,

জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন, ঘোষণাপত্রের পাঠক মাত্র ।। রাজু আলাউদ্দিন

কে স্বাধীনতার ঘোষক: বঙ্গবন্ধু না, মেজর জিয়া? এই বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে যারা বেড়ে উঠেছেন তাদের কাছে অবশ্য এই বিতর্ক হাস্যকর ও অবান্তর। ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল যে কারো কাছেই এটি কোনো বিতর্কের বিষয়ই হতে পারে না। কারণ ইতিহাসে এর সাক্ষ্যপ্রমাণ এতই স্পষ্ট, অতীর্যক ও উচ্চকিত যে, এ নিয়ে বাহাস করা মূর্খতা মাত্র।

তাহলে ইতিহাসের বাসরঘরে কোন ছিদ্রপথে বিতর্কের এই বিষাক্ত কুটিল ভুজঙ্গ প্রবেশ করেছে? মূলত রাজনীতি, যার রক্তে রয়েছে প্রতারণার বিষ। যে রাজনীতি মহান কোনো আদর্শ থেকে উৎসারিত হয় না, তা আমাদের ইতিহাস ও ঘটনার বিকৃতির মাধ্যমে বিপথগামী করে তোলার জন্য সব আয়োজন নিয়ে হাজির হয়।

বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় এরকম কোনো দুরন্ত আয়োজনের কোনো দুঃসাহস দেখায়নি কেউই, এমনকি মেজর জিয়াও কখনও ঘোষণার বিষয়টিকে বিতর্কিত বলে মন্তব্যও করেননি, দাবী তো দূরের কথা। কিন্তু জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় একে বিতর্কিত মনে না করলেও তাঁরই ঔরসে জন্ম বিএনপি একে বিতর্কিত করেছে। এবং এই বিতর্কের পেছনেও রয়েছে ইতিহাসের পদাঘাতে বিক্ষিপ্ত ও ছিটকে পড়া সেই সব রাজনৈতিক দলের লোকদের ষড়যন্ত্র যারা আওয়ামীবিরোধী রাজনীতিতে নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে ন্যাপ, মুসলিম লীগ ও জামায়াতে ইসলাম।

আরও পরে চীনাপন্থীদের যারা একসময় বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন– যেমন মান্নান ভূইয়া, তরীকুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল নোমান– তারা শুধু রাজনৈতিক ঈর্ষা থেকেই নয়, বরং রাজনৈতিক পরাজয়ের প্রতিশোধ চরিত্রার্থ করার উপায় হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি নিঃস্ব করার ষড়যন্ত্রের সুযোগটির সদ্ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তারা বঙ্গবন্ধুর ‘আইকনিক ইমেজ’ ভেঙে স্বাধীনতার ‘ঘোষক’ হিসেবে জিয়াউর রহমানকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান নিজে এরকম কোনো আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ না করলেও তার অনুসারী চাটুকাররা তা-ই চেয়েছিল। চাওয়ার কারণ ১৯৭৯ সালে বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত দল ও ব্যক্তিদের প্রতিশোধস্পৃহাকে এই নতুন দলের ছত্রছায়ায় উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

নতুন দল মানেই নতুন হিরো, নতুন কাল্ট তৈরি করা, নতুন মিথ তৈরি করা। মেজর জিয়ার মধ্যে এর সম্ভাবনা অল্প হলেও ছিল। তিনি মহান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। উপরন্তু, তিনিই ছিলেন সামরিক বাহিনীর সেই লোক যিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ঘোষণা ‘পাঠ’ করেছিলেন। ‘বাঙালি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিই সবার আগে বিদ্রোহ করেন।’ (মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর, গোলাম মুরশিদ, প্রথমা প্রকাশন, জানুয়ারি ২০১০, পৃঃ ৯২)

এই কৃতিত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না, উচিতও নয়। কিন্তু স্বাধীনতার পক্ষে ‘ঘোষণা পাঠ’ করা আর ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেওয়া দুটো ভিন্ন বিষয়। দুধ অল্প পরিমানে থাকলে তাতে জল মিশিয়ে বাড়ানো সম্ভব। সুবিধাবাদী পরাজিত রাজনীতিবিদরা সেই পদ্ধতিই অবলম্বন করেছিল নির্লজ্জভাবে, তা না হলে কেন তারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্কটি বঙ্গবন্ধু, এমনকি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায়ও তোলেননি? আজ তারা যে আস্থা ও উগ্রতার সঙ্গে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তারা এই দাবির কথা তখন কেন জানাননি?

