,

ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কতটা ভয়ানক হতে পারে?

মেহেদী হাসান তামিম # সাবধান না হয়ে উপায় নাই। আর কার কি বিপদ জুকারবার্গ সাহেবের মাধ্যমে হতে পারে তা জানি না। তবে সরকারী কর্মচারীদের বিপদ আছে! অতিরিক্ত আবেগী, আবেশী মানুষদের এ একটি অনাবশ্যক রোগ বৈকি। মনে পড়ছে ১০ বছর আগের কথা। মনে পড়ছে বললে অবশ্য খানিকটা ভুল হতে পারে, মনে নিয়েই আছি বলা যেতে পারে। স্যারের কোন উপদেশ কতটা রাখতে পেরেছি জানিনা, তবে এটির কথা অন্তত আমার ব্যাচের বন্ধু কর্মকর্তাগন সবসময় মনেহয় তা মনেই রাখেন।

আমরা সিভিল সার্ভিসে যোগদান করার পর আমাদের সৌভাগ্য হয়েছিল প্রশিক্ষণ একাডেমীতে বেশ কয়েকজন সাবেক প্রাজ্ঞ বিজ্ঞ বিদগ্ধ আমলাদের শিক্ষক হিসেবে পেয়ে। ( আচ্ছা, আমলারা কেন সাবেক হন, যেখানে শিক্ষক, বিচারক, ডাক্তার, অভিনয়শিল্পী, লেখক আরো কত পেশা আছে – কখনোই সাবেক হন না বা বলা হয়না সাবেক শিক্ষক, সাবেক রাজনীতিবিদ।) যারা হাল্কা বা মাঝারি গোছের লেখালেখি করেন, তাদের নিয়ে এক সমস্যা, আসল কথার ধারেকাছে নাই কিন্তু শাখা, প্রশাখা ছড়িয়ে এমন এক বৃক্ষ অংকন করেন, যেথায় আসল জিনিসট খড়ের গোদায় হারিয়ে যাওয়া সূঁচের মতো হয়। যাক অযথা প্যাচাল আর বাড়াব না, যে কথা বলছিলাম তাতে ফিরি।

একাডেমী তে আমাদের আইন পড়াতেন দুজন সাবেক ডাকসাইটে কর্মকর্তা। দারুন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন দুজন মানুষ। তাঁদের একজন কাজী দেলোয়ার স্যার। তিনি একদিন ক্লাসে এসেই হোয়াইটবোর্ডে বেশ বড় করে একটি লাইন লিখলেন। আমার যদ্দুর মনে পড়ে স্যার বোর্ডে লিখলে খুব ছোটকরে ছাপানো অক্ষরের মতো সুন্দর করে লিখতেন। যে লাইনটির কথা বলছি তা কিন্তু স্যার লিখলেন বেশ বড় করে। তাঁর লিখার ধরনটি দেখেই বুঝেছিলাম নিশ্চয়ই সেটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু হবে। তবে দিব্যি দিয়ে বলছি, কখনো স্বপ্নে পায়চারী করা কল্পনাতেও আসেনি লাইনটির গুরুত্ব যে এতটা হতে পারে! আজ প্রায় দশ বছরের চাকরিজীবন শেষে যতটুকু উপলব্ধি বলি বা দীক্ষা বলি সে ওই একটা লাইন – ই।

সেটিতে আসছি, তার আগে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রত্যন্ত জনপদের একটি সরকারী হাসপাতাল থেকে ঘুরে আসা যাক।
বন্ধুর নাম ডাঃ অরুণাচল দত্ত চৌধুরী। নিষ্ঠাবান সরকারী ডাক্তার। সাসপেন্ডেড। নাম শোনার তো কথা। আর শুনবেন নাইবা কেন? এখনকার দিনে ভাল কাজের জন্য যতটা না আলোচনায় আসা যায় তারচেয়ে বহু বেশী হিট হওয়া যায় অকাজের জন্য। আমাদের ডাক্তার বন্ধুটি ভালো কি মন্দ জানিনা তবে মনের ভাবাবেগ প্রকাশ করে কয়েকটি কথা মাত্র প্রকাশ করেছিলেন মাত্র। কি ছিল তাঁর ফেবু স্টাটাসে? তাকে যে সে স্টাটাসের জন্য সাসপেন্ড হতে হলো! আসলে ছিল কি!
অজগর সাপ!

