জেলা ও উপজেলায় পৌঁছেছে ৯৫ ভাগ পাঠ্যপুস্তক | Nobobarta.com

জেলা ও উপজেলায় পৌঁছেছে ৯৫ ভাগ পাঠ্যপুস্তক

দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে গেছে ৯৫ শতাংশ পাঠ্যপুস্তক। চলছে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যপুস্তক উৎসব উদ্বোধনের প্রস্তুতি। ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন এবং ১ জানুয়ারি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চার রঙের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর ভুলে ভরা বই সংশোধন, ১২টি পাঠ্যবই পরিমার্জন, বিলম্বে টেন্ডার আহ্বান, ঠিকাদারদের ধর্মঘটসহ বেশ কিছু সঙ্কট সৃষ্টি হয়। তবে আগামী বছরের জন্য কঠোর মনিটরিং ও পরিশ্রম করে নির্ধারিত সময়ের আগেই টেকসই ও মানসম্মত বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩৬ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৭৫৭টি বই প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের দাখিলে তিন কোটি ৫৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৩টি, উচ্চ মাধ্যমিকে ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯২১টি ও ইবতেদায়ির দুই কোটি ৯৭ লাখ এক হাজার ২৪টি, প্রাক-প্রাথমিকে ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮টি, প্রাথমিকে ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৪ হাজার ৪০৫টি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক লাখ ৪৯ হাজার ২৭৬টি বই ছাপার দরপত্র দেয়া হয়।

এনসিটিবির কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিকের ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৮টি বইয়ের মধ্যে ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৫৫৯টি বই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। প্রাথমিকের ১০ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৮০টি বইয়ের মধ্যে ১০ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার ১৬৩টি বই সরবরাহ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার এক লাখ ৪৯ হাজার ৭৭৬টি বইয়ের সবগুলো সরবরাহ করা হয়েছে।

এনসিটিবিরি সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রায় শতভাগ (৯৫ ভাগ) বই সরবরাহ শেষ। এখন চলছে ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধনের প্রস্তুতি। যেসব বই সরবরাহ করা হয়নি সেগুলো আপদকালীন সঙ্কট মোকাবেলার জন্য সরকারি গুদামে রাখা হবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, মাধ্যমিক স্তরের কিছু ও ইবতেদায়ির বই ছাপার জন্য ২২০টি লটে আলাদা টেন্ডার দেয়া হয়। এ লটের ১৬ কোটি ৬৭ লাখ বইয়ের মধ্যে পিএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৮ লাখ বই ছাপার কাজ পায়। প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমানের কাগজে বই ছাপালে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং নতুন করে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজ দেয়া হয়। মাধ্যমিক স্তরের ৭ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩টি বই ৩৪০ লটে টেন্ডার দেয়া হয়। এ লটের মাত্র এক লাখ ৯৮ হাজার ২৮০টি বই সরবরাহ বাকি রয়েছে।

চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বেশকিছু ভুল ও বিকৃতি করে ছাপা হয়। এরপর শেষব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দাবিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বই ছাপার কাজ বন্ধ করে ধর্মঘট করে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির নেতারা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com