,

কেন ডাক্তার হবেন, কেন ডাক্তার হবেন না

মেহেদী হাসান তামিম # আমরা যারা নিজেদের জন্য বাঁচি, নিজেদের জন্যই জগত সংসারে আসি, নিজেদের জন্য ভাসি, – ডাক্তারি পেশাটাকে এই সস্তা মানুষিকতার মতো শুধু নিজের জন্য কেন বানিয়ে ফেলি! মাসশেষে বাড়ীভাড়া, ইলেকট্রিকের যাওয়া আসার খেলা দেখার জন্য তার বিল, না থাকা পানি এবং থাকলেও তাতে শিং মাছ বসবাস করা পানির জন্য পানির বিল, সকালের রাগভৈরবীর মতো আআ আা এর পরের লাইনটি কখন আসবে তেমনি ভাবে চুলোতে আআ আ হয়ে গ্যাসের প্রবাহে অর্ধসিদ্ধ ( একদিকে কাঁচা অন্যদিকে সিদ্ধ) তরকারী রান্নার জন্য গ্যাসবিল, পত্রিকাওয়ালাদের নিজস্ব গ্রুপের খবরাখবর পড়ার জন্য পত্রিকা বিল, ডিশের লাইনে দিনের ২৪ ঘন্টার ২২ ঘন্টা ৫৯ মিনিটি ৫৮ সেকেন্ড স্টার জলসায় পরকীয়া, পরচর্চা, পরনারী, পরপুরুষে প্রেমে পড়ার কোচিং ক্লাস করার জন্য ডিশ লাইনের বিল, আমেরিকানদের দুষ্ট বাণিজ্য চক্রান্তে সবচেয়ে ক্ষতিকর ভোজ্য তেল সয়াবিন কেনার বাজেট, হালের নতুন ভুল বাদামী চিনি, ভেজাল খেলাম না আসল ইনগ্রিডিয়েন্টস ওষুধ খেলাম সে নিয়ে চিন্তায় ওষুধের কার্যকরীতা লোপ পাওয়া ওষুধ কেনার খরচ, নতুন করে ছাত্রত্ব বরণ করে স্কুলের ভর্তিযুদ্ধ শেষে সন্তানকে ভর্তি করিয়ে শান্তির একটা শ্বাস নেবার আগেই বেশী নাম্বার পাবার আশায় টিউশনী, কোচিং সেন্টারের বেতন, দশবছর চাকরি করে ১১.২৫ % সুদে কার লোন দিয়ে রি কন্ডিশন গাড়ী কিনার পর নিজের লগ্নি করা টাকার থেকেও বেশী টাকা বন্ধুবান্ধবকে মিলাদ হিসেবে খাওয়ানোর বিল, মাস শেষে ধার নেবার সময় ধারদাতাকে খাওয়ানোর বিল, ধারনেয়া বন্ধুর থেকে ধারের টাকা উদ্ধারের জন্য তাকে মাখানোর তেল – যাদেরকে চিন্তা করতে হবে তারা কেন ডাক্তারি পড়বেন বা ডাক্তারি করবেন।

এ তো আর যেনতেন বিষয় নয়, এটি মানুষ কেনার পেশা, এ হলো মনের মানুষ আর মানুষের মনকে জয় করার পেশা, এ হলো মানবের অমূল্য নিঃস্বার্থ দোয়া কেনার পেশা, মনুষ্যের মনমন্দিরে প্রাতঃস্মরণীয় দেবতার আসনে চিরজীবনে আসন করে নেবার নেশা, যা সাধারণত অন্য কোন পেশায় দেখা মেলা অতীতের অতীত দুর্লভ। সরাসরি মানুষকে সেবা দানের এমন সুযোগটা ডাক্তারের সাথে সাথে চলে। সে আপনি যত বড় নদের চাঁদ বা ধনীর দুলাল হোন ( প্রসঙ্গত আমাদের পাড়ার দুলাল বেশ ভাল ফুটবল খেলে, স্ট্রাইকার! সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে বাদামভাজা খেয়েও সুযোগমতো জালে পাঠানোর আগে বলটাতে তার পা’ টা হাল্কা ছোঁয়া দিয়ে আসেন) , অথবা হোন না বিল গেটস বা তিস্তা গেটস, আপনি যখন শক্ত কোন ব্যামোর মুখোমুখি হন নিশ্চয়ই আপনার রবিবাবুর ছেলেবেলার মতো মৌরালা মাছেরঝোল ঔষধ হিসেবে খাবার কথা মনে পড়বেনা, অথবা সুইস ব্যাংকে এফডিআর টা আপনার মৃত্যুর পরে কি হবে সেটাও মাথায় আসেনা, অথবা বেইলী রোডের সুইস কনফেকশনারীর নরম তুলতুল মোলায়েম শিমুল তুলার মতো স্যান্ডুইচটি মনে আসে না – যিনি আসেন তিনি হলেন চুলে পাক ধরা, সদা মুখে বিরক্ত ভাবটা ধরে রাখা, দুই – তিন সেকেন্ডে আপনার শরীর ইন্ভেস্টিগেশন করে হাতের লেখা পড়তে না পাড়া প্রেসক্রিপশনটির ১৩ খানা ঔষধের নাম উদ্ধারে দোরে দাঁড়ে বুঝে নেবার জন্য চরকি খেতে হয়, নিশ্চয়ই যে ডাক্তারবাবুটি লিখে দেন তাঁর কথাই সর্বাগ্রে মনে পড়ে। কাজেই আপনার আমার কিন্তু ডাক্তারি পেশাকে অন্য আর কোন পেশার সাথে তুলনা করার সুযোগ নেই।

