জাতির পিতার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে গেলাম আমরা -প্রধানমন্ত্রী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নববার্তা রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণে আমরা একধাপ এগিয়ে গেলাম।

আজ শনিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতার জন্মদিনে আজ জাতিকে একটা সুখবর দিতে চাই। আজ বাংলাদেশ জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে। আমাদের পাশের দেশগুলো এই স্বীকৃতি আগেই অর্জন করেছিল। আজ থেকে আমরা তা অর্জন করলাম। এর মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নপূরণে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম আমরা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এরমধ্যেই তিনি দেশের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। আরেকটু সময় পেলে এই বাংলাদেশকে অনেক আগেই উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করতে পারতেন। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমরা দুই বোন বিদেশে ছিলাম বলেই বেঁচে গিয়েছি। বিদেশে আমরা দুই বছর রিফিউজির জীবনযাপন করেছি। তারপরও আমার বাবার স্বপ্ন পূরণে রাজনীতিতে এসেছি। সব সময় দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

এ সময় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে স্মৃতিচারণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য নিরন্তর কাজ করতে গিয়ে একটানা দুই বছরও আমার বাবা কারাগারের বাইরে থাকতে পারেননি। এতেই বোঝা যায় তিনি কী গভীরভাবে বাংলার মানুষকে ভালোবাসতেন। এমনকি পরিবারের চেয়ে দেশের মানুষকে তিনি বেশি ভালোবাসতেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর লেখা কারাগারের রোজনামচা ও অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি বোঝা যায়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের জাতির ভবিষ্যত হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নিয়মিত লেখাপড়া করার পরামর্শ দেন।

অভিভাবকদের নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের মন কোমল। এ সময় তারা যা দেখবে, তাদের যা শেখানো হবে সেটাই তারা করবে। তাই তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে সেগুলো খেয়াল রাখবেন। তিনি বলেন, কোনো শিশু যেন বিপথে না যায়, তারা যেন কোনো জঙ্গিমূলক কাজে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে আপনাদের।

এর আগে, শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়া হেলিপ্যাডে পৌঁছান। এরপর পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন।

সকালে ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য সিনিয়র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আর ভোরে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে।

উল্লেখ্য, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ লুৎফর রহমান ও মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। লুৎফর-সায়েরা দম্পতির এ সন্তানই পরে এ দেশের মানুষের পরাধীনতা মুক্তির ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। টুঙ্গিপাড়ার খোকা থেকে হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র ৫৫ বছর বয়সে প্রাণ দিতে হয়েছিল তাকে।

লাইক দিন

উত্তরাঞ্চল প্রধান

News editor Offce

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.