হৃদয় আর সাহস থাকাটাই এখানে আজ সবচেয়ে অদ্ভুতুরে ব্যাপারে।এখানে মানে বলছি এ পৃথিবী নামক গ্রহটির এই উপমহাদেশীয় ভূপৃষ্ঠে। যেখানে আমেরিকার মতো দেশে জনগনের আবেগটাবেগের বালাই নাই।তাদের মনে হয় যদি গরিলাকে প্রেসিডেন্ট বানালে তাদের জাত্যাভিমান রক্ষা হয় তারা তাকেই ভোট দিবেন। বাদ দিই, যে দেশের অধিকাংশ মানুষ এ যুগেও এসে অশিক্ষিত বর্বর তাদেরকে উদাহরণ দেবার কি আছে! প্রসংগে ফিরি, ডাক্তার দাদা কি এমন লিখেছিলেন, যার জন্য তাকে সাসপেনশন এর বোঝা কাঁধে নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে, যেখানে একটি ছবিতে দেখেছি সে দাদাবাবু চেম্বারে বসে পা ঝুলিয়ে পান চিবুনোর বদলে বৃদ্ধা রোগীটির একমাত্র আত্মীয় বৃদ্ধটিকে বাঁশের দন্ডটির একপ্রান্তে দিয়ে নিজে আরেকপ্রান্তটি কাঁধে তুলে নিয়ে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীটিকে বাঁচাতে দুর্গম পথ পারি দিয়েছেন । যেটা লিখে উনি সরকারি তোপে পড়েছেন তা নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে। তিনি এ স্টাটাসটির শিরোনাম দিয়েছিলেন –

“যাহা বলিব সত্য বলিব
অথবা
কার্নিভ্যাল সমগ্র”।
তারপর শুরুটা ছিল এমন,
“গত ৬ই অক্টোবর আমার অ্যাডমিশন ডে ছিল। সরকারি জেলা হাসপাতালে। ওয়ার্ডের নোটিসবোর্ডে আমার নাম Dr.A.D.C.
সকাল ৯টা থেকে পরের দিন সকাল ৯টা অবধি যত রোগী/রোগিনী ভর্তি হবেন সব টিকিটে লেখা আমার নাম। অর্থাৎ এই রোগীদের ভর্তি পরবর্তী চিকিৎসা, রেফারেল, যদি মৃত্যু ঘটে সে’ই দুঃখজনক ঘটনা সব কিছুর জন্যই ‘আই উইল বি হেল্ড রেসপন্সিবল।’
……….কিশোর বেলায় ঘুড়ি ওড়ানোর সময় ঘুড়ি যখন আকাশে আর লাটাই আমার হাতে সেই সময় উত্তেজিত থাকতাম খুব। কখন সুতো ছাড়ব, কখন টানব, ঘুড়ি কোন বাতাসে কোন দিকে গোঁত্তা খাচ্ছে … সে এক তুলকালাম অবস্থা। কিন্তু সেই ঘুড়িটা কেটে গেলে, মন নিমেষে উত্তেজনা মুক্ত। কাটা ঘুড়ির পেছনে দৌড়োনো স্রেফ অভ্যেস বশে। মন জানে, লাভ নেই। এখনও প্রায় সেই রকমই। ভর্তি রোগীর সংখ্যা অকল্পনীয় হওয়ায়, মনে আর কোনও চাপ নেই। অপরাধবোধ? তা’ একটু রয়েছে বটে। আশা, প্রশাসকদের দেখে সেই লজ্জা আবরণটিও সরে যাবে।”
এখন পর্যন্ত কি সাসপেন্ড হবার মতো কিছু পাওয়া গেল! আরেকটু এগিয়ে দেখা যাক, “যখন আমার নামে ভর্তি হওয়া মানুষের মোট সংখ্যা পঞ্চাশ ষাট ছিল কয়েকসপ্তাহ আগেও জানতাম ঘুড়িটা উড়ছে। কান্নি খাচ্ছিল…. .তবুও উড়ছিল। কিন্তু তারপরে এই জেলায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জ্বর, সেই কারণে প্রচুর মৃত্যু, আর অকল্পনীয় মৃত্যুভয়।
অথবা অন্য ভাবে বললে, ভর্তি রোগীর সংখ্যাটা যতদিন কম ছিল মানে কম বেশি একশ’, জানতাম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করছি। আজ যখন সে সংখ্যা পাঁচশ’র আশেপাশে, জেনে গেছি যুদ্ধ অসম্ভব। বন্যার জল ঢুকে পড়েছে, এখন একমাত্র গতি ভেসে যাওয়া।”
আচ্ছা চব্বিশ ঘন্টায় কোন ডাক্তারবাবু তাঁর নাওয়াখাওয়া ঘুম বাদ দিয়ে যদি শুধুমাত্র ৫০০ রোগীই দেখেন তাহলে কি তাঁর নিশ্বাস নেবার জন্য কোব সময় হাতে থাকে!