যোগেশ বাবুদের আমলে শুনেছি তাঁরা চিকিৎসা, গবেষণা করতেন না খেয়ে না দেয়ে না ভিজিটের কথা চিন্তা করে। কিন্তু কালের বিবর্তনে দেখছি কি! একজন ডাক্তার বিবর্তনবাদের মেশিনে পড়ে বাদর থেকে মানুষ অথবা মানুষ থেকে বাদর নয় বরং তারা ডাক্তার থেকে পুলিশ, ট্যাক্সম্যান অথবা বুচার ( কসাই এর ইংরেজীটার একটা শ্রুতি মাধুর্য আছে) জাতীয় আকার, রুপ, আচরণ ধারণ করছেন। যেমন পুলিশদের কেউ কিছু না দিয়ে খুশী করার ক্ষমতা না রাখলে তারা নাকি পিঠটা হলেও চুলকে নেন, ট্যাক্সম্যানেরা এতই খারাপ যে গসপেলে বর্ণিত আছে (ওল্ড টেস্টামেন্ট), ” এমনকি প্রভু জিশুও কর আদায়কারীদের সাথে হাসিয়া কথা বলিতেন”, আর বুচারদের (আক্ষরিক অর্থে পেশাজীবী বুচারদের কথা বলছি না, আপনি না বুঝলেও চলবে, যারা বুঝার তারা বুঝে নিয়েছেন) কথা কি বলি! তাদের কাছে সকল ধর্ম সমান, সকল পশু সমান, গরু হোক, ছাগল হোক, সারমেয় হোক, কুক্কুটী হোক সবাইকে ধরেন আর গলায় নির্দ্বিধায় পোচ মারেন। তো আপনি ডাক্তার হয়ে যদি এদের মতোই করে তাহলে আপনার ডাক্তারি পড়াশুনা করার দরকারটা কি! এদের মতো আপনিও হোন, কেউ তো আর মানা করছে না।

কেউ হয়ত রামছাগল বলে বকা লাগাতে পারেন, “মামদোবাজি পাইছো! খালি ম্যাহ ম্যাহ করো! ডাক্তাররা কামাই রোজগার না করলে খাবে কি, হেগো পরিবারে কি তুমি যাইয়া বাজার কইরা দিবা?” জে আজ্ঞে না, আমি তো পারবনা। তারা নিজেরাই করবেন। আমাদের দেশে এখনো বহু সন্তান আছেন যারা বাপ দাদার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দিয়ে রাতে দিনে ফুটানী মারছেন, হুটহাট দাদার খানাখন্দ হিসেবে ৫০০টাকার জমি ৫০ কোটিতে বিক্রি করে বিশাল কোটিপতি বৃক্ষ হয়ে যাচ্ছেন। তবে কি একটা প্রবাদ আছে, এত বড় হয়ে যেওনা যাতে ঝড়ে ভেঙে পড়ো, আবার এতো ছোট গাছ হয়ে থেকো না যাতে ছাগলে এসে খেয়ে যায়।” তাই বড় বা ছোট হবার দরকার কি আপনার টাকা থাকলে ডাক্তার হোন, আপনি হতে না পারলে আপনার সন্তানকে বানান। তাতে অন্তত দেশ কিছু হলেও আপনার মাধ্যমে উপকৃত হবেন।

