ক্যামোফ্লাজ - কবি দিলারা রহমান
ক্যামোফ্লাজ - কবি দিলারা রহমান

ক্যামোফ্লাজ; কবি দিলারা রহমানের এক অনবদ্য সৃষ্টি!

নয়ন মহন্ত # ক্যামোফ্লাজ-একটি মনোমুগ্ধকর সৃষ্টি; শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষিকা, আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন, প্রিয়ভাষিনী অধ্যাপক দিলারা রহমান ম্যাডামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ক্যামোফ্লাজ।

বইটি কয়েকদিন আগে হাতে পেলেও পড়া হয়ে ওঠেনি। আজ পড়লাম, প্রাণ ভরে গেল উনার কিছু কিছু লেখা পড়ে। তিনি তার লেখায় প্রকৃতির কন্যা ফুল, নদী, বালুচর, জ্যোৎস্নারাত, চাঁদ, অরণ্য, পাহাড়, সমুদ্রকে তুলে ধরেছেন নিপুণ অভিনেতার মতন! দেখা যায়, তিনি প্রকৃতিকে অনেক ভালবাসেন এবং সেগুলো নিয়ে বেশ কল্পনা প্রবণও বটে। উনার কবিতা গুলোতে প্রতিবাদ আছে, বহুরুপিতা আছে, সরষেফুলের স্বাদে প্রেম আছে আর মাঝরাতে ফুলদানীতে ভিজিয়ে রাখা বাসিফুলের মত অভিমানও আছে। কবি কখনো কল্পনায় ছেলেবেলার দুরন্ত শৈশব, কখনো নদীরপাড় কিংবা বালুচরে বিচরণ করেছেন। উনার লেখা পড়ে আমি বিমোহিত!

উনার কবিতার কিছু প্রিয় লাইন তুলে ধরলাম,
“অপরাজিতা,
হৃদয়ের সব কথা কবিতা করে লিখেছ কাজল চোখে,
তুমি হারিয়ে দিয়েছো বনলতাকে”।

পরক্ষনেই প্রেমের জন্য যুদ্ধঘোষনা,
“মনে রেখো,
সংগ্রাম হবে সমরাস্ত্রের সাথে হৃদয়ের, হন্তারকের সাথে প্রেমিকের”।

ক্ষণিক পড়েই উনি প্রেমের আল্পনা এঁকেছেন,
“তুমি পাশে থাকলে, তোমার ঠোঁট, হাত, চুল’কে চেনা হত খুব”।

আবার ভালবাসাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, “আটাত্তর শতাংশ প্রেম, একুশ শতাংশ আস্থা, ১.৩৭ শতাংশ অভিমানের মিশালে বিশুদ্ধ এক ভালবাসা”।

প্রিয় কে চাওয়ার ব্যাকুলতা তুলে ধরেছেন এভাবে,
“বৃষ্টির গন্ধ বুকে নিয়ে, আমি শুধু তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, এবং তোমাকেই চাই”- দৃঢ় প্রেমের সংকল্প।

কিংবা,
“তোমার খুব মন খারাপ হলে, এক সমুদ্র বিষন্ন চোখে, তুমি আমায় দেখো”– মোটকথা এ লাইনগুলো কবির প্রেমিক সত্বা প্রমাণ দেয়।

পরক্ষনেই উনি লিখেছেন, ‘দু’বিন্দু অশ্রুজল তাই, সমুদ্রের জলরাশিতে মিশে গিয়ে, এক হয়ে ছিলো, এভাবেই আমি সমুদ্রকে, তুমুল প্রবাহমানতাকে ঋণী করেছিলাম’।

নির্ভয় প্রেমিকার প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন এভাবে,’ধমনী, অলিন্দ, হৃৎপিন্ড যেথায় এক হয়ে রয়, সেখানে হারাবার, থাকে নাকো ভয়’।

কিংবা
‘আমি আকাশ, বজ্রের আর্তনাদকে সাথে নিয়ে, তোমার কাছ থেকে যোজন-যোজন দূরে আছি’- নিরেট অভিমানি হৃদয়ের বহিঃপ্রকাশ বলা যায়।

উনার ক্যামোফ্লাজ, পৃথিবীর ঋণ, প্রিয় টমাস হব, কবিতায় সমাজের ভন্ডামি এবং আমাদের বহুরুপিতা নিখুদভাবে তুলে ধরেছেন। আর এতে প্রতিকারের আকুতিও বিদ্যমান।

তিনি তাঁর ‘একটি পারিবারিক আ্যালবাম’ কবিতায় একজন গ্রাম্য কিশোরির কৈশরের বর্ননা ফুটিয়ে তুলেছেন।

‘পাপস্থলন’ কবিতাটি তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি, অনিন্দ সুন্দর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ, সমাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রতিদান ও বলা চলে।

কখনো কখনো উনি মৃদু শাস্তির বিধান ও করেছেন, যেমন উনি লিখেছেন, ‘এ যন্ত্রনা তোমাকে আমৃত্যুই পেতে হবে, কারণ, প্রাচীন শিরীষের ছায়ার আড়ালে, তোমার চোখে মায়ার খেলা, আমি ঠিকই দেখে নিয়েছিলাম’।

কখনো উনি অবহেলাকে সুন্দর রুপ দিয়েছেন ব্যাস্ততা বলে।
যেমন, ‘তুমি চিঠি পড়ে হেসে ওঠো হো হো শব্দে, সময় কোথায় সময় নষ্ট করার?’

প্রকৃতির প্রতি উনার প্রেম অপরিসীম, সেটাও ফুঁটিয়ে তুলেছেন বিভিন্ন কবিতায়, নদীর কথা, সমুদ্রের কথা, কদম-শিউলিসহ আরো অনেক ফুলের কথা, বালুচর, শস্যক্ষেতের কথা, যেমন উনি লিখেছেন, ‘সবুজ ধানক্ষেত, সন্ধ্যা নদী, মহান শিরীষের কাছে মেয়েটি ভালবাসা শিখেছিল।’ পরিশেষে আমি কবির উত্তরোত্তর সাফলতা কামনা করছি।

লেখকঃ নয়ন মহন্ত, প্রভাষক, বিএমবি বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com