রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন



আহলান ওয়াসাহলান রমজানুল মোবারক

আহলান ওয়াসাহলান রমজানুল মোবারক

Ramadan-Nobobarta



মাহমুদুল হক আনসারী # আরবী বার মাসের মধ্যে ফজিলত ও বরকতময় মাস রমজানুল মোবারক। এ মাসে পবিত্র ৩০টি রোজা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে তারাবী নামাজ ও রোজা পালন করে থাকেন মুসলিম সমাজ। বিশ্বের হাজার হাজার মসজিদে রাতের বেলায় তারাবী নামাজ অনুষ্টিত হয়। হাজার হাজার কোরআনে হাফেজ এ নামাজে তারাবীতে ইমামতি করেন।লাখ লাখ মুসল্লী পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে নামাজ আদায় করে থাকেন।রহমত মাগফিরাত নাজাতের এ মাসকে মুসলীম সমাজ অতীব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে থাকেন।দিনের বেলায় রোজা পালন, রাতের বেলায় তারাবী নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহ তায়ালার রেজামন্দি হাসিল করতে মগ্ন থাকেন।

অন্য আরবী মাসের চেয়ে এ মাসের ফজিলত বেশী।এ মাসের ইবাদত অন্য মাসের তুলনায় সত্তর গুন বেশী।একটি ফরজ ইবাদতের পূণ্য ৭০গুণ ফরজের সাওয়াব পাওয়া যায়।একটি নফল ৭০টি নফল সাওয়াবে বৃদ্ধি পায়।মহিমান্বিত দিন আর রাতের ইবাদত পরিপূর্ণ করতে চেষ্টা করেন আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ।নাজাতের এ মাসে বান্দা তাঁর গোনা মার্জনা করার জন্য চেষ্টার ত্রুটি করেন না।বান্দার গুনাহ মাফ করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ মাসকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন।রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত দিয়ে বান্দার ইবাদতের জন্য এ মাসকে একটি পরিপূর্ণ ইবাদতের মাস হিসেবে বর্ননা করেছেন।এ মাসকে যারা ইবাদতের মাধ্যমে গ্রহন করতে পারবেন তারা অতি সৌভাগ্যবান।নামাজ, রোজা নফল ইবাদত করে এ মাসকে উদযাপন করার জন্য পবিত্র কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদিসে বর্ননা করা হয়েছে।আল্লাহর প্রিয় বান্দা মুত্তাকী ও ফরহেজগার হিসেবে মুক্তি পাওয়ার জন্য এ মাস।পবিত্র রোজা পালনের মাধ্যমে একজন বান্দা তাঁর আমলনামায় পূন্য লিপিবদ্ধ করেন।তৌবা আর ইস্তেগফারের মাধ্যমে তাঁর গোনা মাফ করতে সক্ষম হন।এ মাসে যত বেশী ইবাদত বন্দেগী নফল নামাজ ও তাছবীহ আদায় করবেন ততই পূন্য অর্জন করবে বান্দা। রমজান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস।এ মাসের বন্দেগীতে তাকওয়া অর্জিত হয়।রোজা ও নামাজের মাধ্যমে মানুষের কু-প্রভৃত্তি নিয়ন্ত্রিত থাকে।কু-বাসনা শৃংখলিত হয়।অশালীন অশ্লীলতা বেহায়াপনা থেকে ক্রোধ ও লালসাকে নিয়ন্ত্রণ করে।তাই রোজা হচ্ছে পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রন করার মাস।

এ মাসের রোজা ও ইবাদত বন্দেগীর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন রোজাদার তার কৃত গুণাহ ও অপরাধ আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা করতে সক্ষম হন।মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দা যখন গুনাহ মাফ চান ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাতে তিনি খুব খুশী হন।বান্দার আরাধনা,কান্না-কাটি, অপরাধ শিকার করাকে আল্লাহ তায়ালা অতীব গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।তিনি রহমান রহীম, ক্ষমাশীল পরম করুনাময় ‍সৃষ্টিকর্তা।বান্দার সুখ-দুখ,শাস্তি-নাজাত প্রাপ্তির জন্যই এ মাসকে দিয়ে বান্দাকে বিশুদ্ধ করতে চান।সেসকল বান্দা-বান্দী এ মাসের সুযোগকে গ্রহন করে মুক্তি লাভে সক্ষম।তারাঁই বাস্তবভাবে আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় বান্দা।আল্লাহপাক তাঁর বান্দাকে খুবই ভালবেসে সৃষ্টি করেছেন।বান্দার সমস্ত সুখ ও শান্তির জন্য অন্যান্য সমস্ত মাখলুখের সৃষ্টি।আর একমাত্র মানবজাতিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।পবিত্র কোরআনুল করীমে বলা হয়েছে রোজাকে মুত্তাকী হিসেবে তৈরী হওয়ার জন্য রোজাদারদের উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে।বান্দা যেন রোজার উপবাসের মাধ্যমে তাঁর পন্ঞ ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রন করতে পারে।ক্রোধ,লালসা,হিংসা-বিদ্বেষ যেনো নিয়ন্ত্রন ও পরিত্যাগ করতে পারে।ক্ষুধার জ্বালা অভাব ও অনটনের যন্ত্রনা যেনো অনুধাবন করতে পারে।সমাজ ও অপরাধীদের দুঃখ-কষ্ট যেনো মানুষ আয়ত্ব করতে পারে।রমজান মাস বেহিসাব রহমত প্রাপ্তির মাস।এ মাসে যতবেশী ইবাদত তাঁর সত্তর গুণ বেশী সাওয়াব প্রাপ্তি হবে।