আমরা যদিও জানি, কাক নাকি কাকের মাংস খায়না। কিন্তু Dr. ADC এটি কি করলেন! আমাদের প্রতিবেশী দেশের সেই ডাক্তার বন্ধুটি যাকে নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ, তাঁর কথাই বলছি। ইতোমধ্যে হয়ত জেনে গেছেন, বন্ধুটির নাম ডাঃ অরুণাচল দত্ত চৌধুরী ( Dr. A D C)। যতটুকু জানা যায় নিষ্ঠাবান সরকারী ডাক্তার, সাসপেন্ডেড। আমাদের ডাক্তার বন্ধুটি ভালো কি মন্দ তা আমরা জানিনা, ডাক্তার হয়ে ডাক্তারের মাংস খেলেন কিনা সেটিও নিশ্চিত নই, তবে মিডিয়ার কল্যানে যতটুকু জেনেছি, তিনি তাঁর মনের আর্তি ভরা আকুতিকে প্রাধান্য দিয়ে ফেসবুকে একটি স্টাটাস দিলেন। অসহায়, দরিদ্র মানুষের রোগাক্রান্ত হবার কথা, একটি হাসপাতালের বাস্তব চিত্রের কথা, ডাক্তারদের রোগকে অবহেলার কথা। ফলাফল হাতেনাতে, সরকারী চাকরি থেকে সাসপেন্ডেড। যা নিয়ে মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে এখনো, সম্ভবত চলবে আরো কিছুদিন যদ্দিন না এর থেকে বড় কোন হট টপিক না পাওয়া যায়! তোলপাড়ে পড়াতেই ডাক্তার বন্ধুকে নিয়ে আগ্রহ হলো। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, তিনি হাসপাতালের জার্নাল নামে আগেও বেশ কিছু লিখা লিখেছিলেন, যা ছিল এর থেকেও ভয়াবহ। অবশ্য সেই লেখাগুলোকে স্বাজাতিক মাংস খাবার মতো। ডাক্তার হিসেবে নিজেদের প্রতি বিষোদ্গার, মেডিকেল রিপ্রেসেন্টিভদের সাথে সখ্যতা এবং তাদের কোম্পানী প্রদত্ত সামান্য একটি কলমের প্রতিও মোহগ্রস্ততা। যেখানে তিনি লিখেছেন ঔষধ কোম্পানীর গিফ্ট ছাতা কলম থেকে শুরু করে ২২০০ স্কয়ার ফিটের এপার্টমেন্ট নেওয়া হচ্ছে, যা ডাক্তারদের নৈতিকতার বিচ্যুতি ঘটাচ্ছে, তাদের প্রতি নিজেকে প্রতিনিয়ত দায়বদ্ধ করে চলেছেন। স্বভাবতই সে সময়ে কোন মিডিয়াতে এসব নিয়ে আলোচনা তো দূরে থাক, কেউ একজন যে Dr. ADC আছেন, যিনি এসময়ের ডাক্তারদের চেনা ও সহজ পথ বেছে না নিয়ে বন্ধুর ও স্বাপদসংকূল পথে এগুতে আহ্বান, যা কিনা লিখার দায়িত্ব ছিল, বলার দায়িত্ব ছিল একটি দেশের চুলছিড়া ( ইচ্ছে হলে চুলের হিন্দি প্রতিশব্দ ব্যবহার করতে পারেন, ইচ্ছে না হলে এ নিয়ে আর আগে বাইড়েন না) বুদ্ধিজীবী (যদি হিন্দি শব্দটি বেছে নেন, তবে পড়ুন বুদ্ধ বা বদ্ধজীবী), সাহিত্যিক, লেখকমহলের; সেখানে ডাঃ অরুণাচল উপয়ান্তর না পেয়ে নিজে যে লিখা শুরু করলেন সে কথাই যে জানতাম না।

Late better, than never – তবুও বিষয়টি নিয়ে কেউ তো শুরু করেছেন এই গ্লোবাল ভিলেজ নামক গ্রহটিতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের সাথে সম্পর্কিত সিস্টেমের হালহকিকত নিয়ে। তার ফেসবুক স্টাটাসে যা ছিল তা নিশ্চয়ই এমন কোন অজগর সাপ বা পারমানবিক বোমা নয়, শুধুমাত্র তাঁর দীর্ঘ জীবনে ‘সিস্টেম’ নামক সিস্টেমের সাথে অভ্যস্ত হয়ে অবসাদগ্রস্ততার কথা, ক্লান্তির কথা, মনের কোণে প্রতিনিয়ত জমতে থাকা নিজের প্রতি ক্ষোভের কথা, পদে পদে নিজেকে বিকিয়ে দেবার অন্তর্দহনের জ্বালা-যন্ত্রনার কথা।