বিএনপির এই দাবি প্রবল হয়ে দেখা দেয় ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর। ক্ষমতা এমন এক জিনিস যার বদৌলতে মিথ্যাকে সত্য ও সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করা সম্ভব। আর যদি হয় অর্ধসত্য, তবে তাকে পূর্ণসত্যে পরিণত করা আরও সহজ হয়ে পড়ে।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহু রাজনৈতিক কীটপতঙ্গকে পুনর্বাসিত করার সুযোগ দেওয়ায় সেই কৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশ হিসেবে যেমন, তেমনি আওয়ামী লীগ ও তার প্রতিষ্ঠাতার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন না করলে বিএনপিকে প্রসারিত ও প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না– এই ভাবনা থেকেও জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দেখানোটা জরুরি হয়ে পড়ে আওয়ামীবিরোধীদের পক্ষে। প্রতিটি দলেরই দরকার হয় একজন আইকনিক ব্যক্তিত্ব, বা কাল্টফিগার। জিয়াউর রহমানের তিলোপম ব্যক্তিত্বকে তাই তাল বানানোর চেষ্টা করেছে তারা। কিন্তু তারা আন্দোলন ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতার অনিবার্য ফলাফল অস্বীকার করে স্বেচ্ছাচার দিয়ে ইতিহাস গড়তে চেয়েছে।

ইতিহাসে স্বেচ্ছাচারের জায়গা অল্পকালের জন্য হলেও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনায় এর কোন স্থায়ী জায়গা হয় না। ঘটনার যৌক্তিক পারম্পর্য ও শৃঙ্খলা ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে অনিবার্য এক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে কাজ করে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাসের দিকে পেছন ফিরলে দেখতে পাব ১৯৬৩ সাল থেকে শেখ মুজিব ধাপে ধাপে পূর্ব বাংলার স্বাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে যদি এই কালক্রমিক আন্দোলন না থাকত তাহলে ২৬ মার্চে যে কেউ এসে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেই দেশ যে স্বাধীন হত না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি আন্দোলনের এই দীর্ঘ ইতিহাস না থাকলে স্বয়ং শেখ মুজিবও হঠাৎ করে ২৬ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও দেশ স্বাধীন হত কি না, সন্দেহ।

স্বাধীনতার পক্ষে দেশবাসীকে তিনি ধাপে ধাপে উদ্বুদ্ধ ও প্রস্তুত করে তুলেছিলেন বলেই সেটা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং কেউ একজন এসে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন বলেই দেশ স্বাধীন হয়নি। ইতিহাসের ঘটনাস্রোত ও বঙ্গবন্ধু পরস্পর এমন অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গিয়েছেন যে সেখানে শেখ মুজিব ছাড়া আর কারও পক্ষে সেই স্বাধীনতা ঘোষণা করা সম্ভবই ছিল না। যদি তা-ই হত, তা হলে শেখ মুজিব ছাড়াও তো তখন অনেক নেতাই ছিলেন, তারা কি সেটা করতে পেরেছিলেন?

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই যে, রাজনৈতিক চর্চা ও আন্দোলন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তির পক্ষে তা ছিল আরও অসম্ভব। সুতরাং জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করাটা স্রেফ গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়া একটা ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়।

গবেষক গোলাম মুরশিদ জানাচ্ছেন যে, “বস্তুত, ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি তিনি (বঙ্গবন্ধু) তাজউদ্দীন ও কামাল হোসেনকে দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার একটি খসড়া লিখিয়ে নেন।” (গোলাম মুরশিদ, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’, প্রথমা, জানুয়ারি ২০১০, পৃ-৬৭)

সেই সময়ের আন্দোলনের ইতিহাসটি যারা জানেন তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার পর “পূর্ব পাকিস্তান চলতে শুরু করে মুজিবের আদেশে। কেবল আওয়ামী লীগের নয়, তিনি সবার নেতায় পরিণত হন ততদিনে। তাঁর নেতৃত্বে দেশের জনগণ আন্দোলনে ফেটে পড়লেন।” (গোলাম মুরশিদ, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’, প্রথমা, জানুয়ারি ২০১০, পৃ-৬৭)