মানুষের কল্যাণ ও সেবার মাধ্যমে এ মাসে বান্দার উপকার করা যেতে পারে।নামাজ রোজা ও নফল ইবাদত যেমনি ভাবে করা যায়,অনুরূপভাবে মানুষের অন্নের যোগান দেয়া একটি মহৎ পূণ্যের কাজ।এ মাসে রোযাদার নামাজ মানুষ যেনো ইবাদত-বন্দেগীতে ভোগান্তির শিকার না হন সে উদ্দেশ্য কৃত্রিম সংকট না করে খাবারের সরবরাহকৃত খাদ্যে পণ্যের যথাযথ মূল্য নিয়ন্ত্রন রাখা ইবাদত।নামাজী রোজাদার আর সমাজের অন্যসব শ্রেণী মানুষ যেনো ঠিকভাবে তাদের আহার খাদ্যদ্রব্য সঠিকভাবে ভোগ করতে পারে সেটা ও ইবাদত।রোজার অর্থ হচ্ছে লোভ-লালসা নিয়ন্ত্রণ করা।অন্য মানুষ ও বসবাসকারী শ্রেণী যেনো খাদ্য সংকটসহ সামাজিক কোনো সমস্যায় না পড়ে।রোজার সময় পণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ রেখে জনসাধারন তথা সমাজের নিয়ন্ত্রনে রাখা ইবাদতের অন্যতম দাবী।এ মাসের ইবাদতের সাথে খাদ্যপণ্যের সর্ম্পক রয়েছে।রোজার সময় যেনো অন্য মাসের তুলনায় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি না হয়।বরন্ঞ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে পণ্যমূল্য যতবেশী কম রাখা যায় তত বেশী ফজিলত।

একটি শ্রেণী রমজান মাস আসলে মালামাল গুদামজাত করে মূল্য বৃদ্ধির কারসাজি করে থাকে।এটা রোজার আদর্শ পরিপন্থি।যারা রোজা রাখবেন আর যারা রোজা রাখবেন না কাউকেই খাদ্যে ভোগান্তিতে ফেলা অগ্রহনযোগ্য পেশা।রাষ্ট্রের নিয়মনীতি-শৃংখলা মেনে ব্যবসা বাণিজ্য করা দরকার।রাষ্ট্রের কাজ হলো খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণে শৃংখলা রক্ষা করা।রমজান মাসে কেউ যেন খাদ্য মজুদ করে জনভোগান্তির সৃষ্টি না করে সেদিকে লক্ষ রাখা।প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ করে এ সমস্ত বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।রোজা ও রোজার পরিবেশ কোনো অবস্হায় কাউকে নষ্ট করতে দেয়া যায় না।সারা দুনিয়ায় পবিত্র রমজান মাসে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়।পার্শবর্তী দেশ তাঁর প্রমান।ওই সব দেশে পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা হয়।বাংলাদেশ তাঁর বিপরীত।এখানে রমজান মাসকে সামনে রেখে পণ্য মজুদ করা হয়।কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হয়।বাজারে সংকট তৈরী করা হয়।রোজার মাসকে নিয়ে কতিপয় সিন্ডিকেট অসাধু ব্যবসায়ী মেতে উঠে।এটা অনৈতিক কাজ।এ ধরনের ব্যবসা ও কারসাজি সম্পূর্নভাবে কোরআন ও হাদীসের আলোকে অবৈধ বলা হয়েছে।এ অবৈধ বানিজ্য রাষ্ট্রীয়ভাবেও গ্রহনযোগ্য নয়।রাষ্ট্রকে সমাজ ও মানুষের স্বার্থের সমতার কথা চিন্তা করে অবশ্যই পবিত্র রমজানের মাসে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।রোজা, নামাজ, তারাবিহ এসব ইবাদতে সকলের সমন্বয় ও ভূমিকা থাকা দরকার।মহান রোজা ও রমজান মাসে পবিত্রতা রক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজকে উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে হবে।

