BNP

ঢাকা জেলা বিএনপিতে পাল্টাপাল্টি লেগেই আছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা জেলা বিএনপিতে পাল্টাপাল্টি লেগেই আছে। একপক্ষ অপরপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য আলোচনা সমালোচনায় ব্যস্ত। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজী নয়। তৃনমুল নেতাদের সাথে আলোচনা করে জানা যায় ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক রাজনীতি থেকে অপরাজনীতিতে পারদর্শী। কাজে নয় কথায় বিশ্বাসী। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বরাবরই আলোচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য স্বৈরাচার এরশাদ বিরুধি আন্দোলনে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৭ সালে স্বৈরাচার হাসিনা বিরুধি আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে ঠিক সে সময় ৯০ পরীক্ষিত ছাত্রনেতাদের নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্য তাই প্রমান করে। কিছু অর্বাচীন সুবিধাবাদী নেতা আবু আশফাককে ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি করেছে মুলত মেরুদণ্ড হীন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বিতর্কিত নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনার সহযাত্রী হিসেবে।

ঢাকা জেলা বিএনপির তৃনমুল প্রতিনিধি সভা ও পণ্ড হয়ে যায় খন্দকার আবু আশফাকের কারনে। যে উদ্দেশ্যে আবু আশফাককে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয় সে উদ্দেশ্য সুদূর পরাহত। তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে এখন ঢাকা জেলা যুবদল আহবায়ক সময়ের পরীক্ষিত নেতা ভিপি নাজিমের বিরুদ্ধে একাট্রা হয়ে মাঠে নেমেছেন। যে কোন প্রক্রিয়ায় ভিপি নাজিমকে যুবদল থেকে হঠাতে পারলেই তার মিশন সফল।
খন্দকার আবু আশফাকের নিয়োগ দাতারা ও আবু আশফাককে নিয়ে হতাস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন ছাগল দিয়ে হাল চাষ করা গেলে গরুর প্রয়োজন হত না।
গত ৭ ই নভেম্বর একটি অনলাইন পোর্টালে সাক্ষাৎকার দেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক। উক্ত সাক্ষাতকারে তিনি আশির দশকের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আলোকপাত করার সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যারা অগ্রনায়ক ছিলেন তাদেরকে বিতর্কিত করে বক্তব্য দেন।
আজকে বিএনপি রাজনীতির চালিকাশক্তি তাদের নিয়ে নতুন করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তৃনমূল একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে জানা যায়। আবু আশফাক বরাবরই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। ৯০ সালে ও এরশাদের সাথে আতাত করে দল থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন। এবার ও সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রাক কালে ৯০ এর ছাত্রনেতাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় এক সময় তিনি ঢাকা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। ব্যর্থতার কারনে ২০১০ সালে ঢাকা জেলা যুবদলের নতুন কমিটি হয়। ভিপি নাজিমকে আহ্বায়ক করে কমিটি করা হয়। ভিপি নাজিম সবগুলো সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি করে আন্দোলনের জন্য দলকে সক্রিয় করেন।
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রভাবশালী স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর রায়কে সামনে রেখে ঢাকা জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ভিপি নাজিমকে টার্গেট করে অপপ্রচারে লিপ্ত। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বিগত সরকার বিরোধী আন্দোলনে সরকারের সাথে আতাত করে ব্যবসা বানিজ্য করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। সারা দেশে বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রগন বারং বার বহিস্কার হলে ও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন।
