সাধুর সুবুদ্ধির উদয় এখন সময়ের দাবি : আবু রায়হান মিসবাহ - Nobobarta.com

সাধুর সুবুদ্ধির উদয় এখন সময়ের দাবি : আবু রায়হান মিসবাহ

বিবর্তনের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা-বিজ্ঞান, সংস্কার-সাহিত্য, শিল্প- প্রযুক্তি, চিন্তা চেতনায় ভিন্নমাত্রা পেয়েছে বিশ্বসভ্যতা। তবে এ সকল আধুনিক সভ্যতার দৌঁড়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রচলিত নীতি, নৈতিকতা ও নূন্যতম মানবিক মূল্যবোধ। যার ফলে ক্রমশই বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা কিংবা ছিন্ন হচ্ছে সামাজিক পারষ্পরিক সম্পর্ক। দিনকে দিন অস্থির হয়ে উঠছে সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায়। এত কিছুর মাঝেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অপরিবর্তিত। চলছে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম দুর্ভিক্ষ। কমে আসছে পরষ্পরের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ। অন্যদিকে নারীর প্রতি বাঁকা দৃষ্টিতে তাকানো এটা আদিকাল থেকে চলে আসছে। একশ্রেণীর পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এখনো নারীকে ভোগ্যপণ্য কিংবা যৌনদাসী হিসেবে বিবেচিত করা হয়। যা সত্যিই পরিতাপের।

সমাজ ও রাষ্ট্রের সুখ-সমৃদ্ধির নিয়ন্ত্রক আমরাই। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংহতি শান্তিপ্রিয় মানুষের কাম্য। সেখানে মানুষ নিজেকে যান্ত্রিক হিসেবে তৈরি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবার-সমাজ, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও  চিন্তা-চেতনায় বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বিশ্বাস প্রায় শূন্যের কোঠায়। মানুষের মধ্যে প্রাণ আছে কিন্তু মন নেই। আবেগ অনুভূতি নিরুদ্দেশ। মানুষের অবচেতন হৃদয় শান্তির সন্ধানে ঘুরপাক খাচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমাজ নিষ্ক্রিয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে প্রজন্ম যেনো কেমন উদাসীন।

অন্যদিকে যান্ত্রিকতা ও মানবিকতা দুই মেরুকরণে ব্যস্ত। তবে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। অথচ আমাদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ পরিবর্তনে নূন্যতম আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যার ধরুন রোজ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়ায় ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণে মত রসাত্বক গল্পের হেডলাইন হচ্ছে। দোষ খোঁজা হচ্ছে- এতেই দায় সাড়া। অনেকে আবার সয়ং ধর্ষিতাকে দোষী সাবস্ত করতে উঠে পড়ে লেগে যায়। এভাবে করে রোজ ধর্ষণের মত লোমহর্ষক ঘটনাগুলো সময়ের দুষ্টু দহনে গ্রাস করে ফেলছে। ফলে দিনদিন তা মাত্রা থেকে মাত্রাতিরিক্ত আকার ধারণ করছে।

ধর্ষণ বা শীলতাহানী নিয়ে বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করতে দেখা যায়। আমাদের সকলের উচিৎ বস্তুনিষ্ঠ এসব মন্তব্যকারীকে সাধুবাদ জানানো। কেননা প্রত্যেকটি মন্তব্য এক একজন ব্যক্তির অভিরুচি পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠে। যে যেমন তার থেকে অনুরূপ মন্তব্য আসা করাটাই স্বাভাবিক। এখানে দোষাদোষি কিংবা রসারসিতে যাওয়া যাবে না। সমস্যা যেহেতু নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও শীলতাহানি- এখনই এর কার্যত সমাধান চাই। এখানে পোষাক না মানুষিকতার পরিবর্তন না দুটোরই পরিবর্তন সে ধাধায় যাওয়ার অবকাশ নেই। এখানে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই- নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও শীলতাহানি বন্ধে কঠিন আইন চাই। পরিবার সমাজ রাষ্ট্র নারীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। অথবা শর্ষের মাঝে ভূত ডুকে পড়েছে। তেতুলতত্ত্বের অবসান চাই। নারী কোনো মুখরোচক চাটনি আচার না যে জ্বিবে জল চলে আসতে হবে। বলাবাহুল্য শুধুমাত্র পর্দার মাঝে এর সমাধান সম্ভব না। আবার নারীকে খোলাবাজারের পণ্য হতে দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে প্রয়োজন মানুষিকতার পরিবর্তন। পাশাপাশি চাই আইনের সুশাসন। অন্যথায় এর দায় রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com