আমি দেখেছি আমাদের সময়ে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছিল আমাদের মাঝে সবচেয়ে মেধাবী, সবচেয়ে ভালো ফলাফল করা বন্ধুরা। প্রসংগত উল্লেখ্য আমিও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম কিন্তু এতগুলো মেডিকেল কলেজের একটিতেও ওয়টিং লিস্টে পর্যন্ত নাম ওঠাতে পারিনি, পারব কি করে, চান্সই পাইনি যে। হেটারসরা বলবেন আঙুর ফল টক, আমি বলব না, আমার সেইসব বন্ধু যারা মেডিকেলে ভর্তি হতে পেরে ডাক্তার হলো তাদের অনেকেরর দুর্দশা (আবারো বলছি সবার নয়, অনেকের) দেখে এখন মনে হয়, আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেন। চলুন আমরা যারা ডাক্তার হতে চাই অথবা সন্তান সন্ততি, নাতি পুতিকে ডাক্তার বানাতে চাই তারা কয়েকটি জিনিস সম্পর্কে শুরুতেই ধারনা নিই, কারন “রোগী মরিয়া যাবার পর ডাক্তারবাবু আসিলে” কোনকিছু করার থাকেনা।

প্রথমত:
একজন ডাক্তারকে সময়ের সাথে সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও সর্বাধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে অবশ্যই জীবনভর পড়াশোনা করার শক্ত ও সত্য মানসিকতা রাখতে হবে। শুধু মাত্র ডাক্তারির অআকখ মানে এমবিবিএস পাস করলেই যে তিনি ডাক্তার বনে গেলেন তা কিন্তু নয়। MBBS এর প্রচলিত সম্প্রসারণ ‘মা বাবার বেকার সন্তান’ আক্ষরিক অর্থেই সত্য। তারপর তাকে ইন্টারনি করতে হবে, আরো পড়াশোনা করে বছর বছর ফেল করে বড় ডিগ্রী নিতে হবে। এ ফেল করাকে কেউ হেয় করা অর্থে গ্রহন করবেন না আশা করি। ডাক্তারি পেশায় বড় ডিগ্রী পাশ করতে যার যতবেশী ফেল থাকে, তিনি ততবেশী পড়াশোনা করার তথা ততবেশী ভাল ডাক্তার হবার সুযোগ পান।এখন কারো পিতা মাতা বহুকষ্টে এমবিবিএস পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়েই মনে করে বসেন যদি আগামী কাল থেকে তার ডাক্তার ছেলেটি পাশের বাড়ীর খবিরের মতো টাকা উপার্জন শুরু করবেন এবং তাদের ডাইনিং টেবিলের রংচটা ভাঙা পোড়খাওয়া চেয়ারগুলি বদলে ঝকঝকে তকতকে সেগুন কাঠের স্পষ্ট আঁশওয়ালা, স্পিরিটের গন্ধ ছড়ানো, নতুন চেয়ার কিনে দিবেন তাহলে বলব ভুল, মস্ত বোকামি। নতুন আসবাবপত্র যদি ছেলের কাছেই কিনে নিবেন তবে তাকে কোন ভাবেই ডাক্তারি পড়ানো উচিত হয়নি। এতে করে ছেলেটির যুদ্ধ করে যাবার মানসিকতাতেও চিড় ধরবে যে। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তাগিদে সে পাড়ার মোড়ে যেসব ওষুধের দোকানে একটি ছোট হার্ডবোর্ডে চিরজীবনের জন্য ঝোলানো থাকে “ডাক্তার আছেন” – সেখানে অথবা উপজেলা শহরগুলোতে সাধারণত যেখানে মালি,ঝাড়ুদার, কসাই পেশার লোকজন নীলক্ষেত থেকে সুন্দর করে একটা সার্টিফিকেট বানিয়ে লেমিনেশন করিয়ে নিয়ে চেম্বারে ঝুলিয়ে, গলায় স্টেথোস্কোপ এবং সদরবাজারের রাস্তার উপর থেকে ৩০০ টাকার রিডিং গ্লাস যেটি ৪০ টাকায় কিনতে পেরেও আফসোস আরো ১০ টাকা কমে কিনা যেত বোধ হয়, সেটির স্টীকারটি না খুলেই, চোখের নীচে নাকের ডগায় পন্ডিত মশায়ের মতো পড়ে, নিজের দেওয়া হাসপাতালে নামকরা ডাক্তার বনে যান, সেসব হাসপাতালে গিয়ে সেইসব মালিকদের আদেশমতো চিকিৎসা ব্যবস্থা পত্র লিখে দুইদিনে ১০ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে ক্ষেপ শেষে ঘরে ফিরে আপনার হাতে ছয় হাজার টাকা তুলে দিবেন এবং আপনি প্রতিদিন রাতে ইসবগুলের ভূষি, সকালে কাচা পেঁপের সবজি, বিকালে পাকা পেঁপে খেয়েও কোনমতে শান্তি না পাওয়া মানুষটি, ছেলের উপার্জনের টাকা হাতে পেয়ে প্রশান্তির হাসি হাসবেন। এটা যখনি হলো মনে করবেন আপনার প্রিয় সন্তানটির ডাক্তারিকে আপনি সেখানেই মোটাসোটা ঢালাই লোহার মস্ত পেরেক ঠুকে আটকে দিলেন। হয় সন্তানকে মানুষের সেবায় সম্পূর্ণ রুপে উৎসর্গ করেন নয়তো আরো হাজার পেশা আছে সেগুলো করতে তাকে উৎসাহ দিন। আমাদের সমাজের মনে রাখা উচিত একজন সাধারণ পেশার মানুষের পিতামাতা থেকে একজন সেবার ব্রত নেওয়া প্রকৃত ডাক্তারের পিতামাতা হতে পারা অনেক বেশী সম্মান আর গৌরবের।