নামাজ রোজা তারাবিহ যেভাবে ইবাদত একই ভাবে তাঁর ভাবমূর্তি তাৎপর্য্ রক্ষার জন্য রাষ্ট্র, সমাজ ও সকলের দায়িত্ব আছে।দিনের বেলায় হোটেল রেস্তোরায় খাওয়া-দাওয়ার শালীনতা রক্ষা করতে হবে।প্রকাশ্যভাবে রোজাদারদের সম্মুখে পানাহারে সংযমী হতে হবে।বেহায়াপনা অশ্লীল গান- বাজনা থেকে বিরত থাকা চাই।খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার।পচা বাসী ভেজাল পণ্য যেনো বাজারে আসতে না পারে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোরভাবে সমস্ত পণ্যমূল্য তদারকী করতে হবে।তবেই রোজার ফজিলত বরকত মাগফিরাত রোজাদার মুসল্লী গ্রহন করতে সক্ষম হবে।ফজিলতের এ মাসে ইবাদত পরিপন্থী সব ধরনের কর্মকান্ড যেনো নিয়ন্ত্রণ করা হয়।খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ করা খুবই জরুরী।ওএমএস চালুর মাধ্যমে অভাবী ও মধ্যার্থ মানুষের পাশে ন্যায্যমূল্য পণ্য সরবরাহ দরকার।তবে প্রতিবছর এ ধরনের কিছু তৎপরতা সরকারের দেখা যায়।এ তৎপরতা বা কর্মসূচীকে আরো জোরদার করতে হবে।এ প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।এখানে যারা পণ্য বিত্রিূ করেন দেখা যায় প্রায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করেন। এটা রোধ করতে হবে।মেয়াদোত্তীর্ণ ভেজাল পণ্য যেন বিক্রি করতে না পারেন সেদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নজর দিতে হবে।রোজার মাধ্যমে সমাজে যেনো শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্টা হয়।ক্ষুধা আর অভাব যেনো সমান তালে অনুধাবন করা যায়।ক্ষুদার্থের যন্ত্রনা যেনো সমাজ ও রোজাদার বুঝতে পারেন।দুস্থ ওঅসহায় মানুষের যন্ত্রনা মাফ করে যেনো রোজা রোজাদারদের সংহত করে।রোজা ও নামাজের মূল শিক্ষা ও উদ্দেশ্যে যেনো রোজা পালিত হয়।নামাজ প্রতিষ্টা হয়।রোজার মূল উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য্ যেনো সমাজে প্রতিষ্টা লাভ করে।সেটায় যেনো মুসলিম সমাজ উপলব্দি করতে পারে রোজার মাসে সেটায় প্রত্যাশা হউক।

রমজানুল মোবাররক হচ্ছে মুমিনের ঈমান উদ্দীপ্ত করার মাস।ঈমানের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা এ মাসে উজ্জীবিত হয়।পন্ঞ ইন্দ্রিয় সতেজ থাকে।নফস দমন হয়ে পড়ে।শয়তানের কু-মন্ত্রনা আর চরিত্র হতে রোজাদার বিরত থাকে।শয়তানকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বন্দি করে রাখেন।তবুও ১১মাসের শয়তানি কর্মকান্ডের কারণে শয়তানি কতিপয় চরিত্র মানুষের মধ্যে বাসা বেধে থাকে।রোজাদার এ মাসে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নফসের কু-প্রভৃত্তিকে দমন করতে সক্ষম হয়।শয়তানি কর্মকান্ড হতে রোজাদার মানুষ পবিত্র থাকার চেষ্টা করেন।সিয়াম পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌছাতে সক্ষম হয়।রমজান ও রোজার মূল টার্গেট হচ্ছে মুসলমান যেনো সঠিকভাবে প্রকৃত অর্থে আল্লাহর বান্দা হিসেবে নিজকে তৈরী করতে পারে।তাকওয়া অর্জন করতে পারে।খোদা ভিরুতা অর্জন করে আল্লাহর নৈকট্যে পৈাঁছতে পারে।রোজা মানুষকে ক্ষুধার্তের ক্ষুধা বুঝার প্রেরণা সৃষ্টি করে।অভাবীর অভাব অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে শিক্ষা দেয়।রমজান ও রোজা মহান একটি আল্লাহর নেয়ামত।রোজা রমজান যার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁরা নিশ্চয় ভাগ্যবান।এ মাসে সমস্ত ইবাদতের মধ্যে ৭০ভাগ অতিরিক্ত সাওয়াব বান্দার আমলনামায় লিখা হবে।শয়তান খাচায় বন্দি থাকলেও শয়তানি চরিত্রের গোনাহের পরিমানের সাজাও বৃদ্ধি হয়।মানুষের ঈমান আমল অন্তর রিপুকে পরিশুদ্ধ বিশুদ্ধ করার মাস রমজানুল মোবাররক। এ মাসে রোজা আদায় করার মাধ্যমে ঈমানদার তাঁর ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি করেন।তারবিহ নামাজ নফল ইবাদতের মাধ্যমে ছাওয়াবের পাল্লা ভারী হয়।আমলনামা হতে গুনাহ মাফ করা হয়।ঈমান আমল চিন্তা চেতনা বিশুদ্ধ হয়।

