,

সু-সংগঠিত থাকলে জাতীয় পার্টিই নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করবে

কেউ যদি মনে করে এমনি এমনিতেই আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্টু হবে এবং ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে তা-হলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। কারণ এ-দেশে সুষ্টু নির্বাচন দিবে কে ? কেন দিবে ? বিএনপি-জামাতকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়েদুল কাদের যখন বুঝতে পেরেছেন বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পিঠের চামড়া থাকবে না, কচু কাটা করে ফেলবে। তা-হলে কি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পিঠের চামড়া তুলে ফেলার জন্য সুষ্ট নির্বাচন দিয়ে বিএনপি-জামাতকে ক্ষমতায় বসাবে আওয়ামী লীগ ? আমরা যারা রাজনীতির মাঠে-ময়দানে কাজ করি, আমরা সহজেই কিছু কিছু বিষয় বুঝতে পারি, যেমন গত ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপির যে কয়েকজন নেতার সাথে কথা হয়েছে সবাইকে বলেছি নির্বাচনে অংশগ্রহন করার জন্য। কারণ নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তন মোটেও সন্ভব নয়। একটি নির্বাচন একটি দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের আর্শিবাদ। বিএনপি তখন নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে আজ তারা সরকারে অথবা সংসদে প্রধান বিরোধী দল থাকতো। একটি নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেই ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করতে হবে কেন ? হার-জিততো থাকবেই। গণতন্ত্রের স্বার্থেই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত।

 

 

 

 

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে একদিন সিরাজুল আলম খান (দাদা) আমাকে বলেছিলেন, নির্বাচনে না গেলে বিএনপি ভুল করবে, চরম খেসারত দিতে হবে দলটির নেতা-কর্মীদের, খেসারত দিতে হবে এ-দেশের মেহনতি মানুষের। উদাহরন হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী নির্বাচন বয়কট করার কারণে আজ মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনৈতিক দলটি প্রায় বিলুপ্ত। ১৯৭০ সালে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী শেখ মুজিবুর রহমান থেকেও দেশের জনগণের কাছে সব চেয়ে বেশী জনপ্রিয় এবং গ্রহনযোগ্য নেতা ছিলেন। সেদিন যদি তিনি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতেন, আজকের বাংলাদেশ হতো অন্য একটি বাংলাদেশ। আমরা আজ শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানকে হারাতে হতো না। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে হয়ত আন্দোলন-সংগ্রাম করার প্রয়োজনই হতোনা। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ হতো গনতন্ত্রের উদাহরন। আমি জনাব সিরাজুল আলম খানের পত্রিকাটির নিয়মিত পাঠক। ( বলাবাহল্য দাদার “আলোর মিছিল” পত্রিকাটি এখনোও নিয়মিত আমার বাসায় আসে)।

 

 

আজ সিরাজুল আলম সাহেব এর কথাটি একদম ফেলে দেওয়ার মতো নয়। বিএনপির আজ কি বেহাল অবস্হা, নেতা-কর্মিরা হামলা-মামলায় জর্জরিত, আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত হতে পারছে না। যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে না পারে তাহলে বিএনপি নেতা-কর্মি শূন্য হয়ে যাবে। বর্তমানেও বিএনপির বহু নেতা-কর্মি আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতা করে চলছে। এটা আর কতদিন ? তাই বলছি, যদি সুষ্টু নির্বাচন চাও, তা-হলে শক্তি প্রর্দশন কর, আন্দোলন কর, জাতীয় পার্টিকে Convinced করো। দেশে যখন সংসদ নির্বাচন আসে তখন জাতীয় পার্টির পালে বাতাস লাগে। মোদ্দাকথা জাতীয় পার্টি যদি নিজেরা সুসংগঠিত থাকতে পারে, তবে আবারও আগামী নির্বাচনে ক্ষমতার রাজনীতিতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

 

 

লেখক : মোঃ হেলাল উদ্দিন

নির্বাহী সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় পার্টি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com