দ্বিতীয়ত:
ডাক্তারি পেশা যদি সমাজের সম্মাজনক পেশা হিসেবে বেছে নেন তবে শতভাগ ঠিক আছে। কিন্তু কেউ যদি বিত্তবৈভবের কথা চিন্তা করে এ পেশায় আসেন তাহলে ঠিক নাই। এখানে হয়ত বিত্ত বৈভবের দেখা মেলে ঠিকই কিন্তু যতদিনে নিজের পায়ে অবারিত ভাবে দাঁড়াবেন ততদিনে আপনার অনেক কিছুই হয়ত দাঁড়াবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।

আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি কেউ যদি ধনসম্পদ রোজগারে অধিক আগ্রহী হন তবে দুনিয়া বহুরকম কাজ আছে সেখান থেকে বেছে নিন। এ পেশার অন্তর্নিহিত বক্তব্য তো শুধু একটা, একটাই হওয়া উচিত, তা হলো সেবা, সেবা এবং সেবা। যাদের বাপ দাদার অঢেল সম্পত্তি নেই, যারা চাকরিকালীন সময়ে, সংসার চালানোর টাকাটা বাড়ী থেকে আনতে পারবেন না- তাদের এ সময়ে কোনভাবেই ডাক্তারি পড়া উচিত নয়। কোনভাবেই নয়। যদি অর্থের যোগান নিশ্চিত না করে ভুলক্রমে ডাক্তারি পড়ে ফেলেন, এবং পরবর্তীতে এ পেশাতেই থাকতে হয় তবে কি ঘটতে পারে! এ পেশাতে থাকতে হয় বলতে আমার চেনা জানা এমবিবিএস পাস করা বন্ধু ও বড়ভাইদের কথা বলছি যাঁরা পরবর্তীতে বিসিএস পাস করে খুব সফলতার সাথে পুলিশ ক্যাডার, ট্যাক্স ক্যাডার, এডমিন ক্যাডারে চাকরি করছেন। আর যখন কেউ অর্থের অভাব জিইয়ে রেখে ডাক্তারি পেশাতে ঢুকে পড়েন তখন যেসব ঘটনা ঘটতে পারে তার কিছু বলব সম্পূর্ণ অনুমানে, কিছু অর্ধঅনুমানে, কিছু ভুক্তভোগিতার সম্মিশেলে, আর কিছু ঈমান সত্যতায়। এটা হতেও পারে, নাও হতে পারে। আবার সবাইকে এককাতারে মাপলেও নেহায়েত অপরাধ হবে, পাপ হবে। জগতে এ সময়েও কেউ কেউ মাদার তেরেসা আছেন, যে কারনে আজো আলো আসে, মানুষ বেঁচে থাকে। সকলে এমনটি হবেন যে তাও আবার কিন্তু নয়। আমার ধারনা আপনার ভালো নাই লাগতে পারে, সম্পূর্ণ বা আংশিক একমত হতে পারেন। তবে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আপনার হাতে। আপনার ইচ্ছা না হলে আপনার মনিটরে এক্সিট বাটনটি খুঁজে বের করুন, সেখানে ক্রস দিয়ে লিখাটি থেকে বেরিয়েও যেতে পারেন আপনার দয়া করে আর পড়ার দরকার নেই, এ পর্যন্ত পড়েছেন সেই তো কৃপা। ড. মাহফুজুর রহমানের গান আপনাকে কি কেউ শুনতে বাধ্য করেছিল! রিমোট তো আপনার হাতেই ছিল, বাটনে চাপ মারলেই তো অন্য চ্যানেলে নিমিষে যেতে পারতেন, তা তো গেলেন না পুরো দশটি গানের মজা ঠিকই লুটলেন, আবার মাথাতে পানিও ঢাললেন। অবশ্য আপনার টিভির রিমোটটি পাশের বাড়ীর কোন উর্বশী ছটফটে যৌবনাকে সাহায্য করতে যদি ধার দিয়ে থাকেন অথবা সম্প্রদান কারকে কার্য সম্পাদন করে থাকেন তবে আমার আর কিচ্ছু বলার নেই।

