বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

English Version
প্রযোজক সমিতির নির্বাচন নিয়ে চলছে রশ্মি টানাটানি: ধ্বংসের পথে চলচ্চিত্র

প্রযোজক সমিতির নির্বাচন নিয়ে চলছে রশ্মি টানাটানি: ধ্বংসের পথে চলচ্চিত্র



মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া, বিএফডিসি # বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক,পরিবেশক সমিতি চলচ্চিত্র শিল্পের ১টি মাদার অর্গানাইজেশন হিসেবে পরিচিত। আর এই সংগঠনের কর্ম তৎপরতার ওপর ভর করে চলচ্চিত্র শিল্পের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবত উক্ত সংগঠনটিতে নির্বাচিত কোন প্রতিনিধি না থাকায় ছবি নির্মাণ থেকে শুরু করে,ছবি রিলিজ দেওয়া সহ যাবতীয় বিষয়াদী নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেছে। ফলে চলচ্চিত্রের সাধারণ প্রযোজকরা পদে পদে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হওয়া সহ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এমতাবস্থায় চলচ্চিত্রের এই দূ-সময়ে হাল ধরার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় নির্বাচনের।

কিন্তু চলচ্চিত্র প্রযোজক,পরিবেশকরা একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আর এই গ্রুপিং নিরসনের জন্য এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ,প্রযোজক সমিতির বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের প্রচেষ্টায় সম্প্রতি একটি সমঝোতা সভা করা হয়েছিল। সেখানে বিবাদমান দুটি প্যানেল ১বছর করে আলাদা ভাবে ২বছর পৃথক ভাবে প্রযোজক সমিতি পরিচালনা করবে। এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা আর বহাল থাকেনি। এবং পরবর্তী সভায় ২৮শে মে নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু অবশেষে তাও ঠিক থাকলো না। সময় মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা বর্তমানে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ প্রযোজকদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ দিনদিন বেড়েই চলেছে। একাধিক গ্রুপিংয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তারা। আর এই সূত্র ধরে একপক্ষ অন্যপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য নেমে পড়েছেন মামলা-মোকদ্দমা।

প্রযোজক সূত্র জানায়,গত ২৮শে মে প্রযোজক সমিতির নির্বাচন অনিুষ্ঠত হওয়ার দিন ধার্য করা হলেও ৩ মাসের জন্য উক্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কারণ প্রযোজক সমিতির সদস্য (ভোটার নাম্বার-২৪) নাসির উদ্দিন নামের এক প্রযোজক গত ২২শে মে আদালতে নির্বাচনের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন নং-৫৯৯৬-২০১৬ দায়ের করেছেন। তাইর প্রেক্ষিতে গত ২৬শে মে নির্বাচনের ওপর আদালত স্থগিতাদেশ জারি করে। আদালতে দায়েরকৃত রিট পিটিশন সূত্রে জানাযায়,প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু,শামসুল আলম,শরীফ উদ্দিন খান দীপু ও মনতাজুর রহমান আকবর চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির বিগত তিন মেয়াদে পরপর নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রযোজক সমিতির সংঘবিধি এবং টি,ও রুল অনুযায়ী ওই ৪জন ব্যক্তি বর্তমান নির্বাচন ২০১৬-২০১৮তে প্রার্থী হতে পারবেন না। অথচ তারাই প্রার্থী হয়েছেন। আর এই অবৈধ প্রার্থীদের প্রতিকার চেয়ে মাহামান্য হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়।

এঘটনার প্রেক্ষিতে প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু গত ২৮শে মে বিএফডিসির প্রযোজক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্যে জানান,আমাদের ৪জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা পুরোপুরি সত্য না। আমরা ৪জন সভাপতি পদে তিন টার্ম নির্বাচিত হলেও টানা ৬ বছর আমরা সভাপতি পদে ছিলাম না। মাঝ খানে প্রশাসনও দায়িত্ব পালন করেছিল। এই মামলা একটা ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্য মূলক। আর এই মামলাটি জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ সাহেব করিয়েছেন বলে আমরা মনে করছি। যদি তা নাই হতো,তাহলে একই অভিযোগে অভিযুক্ত তার প্যানেলের প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেন,কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু,আতিকুর রহমান লিটন ও জাহিদ হোসেনের নামও মামলায় থাকতো।

আব্দুল আজিজ সাহেব সমঝোতার নাম করে আমাদের সাথে নাটক করেছেন। তিনি সব কিছু জেনে শুনে,তা ঘোপন রেখে নির্বাচনের ২দিন আগে ভারতে চলে গেছেন। আমরা চলচ্চিত্র শিল্পকে নিয়ে কাউকে নাটক ও ষড়যন্ত্র করতে দেবো না। আমরা এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এদিকে সমিতির প্রধান দুটি প্যানেলের সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে প্রথম ১বছরের জন্য নির্বাচিত হওয়া সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রযোজক সমিতির নির্বাচনের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে দুঃখ প্রকাশ করে লিখিত বার্তার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বলেন,সমিতির একজন সম্মানিত ভোটারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট প্রযোজক সমিতির নির্বাচন ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন জানতে পেরে আমি খুবই মর্মাহত। উপরোক্ত ঘটনায় আমি ও আমার কমিটির সকল প্রার্থীরা হতাশ হয়েছি। আমরা চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য আপনাদের সকলের পাশে ছিলাম এবং থাকবো।

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com