“…..সেই মিডিয়া কিন্তু প্রান্তিক হাসপাতাল দেগঙ্গা বা রুদ্রপুর হাসপাতাল ছেড়ে দিন, এমন কী জেলা হাসপাতালে উঁকি দিয়েও দেখেনি। কাজ সেরেছে সম্ভবত স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসকদের সাথে কথা বলে, যাদের একমাত্র কাজই হচ্ছে তথ্য চেপে যাওয়া।”
সম্ভবত দাদার প্রথম মারাত্মক ভুল। মিডিয়া সাথে পাঙ্গা- এটা কি হয়! Fourth Estate বলে কথা! তারাই সরকার, তারাই জনগন, তারাই তো বিরোধী দল।

পরবর্তী অংশে যাওয়া যাক, “…. মেডিসিন ওয়ার্ডের মেঝে ছেড়ে উপচে ওঠা ভর্তি রোগীর ভিড় নেমে এসেছে হাসপাতাল বিল্ডিংএর অন্যান্য মেঝেতে, যেখানেই প্লাসটিক শিট পাতার সামান্যতম জায়গা রয়েছে, সে’খানে।
পা রাখার জায়গা আক্ষরিক অর্থেই নেই। ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা? কেউ জানে না, শুধু কম্পিউটার জানে।
সবার গায়ে জ্বর। অনেকের কাছেই বাইরের ল্যাবে করানো ব্লাড রিপোর্ট। সবারই এক আর্তি, রিপোর্টে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে, অর্থাৎ এনএসওয়ান পজিটিভ আর প্লেট(পড়ুন প্লেটলেট) কমেছে। সবার বাড়ির লোকের দাবী, স্যালাইন দাও।”
মাহাত্মাজির তিন বান্দরের একটা কানে হাত দিয়ে রাখে আর বলে মন্দ কিছু শুনবনা। আধুনিক এ যুগে সে বাদরের জন্ম হলে নিশ্চিত সে মন্দ শব্দটা বাদ দিয়েই বলত, “কিছু শুনব না”। আক্ষরিক অর্থেই তো তাই। মুরব্বীরা যে চোখ কান খোলা রেখে চলতে বলেন এটার সাথে অনেকেই ব্যাপারটিকে গুলিয়ে ফেলেন – এই চোখকান খোলা রাখার সাথে দেখা বা শোনার কোন সম্পর্ক নেই অথবা প্রস্তর যুগে থাকলেও সেটা এ যুগে খাটবে না। এ খোলা রাখা মানে বিশুদ্ধ হাওয়াবাতাস যাতে সে রন্ধ্রগুলোতে প্রবেশ করতে পারে হয়ত সেদিকে নজর রাখতে বলেছেন। অংশুমান দা, তুমি এখানে হৃদয়ের চালে ভুল না করলেও, বাস্তবতার চালে বোধহয় ভুল করেছ। যদিও আমি বাজী ধরতে রাজি, আইনস্টাইন কেন ফ্রাঙ্কেনস্টাইনও বলতে পারবেনা আপেক্ষিকতার তত্ত্বে কোন চালটি সঠিক। কেউ যদি আবেগকে পুঁজি করে উত্তর দেন, আমি মানতে নারাজ। তারপর দাদা লিখলেন,
” সবাইকে সেই দিনের ভারপ্রাপ্ত ডাক্তার ইচ্ছে থাকলেও ছুঁয়ে দেখতে পারছে না। কারণ ত্রিবিধ। প্রথমত মোট রোগীর সংখ্যা, সম্ভবত পাঁচশ, একলা দেখতে হবে রাউন্ডে। দ্বিতীয়ত বেড হেডটিকিটের উল্লিখিত রোগীকে খুঁজে পাওয়া। কোন বারান্দার বা কোন ঘুপচির মধ্যে গাদাগাদি হয়ে রয়েছে সে হাজার ডাকাডাকি করেও পাওয়া যাচ্ছে না। তৃতীয়ত খুঁজে যদিও বা পাওয়া গেল, গায়ে গা লাগিয়ে শুয়ে থাকা মানুষগুলোর কাছে অন্যকে পায়ে না মাড়িয়ে পৌঁছোনো কার্যত অসম্ভব।
জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসক অতি চালাকের মত বিবৃতি দিচ্ছে হাসপাতালে সব ব্যবস্থা(পড়ুন নির্ভেজাল অব্যবস্থা) রয়েছে। হাসপাতালের প্রশাসক অসহায়। অলিখিত নির্দেশ রয়েছে অব্যবস্থার কথা বা ছবি ঢাকতে হবে যে কোনও মূল্যে। তা’ নইলে নেমে আসবে ব্যক্তিগত কোপ। আর তার নিজেরও আনুগত্য দেখিয়ে স্বাস্থ্যভবনের প্রসাদকণা পাবার আকাঙ্ক্ষা বড় কম নয়।
আর আমি? একদিনে যার আন্ডারে ভর্তি হয়েছে কমবেধি পাঁচশ জন, সেই আমি অতিব্যস্ত আগামী এক দেড় দিনের মধ্যেই নমো নমো করে এ’দের জ্বর গায়েই বাড়ি পাঠিয়ে দিতে, কেন না পরের দিনের নতুন পাঁচশ জনের তো “সাব হিউম্যান তবু সব ব্যবস্থা থাকা” সরকারী হাসপাতালে জায়গা চাই। আক্রান্ত জনসমুদ্র ঝাঁপয়ে পড়ছে ইমারজেন্সিতে।
এর মধ্যেই মারা যাচ্ছে জ্বরের রোগী। বুঝিয়েসুজিয়ে(প্রশাসনিক জবানে কাউন্সেলিং করে), কান্না মোছানোর চেষ্টা করছি। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ লিখছি…না না ডেঙ্গু নয়। ”
ওহ দাদা! আবার বাদর এসে যাচ্ছে,মন্দ বাদ দিয়ে মুখে তর্জনী নিয়ে কিছু না বলেই বলতে হবে – কিছুই বলব না। মনে মনে বলা যেতে পারে – দেখিয়া শুনিয়া চেতিয়া নয়, চাপিয়া যাব।
দাদা অংশু তুমি যে ফেসবুক স্টাটাস নয়, যেন আরব্য রজনীর উপন্যাস লিখেছ, যতই আগাই শেষ আর হয়না। তার উপরে বোর্ডের উপরে লিখা স্যারের সে লাইনটি এখনো বলতেই যে পারলাম না। বাকী অংশটুকু দেখে নেয়া যাক,
“এই রাজ্যে ডেঙ্গু হওয়া বারণ। এই অতি চালাক আমি… রক্তচোখের ভয়ে ভীত কেন্নোর মত সন্ত্রস্ত এই আমি অভাগার ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ লিখছি ‘ফিভার উইথ থ্রম্বোসাইটোপিনিয়া’।
আর রক্তচোখের মালকিন মালিকেরা তখন কার্নিভ্যালে কৃত্রিম একধরণের ঠোঁট প্রসারিত চালাক চালাক প্রায় অশ্লীল হাসির ভঙ্গিমায়, কখনও বিসর্জন দেখছে, কখনও দেখছে ফুটবলের কবন্ধ রাক্ষুসে মূর্তি। ”
না অংশু দাদা কোনভাবেই মানতে যে পারছিনা তুমি চালাক। এক্ষনে চালাক তো তারা যারা সময়ের স্রোতে গা এলিয়ে খুব সুন্দর দস্তুরমতো উড়ে উড়ে ভাসতে পারেন।

