মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

English Version
ডিএনসিসি নির্বাচনে সম্ভাব্য বিএনপি’র প্রার্থী তাবিথ, আঃ লীগের কবরী

ডিএনসিসি নির্বাচনে সম্ভাব্য বিএনপি’র প্রার্থী তাবিথ, আঃ লীগের কবরী



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইয়াসিন মাহমুদ জিবরান # ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে নানা চিন্তা চলছে প্রধান দুই জোটে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও নির্বাচনে দুই জোট থেকে একক প্রার্থী দেয়া হচ্ছে এটি প্রায় নিশ্চিত। এজন্য জোট নেতাদের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় এই মুহূর্তে সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় এটি। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ইতিমধ্যে চিন্তা ভাবনা করছেন দলের হাইকমান্ড।

এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল নির্বাচনে অংশ নেবে এমনটা নিশ্চিত ধরেই প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী দিলে অন্যদলগুলো সমর্থন দেবে। জোটের অন্য দলের কেউ এখন পর্যন্ত প্রার্থী হতে সরাসরি আগ্রহ দেখাননি। যদিও ভেতরে ভেতরে আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে গতবারের মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে এবারো মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর পর থেকেই আলোচনায় সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দেশের বৃহৎ দুই জোটে প্রার্থীরা কারা হবেন। এ বিষয়ে দুই দলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও, আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নের জন্য দৌঁড়ঝাপ করছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এখনো দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তারা প্রার্থী দেবে। ওই সূত্র আরো জানায়, বিএনপির প্রার্থীও মোটামুটি ঠিক আছে। গতবারের মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে এবারো প্রার্থী করা হতে পারে।

তবে বিএনপির নেতাদের মনে সংশয়, সরকার এই সময়ে ঢাকা শহরে নির্বাচন দেবে কি না। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকায় মেয়র নির্বাচন ক্ষমতাসীনদের জন্য ‘উভয়সংকট’ হয়ে উঠতে পারে। তাবিথ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর বড় ছেলে। তবে সিটি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে এখন পর্যন্ত দলের কোনো পর্যায়ে আলোচনা হয়নি। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তিনি ‘বাস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় তিন লাখ ভোট পান। যদিও ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মাথায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন দিলে বিএনপি অংশ নেবে। আমাদের গতবারের প্রার্থীও আছেন। আবার নতুন অনেকেও আগ্রহী। নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ইতিমধ্যে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আবদুল আউয়াল মিন্টু ও মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমানের (পার্থ) নামও আলোচনায় এসেছে।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সার্বিক নির্বাচনী পরিবেশ দেখে দল এবং জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। নির্বাচনে তারা কোনো ‘আবেগী প্রার্থী’ দেবে না বলে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সময় দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো আবেগী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে না। রাজনীতি রাজনীতিই, এখানে আবেগের জায়গা হওয়া উচিত না। মানুষ ভোট দেবে যোগ্য প্রার্থীকে। যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে মনোনয়ন দেয়া হবে।’ মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর থেকেই এখানে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত আনিসুল হকের স্ত্রী ও ছেলের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। যদিও আনিসুল হকের পরিবারের সদস্যদের সম্ভাব্য প্রার্থী বানিয়ে এখনই প্রচার না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তার স্ত্রী রুবানা হক।

এই অবস্থায় ‘আবেগী প্রার্থী’ বলতে আনিসুল হকের পরিবারের কাউকে বোঝানো হয়েছে কি না, তা দলটির পক্ষ থেকে পরিস্কার করা হয়নি। সিটি নির্বাচন নিয়ে গত বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। তিনি বলেন, জয়ী হতে পারবেন, এমন কয়েকজনকে নিয়ে তারা ভাবনাচিন্তা করছেন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যারা বিশ্বাসী, সে রকম প্রার্থীও আমরা দিতে পারি। আওয়ামী লীগের সমর্থক কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা নন, এমন প্রার্থীদের নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছি।’

আনিসুল হকের পরিবার থেকে কাউকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরিবারের লোকজন শোকের মধ্যে আছে। সবাইকে অনুরোধ করব এ প্রসঙ্গ থেকে আপাতত দূরে থাকার। তার পরিবারের মধ্যে কেউ প্রার্থী হবেন কি না, সেই সময় আসুক।’ ২০১৫ সালে ডিএনসিসি নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান। এবার মেয়রের পদ শূন্য ঘোষণার পর আগ্রহী ব্যক্তিদের কেউ কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছেও অনেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে চলচ্চিত্র তারকা, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে এখনো প্রার্থী বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তবে যিনি আনিসুল হকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে পারবেন এবং যার জনপ্রিয়তা আছে, এমন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে। দলীয় সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত দলের পদধারীদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান দৌড়ঝাঁপ করছেন। এছাড়াও, ২০১৫ সালের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সমর্থনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ সারাহ বেগম কবরী। এবারও তার আগ্রহ আছে বলে জানা গেছে।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com