,

এগিয়ে চলছে এ্যাপস ভিত্তিক কার্যক্রম॥ হাতের মুঠোয় চিকিৎসা

এমদাদুল হক তুহিন ॥ দেশে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির বাইরে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এ্যাপসভিত্তিক চিকিৎসা কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। ঘরে বসেই রোগ নির্ণয় করে পাওয়া যাচ্ছে সম্ভাব্য সমাধান। আর রোগ নিরাময়ে চিকিৎসকের দারস্থ হতে চাইলে এ্যাপেই পাওয়া যাচ্ছে যোগাযোগের ঠিকানা। এতে এ্যাপস ব্যবহার করে সম্ভাব্য রোগ নির্ণয় শেষে এখন ঘরে বসেই নেয়া যাচ্ছে ওই রোগ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল। শুধু তাই নয়, কোন রোগের সময় করণীয় কী-তাও জানা যাচ্ছে এ্যাপস ব্যবহার করে। পাওয়া যাচ্ছে মেডিসিন কোম্পানির সকল ওষুধের সব রকমের তথ্য। আর এ্যাপেই সংরক্ষণ করে রাখা যাচ্ছে এক জীবনের সকল মেডিক্যাল রিপোর্ট। গর্ভাবস্থায় নারী ও ওই পরিবারের করণীয় জানা ছাড়াও ডে চার্ট, ফুড চার্টসহ শিশু জন্মের কাউন্ট-ডাউনও করা যাচ্ছে। মেডিক্যাল খাতের একাধিক এ্যাপ ঘেঁটে ও ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান খান বলেন, ‘এ্যাপস ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক তথ্যের সহজলভ্যতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। তবে এই এ্যাপসগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ কোন কারণে কোন একটি এ্যাপসে ভুল তথ্য থেকে গেলে, দীর্ঘসময় আপডেট না হলে; ছোট্ট একটি ভুল তথ্যের কারণে বড় ধরনের ভোগান্তি হতে পারে।’ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি ও বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘প্রচেষ্টাগুলোকে আমরা উৎসাহিত করব। তবে এসব এ্যাপসের মাধ্যমে যেন আয় করতে পারি সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। নতুবা কয়েকদিন পরেই ওই এ্যাপসগুলো তাদের কার্যকারিতা হারাবে। কারণ আয় না হলে উদ্যোক্তা দীর্ঘদিনেও এ্যাপস আপডেট করবে না। আর এ্যাপসভিত্তিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও মানের সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা থাকতে হবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান থাকা এ্যাপসগুলো নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।’‘আরএক্স৭১ হেলথ’ এ্যাপে নির্ণয় করা যাচ্ছে সম্ভাব্য রোগ ॥ আরএক্স৭১ হেলথ এ্যাপ ব্যবহার করে নিজের সম্ভাব্য রোগ নির্ণয় করা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ ও শরীরের কোন অংশে সমস্যা অনুভব হচ্ছে তা নির্ধারণ করে ধীরে ধীরে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। হ্যাঁ বা না অপশন সিলেক্ট করে এগিয়ে যেত থাকলে রোগের লক্ষণসমূহ জানা যাবে। পরবর্তী ধাপেই জানা যাবে সম্ভাব্য সমাধান। ওই রোগের ওষুধ, পরীক্ষা, জিজ্ঞাসা, পরামর্শ, ভিডিও ও আর্টিকেল সম্পর্কেও জানা যাবে এ্যাপটি ব্যবহার করে। এতে কোন রোগের সম্ভাবনা কত-শতাংশিক হিসেবে জানা যাবে তাও। তবে কোন মেডিসিন সম্পর্কে সাজেশন দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই যেতে হবে ডাক্তারের কাছে। আর সম্ভাব্য ওই রোগের চিকিৎসা করাতে চাইলে পাওয়া যাবে একাধিক ডাক্তারের তালিকা। দেয়া আছে ডাক্তারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচী, স্থান ও মোবাইল নম্বর। ফলে এই এ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। এই এ্যাপ ব্যবহারের কথা জানিয়ে জিএম ফ্রেজার বলেন, এ্যাপটি ব্যবহার করে অনেক রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছি।

