,

এই বঞ্চনা আর কতকাল চলবে

মোহন রবিদাশ : বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি,সরকারি চাকুরীতে আবেদন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর অফিসের “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” (প্রথমেই বলে রাখি আমি “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” শব্দটি পরিহার করে “আদিবাসী” শব্দটি ব্যবহারের পক্ষে। কেননা, মানুষ আবার ক্ষুদ্র বা বৃহৎ কি করে হয়। যেহেতু সরকারিভাবে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তাই আমি বিভিন্ন সময় “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” শব্দটি উল্লেখ করি) বৃত্তি প্রাপ্তির জন্য প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন চা-বাগানের ভাই-বোন আমাকে ফোন করে বলেন, “দাদা আমরা (চা-জনগোষ্ঠী) কি “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী”,আমরা কিভাবে “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” সার্টিফিকেট পাবো,কোথায় যোগাযোগ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

সেই সব ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি- “হ্যাঁ আমরা (চা-জনগোষ্ঠী) “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” র পর্যায়ে পড়ি কিন্তু সরকার কেন যে আমাদেরকে বাদ রেখেছে তা আমার মাথায় ঢুকছে না। কেননা,সরকার বলছে বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই যারা আছে তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। আর সরকার তাদেরকেই “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী” বলছে “যাদের নিজস্ব ভাষা- সংস্কৃতি-কৃষ্টি-ধর্মীয় উৎসব-পার্বণ- সমাজ কাঠামো-রীতি-প্রথা আছে এবং যারা মূল ধারার জনগোষ্ঠী থেকে ভিন্ন ও প্রান্তিক। তবে চা বাগানের প্রতিটি সম্প্রদায়ের ( ৮৫ টির অধিক) নিজস্ব ভাষা- সংস্কৃতি-কৃষ্টি-ধর্মীয় উৎসব-পার্বণ- সমাজ কাঠামো-রীতি-প্রথা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তারা কেন আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বীকৃতি পাচ্ছে না???
এই স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যেসকল সুবিধা পায় ( যেমন শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে কোটা, ভাষা- সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও বিকাশ, বৃত্তি ) সেটা এই চা জনগোষ্ঠী পাচ্ছে না। ফলে দেখা যাচ্ছে তালিকাভূক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন যে হারে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারছে ঠিক সেই হারে বাদ পড়া চা বাগানের এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী( ৮৫ টির অধিক) প্রান্তিক থেকে প্রান্তিকতর হচ্ছে- হারাতে বসেছে তাদের ভাষা- সংস্কৃতি- ঐতিহ্য। এ ধরণের বঞ্চনার ইতিহাস পৃথিবীর অন্য কোন দেশে আছে কি না আমার জানা নেই। চা জনগোষ্ঠী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি না পাবার জন্য প্রকৃত দায়ী কে সরকার না এদেশের কিছু তথাকথিত নৃ-বিজ্ঞানী? যাদেরকে সরকার দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশে কারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করছে তাদের তালিকা দেয়ার জন্য। আমার দৃষ্টিতে দায়ী হচ্ছে এদেশের তথাকথিত সেই অনভিজ্ঞ নৃ-বিজ্ঞানীগণ যারা নিজেদেরকে অনেক বড় মাপের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবী করেন, যাদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে সরকার নির্ধারণ করে কারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা কারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়। এই নৃ-বিজ্ঞানীদের জন্যই আজ আমরা বঞ্চিত।তাদের ভূল তথ্যের উপর ভিত্তি করেই সরকার আদিবাসীদের একবার বলে “উপজাতি” আরেকবার বলে ( তাও আবার সংবিধান সংশোধন করে-২৩ক) ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র- জাতিসসত্ত্বা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী।
তবে চা বাগানের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বৃত্তি ও উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা, চা-জনগোষ্ঠীর মূল্যবান ভাষা-সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও বিকাশ করার দায়িত্ব সরকারের উপরই বেশি বর্তায়।) তাই আমি সেই নৃ-বিজ্ঞানীদের বলছি আপনারা আগে আমাদের চা বাগানে আসুন, আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন তারপর বহিঃপ্রকাশ দেখান। আর সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি অবিলম্বে যাতে চা বাগানের ৮৫ টি জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তালিকায় (সরকারি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com