সাধারণত যেসকল ডাক্তারগণের আয় রোজগারের ব্যাপারটি নিয়ে ভাবতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে হয়ত নীচের কিছু বিষয় হুবুহু কমন পড়তে পারে, আবার অনেকে মনে করতে পারেন গঞ্জিকা সেবন করে আমি লিখছি –

১) এমবিবিএস পাস করারর সাথেই পাড়ার “তরুলতা ফার্মেসী” নামক ঔষধের দোকানে নিয়ম করে ৬-১০ টা রোগী দেখতে শুরু করবেন।
২) আপনার পসার ধীরে ধীরে বাড়বে। রোগী দেখার ফি ৭৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা করে ফেলবেন।
৩) ঔষধের দোকানটির আশেপাশে MR ( Medical Representative) দের আনাগোনা দেখা যাবে।
৪) আপনাকে ঔষধের দোকানের মালিক মাঝেমাঝে এসে মনে করিয়ে দিয়ে যাবে, স্যার দু একটা ঔষধ না লিখলে তো সংসার চলেনা।দোকানটাও বন্ধ করে দিতে হতে পারে।
৫) দুএকজন MR এর সাথে আপনার খুব খাতির হবে। প্রচুর ঔষধের স্যাম্পল পেতে থাকবেন।
৬) স্যাম্পল ঔষধগুলো তরুলতা ফার্মেসী নামমাত্র মূল্যে বেঁচে দিবেন।
৭) বেঁচে দেওয়া স্যাম্পলগুলো থেকে আপনার কাছে দেখাতে আসা রুগীদের লিখবেন। সে স্যাম্পলগুলোই রোগীরা খুশিমনে কিনে নিয়ে যাবে।
৮) দোকানের সামনে দুয়েকজন MR পুরোটা সময় দাঁড়িয়ে থাকবেন। আপনাকে দেখিয়ে কোন রোগী বের হলে তার কাছে প্রেসক্রিপশন টি দেখতে চাইবে আপনি তাদের কোম্পানির ঔষুধ লিখেছেন কিনা।
৯) এরই মধ্যে আপনার MD অথবা FCPS অথবা BCS পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দিবে।
১০) আপনি তখন রমরমা চেম্বার করছেন। কাজেই নেহায়েত অনিচ্ছাতে পরীক্ষার ফর্ম ফিল আপ করবেন, যেন না হলেই বা কি।
১১) একদিন আপনার আরেক বন্ধু ক্ষেপ মারার প্রস্তাব দিবেন। মাঝে মাঝেই আপনি নোয়াখালির মাইজদি অথবা কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে ক্ষেপ মারতে যাবেন। টাকাপয়সা মোটামুটি ভাল রোজগার হবে।
১২) এরই মধ্যে আপনি একদিন কিছুদিন আগে দেওয়া পরীক্ষাগুলোর রেজাল্ট পাবেন। যেখানে আপনার রোলটি না থাকলেও আপনার দুয়েকজন ব্যাচম্যাটের রোল পেয়ে যাবেন।
১৩) দোকান আর ক্ষেপ মারতে মারতে একদিন উপল
১৩) দোকান আর ক্ষ্যাপ মারতে মারতে একদিন উপলব্ধি এরকম জীবন আর নয়। বন্ধুবান্ধবরা ডিগ্রী নিয়ে ফেলছেন আপনাকেও সিরিয়াস হতে হবে।

১৪) আপনি যদি সে ডাক্তারের বন্ধুবান্ধব অর্থাৎ পাস করা দলের হন, সেক্ষেত্রে আপনার ডিগ্রীগুলো নিতে ঘাম ছুটে যাবে। তারপরেও দেখবেন যার আন্ডারে থিসিস করছেন তিনি আপনার উপর সন্তুষ্ট নন। তার বাসায় বাজার করে দিবেন, ভাবীর জন্য সোনারগাঁ থেকে কাতান নিয়ে যাবেন, স্যারের পিচ্চি দুষ্ট ছেলেটাকে আড়ালে ধরে একটা থ্যাকনা মারতে ইচ্ছে করলেও স্যার বা ভাবীর সামনে হলে সেই পিচ্চির নাকের ঘন থকথকে হালকা জমে আসা পদার্থটি ভীষণ আদরে দু আঙুল মাখিয়ে মুছে দিয়ে, তার গালে আলতো টোকা দিয়ে গদগদ হয়ে বলবেন, ” ভাবী, কি সুইট আপনার বেবীটা”। উহু তাতেও প্রফেসরের সন্তুষ্টিরর লক্ষণ চোখে পড়বে না। তারপরে আপনি মুন্নাভাইয়ের মতো চরম ধৈর্য নিয়ে লেগে থাকবেন।