সব ওষুধ সম্পর্কে জানতে ‘ডিআইএমএস’ ॥ দেশের সকল মেডিসিন কোম্পানির ওষুধ সম্পর্কে জানতে সবচেয়ে জনপ্রিয় এ্যাপসটি হচ্ছে ‘ডিআইএমএস’। এই এ্যাপটি ব্যবহার করে ওষুধের ব্র্যান্ড, জিনেরিক নেইম ও ওই ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশিকা জানা যাবে। ডাক্তার, নার্স ও মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভসহ সাধারণ রোগীরাও এই এ্যাপস ব্যবহার করে উপকার পাচ্ছে। মাহবুব হাসান সজীব এই এ্যাপের সাধারণ একজন ব্যবহারকারী। তিনি বলেন, ‘সাধারণত ফার্মেসিতে কোন ওষুধ কিনতে গেলে ওই ওষুধটি না থাকলে অনেক সময় নিম্নমানের ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওষধ দিয়ে থাকে। তখন আমি এ্যাপসটির সাহায্য নেই। ওই ওষুধের নাম লিখে সার্চ দেই। আদার ব্র্যান্ডে কী কী ওষুধ আছে এবং সবচেয়ে ভাল ব্র্যান্ডের কোনটি তা দেখে-ফার্মাসিস্টকে সেই ওষুধটি দিতে বলি। অর্থাৎ এই এ্যাপস ব্যবহারের কারণে ফার্মাসিস্ট সহজে আমাকে নিম্নমানের ওষুধ দিতে পারছে না।’ আর এ্যাপসটি ঘেঁটে দেখা গেছে, মেডিক্যাল খাতে নতুন কোন পণ্য বা ওষুধ আসলে জানা যাচ্ছে তাও। ফলে এই এ্যাপসটি কোন কোন ক্ষেত্রে সেবাধর্মী পেশা সেবিকাদেরও আপডেট রাখছে বলে জানালেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) সিনিয়র স্টাফ নার্স সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ‘রোগীকে সুস্থ করার জন্য আমাদের অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে হয়। বাজারে আসা নতুন কোন ড্রাগ সম্পর্কে তো অবশ্যই। মূলত, ডিআইএমএস এ্যাপটি ব্যবহার করতে হয় প্যাশেন্টদের জন্যই। কোন ড্রাগ যাতে ক্ষতিকর না হয়, প্রেগনেসির সময় অনেক ড্রাগ নেয়া যায় না; অনেক সময় ইনডিকেশন চেঞ্জ হয়; তা জানতেই এই এ্যাপটি ব্যবহার করে থাকি।’ আর রেনেটা ফার্মার প্রভেশনাল সার্ভিস অফিসার (পিএসও) শাখাওয়াত হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘কোন ওষুধ সম্পর্কে বা ওষুধের গ্রুপ সম্পর্কে জানতে প্রায়ই আমরা ডিআইএমএস এ্যাপটি ব্যবহার করে থাকি।’

