আজ রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন

২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
National Election
আল কোরআন ও রমজানুল মোবারক

আল কোরআন ও রমজানুল মোবারক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাহমুদুল হক আনসারী # মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআনুল করীম মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সর্বশেষ অবর্তীণ আসমানী কিতাব। সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ মুস্তফা (স:)এর উপর এ কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আসমানী কিতাব জমিনে অবতীর্ণ হওয়ার দরজা বন্ধ হয়। দেড় হাজার বছর পূর্বে ১০৪খানা কিতাবের সর্বশেষ কিতাব পবিত্র কোরআনুল করীম। এ কিতাবে উম্মতে মুহাম্মদী (স:)এর ইহকাল পরকালীন জীবন পরিচালনার দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

১১৪টি পবিত্র সূরার বর্ণনা তাৎপর্য্যআলোচনা সবকিছুই মানবজাতির মুক্তির জন্য বলা হয়েছে। এখানে দু-ধরনের সূরা আয়াত বর্ণনা পাওয়া যায়। এক প্রকার আয়াত হচ্ছে, নির্দেশ পালনেরজন্য। আরেক প্রকারের আয়াত ও নির্দেশনা হচ্ছে বিরত থাকার জন্য।করা এবং না করার মধ্যেই পুরোপুরী ভাবে পবিত্র কোরআন শরীফের আগের কিতাব ও নবী রাসূলের ইতিহাস এখানে কতিপয় সূরায় বর্ণনা করা হয়েছে।মানুষ যাতে করে সে সময়কার ঘটনা থেকে উপদেশ অর্জন করতে পারে। সে ধরনের অনেকগুলো নবী-রাসূলের ঘটনা কোরআনুল করীমে পাওয়া যাবে। এর সাথে ইমানদার মুমিনের কর্তব্য গুণাবলী কী হওয়া উচিতএমন আলোচনাও পাওয়া যাবে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা থেকেশুরু করে বিবাহ শাদী ব্যবসা সমস্ত বিষয়াদীর সাথে সৃষ্টির নান সৃষ্টি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। ছোট থেকে বড় এমন কোনো বিষয় নেই যার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়নি। একটি জাতি বা গোষ্ঠী কীভাবে তার দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করে তার প্রভূর নিকট সন্তুষ্টি অর্জন করবে সে সম্পর্কে যাবতীয় নিয়ম ও ধারণা এখানে পাওয়া যাবে। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব।তাই মানুষকে ইহজীবনে চলতে হলে একটা গাইড বুক দরকার। আর এ গাইড বুক হচ্ছে মুসলমানদের জন্য পবিত্র আসমানী কিতাব। এ কিতাব সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর পক্ষ হতে নাজিলকৃত একটি নির্ভূল কিতাব। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সংশয় ও সন্দেহের অবকাশ নেই।

পৃথিবীর যতগুলো ধর্ম গ্রন্থ আছে তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশী পঠিত হয় পবিত্র এ কোরআনুল করীম। এ কিতাবের পাঠের মধ্যে নানাভাবে সাওয়াব প্রদানের কথা বলা হয়েছে। একেকটি সূরার তেলাওয়াত ও পাঠ করলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে ফজিলত ও সাওয়াব প্রদানের কথা বলা হয়েছে। দিন রাত সার্বক্ষণিক সারা পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ এ কোরআনুল করীম পাঠ করা অব্যাহত আছে।কোরআন পাঠ ও শিক্ষা প্রদান দুটিই ধারাবাহিকভাবে চলছে। একদিকে কোরআনের পাঠ চলছে, অপরদিকে কোরআন শিক্ষা প্রদান সারা দুনিয়ায় অব্যাহত গতিতে চলছে। পৃথিবী যতদিন ঠিকে থাকবে কোরআন শিক্ষা ততদিন অব্যাহত থাকবে। কোরআন শিক্ষা পাঠ, তফসির আর আলোচনা কখনো বন্ধ হবে না। কিয়ামত পর্য্ন্ত কোরআনের পাঠ, শিক্ষা আলোচনা পর্যালোচনা তফসির অব্যাহত থাকবে। এ কিারআনকে হুবুহু ভাবে আসমানী কিতাব হিসেবে রাখতে কোনো ধরনের সমস্যা কিয়ামত পর্য্ন্ত হবে না। কারণ হচ্ছে সারা দুনিয়ায় লাখ লাখ পবিত্র কোরআনের হাফেজ তৈরী হচ্ছে। কী পরিমাণ কোরআনের হাফেজ আছে তার সাঠক হিসেব না থাকলেও প্রতিবছর লাখ লাখ হাফেজ সারা দুনিয়ায় তৈরী হচ্ছে সেটা নির্ভূলভাবে বলা যায়। ছাপানো সমস্ত কোরআন শরীফ বন্ধ হয়ে গেলেও একজন কোরআনের হাফেজ পৃথিবীতে বেঁচে থাকলে কখনো কেরআন শরীফ বিকৃত করা যাবে না।

