,

৩-৩ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল

৩-৩ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে তিন বার এগিয়ে গিয়েও জিততে না পারলেও ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হাঙ্গেরি। আর ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্যায়ের সেরা চারটি তৃতীয় স্থানের দলের একটি হয়ে নক-আউট রাউন্ডে উঠেছে পর্তুগাল। প্রর্থমার্ধে সমতা ফেরানো নানির গোল বানিয়ে দেন রোনালদো। দ্বিতীয়ার্ধে লড়াইটা যেন দুই দলের দুই অধিনায়কের। দুই জনই আবার ৭ নম্বর জার্সিধারী। দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল করে দুই বার দলকে এগিয়ে নেন বালাস জুজাক। দুই বারই সমতা ফেরান সিআর সেভেন। হাঙ্গেরি অধিনায়কের গোল দুটিতেই ছিল ভাগ্যের ছোঁয়া। অন্যদিকে রোনালদোর দুটি গোলই হয়েছে দুর্দান্ত দুটি ছোঁয়ায়।

ফ্রান্সের লিওঁতে শুরু থেকে বল দখলে রেখে আক্রমণে ওঠা পর্তুগিজরা টানা বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে একবার প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে পারে। অন্যদিকে উনবিংশ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণে শানিয়েই গোল পেয়ে যায় হাঙ্গেরি। পর্তুগিজ রক্ষণ কর্নার পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে যান জোলতান গেরা। বুক দিয়ে বল নামিয়ে ২৫ গজ দূর থেকে জোরালো হাফ-ভলিতে ডান দিক দিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিওনের এই মিডফিল্ডার।Rui Patricioরক্ষণের দুর্বলতায় খানিক বাদে আবারও গোল খেতে বসেছিল পর্তুগাল। মিডফিল্ডার আকোশ এলেকের কোনাকুনি শট বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে সে যাত্রায় দলকে বাঁচান গোলক্ষরক্ষক রুই পাত্রিসিও। ২৯তম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরাতে ৩৫ গজ দূর থেকে ফ্রি-কিকে চেষ্টা চালান রোনালদো; কিন্তু তার শটটি বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান হাঙ্গেরি গোলরক্ষক গাবোর কিরালি।

বিরতির কিছুক্ষণ আগে রোনালদো-নানির বোঝাপড়ায় অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলের দেখা পায় পর্তুগাল। রিয়াল মাদ্রিদ তারকার নিখুঁতভাবে বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়েই কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ফরোয়ার্ড নানি। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ফের এগিয়ে যায় হাঙ্গেরি। জুজাকের ফ্রি-কিক পর্তুগিজ মিডফিল্ডার আন্দ্রে গোমেসের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। পাত্রিসিওর কিছুই করার ছিল না।

তিন মিনিট পরই অনন্য রেকর্ড গড়ে সমতা ফেরান রোনালদো। ডান দিক থেকে জোয়াও মারিওর ক্রস ডি-বক্সে তার পেছন দিয়ে যাচ্ছিল। ডান পায়ের ফ্লিকে গোলরক্ষককে হতবাক করে দিয়ে তা জালে পাঠান তিনবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোর চারটি আসরে গোল করার কীর্তি গড়লেন পর্তুগিজ ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। পাঁচ মিনিট পর আবারও গোল জুজাকের। এবার তার ফ্রি-কিক ঠিকঠাক ফেরায় রক্ষণ দেয়াল। কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে নেওয়া জোরাল শট নানির পেছন দিকে বাড়ানো পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ালে আবার পিছিয়ে পড়ে ২০০৪ আসরের রানার্সআপরা।4604৬২তম মিনিটে আবারও রোনালদোর গোলে সমতায় ফেরে পর্তুগাল। বদলি হিসেবে নামা মিডফিল্ডার রিকার্দো কারেসমোর উঁচু করে বাড়ানো বলে মার্কারকে ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে জোরালো হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রিয়াল তারকা। দুই মিনিট ফের পিছিয়ে পড়তে যাচ্ছিল পর্তুগাল; তবে মিডফিল্ডার গেরকু লুভরেনচিচের শট পোস্টে লাগলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় রোনালদোরা। গ্রুপের অন্য ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে প্রথমবারের মতো ইউরোয় খেলতে আসা আইসল্যান্ড। ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান পাওয়া হাঙ্গেরির পয়েন্ট ৫। আইসল্যান্ডের পয়েন্টও ৫; কিন্তু গোল ব্যবধানে পিছিয়ে রানার্সআপ তারা। পর্তুগালের পয়েন্ট ৩। ছিটকে পড়া অস্ট্রিয়ার পয়েন্ট ১।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com