরদূরান্তের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গানের আসোর জমিয়েন এবং বিভিন্ন মিউজিক বাজিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী চিন্তার মানুষটিকে আরো পরে হারমোনিয়াম ধয়িয়ে গান শিখেছেন তানোর থানার বড় গানের উস্তাদ মোঃ রেজাউল ইসলাম বাবু। উনার ডাকে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিয়ে-বাদি, কিচ্ছা-কাহিনী, যাত্রা-পাটি এবং স্কুল-কলেজের অনুষ্ঠানে মিউজিক বাজিয়েছেন এবং তা নিয়ে দূরদূরান্তেও বাজাতে যেতেন। তার বাবা মার হাজারো বাধা উপেক্ষা করে এ জগতেই ছিলেন। একটু বলে রাখি, নেশা ও পেশার মধ্যেও খেলাধুলার প্রতিও তার আগ্রহ ছিল। হাডুডু খেলা পাশাপাশি একই ভঙ্গিতে অনেক স্বরচিত গান লেখার চিন্তা মাথায় নিয়েছিল শফি সরকার। কিন্তু কাগজে কলমে লিখা হয়নি তখন তিনার। তবে শুরু হয় কলেজে ভর্তী হবার পরে। লেখাপড়ায় ভালো ছাত্র ছিলেন, ছয় মার্ক পেলে অবশ্যই এস, এস, সিতে প্রথম স্হান অধিকার করতে পারতেন। তার কলেজ জীবনে নেমে আসে অমানিশার ঘোর আঁধার, পড়াশোনা আর হয়নি। কাল হয়ে দাঁডিয়েছিল ‘হুচি’। এইচ,এস,সিতে হুচি’ নামের মেয়ের সঙ্গে ব্যর্থ প্রেমিক হয়ে যান তিনি। কিরের আর লেখা পড়া, খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। বাবা তাকে অনেক চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। হুচিকে নিয়ে অনেক অনেক গানও লিখেছেন।
যেমন: কৃষ্ণচূড়া গাছেরে হুচি আজো বেঁচে আছে, ভালোবাসার দিনগুলো সে কোথাই চলে গেছে। পাড়ার যত তরুন মেয়ে খেলতো কতো খেলা, হাত ধরিয়া গোল্লাছুট আর কানা মাছির খেলা। ওরাই আমার সঙ্গের সাথী কোথাই চলে গেছে, তাদের দেখতে মনে আমার বড়ই সাধ যে জাগে।

কৈশরে স্বরচিত গানের সহিত মিউজিক বাজিনোর উৎসাহ এবং পরিচিতিটা ছিল অনেক উর্ধে। মিউজিক বাজানো অভিজ্ঞতা তার আসে যাত্রা গানের দলপ্রধান উস্তাদ মোঃ তাসির উদ্দীনে কাছ থেকে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে উস্তাদ মোঃ তাসির উদ্দীনের সঙ্গে যাত্রার মিউজিক বিভিন্ন এলাকায় বাজাতেন এবং বিষেশ করে উস্তাদের সঙ্গে হারমোনিয়াম ও তবলা বাজাতেন। তিনি ১২ বছর হতেই যাত্রা গানে ভক্ত হয়ে যান। তারপর যাত্রা গান শুনতেন আবার গ্রামে যাত্রা গানের মধ্যে মিউজিক ম্যান হয়ে ঢুকেও পড়েন। সেখানে কংগো ও ডুগী তবলা বাজিয়েছেন সাত আট বছর। গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছে গান ও মিউজিক বাজানোটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল। ছেলে মেয়েরা তাদের কাছে মিউজিকের সঙ্গে কিভাবে গান করতে হয় তা শিখে নিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় তথা গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দর্শকদের বিনোদন দিতো। মিউজিক প্রেমী মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি সরকার তাদের সহযোগী হয়েই সকল অনুষ্ঠানে মিউজিক অত্যন্ত দক্ষতার সহিত বাজিয়েছেন। তার স্বরচিত গানের মধ্যে কংগো, ডুগী-তবলা মিউজিক বাজিয়েছেন অনেক বেশী। তানোর থানার বিভিন্ন এলাকায় বায়নাও গিয়েছেন। কিন্তু এখন মিউজিক নিয়ে তার কোনই পরিকল্পনা নেই, তবে মনের ইচ্ছা পূর্ণ করার বাসনা সর্বদাই জাগ্রত তাহলো স্বরচিত গান লেখা আর গান গাওয়া। তার আপন ভাতিজা অর্থাৎ বড় ভাইয়ে ছেলে মোঃ আব্দুর রব স্বচক্ষে দেখেছেন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তার উপলব্ধি, সত্যিই চাচা সংগীত রচয়িতা। প্রত্যক্ষদর্শীরাই উৎসাহ যুগিয়েন চাচাকে স্বরচিত গানে জগতে। তাকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারাই উঠিয়েছেন। দর্শকনন্দিত স্বরচিত গানের শিল্পী নজরুল ইসলাম তোফাকেও অনেক গান শুনিয়েছেন। তার ভাতিজার ভাষ্য মতে, আমি চাচা একজন ভক্ত, আমার চাচা অত্যন্ত একজন গুনি ব্যক্তি। তার স্বরচিত গানে আমি মনে করি, সংগীত জগতের এক তৃনমূল বীর, আমি তার লিখিত গান, সুর এবং মিউজিক বাজানোর পারদর্শীকতায় সত্যিই একজন খাটি ভক্ত। পছন্দ করি চাচার অনেক স্বরচিত গান এবং গাইতেও চেষ্টা করি তার নিজস্ব স্টাইলে। আব্দুর রব আরো বলেন, সবগুলো গানই বিজ্ঞান চৈতন্য বোধের ফোক সংগীত। ফোক সংগীতের রচয়িতা শফিকুল ইসলাম শফি প্রায় ৫০/৫৫ টি গান রচনা করেছেন। এই ফোক গানে রচয়িতা ও সংগীত শিল্পী শফির ভাতিজা এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাষ্টার্সে পড়াশুনায় রত।

শৈশব থেকেই তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজের ভক্ত। শিল্পী মমতাজকে পেলে তাঁকে গান শুনানোর ইচ্ছে পোষন করেন। তাঁর মোবাইল নম্বর পেলেও মোবাইলে গান শুনানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তাই তার ০১৭১৭৬৬৪১৪০ এই মুঠোফোন নম্বর দিয়েও দিলেন নজরুল ইসলাম তোফাকে। গান গুলো রেকডিং হোক সে ইচ্ছাও তার। সব গুলোতে নিজের সুর দেওয়া ও গাওয়া রয়েছে।কোন সংগীত প্রিয় ছেলে বা বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসলে তাদের গাওয়া ও রেকডিং করায় কোন বাধা সৃষ্ট করবেন না। উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে ধর্ম এবং বিজ্ঞান উভয়ের প্রতি গভীর সমর্থনের এক বিশাল জনগোষ্ঠীর আস্থা যেন থাকে তার রচিত গানের কথা ও সুর। হয়তো কালের আবর্তনে মহাবিশ্বের শুরু থেকে ধ্বংস পর্যন্ত মোঃ শফিকুল ইসলাম শফির স্বরচিত গান যেন অক্ষন্য থাকে সে স্বীকৃতি ও আশা আকাঙ্খা পোষন করেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com