,

কর্তৃপক্ষের হেয়ালীপনা : হুমকীর মুখে ১৭ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা

মাহবুবুর রহমান: স্কুল কর্তৃপক্ষের হেয়ালীপনা এবং একগুয়েমিতার কারণে শিক্ষা জীবনই হুমকির মুখে পরেছে রাজধানীর রামপুরা একরামুননেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭ জন এসএসসি পরিক্ষার্থী। তথ্যানুযায়ী এ বছর একরামুননিসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে  মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা ২০১৮ তে অংশ গ্রহণের জন্যে টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একাধিক বিষয়ে কৃতকার্য হতে পারেনি ৫৮ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে বোর্ড নির্ধারিত সময়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে  ৪১ জনকে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়া হলেও বঞ্চিত করা হয় ১৭ শিক্ষার্থীকে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বক্তব্যানুযায়ী, এসএসসি ফরম ফিলাপের জন্যে টেস্ট পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে হয়। অসুস্থ্যতাসহ বিভিন্ন কারণে যারা অকৃতকার্য হয়, তাদেরকে শিক্ষকরা বিশেষ যত্ন নিয়ে নির্ধারিত বিষয়ে আবার পরীক্ষা নেয়ার মাধ্যমে ভালো ফলাফল করিয়ে ফরম পিলাপের নির্দেশনাও রয়েছে। সূত্রানুযায়ী, এ ধরণের কোন ব্যাবস্থাতেই অকৃতকার্যদের ক্ষেত্রে নেয়া হয়নি। বরং ১৭ জনকে রেখে বাকিদের ফরম ফিলাপ করানো হয়। এমনকি সব পরীক্ষায় অংশ নেয়নি এমন একাধিক শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়ার তথ্য রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই উতকোচ গ্রহণ এবং বিভিন্ন তদবিরের অভিযোগ রয়েছে।

বঞ্চিত হওয়া ১৭ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা জানান, তাদের পক্ষে কোন উচ্চ মহল থেকে তদবির না করতে পারার জন্যে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়া হয়নি। এ ছাড়া বিগত ৫ বছরে  শিক্ষা জীবনে ফাইনাল পরীক্ষায় খারাপ করেনি তাদের সন্তানরা। সব শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ করানো হলে লোকে কি বলবে এজন্য তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ৫ জন জানায়, আর্থিক অনটনের কারণে স্কুলের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পরতে পারেনি তারা, এজন্য অকৃতকার্য শিক্ষকরা তাদের আগেই হুমকি দিয়েছিলো প্রাইভেট না পরলে পাশ করানো হবেনা, এখন তাই হলো। টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর তাদের উত্তর পত্র দেখতে চাইলে তাও দেখানো হয়নি। বরং সবাইকে ফরম ফিলাপের আশ্বাস দেন স্কুল প্রধান শিক্ষিকা এবং পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি। তাদের আশ্বাসের উপর ভরসা করে গত প্রায় ১ মাস যাবত এসব শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা প্রতিদিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসলেও আজ নয় কাল বলে সময় ক্ষেপণ করা হয়।

এক পর্যায়ে সবাই অন্যত্র থেকে যাতে ফরম ফিলাপ করতে পারে সে জন্যে ছাড়পত্র দাবী করলে না দিয়ে তাদের ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়া হবে বলে আবারও আশ্বাস দেয়া হয়। এরই মধ্যে বোর্ড নির্ধারিত সময়ও শেষ হয়ে যায়। দিশেহারা শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা জীবন যাতে ব্যাহত না হয় এজন্য স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতির হাতে পায়ে ধরতে থাকে। সময় বৃদ্ধি করলে তাদের সুযোগ দেয় হবে বলে এবারও আশ্বস্ত করা হয়। বোর্ড থেকে সময়ও বাড়ানো হয়। কিন্তু সোমবার সারা দিন অপেক্ষা করিয়ে রাত প্রায় ৯ টায় তাদের জানিয়ে দেয়া হয় ফরম ফিলাপ করতে দেয়া হবে না। অথচ বর্ধিত সময় শেষ মঙ্গলবার। বোর্ডের তথ্যানুযায়ী এ বছর ফরম ফিলাপের আর সুযোগ দেয়া হবেনা। শিক্ষা জীবন ব্যহত হওয়ার শংকায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত স্কুলে এসে ফরম ফিলাপের জন্য অপেক্ষা করায় এরই মধ্যে অসুস্থ্য হয়ে পরেছে ৪ জন শিক্ষার্থী। আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত আলীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মাথা ব্যথা কেন ? এমন প্রশ্ন করেন এবং তার স্কুল সে যা ইচ্ছে তাই করবে বলেও জানান। শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত কেন লুকোচুরি করা হয়েছে এমন প্রশ্নের কোন সদোত্তর দিতে পারেননি তিনি। প্রধান শিক্ষক  হোসনে আরা হাসির সাথে যোগাযোগ করে অকৃতকার্য অন্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপে অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তা এড়িয়ে যান তিনি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com