বিডিইএমআর প্যাশেন্ট এ্যাপে সংরক্ষণ করে যাচ্ছে সব রিপোর্ট ॥ বিডিইএমআর প্যাশেন্ট এ্যাপে এক জীবনের সব রিপোর্ট সংরক্ষণ করে রাখা যাচ্ছে। টুকে রাখা যাচ্ছে নিত্যদিনের ব্লাড প্রেসার। পাওয়া যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের ঠিকানা। এ্যাপসটি ততটা আপডেট হয়ে না ওঠলেও ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য রয়েছে ভিডিও কনফারেন্সিং যোগ করার। আর এই সেবা চালু করতে আরও দুই মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উর্ধতন এক কর্মকর্তা। গুগল প্লে স্টোর থেকে এ্যাপসটি ডাউনলোড করা যাবে। তবে এই এ্যাপে সাইন আপ করার ক্ষেত্রে দুটি ব্যতিক্রমী বিষয় লক্ষ্য করা যাবে। পিন ও কুপন কোড নামে বাড়তি দুটি অপশন রয়েছে। সাইন আপ করার ক্ষেত্রে পিন হিসেবে ১২৩৪ বা অন্য কোন ডিজিট ব্যবহার করলেও সমাধান পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে ড্যাশবোর্ড নামে একটি অপশন আসবে। সেখানে নিজের একজীবনের সব রিপোর্ট সংরক্ষণ ও প্রতিদিনের ব্লাড প্রেসার টুকে রাখা যাবে। এছাড়াও ওয়েবসাইটি ব্রাউজ করে নেয়া যাবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল। ওয়েব ব্যবহার করে এই সাইটে ঢোকার পর লগইন করলেই ড্যাশবোর্ড পাওয়া যাবে। সাইটের ওপরের অংশের বা দিকে ক্লিক করলে মেন্যুবারে বুকিংস নামে অপশন পাওয়া যাবে। ডাক্তারের নাম, স্থান ও সাক্ষাতের তারিখ উল্লেখ করে পরবর্তী ধাপে দেয়া যাবে সিরিয়াল। তবে বিডিইএমআর ও প্রতিষ্ঠানটির সাইট ব্রাউজ করতে গিয়ে দেখা গেছে এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল।আপনজন প্রেগনেন্সি এ্যাপ ॥ গর্ভাবস্থায় নারীর সব করণীয় সম্পর্কে জানা যাচ্ছে আপনজন প্রেগনেন্সি এ্যাপ ব্যবহার করে। জানা যাবে শিশু জন্মাবার সম্ভাব্য তারিখ। কি খাব অপশনে পাওয়া যাবে নমুনা খাদ্য তালিকা। তৈরি করা যাবে নিজের খাদ্য তালিকাও। গর্ভবতী নারী নির্ধারণ করতে পারবেন- কবে কি করতে চান। হয়ত গর্ভাবস্থায় নারীর আলাদা একটি জগত তৈরি হয়। এ্যাপটিতে আমার জগত নামেও একটি অপশন দেখা গেছে। সম্প্রতি বাবা হওয়া কবি রাকিবুল হায়দার ও তার সহধর্মিণী সীমা হায়দার জানান, তাদের প্রথম সন্তান শব্দের জন্মের সময় যৌথভাবে তারা আপনজন প্রেগনেন্সি এ্যাপটি ব্যবহার করেছেন। রাকিবুল হায়দার বলেন, ‘মূলত এটি গর্ভবতী মহিলাদের নানা কাজে আসে। যেমন ডে চার্ট, ফুড চার্ট, কাউন্ট- ডাউনসহ প্রয়োজনে বিশেষ কল নম্বরের মাধ্যমে ডাক্তারের সঙ্গে কথাও বলা যায়।’রোগের প্রতিকার জানা যাচ্ছে মায়া আপায় ॥ মায়া আপানামক এ্যাপস ব্যবহার করে যে কোন রোগের প্রতিকার সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। তবে ব্যবহারকারীকে তার সমস্যা সম্পর্কে লিখে অথবা ভয়েস রেকর্ড করে জানাতে হবে। এ্যাপ ঘেঁটে দেখা গেছে, পরবর্তীতে কমেন্টের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়ে থাকে। আর এই এ্যাপ ব্যবহার করছেন এমন একজন দিদার পাভেল। তিনি বলেন, ‘নিজের একটি সমস্যায় পড়ে এই এ্যাপটি ব্যবহার করেছি। রোগ বা চিকিৎসা সম্পর্কিত কোন প্রশ্ন করা হলে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে তারা ওই প্রশ্নের উত্তর দেয়।’

মেডিক্যাল খাতের যত এ্যাপ ॥ গুগল প্লে স্টোরে মেডিসিন এ্যাপ বা মেডিক্যাল এ্যাপ লিখে সার্চ করলেই বেশ কয়েকটি এ্যাপ চলে আসে। এর মধ্যে রয়েছে- ডিআইএমএস, স্কয়ার ওষুধ নির্দেশিকা, মেডিসিন ডিকশেনারি বাংলাদেশ, ইনসেপ্টা মেডিসিন, ওষুধ নির্দেশিকা-ড্রাগস গাইড, ড্রাগস ডিরেক্টরি, বিডি ড্রাগস ডিরেক্টরি, ফাইন্ড মাই মেডিসিন, ড্রাগবুক, মেডিক্যাল এ্যান্ড মেডিসিন, এক্সপ্লেইন মেডিসিন, ভেষজ-বাংলা হারবাল মেডিসিন। এছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহার উপযোগী একাধিক এ্যাপস রয়েছে। স্কয়ার ওষুধ নির্দেশিকা এ্যাপসটি ঘেঁটে দেখা গেছে, এই এ্যাপ ব্যবহার করে কোন রোগী বা ডাক্তার স্কয়ারের কোন ওষুধ কি কাজে ব্যবহৃত হয়, ওই ওষুধের গ্রুপের নাম কি; তা সহজেই জানতে পারছে। ইনসেপ্টা মেডিসিন এ্যাপটির কাজও প্রায় একই।

সূত্রঃ জনকণ্ঠ

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com