মানুষের ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।অন্যায় অবিচার জুলুম আর অশ্লীলতা থেকে রোজাদার মুক্ত ও বিরত থাকেন।অপ্রয়োজনীয় কোনো কর্ম রোজাদার করে না।রোজাদার রোজার সম্মানার্খে সবসময় নিজেকে সংবরণ করেন।রোজার হাকিকত ও উদ্দেশ্য হলো মানুষ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা।মানুষ ও সৃষ্টিকে ভালবাসা।অন্যায় জুলুম অবিচার না করা।পুরো একটি মাস পবিত্র রোজা নামাজ পালনের মাধ্যমে একজন রোজাদার তাঁর ব্যাক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রোজার প্রভাব বিস্তারে চেষ্টা করে থাকেন।মিথ্যা বলা, ওজনে কারচুপি, কাউকে ঠকানো সুদ ঘুষসহ অনৈতিক সমস্ত কাজ হতে রোজা রোজাদারকে বিরত রাখে।একজন রোজাদার তাঁর নৈতিক চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমে একটি পরিবার ও সমাজকে শুদ্ধ করতে পারেন।একজন পরিবারের কর্তা শুদ্ধ হওয়া অর্থ একটি পরিবার বিশুদ্ধ হওয়া।একটি পরিবারের সংশোধনের মাধ্যমে একটি সমাজ আলোকিত ও সংশোধিত হয়।সমাজ সংশোধিত হওয়া অর্থ রাষ্ট্র ও সমাজ বিশুদ্দ হওয়া।রাষ্ট্র যখন বিশুদ্ধ হবে তখন সমাজে হানাহানি মারামারি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য থাকবেনা।সমাজ হয়ে যাবে শান্তিময় আর সুশাসনের কেন্দ্রবিন্দু।এ ধরনের উন্নত চরিত্র সম্পন্ন সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যই রোজা রমজান আর নামাজ।রমজান রোজার শিক্ষা হলো নৈতিক গুণাবলী অর্জন করা।মানবীয় গুণাবলী সৃষ্টি ও জাগ্রত করা।সমাজের মানুষের মধ্যে নৈতিক গুণাবলী জাগ্রত হলে আর কোনো ধরনের অপরাধ সমাজে থাকবেনা।এ ধরনের সমাজ সৃষ্টির উদ্দেশ্য রোজার প্রশিক্ষন ও তাৎপর্য্। রোজার শিক্ষা হলো নৈতিক গুণাবলী অর্জন করা।তাকওয়া ও নৈতিক গুণাবলী জাগ্রত করার মাধ্যমে রোজার সুফল ব্যাক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্টা করা সম্ভব হয়।আদর্শ রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্টার উদ্দেশ্যই রোজা তারবিহ নামাজ প্রবর্তন করা।একজন রোজাদার তাঁর রোজা পালনের মাধ্যমে নফসের কু-প্রভৃত্তির সাথে সংগ্রাম ও যুদ্ধ করবেন।যখন তিনি তাঁর কু-প্রভৃত্তির বিরুদ্ধে জয়ী হবেন তখনিই রোজার আনুষ্টানিকতা সফল হয় বলে ধরে নিতে হবে।

রোজা শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর উপর ফরজ হয়নি।এর পূর্বের নবীদের ওপর ও রোজা বিভিন্ন সংখ্যায় ফরজ ছিল।উম্মতে মুহম্মদী (সঃ) এর ওপর রোজা ফরজ হওয়া এবং তাঁর তাৎপর্য্ ভিন্ন।সুবহে সাদেক অর্থাৎ অপ্রকৃত ভোর হতে সূর্য্ অস্ত যাওয়া পর্য্ন্ত সব ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা।রোজার ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ করেন রোজা আমার জন্য এবং রোজার প্রতিদান আমি স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। রোজার উপর এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রোজাদারকে খুব বেশী ভালবাসেন।রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর দরবারে বেশী পছন্দনীয়।রোজা পালনকারী ইচ্ছে করলে কেউ না দেখে মতো যে কোনো কিছু পানাহার করতে পারে।ইচ্ছে করলে খাবার পানাহার একাকী গ্রহন করতে পারেন।কিন্তু কেউ না দেখলেও আল্লাহ তায়ালা সবকিছু দেখেন এবং শুনেন। তাই আল্লাহর ভয়ে সমস্ত ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। এ সন্তুষ্টির প্রতি আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর খুশি হয়ে ঘোষনা করেছেন রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজেই।তাই রোজাকে সঠিক ও নিয়ম মোতাবেক ভাবে আদায় করতে হবে।যাবতীয় পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি হালাল উপার্জন দিয়ে রোজার সেহরী ও ইফতার করা দরকার। রোজা কবুল হ্ওয়ার শর্তের মধ্যে হালাল রোজির কথা বলা হয়েছে। বৈধ আয়ের মাধ্যমে হালাল উপার্জন অর্জন করে সে খাদ্য গ্রহন করে ইবাদত আর বন্দেগী করার হুকুম আছে। এ হুকুম অমান্য করে অবৈধ আয় ইনকাম রোজি রোজগারের অর্থ দিয়ে রোজার মতো বিশুদ্ধ ইবাদত কখনো কবুল হয় বলে মনে হয় না।