১৫) এদিকে বিসিএস হলে দেখা গেল দিনাজপুরের বোদা উপজেলার প্রত্যন্ত এক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স “ফুল তুলি” তে আপনার পোস্টিং হলো। জীবনে প্রথম বারের মতো এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়বেন।
১৬) ছুটির দিনগুলোতে ঢাকা এসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এমএলএসএস বা পিয়ন সাহেবকে ধরে হাতে পায়ে আরাম করে বুলিয়ে, স্যার ভাই, আব্বা বলে জমানো কিছু টাকার শ্রাদ্ধ করে খুব চেষ্টাচরিত্রে ওএসডি করিয়ে নিয়ে মোটামুটি পছন্দমতো একটা হাসপাতালে প্রেষনে ডিগ্রী করতে আসবেন।
১৭) ওদিকে পাস করতে না পারা বন্ধুটি যখন দেখবে বন্ধুবান্ধব অনেকেই ভালো ভালো জায়গাতে ঢুকে পড়েছেন তখন তিনিও ভীষণ হতাশ হয়ে কোন এক ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়ে যাবেন। হয়ত ডিপ্লোমাটা করবেন রোগী অজ্ঞান করার কোন কোর্সে।

১৮) ডিপ্লোমা পাস করে বিভিন্ন হাসপাতালে আপনার পরিচিতি অজ্ঞান করার ডাক্তার হিসেবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।
১৯) এখানে আসার পরেও রোজগার যা হবে মন্দ না। শুধু একদিন যখন দেখলেন আপনার কোন এক ব্যাচমেট মূল ডাক্তার আর আপনি অজ্ঞান ডাক্তার তখন আপনার মনটা খুব খারাপ হয়ে যাবে। আপনি আবার মনে সেই ইন্টারমিডিয়েট এর জেদ ধরবেন, যে করেই হোক একটা উচ্চতর ডিগ্রী নিতে হবেই।
২০) আপনি একদিন চান্স পেয়েও যাবেন কিন্তু বয়স যা আগের মতো সেভাবে পড়াশোনার এনার্জি পাবেন না, পড়া মনেও থাকবে না।
২১) তারপরেও লোকাল ট্রেনের মতো ধুকতে ধুকতে একদিন আপনার ডিগ্রী হয়ে যাবে। ততদিনে আপনার ও আপনার আগে পাস করা বন্ধুর বয়স চল্লিশ বা তার এদিক ওদিক।
২২) ততদিনে আপনি কিন্তু সমাজ, সংসার, বউ বাচ্চা, বন্ধু বান্ধব, শখ আহ্লাদ সবকিছুর উপর যার পর নাই ত্যক্ত বিরক্ত। শুধু মনেমনে একটু মুচকি হেসে নেন আপনার নামের শেষের পদবী এমডি, এফসিপিএস, বিসিএস দেখে।
২৩) এরপর শুরু হবে ভালো কোন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা চেম্বারে বসার যুদ্ধ। খুব মেজাজ খারাপ হবে আপনার এত কষ্টে এত ডিগ্রী করেও যখন কোন ভাল জায়গাতে বসতে পারবেন না।

তারপর হয়ত একদিন ভালো একটা বসার জায়গাও পাবেন। আপনার নামডাক চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়বে। আপনি আধামিনিট হোক আর এক মিনিট হোক রোগীকে ছুঁয়ে দিলেই রোগ সেরে যাবে। আপনি যেসব টেস্ট করাতে দিবেন রোগীরা অন্ধ হয়ে তা করে ফেলবে। দুদিন আগে অন্য কোথাও একই টেস্ট করালে তাকে বাতিল হিসেবে গণ্য করলেও রোগীদের উহ্ পরিমান আপত্তি থাকবে না, আপনি যে তার দেবতা। কষ্ট হলেও, মেয়ের শিক্ষাসফরের টাকা খরচ করিয়ে হলেও সে আপনি যা করতে বলবেন তাই করবে। আপনি যে দেবতা। আপনি যদি বলেন আপনার পেটে বাচ্চাটি একটু বেকায়দায় আছে, বাম পাটা একটা নালিরর সাথে পেচিয়ে আছে, তাই তাকে নরমাল পদ্ধতিতে বের করা রিক্স হয়ে যাবে। দেবতা স্বয়ং যখন এভাবে বলেন কার মাথায় কয়টা মুন্ডু তার পরম আরাধ্য ধনকে নরমাল ডেলভারি করায়!