নির্ভূল কোরআন শরীফ তাই কিয়ামত পর্য্ন্ত পৃথিবীতে স্ব-সম্মানে আপন মহিমায় থাকবে।এ বিষয়ে স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বয়ং নিজেই পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণনা করেছেন। পবিত্র কোরআন মজিদ লাওহে মাহফুজে যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে।পৃথিবীর কোন শক্তি এ কোরআনুল করীমকে বিকৃত করতে পারবে না। একেবারে শতভাগ সত্য বাণী। এ বাণীর মধ্যে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। পবিত্র কোরআন মানবজাতির ইহ ও পরকালীন মুক্তির গাইড। এ কিতাব অনুসরণ করলে ইহকাল ও পরকালে নাজাত পাওয়া যাবে। এটায় হচ্ছে মুমিনদের ঈমান বা বিশ্বাস। এ বিশ্বাসের উপের মুসলমান জীবন পরিচালনা করলে তিনি নি:সন্দেহে জান্নাতী পুরষ্কারে ভূষিত হবেন। আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআলার বাণী হচ্ছে এভাবেই। পৃথিবীর কোনো কিতাব বা গ্রন্থের সাথে কোরআনুল করীমের কোনো অবস্থায় তুলনা হয় না। সমস্ত কিতাব সমূহে ভূল পাওয়া যাবে, একমাত্র কোরআনুল করীমে কোন ভূল পাওয়া যাবেনা।এ কিতাব নির্ভূল ও নির্ভেজাল। সমস্ত ভূল ও ভেজাল ছাড়া আসমানী কিতাব একমাত্র পবিত্র কোরআনুল করীম।কিয়ামত পর্য্ন্ত এ কিতাব আপন মহিমায় সংরক্ষিত থাকবে। একটি শব্দ একটি আয়াত একটি সূরা পর্য্ন্ত কেউ বদলাতে সাহস করলেও কোনো লাভ হবে না। কারণ পৃথিবীর সমস্ত কোরআনী হাফেজদের কেউ শহিদ করতে পারবে না। মহান আল্লাহর বিশাল কেরামত পবিত্র কোরআনুল করীম মানবজাতির পথ নির্দেশিকা হিসেবে এ কিতাবের ভূমিকা কিয়ামত পর্য্ন্ত থাকবে।

