বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

English Version
সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আর নেই

সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আর নেই



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্বের সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। 
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরের একটি হাসপাতালে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনবারের হেভিওয়েট এই চ্যাম্পিয়ন।
 
মুহাম্মাদ আলির পরিবারের স্বজনদের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে শনিবার এ খবর জানিয়ে বলা হয়, শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি ‘লাইফ সাপোর্টে’ ছিলেন। তার সঙ্গে থাকা দুই মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ক্রমেই তার পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছিল। তিনি মূলত শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।
 
এর আগে ১৯৮১ সালের বক্সিং থেকে অবসরের তিন বছরের মাথায় পারকিনসন্স ব্যাধিতে ‍আক্রান্ত হয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। ২০১৪ সালে এই রোগের জন্য ডাক্তাররা তাকে নিয়ে অনেকটা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। আলীর একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বি ফ্রেজার বলেছিলেন, “আলী জানেই না তাকে কীভাবে মারা যেতে হবে। আমি বিশ্বাস করি না বক্সিংয়ের এই লিজেন্ড মারা যেতে পারেন।” সবশেষ মারাত্মক মূত্রনালীর সংক্রমণে ভুগে গত বছরের জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এ ক্রীড়াবিদ।
 
১৯৬০ সালের ২৯ অক্টোবর ১৮ বছর ২৮৬ দিনে মোহাম্মদ আলীর বক্সিং রিংয়ে অভিষেক হয়,  প্রতিপক্ষ ছিল টানি হানসেকার। ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ১৯টি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জেতেন। এর মধ্যে ১৫টি জয় ছিল ‘নক আউটে’। সে সময় আলী জিম রবিনসন, হেনরি কুপার, জর্জ লোগান, আলন্সো জনসন ও জনি ফ্লি ম্যানের মতো বক্সারদের হারান। ১৯৭১ সালের এক ঐতিহাসিক লড়াইয়ে নেমেছিলেন আলী। জো ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে যে লড়াইটি ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে ‘ফাইট অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে। লড়াকু এ কিংবদন্তি বক্সার শেষ পর্যন্ত একের পর এক অসুস্থতার সঙ্গে লড়েই মৃত্যুবরণ করেন।

মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই বক্সিং–এর প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন আলি। ১৯৬৪ সালে বক্সার সনি লিস্টনকে হারিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। ১৯৬৪–র পর ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালেও ওয়র্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন তিনি। যারপর তার নামের সঙ্গে সর্বকালের সেরা বক্সারের তকমা সেঁটে যায়। স্টেজে নিজের আক্রমণাত্মক আচরণের জন্যও পরিচিত ছিলেন তিনি। 

১৯৬০ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে এবং তারপরেও তার সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি কেউ। শুধু বক্সার হিসেবেই নয়, সমাজকর্মী এবং বিতর্কের প্রিয়পাত্র হিসেবেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন সর্বকালের সেরা এই বক্সার। প্রথমবার হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার তীব্র সমালোচনাও করেন। প্রতিবাদ স্বরূপ মার্কিন সেনাতে যোগদান করতে অস্বীকার করেন। যার ফলে তাক গ্রেফতার করা হয়। সাময়িকভাবে ইতি পড়ে বক্সিং কেরিয়ারেও। কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার এই অবস্থানই তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। 

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com