“এর মধ্যে বলাই বাহুল্য জ্বর ছাড়া অন্যান্য রোগীরাও ভর্তি হয়েছেন মেডিসিন ওয়ার্ডে। মানে হার্ট অ্যাটাক, সেরিব্রাল স্ট্রোক, সিরোসিস, কাশি-বমিতে রক্তপাত, খিঁচুনি ইত্যাকার বহু দুর্ভাগা। তাঁদের দেওয়া সুচিকিৎসা(?)র কথা সহজেই অনুমেয়।”
দাদা তোমার এই সুচিকিৎসা শব্দের পরে বন্ধনী (?) দেবার কি দরকার টা পড়েছিল! যেকোন প্রকার বন্ধনী, সেটা বস্ত্র হোক, অন্ন হোক, আর বাসস্থান হলো সকল প্রকারকার বন্ধনীর মধ্যেই হয় নারী নয়ত দ্রোহের একটা ব্যাপার যেন থেকেই যায়।

এমনি নাচুনি বুড়ি তার উপর ঢোলের বাড়ি। আবার ভোট নিয়ে লিখতে গিয়েছ –
“প্রান্তিক ভোটার আপাতত জ্বরে কাঁপছে। কাঁপুক।
মরে যাচ্ছে। যাক।
অপ্রতিহত চলুক ভোগান্তি আর মৃত্যুর কার্নিভ্যাল।
নিষ্ঠুর হলেও সত্যি, আবার ভোট এলে প্রসাদ কুড়োনো কম্মে খাওয়া ভাইবেরাদরদের হাত দিয়ে পাঠানো হবে ভিক্ষের অনুদান।
মশা আর ভোট বেড়ে যাবে এ’ভাবেই… ফিবছর।”

আরে বাবা সরকারী চাকরি করতে এসেছ তোমার আবার পছন্দ অপছন্দ কি! যে সরকার আসুক আমরা তো তারই, মানে সরকারের, ইয়ে মানে প্রজাতন্ত্রীর কর্মচারী। গোপন কক্ষে গিয়ে নির্বাচনের দিন যে আমরা ভোট দিয়ে আসতে পারি সেটাই তো বিশাল ব্যাপার। ভোট দিতে পারবে বটে, তবে যেই জিতুক তুমি সেদলের সরকারের কর্মচারী। ব্যাপারটা আরো সহজ করে দিই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদে কোন এমপি তার দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে কোন ভোট দিতে পারবেনা, কোন মতামত দেবারও অধিকার রাখেনা – তা তার ভাল লাগুক আর মন্দই লাগুক। এটাকে আদর করে নাম রাখা হয়েছে ফ্লোর ক্রসিং। শব্দটি এসেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে যেখানে ট্রেজারি এবং অপজিশন বেঞ্চের সদস্যরা ফ্লোরের বিপরীত দিকে বসেন। নিজ সংসদীয় দলের বিপক্ষ দলকে সমর্থন করা থেকেই ফ্লোর অতিক্রম করার ব্যাপারটি এসেছে। ফ্লোর ক্রসিং প্রধানত: দুভাবে হতে পারে।
(১) বিপক্ষ দলে সরাসরি যোগ দিয়ে, অথবা
(২) কোন বিলে বিপক্ষ দলকে সমর্থন দানের মাধ্যমে
ফ্লোর ক্রসিংয়ের ব্যাপারে সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি স্যার উইনস্টন চার্চিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এখনো ফ্লোর ক্রসিংয়ের ঘটনা ঘটে কেননা তাতে সদস্যদের নির্বাচনী আসন হারানোর ঝুকি নেই। টনি ব্লেয়ারের আমলে তার লেবার পার্টির আনা বিলের বিরূদ্ধে ভোট দিয়ে বিলকে আইনে পরিণত হওয়া ঠেকিয়ে দিয়েছিল নিজ দলীয় সংসদ সদস্যরাই। কিন্তু এখানে ওসব টাল্টিবাল্টি ‘চইলত ন্।’