বঙ্গবন্ধু তখন রাজনৈতকি ব্যক্তিত্ব হিসেবে এতই প্রবল ও পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছিলেন যে, একটি রাষ্ট্র তখন চালিত হচ্ছে সশস্ত্র শাসকদের দ্বারা নয়, বরং নিরস্ত্র বিরোধী দলের একজন নেতার নির্দেশে। এমন ঘটনা ইতিহাসে খুবই বিরল। তাঁর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তো তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, যাকে স্বাধীনতার ঘোষণা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না:

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

“এর পর থেকে সরকারী অফিস-আদালত, ব্যাংক, সমুদ্রবন্দরের কাজ– সবই চলতে থাকে তাঁর হুকুম মতো।” (গোলাম মুরশিদ, মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর, প্রথমা, জানুয়ারি ২০১০, পৃ-৭২)

বঙ্গবন্ধুর সমকালে আরও অনেক নেতাই ছিলেন, ন্যাপ ও বাম দলগুলোর নেতারা ছিলেন, তাদেরও বঙ্গবন্ধুর হুকুমের বাইরে কিছুই করার ছিল না। এরকম অবস্থায়, যিনি জনপ্রতিনিধি নন, নিতান্তই একজন সামরিক কর্মকর্তা, তিনি এসে হুট করে স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন– এটা উদ্ভট কল্পনাশক্তি ছাড়া সম্ভব নয়।

রাজনীতির প্রবল ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর পরিবর্তে সেকালে জিয়াউর রহমানের মতো অজ্ঞাত ও অপরিচিত এক লোককে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগটা বিএনপি গ্রহণ করেছে মূলত চট্টগ্রামের ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ থেকে প্রচারিত ঘোষণাটিকে পুঁজি করে। কিভাবে সম্ভব হয়েছিল সেই ঘোষণাটি? কোনো সামরিক লোক নয়, বরং স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করার কথা বেতার কেন্দ্রের কর্মীরাই প্রথম ভেবেছিলেন জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে। ঘোষণা তো বঙ্গবন্ধু ২৭ মার্চের আগেই দিয়ে রেখেছেন তাঁর বক্তৃতায়, মুক্তিযোদ্ধা মঈদুল হাসান সে কথা স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন তার ‘মূলধারা ’৭১’ বইয়ে: “ঢাকার বাইরে এ কথা রাষ্ট্র হয়ে পড়ে যে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন এবং পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামের নেতৃত্ব দান করে চলেছেন।” (মঈদুল হাসান, ‘মূলধারা ‘৭১’, ইউপিএল, জানুয়ারি ২০১৬ পৃ: ৪)।

কিন্তু বেতারের কর্মীরা বঙ্গন্ধুর ‘স্বাধীনতার ডাক’ জনসাধারণে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জিয়াউর রহমানকে বেছে নিয়েছিলেন। শুধু এই কারণে বিএনপির উৎসাহী নেতা ও কর্মীরা জিয়াকেই স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দেখাতে চান। জিয়াউর রহমান কি শেখ মুজিবের আগে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন? ২৭ মার্চের যে ঘোষণাটির কথা বলা হয় সেটাও তো নিজে স্বেচ্ছায় গিয়ে ঘোষণা করেননি জিয়াউর রহমান, যদিও জানি যে, “বাঙালি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিই সবার আগে বিদ্রোহ করেন।” (মঈদুল হাসান, ‘মূলধারা ‘৭১’, ইউপিএল, জানুয়ারি ২০১৬, পৃ-৯২)

এবং এও সত্য যে, “মেজর জিয়ার ঘোষণা এবং বিদ্রোহী ইউনিউগুলোর মধ্যে বেতার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবার ফলে এই সব স্থানীয় ও খণ্ড বিদ্রোহ দ্রুত সংহত হতে শুরু করে।” (মঈদুল হাসান, ‘মূলধারা ‘৭১’, ইউপিএল, জানুয়ারি ২০১৬, পৃ-৭)

চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের তখনকার কর্মকর্তা বেলাল মোহাম্মদ জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে ডেকে নিয়ে এসে তাঁরা স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করান। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী কারোর লেখা স্মৃতিচারণেই এ কথা বলা হয়নি যে, তিনি নিজে যেচে গিয়ে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে ঘোষণাটি দিয়েছেন।