তাই রোজাদারদের অবশ্যই হালাল আহার প্রয়োজন। পরিবার পরিজন ও দান খয়রাতেও হালাল আয়ের অর্জিত অর্থ প্রদান করা উচিত।অবৈধ আয় ইনকামের অর্থ দিয়ে দান খয়রাত না করা শ্রেয়। টাকার পিঠে তো লিখা নেই কোন টাকা কোথা থেকে এসেছে। নিজের ওপরের সকলের জন্য হালাল অর্থ হালাল খাবার দরকার। খাবার যদি হালাল না হয় তাহলে ইবাদত রোজা নামাজ কবুল হয়েছে এমন ধারণা করা কঠিন হবে। অন্যের হক বা সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে সে অর্থ দিয়ে দান খয়রাত কখনো কবুল হবে না। বৈধ আয় ও ইনকামের অর্থ দিয়ে দান খয়রাত হলে সেটার পূণ্য পাওয়া যেতে পারে।অন্যের সম্পদ ও অর্থ আত্নসাত করে দান খয়রাত করলে সে দান খয়রাতের সুফল পাওয়া যাবেনা। বিশুদ্ধ হাদীস ওফিকাহের কিতাবে এমন ধরনেরে উদ্বৃতি এসেছে। রোজা নামাজ যেকোন ধরনের ইবাদত বন্দেগী মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে হলে সে ইবাদত কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর বান্দার মুখের উপর ঠেলে দিবেন। সে ইবাদত কখনো আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।তাঁর কোনো প্রতিদানও পাওয়া যাবেনা। ইবাদত বন্দেগীর প্রতিদান ও পুরষ্কার পাওয়ার জন্য অবশ্যই ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করতে হবে। রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ নিজেই। কিন্তু কথা হলো একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রোজা হওয়া চাই। রহমত মাগফিরাত নাজাতের এ মাস দয়া ও করুণার মাস।এ মাসে বান্দার গুনাহ মাফ করতে না পারলে সে বান্দা দুর্ভাগা।এ মাসে রাতদিন রহমত আল্লাহর দয়া বৃষ্টির মতো প্রবাহিত হতে থাকে।এ রহমত যদি আল্লাহর বান্দা অর্জন করে গুণাহ মাফ করতে সক্ষম না হয় তাহলে তাঁর চেয়ে দুর্ভাগা আর কেউই হতে পারে না।রোজার মূল আদর্শ উদ্দেশ্য তাকওয়া পরহেজগারী বান্দা যেনো হাসেল করতে পারেন সেটায় আল্লাহ তাঁর বান্দার নিকট আশা করেন।রোজার মাধ্যমে উপবাস থেকে তাকওয়া অর্জন খোদাভীতি হাসেল করতে সক্ষম না হলে সে রোজা বান্দার জীবনে কামিয়াবি আনবে না।রোজার কামিয়াবি রোজার মূল হাকিকত আমাদেরকে বুঝতে হবে।মূল উদ্দেশ্যে আমাদেরকে প্রবেশ করতে হবে।রোজার উদ্দেশ্য হাকিকত সম্পর্কে সামনে আরো আলোচনা করা হবে।

সহিহ বুখারি শরিফে বর্নিত আছে হাদিস নং ৩০৩৫ হজরত আবু হুরায়রা (রা:) রাসুলুল্লাহ (সা:)ইরশাদ করেছেন রমজান মাস যখন শুরু হয়, তখন আসমানের সমস্ত দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়।দোজখের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।শয়তানকে বন্ধি করে রাখা হয়। হযরত আবু হুরায়রা আরো বলেন যে, নবী করিম (স:) ফরমা ইয়াছেন রোজা পালন করে কোন বান্দা যদি মিথ্যা বলা পরিত্যাগ না করে,রোজার হুকুম আহকাম অনুসরন না করে তবে ঐ ব্যাক্তির খাদ্য পানাহার থেকে বিরত থাকার কোন প্রয়োজন পড়ে না। এভাবে মিশকাত শরিফে বহু বাণী রাসুলুল্লাহ (স:) পক্ষ হতে বর্নিত আছে যে রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য এবং তাংপর্য্ হলো বান্দা যেন সঠিক ভাবে তাকওয়া ও খোদা ভীরুতা অর্জন করে।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার আদেশ নিষেধ পালন করেন।আল্রাহর আদেশ হলো বান্দা কোন রোজা পালন করার সাথে সাথে তার আত্নীক জীবনের ‍উন্নতি সাধন করে।মিথ্যা পাপাচার অন্যায় জুলুম ব্যাভিচার গর্হিত কাজ হতে বিরত থাকে।অন্যের হক বা অধিকার যেনো নষ্ট না করে।সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হয়।দায়িত্ববান ও যত্নশীল হয়।কোনো সৃষ্টিকে যেনো বিনা বিচারে অন্যায়ভাবে যুলুম করা না হয়।রোজা পালন ও সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজের আত্মা ও কু-মন্ত্রনাকে যেনো নিয়ন্ত্রণ করা হয়্, নফস খাখেশাকে যেনো কন্ট্রোল করতে পারে।এসব বিষয়কে মাথায় রেখে বার মাসের একমাস রোজা বা সিয়াম সাধনার মাস আল্লাহর পক্ষ হতে ঘুরে ফিরে আসে।যাবতীয় পাপাচার অন্যায় কর্মকান্ড হতে বিরত রাখা ও বাকী ১১মাস যেনো রোজাদার মানুষ আর্দশ সমাজ তৈরীতে কাজ করতে পারে সেটায় হলো রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য।