ঢাকা জেলা বিএনপির কমিটি গঠনে ও কমিটি বানিজ্যের অভিযোগ আছে আবু আশফাকের উপর। পরিশ্রমী ত্যাগী ও দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে তার ব্যবসায়িক পাটনার দের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই নিয়ে তৃনমূল নেতাকর্মীদের সমালোচনার মুখে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা , সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নান সহ সিনিয়র নেতাদের নামে বিষোধগার করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় কেন্দ্র ঘোষিত কোন কর্মসূচীতে না থাকলে ও স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর রায়ের অফিসে নিয়মিত হাজীরা দেন।
উল্লেখ্য
গত ১৪ ই মে ঢাকা জেলা বিএনপির কর্মী সভা পন্ড হওয়ার পর নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে সামনে এসেছে আশফাক নাজিম দ্বন্ধ।কর্মী সভা পণ্ড হয়ার পর মিডিয়া এক পেশে বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ঢাকা জেলার বিএনপির সাধারন সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক। আবু আশফাক নিজের ব্যর্থতা ডাকার জন্য এর দ্বায় অন্যের কাঁধে চাপানোর অভিপ্রায়ে একপেশে বক্তব্য দেন মিডিয়াতে।
এবার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কার দাবী করে চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন ঢাকা জেলা যুবদলের আহবায়ক ভিপি নাজিম।দলের দুঃসময়ে দল পূর্ণগঠনে যখন সক্রিয় তৃনমুল নেতাকর্মীরা। ঠিক সে মুহূর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের হটকারিতার কারনে ঢাকা জেলাতেই বিএনপিতে টাল মাটাল অবস্থা। ১৪ তারিখ কর্মী সভা পণ্ড হওয়ার পর মিডিয়াতে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আশফাক এর জন্য চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ঢাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানকে দায়ী করার পাশাপাশি জেলা যুবদল আহ্বায়ক ভিপি নাজিমের বহিষ্কার দাবী করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা জেলা বিএনপির কর্মী সভায় বাবু গয়েশ্বর আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের জড়ো করে, ঢাকা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের একের পর এক উস্কানিমূলক আচরন কর্মী সভা পণ্ড করতে সহায়তা করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র দাবী করে আমান উল্লাহ আমান, ৯১, ৯৬, ২০০১, সালে ঢাকা ৩ আসনে থেকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। বাবু গয়েশ্বর এখন বিএনপি রাজনীতির প্রভাব বলয়ে থাকায় আবু আশফাককে দিয়ে পরিকল্লিত ভাবে কর্মী সভা পণ্ড করে দায় আমান উল্লাহ আমানের কাঁধে চাপাতে চেয়েছিলেন।
আবু আশফাকের উস্কানিমূলক আচরনের কারনে ভিপি নাজিমের সাথে বেশ কবার মঞ্চে বাক্য বিনিময় হয়। প্রধান অতিথি বাবু গয়েশ্বরের বক্তব্যের আগ মুহূর্তে সিনিয়র নেতাদের নামে আপত্তিজনক বক্তব্যের কারনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায়। ফলশ্রুতিতে প্রধান অতিথি বাবু গয়েশ্বর বক্তব্য না দিয়ে চলে যান। তখন বাহিরে দু গ্রুপের সংঘর্ষ চলছিল।
ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করার অপচেষ্টায় মিডিয়াতে পুনরায় আমান উল্লাহ আমানকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়াকে তৃনমুলের নেতাকর্মীরা সহজ ভাবে নেয়নি। আবু আশফাক জেলা বিএনপির দায়িত্বে থাকলে দল খুদ্রথেকে খুদ্র হবে।

বহিষ্কার দাবী করে চিঠি প্রদানের পর নতুন করে আবার আলোচনায় আসে ১৪ তারিখের কর্মী সভায় আসলে কি ঘটেছিল। অনুষ্ঠানে বার বারই দেখা গেছে ভিপি নাজিম তার ইউনিটের নেতাকর্মীগন মিছিল সহকারে আসলে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় বার বার ভিপি নাজিমের বিক্তব্যে বাধা দিচ্ছিল আবু আসফাক এক পর্যায়ে ভিপি নাজিমকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলে। এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগে ২য় দফায় বক্তব্য দেয়া এবং উপস্থিত সিনিয়র নেতাদের নামে সমালোচনা মুলক বক্তব্য চলাকালে একপক্ষ শহীদ জিয়া,খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার নামে শ্লোগান দেয় , মঞ্চের দিকে চেয়ার ছুরে মারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়াতে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়, প্রধান অতিথি বাবু গয়েশ্বর রায় বক্তব্য না দিয়ে চলে যায়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com