যা কিছুই হোক আপনি যদি বলেন অপারেশন করতেই হবে; কোন সমস্যা নাই, রোগী রাজী আছেন স্যার। আপনি চালান আপনার ছুরিকাঁচি। এ জায়গায় আপনি তো আর একদিনে আসেননি। রোগীরা আপনার সে কথাটিও মাথায় নিয়ে বিশ্বাস করে যখন আপনি নিজমুখে, একদম আপনার মুখ থেকে বলবেন, ভাই কি বলব দুঃখের কথা সরকারী হাসপাতালগুলোতে অপারেশনের যন্ত্রপাতিগুলো বড্ড সেকেলে, সব পুরাতন, মরিচা টরিচা পড়ে গেছে, তখন রোগীও জানেন এরপরে আপনি কোন প্রশ্নটি তার মুখে শুনতে চাচ্ছেন। রোগী জানে আপনি দেবতা, তাই আপনি যা আশা করছেন সে সেটাই বলবে, স্যার তাহলে অপারেশনটা কোথায় করালে ভালো হয়?

এই যে আজকের এ আপনি, এত বড়বড় ডিগ্রীধারী ডাক্তার, এখানে বসতে যে কত কাঠখড় পুড়িয়েছেন, আর কেউ না জানুক অন্তত ক্লিনিকের মালিকগণ, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকগণ, এম আর গণ কিন্তু তা খুব ভালোই জানেন। তাই তারা আপনাকে সম্মান জানিয়ে আপনার জন্য কিছু করতে চান। স্যার, আপনি দেবতা বলেই তো মাঝেমাঝে ভীষণ বিরক্ত হন তাদের উপর। কতবার মানা করেছেন, তারপরেও কেন যে তারা প্রতি মাসের শেষে এত এত টাকা আপনার একাউন্টে পাঠিয়ে দেন। কেন যে বিদেশের বিভিন্ন সেমিনারে পুরো পরিবারের টিকেট করে দেয়! আপনি তো তখনো কিছুটা সামাজিক এবং মানবিক। আপনি মাসের শেষের দিকে তাদের খোঁজখবর নিতে গেলে কেনই বা তাদের ভাবতে হবে আপনি বোধহয় কিছু মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছেন!

এরপর যদি ভুল করে তিনি আপনার সামনে বলে ফেললেন, অমুক ডাক্তারকে দেখালাম,স্যার তিনি তো তমুক বললেন। যদিও সেই অমুক সম্পর্কে আপনার মনে একটা ভাল ধারনাই আছে, তবুও আপনার আচরণ হবে দেখার মতো। সম্ভত এখানে ‘কাক কাকের মাংস খায় না’ এই প্রবাদটি খাটবে না। আপনার কমিউনিটি একজন সম্মানিত ডাক্তার সাহেবকে এমন গালি দিবেন যে তা শুনলে কাকের মুখের জবানও এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। কিন্তু আপনার রোগী কিন্তু আপনার উপর ভরসা হারাবেনা তখনো।

স্যার আপনি যে মানুষ নয়, অসুস্থ রোগ শোকেজর্জর মানবের হৃদমন্দিরে আপনি তো দেবতা। শুধু যেই আপনি আগের ডাক্তারের পরামর্শ নাকচ করে দ্বিধাবিভক্ত মতামত দিবেন তখনমাত্র রোগী খানিকটা দ্বিধার দোলাচলে দুলবেন লালঝুটি কাকাতুয়ার মতো। তাতে আপনার কি বা যাওয়া আসার থাকতে পারে স্যার। আপনি নিজেই তো কষ্টের এক মহাকাব্য। আজ যে জায়গায় আপনি দাঁড়িয়ে সেখানে পৌঁছতে কি যাতনা, ত্যাগ পরিশ্রম করতে হয়েছে রোগী না জানলেও আপনি তো জানেন স্যার।

(…… তাহলে কিন্তু, আমি নেংটি বাঁধিয়া লাইনঘাট উপড়াইয়া, খুটি ছিঁড়িয়া উর্ধ্বমুখী হইয়া পলাইয়া যাইব, ভোঁ দৌড় মারিব।)

পাদটীকা: 
এত বড় বড় দেবতাদের মাঝে একজন বোকা ডাক্তারের খোঁজ পেয়েছি। তিনি হলেন Dr. A. D. C। আমার এই নিবন্ধটি ও মানুষটির সাথে কিছুটা মিল পাওয়া আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র কিংবদন্তি তুল্য কবিতা ” আমি কিংবদন্তির কথা বলছি”র আবৃত্তিটি বোকা ডাক্তার Dr. A D C কে উৎসর্গ করলাম।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com