প্রকৃত রোজাদারদের পুরষ্কার স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজ হাতে প্রদান করবেন।সে জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রোজাদারদের মুখের গন্ধকে কস্তুরীর সুগন্ধীর চেয়ে উত্তম হিসেবে গ্রহণ করেন।রোজাদারের খুশী ইফতার এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ।যে সাক্ষাতে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাকে পুরষ্কিত করবেন।প্রকৃত রোজাদার বা সিয়াম পালনকারীদের খুশীর সীমা থাকবেনা।রোজা বা সিয়াম সাধনায় বাহ্যিক ভাবে উপবাসের কিছু সাময়িক কষ্ট অনুভব হলেও প্রকৃতপক্ষে সিয়াম সাধনায় একজন রোজাদার শারিরীক ও মানসিকভাবে প্রশান্তি অনুভব করে থাকেন। যাদের ডায়বেটিস আছে ডাক্তার ডায়েড কন্ট্রোল করতে বলেছেন রোজা তাদের কোনো ক্ষতি করে না।বরং রোজার সাধনায় ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকে।গেষ্ট্রিক পেটের সমস্যাসহ সব ধরনের রোগের জন্য রোজা পালন এক মহা ওষুধ হিসেবে রোগ নিরাময়ে কাজ করে।যে সমস্ত ডায়বেটিস ও গেষ্ট্রিক রোগী আছে তাদের অনেকের মতামত রমজান মাসে রোজা পালনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক উন্নতি হয়।কোনো প্রকার রোগের বৃদ্ধি হয় না।ফলে নানা জাতের যারা রোগী তাদের ভয়ের কেনো কারণ নেই।রোজাদার রোগী কখনো জটিল রোগের সম্মুখীন হয় না।রহমত নাজাত মাগফিরাত নিয়ে আসা এ মাসকে যথাসাধ্য সকল মানুষের সম্মান ইজ্জত করা দরকার।এ মাসে অযৌক্তিকভাবে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি না করা উচিত।পৃথিবীর অমুসলীম দেশেও রোজার মাসে রোজা ও রোজাদারদের সম্মানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।আমাদের দেশে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রমজান মাস আসলে আগেভাগে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারসাজি করেন। রমজান মাসে ছোলা, পেয়াজ, আদা, রসুন ,মরিচ মসল্লা তরি-তরকারী মাছ মাংসের একটু বেশী চাহিদা থাকে।

এ অবস্থাতে একশ্রেণীর ব্যাবসায়ী পন্যমূল্যের বৃদ্বির পাঁয়তারা করে থাকে । এটা কোনো অবস্হায় গ্রহনযৌগ্য নয় । নায্যমূল্য প্রয়োজন অনুপাতে লাভ গ্রহন করা অবৈধ কোন কিছু নয় । কিন্তু অযৌক্তিক ভাবে ১টাকার পণ্য ১০টাকায় বিক্রি করে বেশী টাকা হাতিয়ে নেয়া অযৌক্তিক ও অবৈধ । তবে বাংলাদেশ সরকার রমজান মাস আসলে বাজারে ওএমসির মাধ্যমে খাদ্য পন্য বাজারে বিক্রি করে থাকেন । ফলে খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষ তাদের চাহিদা পূরণে পন্য ক্রয় করতে পারেন । বেশী একটা সংকট হয় না । তবুও এ ধরনের বাজার মূল্যে যেন অস্বস্তি না হয় সেদিকে সরকারসহ দায়িত্বশীল সব মানুষের সচেতন হওয়া দরকার । অন্যায় ভাবে বাজারে পন্য মুল্য বৃদ্বি করা অবৈধ এবং সিয়াম পরিপন্তি কাজ । কোন রোজাদার মানুষ এ ধরনের কাজের সাথে যুক্ত বলে তার রোজা সঠিক ভাবে আদায় হবেনা ।যে সমস্ত ব্যাবসায়ী রোজার মাসে অতিরিক্ত সাওয়াবের আসায় বেশী বেশী ইবাদত করে থাকেন তাদের উচিৎ তাদের ব্যাবসা বানিজ্য থেকে অন্যায়ভাবে বাজার সংকট ও পন্যমূল্য বৃদ্বি পায় এমন ধরনের গর্হিত কাজ যেনো করা না হয় সেদিকে নজর রাখা দরকার । কাউকে রোজায় ইজ্জত সম্মান রক্ষার্থে পচাবাসি খাবার বাজারে যেন প্রবেশ ওবিক্রি না হয় তাও নজর রাখতে হবে । প্রশাসননকে কঠোর ভাবে ভেজাল পন্য অতিরিক্তি মুনাফা প্রবনতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে । রমজান মাসে বেশী বেশী বাজার মনিটরিং করতে হবে সামাজিক সংগঠন ও ভোক্তা অধিকার সংগঠন সমূহকে প্রতিবাদী হতে হবে । বাজারে পর্যা্প্ত পরিমান ভোগ্যপন্য আমদানী নিশ্চিত করতে হবে । গরীব দু:স্হ মানুষদের খবর রাখতে হবে সরকার ও ধনী মানুষদের । তাহলেই সম্ভব রোজার সিয়াম সাধনা ব্যাক্তি পরিবার ও রাষ্টীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলবে এবং দুনিয়াবাসী সুফল ভোগ করবে । পরিনাম হবে জান্নাত ।

