,

মোহাম্মদ সালেহ’র গোলে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসরে মিশর

লিভারপুল স্ট্রাইকার মোহাম্মদ সালেহ’র গোলে ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে জায়াগা করে নিয়েছে মিশর। রোববার কঙ্গোর বিপক্ষে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের ম্যাচের শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেন সালেহ। বুর্জ আল আরব স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে গোল করে স্বাগতিক মিশরকে লিড এনে দিয়েছিলেন সালেহ। কিন্তু ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার দুই মিনিট আগেই গোলটি পরিশোধ করে কঙ্গোকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন আর্নল্ড বোকা মুটো। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলার শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ফের গোল করে মিসরকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নে পৌঁছে দেন লিভারপুল স্ট্রাইকার।

এই জয়ের ফলে ৪ পয়েন্টের ব্যবধানের মাধ্যমে ‘ই’-গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে ২য় স্থানের দল উগান্ডার নাগালের বাইরে পৌঁছে দেয় শীর্ষস্থানধারী মিশরকে। ফলে আরো একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও নিশ্চিত হয়ে যায় মিসরের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। আগের দিন শনিবার ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল উগান্ডা। ৮৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক মেজাজে থাকা উগান্ডার রক্ষণভাগে আঘাত করতে থাকে সালেহ’র নেতৃত্বাধীন মিসরের আক্রমণ ভাগ। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও ৬৩তম মিনিটে গোলখরা ভাঙেন সালেহ। গোল বক্সের ভেতর থেকেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে আফ্রিকান আরবদের উৎসবে ভাসান তিনি। ড্র করলে হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা ছিলো মিশরীয়দের বিশ্বকাপের স্বপ্ন। এমন একটি পরিস্থিতিতেও লিড পাওয়া দলটিকে শেষ মুহূর্তে এসে গোল হজম করতে। ম্যাচ শেষ হবার দুই মিনিট আগে মুটো গোল পরিশোধ করে যখন মিশরীয় স্বপ্নকে দুমড়ে দেয়ার পথে, তখনই শেষ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে যায় তারা। সালেহকে অবৈধভাবে ফেলে দেয়ার কারণে বেজে ওঠে রেফারির বাঁশি। স্পট কিক থেকে মিসরকে স্বপ্নের বন্দরে পৌঁছে দেন প্রিমিয়ার লিগের তারকা সালেহ।

সর্বশেষ ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া মিসর এরপর রেকর্ড পরিমাণ ৭ বার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জয় করলেও বার বার হোঁচট খেয়েছে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে। এই জয় মারাত্মক উচ্চ রক্তচাপ থেকেও বাঁচিয়েছে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেয়া মিশরীয় কোচ হেক্টর কুপারকে। এমনই মন্তব্য করেছেন তিনি নিজে। খেলা শেষে মিশরীয় ওই কোচ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধারাবাহিক সমালোচনার কারণে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকার জন্য আমি উত্তেজনা প্রশমনকারী ওষুধ গ্রহণ করেছি। জীবনটা এমনিতেই অশান্তিতে ভরা। কিন্তু এই দলটিকে বিশ্বকাপে পৌঁছে দেয়ার মিশনে আমাকে সর্বোচ্চ মানসিক চাপ পোহাতে হয়েছে।’

বাছাইপর্বে মিসর উগান্ডা ও ঘানাকে অ্যাওয়ে ম্যাচে হারিয়েছে। ঘরের মাটিতে হারিয়েছে উগান্ডাকেও। তবে ওই দলটির কাছেই অ্যাওয়ে ম্যাচে হার মানতে হয়েছে মিশরকে। সর্বশেষ ম্যাচে জয়ের ফলে ১২ পয়েন্ট লাভ করেছে ‘ই’-গ্রুপের শীর্ষ পয়েন্টধারীরা। এখন নাইজেরিয়ার পর আফ্রিকা অঞ্চল থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল মিসর। ‘বি’-গ্রুপ থেকে জাম্বিয়াকে হারিয়ে একদিন আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে সুপার ঈগলরা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com