,

ধর্ষিত হচ্ছি নিজেরাই!

কামরুল হাসান নাসিম: দাদী তার নাতনিকে ছেলে বেলায় বলেছিল, যত কিছুই হয়ে যাক না কেন– জীবন দিয়ে হলেও তুমি তোমার ইজ্জতকে বাঁচাবে। প্রয়োজনে মরে যাবে কিন্তু ধর্ষিত হওয়া চলবে না। নাতনীর বয়স ছিল তখন ৫ কি ৬ !

বহু বছর পরে নাতনির বয়স যখন ২৫– একদিন বৃদ্ধা দাদী শুনতে পেল কান্নার আওয়াজ। পাশের কক্ষে বুড়ো হাড় নিয়ে তবু কষ্ট করে যাওয়া তার ! যেয়ে দেখে, নাত্নী কাঁদছে। দাদী বলল, কি হয়েছে ? নাতনী তখন বলল, —
অতি যতনে তোমার কথা,
শুনে হয়নি ছাড়,
আঘাত হেনেছে শত্রুপক্ষ,
ক্ষত হয়েছে মলদ্বার !

১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বীভৎস রূপ দেখে আমরা অবগত হয়েছিলাম, তাঁরা আমাদেরকে সামনে থেকে ধর্ষণ করতে চায়। আরো পরে হেনরি কিসিঞ্জারদের সেই বক্তব্য– যা ছিল, “তীব্র জনঘনত্ব ও সম্পদের অপ্রতুলতায় বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মৃত্যু অনিবার্য” — এমন বক্তব্য প্রমাণ করে তাঁরাও আমাদের কে তখন থেকে ভাল ভাবে নিতে পেরেছিল না। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও সামনে থেকেই আমদের ধর্ষণ করতে চায়। তা প্রমাণিত সত্য। বাকী থাকে প্রতিবেশী আধিপত্যবাদী শক্তি ভারত। এই সেই ভারত যারা ৭১’সালে পূর্ব পাকিস্তানকে সহায়তার নামে ফলত স্বাধীন বাংলাদেশকে পেছন থেকে ধর্ষণ করে গেছে। ওই নাত্নীকে যেভাবে করা হয়েছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র তাঁদের দখল করতে হয় নাই, তাঁদের অর্থনীতির সমৃদ্ধির ঘরে বড় একটা অংশের যোগান লাল সবুজের বাংলা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসছে যুগের পর যুগ।

বন্ধুরা,

এই আদলের গল্প বলার ধারাভাষ্যে থাকার একজন রাজনীতিক যদি দেশে থাকে তবে রাজনীতি আমি ছেড়ে দেব। বলাবাহুল্য, আজকের প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ আমাদের প্রতিপক্ষ দলের প্রধান তাও ওই বাংলাদেশকে সামনে থেকে ধর্ষণ তো বটেই পেছন থেকে ধর্ষিত আর না হওয়ার খানিকটা সিদ্ধান্তে গেছেন। কিন্তু আমাদের দলের শীর্ষ মানুষটির কথা যদি বলি, তিনি কাপড় খুলেই বসে আছেন ! তার বক্তব্য, ধর্ষিত হওয়া ব্যাপার না— আমাকে খালি ক্ষমতা দিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দাও।

চলতি পথে দুটি বিশেষ দলের অনেককেই দেখি বলতে শুনি, ভারত, আমেরিকা কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন না চাইলে কি আর ক্ষমতায় বসা যায় ? আমি ধিক জানাই ওই সকল রাজনীতিক কিংবা বিশ্লেষকদের– যারা দেশের নেতৃত্ব অন্যদের হাতে সঁপে দিয়ে, ধর্ষিত হয়ে বড় বড় পদে বসে আছেন। এর অর্থ এই নয় যে, কামরুল হাসান নাসিম এর সাথে ভিনদেশী বন্ধু ও শত্রুদের কথা হয় না !

মনে রাখা দরকার, বিদেশী শক্তি স্বল্পোন্নত দেশের নামে মুলত ধনী দেশ বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে দুর্বল শাসক চায়— কারণ ভুরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে তাঁদের স্বার্থ উদ্ধারে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে দেশপ্রেমিক শাসক কাম্য করে না তাঁরা।

# এক শপিং মলে তিনি ও তার পুত্র এবং পুত্রবধুর স্থিরচিত্র ছাড়া আর কোন খবর কেন মিলছে না?

লেখক:  বিএনপি পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com