যারা এ কিতাবকে সঠিক পন্থায় অনুসরণ করবে তারাই এর সুফল লাভ করবে।সুফল দু-ভাবে পাবে। দুনিয়ায় পাবে।পরকালে পাবে জান্নাত পুরষ্কার হিসেবে।কোনো অবস্থায় পবিত্র কোরআনের অনুসরণ ও প্রতিদান বিফলে যাবে না। পবিত্র কোরআনুল করীম অনুসরণ আর পাঠ করলেও রয়েছে অফুরন্ত সাওয়াব। তাই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত কেউ কোন দিন বন্ধ করতে পারবে না। বন্ধ হবেও না।তেলাওয়াত আর ফজিলতের জন্য কোরআন শরীফ অবতীর্ণ হয়েছে রমজান মাসে। রমজান আর কোরআন অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত।রমজান মাস রোজার জন্য যেভাবে ফজিলত পূর্ণ একই ভাবে পবিত্র কোরআন শরীফ ও মানবজাতির পথ প্রদর্শক। রমজান মানবজাতির মুসলীম সমাজকে বিশুদ্ধ করার জন্য আসে। সাথে আমলের শিক্ষা দেয়ার জন্য পবিত্র কোরআন শরীফ নাজিল হয়েছে। তাই কোরআন আর রমজান একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। ফজিলত বরকত কোরআন পাঠের মধ্যে যেভাবে আছে অনুরূপভাবে রোজা পালনের বরকতও অনেক। ফজিলতের কোরআন আর রমজান মাস অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। দুই ফজিলতের বরকত যারা নিতে পারবে তারাই আল্লাহর নিকট সাফল্য মন্ডিত হবে। জান্নাতী পুরষ্কার পাবে।মহান আল্লাহ এ পুরষ্কার দেয়ার জন্য বান্দাকে পবিত্র কোরআন ও রমজানুল মোবারক দিয়েছে। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে রমজানের হেফাজত আর রোজা পালনের কথা। রোজা পালনের নির্দেশ আছে পবিত্র কোরআন মজিদে। রোজা কোরআন তেলাওয়াত সবই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ। এ নির্দেশ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর বান্দা হবেন গুনাহ ও পাপমুক্ত। জান্নাত মেহমান হিসেবে আল্লাহর বেহেস্তী পুরষ্কার পাওয়ার জন্য তৈরী হয় রমজান মাসে। তাই রমজান মাস আসলে কোরআন তেলাওয়াত অন্য মানের তুলনায় অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়।

মুসলীম সমাজে ঘরে ঘরে রমজান মাস আসলে রোজার সাথে সাথে কোরআন তেলাওয়াত বৃদ্ধি পায়। যারা অন্যমাসে তেলাওয়াত কম করে তারা রোজা আসলে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শুরু করে দেয়।সামর্থনুপাতে কোরআন খতম করে থাকে।তাই বলা যায় রমজান হচ্ছে কোরআন অবতীর্নের মাস। এ মাসে যতবেশী কোরআন তেলাওয়াত করবে ততবেশী সাওয়াব পাওয়া যাবে। ইবাদতের মাস রমজান। তেলাওয়াতের মাস মাহে রমজানুল মোবরক। যার যে পরিমাণ সাওয়াব পাওয়ার ইচ্ছে থাকে সাওয়াব অর্জনের মাস রমজানুল মোবারক। সাওয়াব অর্জন আর গুণাহ বর্জন ও ক্ষমা পাওয়ার মাস রমজানুল মোবারক। তাই সামর্থ মতো বেশী বেশী করে এ মাসে রোজা পালনের সাথে কোরআন শরীফ পাঠ ও অনুসরণ অনুকরণ জরুরী। কোরআনী নির্দেশ মতে জীবন পরিচালনা করতে পারলে পরিবার সমাজ রাষ্ট্র সুন্দর হবে।অন্যায় অবিচার জুলুম আর নির্যাতন থাকবে না। সুন্দরভাবে ব্যাক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন তৈরীতে রোজার সাথে কোরআনের অনুসরণ অনুকরণ চর্চা হওয়া চাই। সমাজ যদি পবিত্র রোজার পালনের সাথে কোরআনের অনুশীলন চর্চা করে তাহলে সমাজ হতে দুর্নীতি অনাচার ব্যাবিচার পাপাচার বন্ধ হতে বেশী সময় লাগবে না। আল্লাহ আমাদেরকে যেনোপ্রকৃতভাবে রোজা ও কোরআনুল করীমের মূল হকিকত বোঝার ও পালনের তৌফিক দান করেন।

লেখক:মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Nobobarta on Twitter

জনসম্মুখে পুরুষ নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com