সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফুয়াদ ক্যানসারে আক্রান্ত - Nobobarta.com
সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফুয়াদ আল মুক্তাদির

সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফুয়াদ ক্যানসারে আক্রান্ত

সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফুয়াদ আল মুক্তাদির। রোববার দিনের শুরুতেই ভক্তদের মন খারাপ করা মত এক সংবাদ দিলেন নিজের ফেসবুক পেজে। এক ভিডিও বার্তায় ফুয়াদ বলেন, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। সম্প্রতি তাঁর দেহে ক্যানসারের জীবাণু থাকার বিষয়েটি নিশ্চিত হয়েছেন চিকিৎসকেরা। ভিডিওতে ফুয়াদ আরও বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমি চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করেছি। আমার শরীরে প্যাপিলারি কারসিনোমা ধরা পড়েছে। এটা থাইরয়েড ক্যানসার। তবে কোন পর্যায়ে আছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। থাইরয়েড ক্যানসার হচ্ছে সব ক্যানসারের মধ্যে সহজে নিরায়মযোগ্য। এই অসুখ নিয়ে অনেকে অনেক দিন বেঁচে থাকেন। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

ছোটবেলা থেকে ফুয়াদের জীবনের একটা বড় সময় কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। পড়াশোনার পাশাপাশি গান নিয়ে ব্যস্ত রেখেছেন নিজেকে। গানের টানে একসময় বাংলাদেশে ফিরে আসেন ফুয়াদ। বাংলাদেশের গানের জগতে একটা বড় পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের অনেক শিল্পী তাঁর সুর আর সংগীত পরিচালনায় গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন। কাজ দিয়ে সংগীতাঙ্গনের সবাইকে আপন করে নেন তিনি। এবার দীর্ঘ দিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পরিবার নিয়ে আছেন ফুয়াদ। সেখানে থাকলেও বাংলা গানের চর্চা নিয়মিতই করছেন। রোববার সকালে হঠাৎ জানালেন, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। ফুয়াদের ক্যানসার আক্রান্তের খবরে গানের জগতের অনেকেই সহানুভূতি জানিয়েছেন। তাঁরা সবাই ফুয়াদকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ফুয়াদ ১৯৮৮ সালে আট বছর বয়সে বাংলাদেশ ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চলে যান এবং সেখানে একটি জুনিয়র স্কুলে ভর্তি হন। তিনি সবসময় সঙ্গীত নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। মধু, হিমেল, শুমন এবং ফ্রেডকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৩ সালে তিনি একটি ব্যান্ড দল ‘যেফির’ গঠন করেন। ১৯৯৯ সালে ব্যান্ড ভেঙে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা অনেকগুলো গান রেকর্ড করে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বাংলাদেশী বসবাসকারীদের জন্য দুইটি এ্যালবাম মায়া-১ এবং মায়া-২ বের করেন।

যেফির ব্যান্ড ছেড়ে আসার পর তার প্রথম রেকর্ড হয় ‘রি-এভুলেশন’। অবস্কুর ব্যান্ডের কীবোর্ড বাদক সোহলে আজিজের সহায়তায় এই এ্যালবামটি বের হয়। এটিতে প্রধান গায়ক ও গৌণ গায়কের গাওয়া ১৪টি গান অন্তর্ভুক্ত আছে। এই এ্যালবামে আসল গানের পাশাপাশি একই গানের রিমিক্স গান অন্তর্ভুক্ত আছে। লিটুর ‘সিলতি’ অনীলা নাজ চৌধুরীর ‘ঝিলমিল’, আমরিন মুসার ‘ভ্রমর কইয়ো’ এবং ‘মন চাইলে মন’ এর রি-মিক্সড গান এই এ্যালবামে অন্তর্ভুক্ত আছে। ফুয়াদ’স ভ্যারিয়েশন নং. ২৫ প্রযোজিত হয় ২০০৬ সালে। ২০০৬ সালে এরপর জি-সিরিজ এবং আরশির ব্যনারে এই এ্যালবামে আরও দুইটি নতুন গান অন্তর্ভুক্ত করে পূর্বের এ্যালবামটি ভ্যারিয়েশন নং. ২৫.২ নামে পুনরায় বের করা হয়।

এই এ্যালবামের কয়েকটি গানের মধ্যে – পুনমের ‘নবীনা’, রাজিব/ফুয়াদের ‘নিটোল পায়ে’ এবং বাপ্পা মজুমদারের ‘কোন আশ্রয়’। ফুয়াদের ‘বন্য’ এ্যালবামটি বের হয় ২০০৭ সালে জি-সিরিজের ব্যানারে। এই এ্যালবামের কয়েকটি গানের মধ্যে রয়েছে- উপলের ‘তোর জন্য আমি বন্য’, ফুয়াদ/বিসপের ‘বন্য র‍্যাপ’, ফুয়াদের ‘জংলী’, ‘দা-দুষ্ট নাম্বার’ এবং নিটোল পায়ে (লাইভ)। এছাড়া ফুয়াদ আরও কিছু এ্যালবামে কাজ করেছেন। এগুলো মধ্যে – সুমন ও অনীলা’র ‘এখনো আমি’, তপুর (যাত্রী’র কন্ঠে) ‘বন্ধু হবে কি?’, ফুয়াদ ফিচারিং কনা, ফুয়াদ ফিচারিং মালা, ফুয়াদ ফিচারিং মিলা ‘রি-ডিফাইন্ড’ এবং ফুয়াদ ফিচারিং বিভিন্ন শিল্পী ‘ক্রমান্বয়’ বের হয় ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে। তিনি শেরিন, অনীলা, সুমন, তপু এবং অন্যান্য শিল্পীদের বিভিন্ন একক ও মিক্সড এ্যালবামেও কাজ করেছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com