,

জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

উৎসবমুখর পরিবেশে জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। একাত্তরে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষে শনিবার আয়োজিত এই নাগরিক সমাবেশে সকাল থেকেই জনতার ঢল নেমেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়া ঢাকার আশপাশের নানা এলাকা থেকে আসতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

যে স্থানটিতে দাঁড়িয়ে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের দিশা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সেই ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতি উদযাপনে সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন মুখর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে। বিভিন্ন দেশের আরও ৭৭টি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ভাষণকেও গত মাসের শেষে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নেয় ইউনেস্কো।

জাতির জনকের ভাষণের এ স্বীকৃতি উদযাপনে শনিবার নাগরিক কমিটির ব্যানারে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান। সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দীতে মঞ্চ বানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সামনে রয়েছে আলাদা একটি মঞ্চ।

জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সেই দিনটি নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের কবিতা আবৃত্তি হয়। সমাবেশে যোগ দিতে শনিবার সকাল থেকে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের গন্তব্য ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা এবং শিক্ষার্থীরাও জড়ো হয়েছেন সেখানে। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে মিছিল আসছে। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেচে-গেয়ে আসছেন অনেকে। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন, অনেকের গায়ে একই রঙের টি-শার্ট, মাথায় একই রঙের ক্যাপ।

সমাবেশের কারণে ওই এলাকায় গাড়ির চাপ কমাতে রূপসী বাংলা হোটেলের মোড়, কাকরাইল মসজিদ মোড়, জিপিও মোড়, গোলাপ শাহ মাজার, ঢাকা মেডিকেলের মোড় এবং নীলক্ষেত মোড় এলাকায় মিছিলবাহী গাড়ি আটকে দিচ্ছে পুলিশ। ফলে এই সব স্থান থেকে নেমে হেঁটে যেতে হচ্ছে উদ্যানে। শাহবাগ থেকে টিএসসি, নীলক্ষেত মোড় থেকে টিএসসি এবং হাই কোর্টের মাজার গেইট থেকে দোয়েল চত্বর এলাকা এখন মুখর মিছিলে মিছিলে।

সাড়ে চার দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই (তখন নাম ছিল রেসকোর্স ময়দান) ৭ কোটি বাঙালিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com