রমজান মাসে ইফতার ও সাহরি দুটোই সুন্নাত। ঠিকসময়ে সাহরি ইফতার করা রোজাদারের অন্যতম সুন্নাত। সময়কে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হব। সময়ের আগে পরে সেহরী ইফতার করা রোজার তাকওয়া পরিপন্থি কাজ। রোজার মূল টার্গেট হলো মানুষকে শৃংখলা শিখানো। নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষা দেওয়া।সময় ও ন্যায়পরায়নতা শিক্ষা দেয়া। অন্যের প্রতি দায়িত্ববেধ ও কর্তব্য পালনে। অনুভূতি জাগ্রত করা। রমজান মাস পালনের মাধ্যমে মানুষ ও সমাজ একটি সংযমের মধ্যে আসে। মানুষ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হয়। সময় ও কর্তব্যের প্রতি জাগ্রত ও নিষ্ঠাবান হয়। অভাবী দুস্থ মানুষদের প্রতি একটা আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়। রোজার মাধ্যমে মূলত মানুষ ও সমাজ অন্যায় কু-প্রভৃতি থেকে রক্ষা পায়। রোজা মানুষকে সে শিক্ষা দেয়। সেহরী ও ইফতার সুন্নাত মোতাবেক খেজুর পানি সরবত দিয়ে করার কথা আছে। ইচ্ছে মতো হালাল খাবার দিয়ে নিজের রুচি মতো ইফতার করার কথা কিতাবে আছে। অসুস্থ রোগীদের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মতো খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সেহরী ও ইফতার করা রোজা সম্পর্কিত অধ্যায়ে বর্ণিত আছে। রোজার মাসে সেহরী ‍ও ইফতারী নিয়ে কতিপয় ভূল চিন্তা ধারা আছে। বেশী খাওয়া বেশী বাজার করা। একত্রে পুরো মাস বা পনের দিন। তার বেশী বাজার করে বাজার মূল্য বৃদ্ধি করে বাজারকে অস্থির করা রোজাদারের উদ্দেশ্য নয়। রোজার মাসে সঠিক ভাবে অন্য মাসের মতো করে খাওয়া দাওয়া বাজার কেনা ক্রয় বিক্রয় করা উচিত।