যেহেতু ২৫ মার্চের আক্রমণটি ছিল আকস্মিক যা আওয়ামী লীগের নেতারা কেউ কল্পনাও করেননি, ফলে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার কোনো নিপুণতা ছিল না, ছিল না যথাযথ সমন্বয়ও। বেতার কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল। এমনকি যেসব ভাষ্য তখন পাঠ করা হত সেগুলোও খুব গোছানো ও সুশৃঙ্খল ছিল না। যে কারণে মেজর জিয়া তাঁর প্রথম বক্তৃতায় নিজেকে ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে ঘোষণা করে ফেলেছিলেন। বোঝাই যায়, এটি স্বেচ্ছাকৃত নয়, অনিচ্ছাকৃত ভুল।

মঈদুল হাসান তাঁর বইয়ে জিয়ার ঘোষণাটি সম্পর্কে বলেছেন, “স্বল্পকালের জন্য চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র যখন বিদ্রোহীদের দখলে আসে, তখন ২৬শে মার্চ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান এবং ২৭শে মার্চ সন্ধ্যায় ৮ ইবির বিদ্রোহী নেতা মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করেন। মেজর জিয়া তাঁর প্রথম বেতার বক্তৃতায় নিজেকে ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ হিসেবে ঘোষণা করলেও, পরদিন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরামর্শক্রমে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার কথা প্রকাশ করেন।” (পৃ: ৫-৬)

মঈদুল হাসানের এই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা মিল খুঁজে পাব জিয়াউর রহমানের সেই ঘোষণাটির:

“On behalf of our great national leader, the supreme commander of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman do hereby proclaim the independence of Bangladesh. It is further proclaimed that Sheikh Mujibur Rahman is the solo leader of the elected representatives of 75 million people of Bangladesh. I therefore appeal on behalf of our great leader Sheikh Mujibur Rahman to the government of all the democratic countries of the world specially the big world part and neighboring countries to take effective steps to stop immediately the awful genocide that has been carried on by the army of occupation from Pakistan. The legally elected representatives of the majority of the people as repressionist. It is cruel joke and contradiction in terms which should be fool none. The guiding principle of a new step will be first neutrality, second peace and third friendship to all and anomity to none. May Allah help us. Joy Bangla.”

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার পাঠ শোনার জন্য উপরের লিংকে ক্লিক করুন…

জিয়া ও বিএনপির উগ্র, অন্ধ সমর্থকরা, এমনকি দলীয় ইতিহাস লেখকরাও নির্বোধের মতো জিয়াকে স্বাধীনতার ‘ঘোষক’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশে’ কথাটি পুরোপুরি বর্জন করে। অথচ এই ঘোষণাতেই জিয়া স্পষ্ট করে বলেছেন:

“মহান জাতীয় নেতা, বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।”

এমনকি এই ঘোষণার তৃতীয় বাক্যটিতেও জিয়াউর রহমান আবারও ড়হ নবযধষভ ব্যবহার করে বলেন:

“অতএব আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে…”

জিয়াউর রহমান কর্তৃক এই ঘোষণা পাঠে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের কৃতিত্বই একমেবাদ্বিতীয়তম। জিয়াউর রহমান এখানে শেখ মুজিব কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের পাঠক মাত্র। টেলিভিশনে সংবাদ পাঠক (News caster) যেমন পাঠের সূত্রে সংবাদের নায়ক হতে পারেন না, বরং নিছকই পাঠক, তেমনি জিয়াউর রহমান ঘটনাক্রমে এর পাঠক মাত্র। এমনকি তিনি এর প্রথম পাঠকও নন, কারণ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান তার আগেই স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। ফলে পাঠক হিসেবেও তিনি প্রথম নন। আর ঘোষক হিসেবে তিনি প্রথম বা দ্বিতীয়– কোনোটাই নন।

কবিতার আবৃত্তিকার যেমন আবৃত্তির সূত্রে কবিতাটির রচয়িতা বলে নিজেকে দাবি করতে পারেন না, ঠিক একইভাবে জিয়াউর রহমানকে কোনোভাবেই স্বাধীনতার ঘোষক বলা যায় না।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com