বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

English Version
লক্ষ্মীপুরের ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ নাজমুন নাহার

লক্ষ্মীপুরের ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ নাজমুন নাহার



 

কিশোর কুমার দত্ত, নববার্তা :
লাল- সবুজ পতাকা নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন বিশ্বের ১০৫টি দেশ। চিনিয়েছেন বাংলাদেশকে, জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের কথা। বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিরল এ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সুইডেন প্রবাসী নাজমুন নাহার।

জানা যায়, আঠারো বছর আগে বাংলাদেশের পতাকা হাতে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন। ২০০০ সালে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত দিয়ে শুরু হয় তার ভ্রমণ অধ্যায়। “ঘুমের মধ্যেও স্বপ্ন দেখি, আমি ভ্রমণ করছি পৃথিবীর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়,” বলেছেন পরিব্রাজক নাজমুন নাহার।

নাজমুন বলেন, “ভ্রমণ আমার সুখের জায়গা। এ ভালোবাসা আমাকে মানুষ, প্রকৃতি ও সৌন্দর্যময় পাহাডয়ের কাছে নিয়ে এসেছে।” জুনের ১ তারিখ জাম্বিয়া থেকে হেঁটে জিম্বাবুয়ে আসেন নাজমুন। সাথে সাথে শততম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাঁর ভ্রমণ তালিকায় পূর্ব আফ্রিকার জাম্বিয়া ছিল ৯৯তম দেশ। বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের জিম্বাবুয়ে অংশে ঘুরে আবার জাম্বিয়ার লিভিংস্টোন শহরে ফিরে আসেন তিনি।

তার এই বিরল কৃতিত্বে সম্মাননা দিয়েছেন লিভিংস্টোন শহরের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়িনা। “গভর্নর আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন, তুমি হচ্ছো ফ্ল্যাগ গার্ল,” বলেছেন নাজমুন নাহার।

নাজমুনের মতে তার ভ্রমণ তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ৯২। গত বছরের নভেম্বরে কুইন্সল্যান্ড এবং নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন তিনি। তার মধ্যে গ্রেট বেরিয়ার রীফ, হোয়াইটহ্যাভেন বিচ, অপেরা হাউস এবং বু-মাউন্টেইন উল্লেখযোগ্য।

“পালতোলা নৌকায় করে আমি গ্রেট বেরিয়ার রীফে যাই। যাওয়ার পথে মুখোমুখি হই জীবন- মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।”
“পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষই আমার গলার লকেটের প্রশংসা করেছেন। যখনই তারা লকেট নিয়ে কথা বলতে চায় তখনই আমি সুযোগ পাই বাংলাদেশকে তুলে ধরার। কারণ আমার লকেটে খচিত রয়েছে জাতীয় পতাকা,” বললেন নাজমুন।

ভ্রমণের মধ্য দিয়ে দেশকে এবং জাতীয় পতাকাকে পরিচয় করে দিয়েছেন পৃথিবীর হাজারো মানুষের কাছে! বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমনকি আদিবাসী মানুষের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন লাল সবুজের পরিচয়! সুইডওয়াচসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় খন্ডকালীন চাকরি করেছেন নাজমুন। রোজকার খরচ বাদে যা জমান, তা নিয়েই ঘুরে এসেছেন নতুন কোনো দেশে। বাংলাদেশের এই নারী ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ।

নাজমুন জানান, তার মন্টিনিগ্রো সফরের কথা। পাহাড়ি চমৎকার ভ্যালি আর অপূর্ব লেকে ভরপুর দেশটি এখনও দাগ কেটে রেখেছে তার মনে। কথোপকথনে শুনালেন জাম্বিয়াার মানুষের আন্তরিকতার গল্প। স্মরণ করলেন কলাম্বিয়ানদের বন্ধুসুলভ আচরণের কথা।

রমণের জন্য অর্থের চেয়ে নিখুঁত পরিকল্পনাটাই বেশি জরুরী বলে মনে করেন নাজমুন। “আমি কখনো আয়েশি ভ্রমণ করিনা। বেশিরভাগ ভ্রমণই আমি বাসে করেছি। শুধুমাত্র শেষ গন্তব্য থেকে আমি বিমানে চড়ি।” তরুণদের জন্য ঢাকায় ‘ইনসপিরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন। পাশাপাশি ‘প্রেরণাদায়ি বক্তা’ হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন নাজমুন নাহার।

 

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com