একশ্রেণীর মানুষ রোজার মাসে অতিরিক্ত বাজার রোজার পণ্য বেশী কেনার কারণে, বাজার মূল্য বেড়ে যায়। এটা করা কেনো রোজাদারের জন্য সঠিক না। দেখা যায় রমজান মাসে পণ্য মূল্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়। লাফিয়ে লাফিয়ে ভোগ্যপণ্য বাড়তে থাকে। কারণ হচ্ছে মানুষ একমাসে বেশী করে ক্রয় করতে থাকে। সপ্তাহে একজন মানুষের দুই কেজী পেয়াজ প্রয়োজন হলে সে কিনে পাঁচ কেজী। এভাবে তেলসহ অন্যান্য পণ্যের বেলায়ও একই নিয়ম। প্রয়োজনের বাইরে একত্রে ভোগ্যপণ্য কিনার কারণে বাজারে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পায়। এটাও ক্রেতাদের নাগালে রাখার জন্য অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাসাবাড়িতে মজুদ না করা ভালো কাজ। রোজার তাকওয়া ও শৃংখলার মধ্যে এসব বিষয় রয়েছে। রোজা আসে সমাজ ও মানুষের মধ্যে সমতা ও ভ্রান্তৃত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য। কিন্তু দেখা যায় পণ্য মূল্যের কারণে একশ্রেণীর মানুষ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বাজারকে অস্থির করে তুলে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে রোজার ভোগ্যপণ্য ঘরে তোলা সম্ভব হয় না। যাদের প্রচুর অর্থ আছে তারাই বাজারকে অস্থির করে তোলে। ইচ্ছে মতো বাজার করে বাসা বাড়িতে মজুদ করে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তার প্রয়োজনীয় বাজার সে বাসাবাড়িতে আনতে পারে না। বাজারে তখন ভোগ্যপণ্যের অগ্নিমূল্য। এটা রোজার আদর্শ পরিপন্থি কাজ। রোজার মাসে বেশী খাওয়ার কথা যেমনিভাবে বলা হয়নি তেমনি না খাওয়ার কথাও কোথাও বলা হয়নি। এককথায় প্রয়োজনীয় ভাবে খাওয়া ও বাজার করার কথা রোজার তাৎপর্যের মধ্যে আছে। প্রয়োজনের বাইরে মজুদ করার জন্য ব্যবসায়ী ভোক্তা কাউকেই অনুমতি দেয়া হয় নি। ব্যবসার জন্য ৪০দিনের উর্ধ্ধে যেভাবে ভোগ্য পণ্য মজুদের অনুমতি যেমনিভাবে নেই, একইভাবে বেশী পণ্য ক্রয় করে বাজারকে অস্থির করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রয়োজনতিরিক্ত পণ্য গুদামজাত না করার কঠোর নির্দেশ আছে ইসলামের শরিয়তের বিধানে। এ জন্য রোজার অর্থ শুধু মাত্র উপবাস থাকার নাম নয়। রোজা মানে নিজের নফ্সকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবতীয় অন্যায় ও অশ্লীল কাজ হতে। সেটা হতে পারে ঘর পরিবার থেকে বাজর পর্য্ন্ত। সবখানেই সংযমের পরিচয় দিতে হবে। অমুসলিম দেশে রোজার মাসে মুসলমানদের রোজার সম্মানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা হয়। রোজাদারদের সম্মান করা হয়। তাদের জন্য সমস্ত ধরনের ভোগ্য পণ্য বাজর নিয়ন্ত্রণ সবকিছু সহনীয়ভাবে রাখা হয়। আর বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের দেশে রমজান মাস আসলে বাজার মূল্য হু-হু করে বাড়তে থাকে। নামধারী একশ্রেণীর মুসলমান ব্যবসার নামে ভোগ্যপণ্যের গুদামজাত করে পণ্য মজুদ করে। ফলে বাজারে দাম বেড়ে যায়।সংকট সৃষ্টি হয়। এ ধরনের ব্যবসার নামে আচার আচরণ কোনো অবস্থায় ধর্মীয় রীতি-নীতির মধ্যে পড়ে না। যারা ধর্মের সাথে এ ধরনের কু-কর্মকে জড়িয়ে ব্যবসা করে তারা আসলে কোনো ধর্মের আদর্শে পড়ে না। ধর্ম মানুষকে শালীনতা ভদ্রতা ন্যায়নীতি আদর্শের শিক্ষা দেয়। কিন্তু ব্যবসার নামে যারা রমজান মাস আসলে অনৈতিকভাবে বেশী লাভ করে সেটার সাথে ব্যবসার তুলনা হয় না।

সেটা ব্যবসার মধ্যে পড়ে না। ব্যবসা হালাল আর পণ্যমজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হারাম। আর হারাম পণ্যে বেচা বিক্রি করে রোজা নামাজ হজ্ব দান খয়রাত ইত্যাদির মাধ্যমে পূণ্য অর্জন বা সাওয়াব হাসিল কতটুকু পর্য্ন্ত যৌক্তিক সেটা ধর্ম পরায়ণ মুসল্লীগনের উপর ছেড়ে দিলাম। রোজার সাথে ভোগ্যপণ্যের সম্পর্ক। তাই রোজার মাসে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি সংকট সৃষ্টি না করে বাজারকে রোজাদার ও ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে রাখা রোজারঅন্যতম শৃঙখলা। এ শৃংখলাকে সমস্ত রোজাদারদের রক্ষা করা দরকার। রোজা আসছে এ কথায় রোজার মাসে ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি যেনো কেউ না করতে পারে সেদিকে প্রশাসন ও জনগন রোজাদার সকলের প্রচেষ্টা থাকা উচিৎ। রোজার তাৎপর্যে সুন্নাত ফরজ ওয়াজিব মুস্তাহাব সবকিছুই নির্ভর করে একজন রোজাদারের আচার ব্যবহার ও চালচলনের উপর। রোজাদারের এমন কোন আচার ব্যবহার হবে না যাতে করে অন্য মানুষ বা সৃষ্টি কষ্ট পাবে। কোনো সৃষ্টিকে ভোগান্তি বা কষ্ট দেয়া ইবাদতের কাজ নয়, বরং রোজার মাসে সব শ্রেণীর মানুষ যেনো শান্তি শৃংখলায় খেয়ে দেয়ে বেঁচে থাকতে পারে সে দিকে নজর দেয়া ও দায়িত্ব পালন করা সমস্ত ইবাদত পালনকারী মুসল্লীদের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের শৃংখলার সাথে নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ থাকা দরকার। তাহলেই রোজার ফজিলত ও বরকত সমাজে প্রতিষ্টা পাবে।

লেখক:
মাহমুদুল হক আনসারী
গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media








© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com