বাংলাদেশের সংবিধানে আর্টিকেল ৭০ এ ফ্লোর ক্রসিংয়ের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছে। কোন সংসদ সদস্য ফ্লোর ক্রস করলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। আউট, একবারে সোজা ব্যক টু প্যাভিলিয়ন। এতে করে সংসদ সদস্যদের আইনপ্রণেতা (Legislator) হিসেবে তাদের সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে। তেমনি ভাবে সরকারী কর্মচারীগণ নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা ফ্লোর ক্রসিং এর সামিল। মনে রাখা উচিত এ পাপ। আবারো কিন্তু বাদরটাকে আনতেই হচ্ছে, মন্দ বাদ – কিছু দেখব না।
মোদ্দাকথা অন্তরে পালন করি আর নিজেরাই হয়ে যাই বান্দর তিনটির নতুন কালে মন্দ শব্দটি বাদ দিয়ে কথা সংক্ষেপিত হবে। এখানে ‘স্লিম ইজ স্মার্ট ‘প্রযোজ্য – কিছু দেখবনা, কিছু শুনবনা, কিছু বলবনা আরো সংক্ষেপে বললে – অন্ধ,কালা, বোবা হয়ে যেতে পারলেই “কেল্লা ফতে, লে ছক্কা।”

আর বাবা তুমি আমলা হয়েও লিখতে চাও লিখনা। লক্ষলক্ষ উদাহরণ আছে (আমি দুইএকটা বলতে পারব) যেমন – আবুল মনছুর আহমদ সরকারী পদস্থ কর্মকর্তা হয়ে লিখেছেন খাবার দাবার নিয়ে, সৈয়দ মুজতবা আলী ভ্রমন নিয়ে, জরাসন্ধ লিখেছেন রহস্য নিয়ে উপন্যাস। ভুলেও রাজনীতি নিয়ে তো নয়ই ( ই প্রত্যয়ে এর গুরুত্বের মাত্রা নির্দেশ করা হলো।)
এবারে শুরুতে ফিরে যাই। কাজী দেলোয়ার স্যারের সে লাইন – স্যার নিজে বোর্ডে বড় করে লিখেছেন আবার আমাদের কে নিজেদের ডায়েরীর একেবারে প্রথম পৃষ্ঠাতে গোটা গোটা হরফে লিখিয়েছেন, এবং বিশেষ নির্দেশ দান করেছিলেন- চাকরি জীবনে শুধু ওই একটা লাইন লিখে তাবিজের খোলে মোম দিয়ে আটকে দিলে অথবা একগ্লাস কষকষে গরম পানিতে ভিজিয়ে খেয়ে নিলে, অথবা সেটিকে যদি রবির ” তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা,” গীতিকবিতার ধ্রুবতারার মতো হৃদয়ে ধারন করা সম্ভব হলে সব সম্ভব, সব। লাইনটি হলো –
“সরকারী চাকুরিতে অতি উৎসাহপণা অবশ্য বর্জনীয়।”

তবু বলছি তুমি দাদা যা লিখেছো সেখানে সবকিছু ছাপিয়ে বিজয় হয়েছে মানবতার, বিজয় হয়েছে আদিকাল থেকে পৃথিবীর মানুষদের সকল প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে যূথবদ্ধ হয়ে থাকার ইতিহাসের। সবাই পথিক হতে পারেন সহজে, কিন্তু পথ দেখান তাদের মধ্যেই মাত্র দুয়েকজন। Dr. A C D দ্বিতীয় দলের একজন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com