,

সুখের সেদিনে ডায়না ও জিভোজিনোভিচ

রাজবংশের অন্দরমহলের খবর অন্দরেই থেকে যায়৷প্রকাশ্যে আসলেও তা রাজকীয় ব্যাপ্তি ধারণ করে৷বৃটেনের প্রয়াত রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়নার কথা উঠলেই তার রহস্য মৃত্যুর কথা চলে আসে৷রাজকীয় ‘স্ক্যান্ডেল’-এর ইতিহাসে ডায়না নিজেই একটা পাতা জুড়ে রয়েছেন৷সেই পাতারই বেশ কিছু অপ্রকাশিত তথ্য এবার সামনে৷
 
লাস্যময়ী ডায়নার জীবনে চার্লস ছাড়াও এসেছিলেন বয়ফ্রেন্ড দোদি ফায়াদ৷যার উপস্থিতি একসময় রাজবংশে ঝড় তুলে দিয়েছিল৷কিন্তু দোদি ছাড়াও ‘প্রিন্সেস অফ হার্টস’ ঘনিষ্ট হয়েছিলেন টেনিস কিংবদন্তি স্লোবোডান জিভোজিনোভিচ৷একথা জানালেন খোদ প্রাক্তন সার্বিয়ান তারকাই৷৫২ বছরে দাঁড়িয়ে এই হাড়হিম করা তথ্য ফাঁস করলেন জিভোজিনোভিচ৷এখনো পর্যন্ত তিনিই সার্বিয়ার একমাত্র ডাবলসে বিশ্বের এক নম্বর হওয়া তারকা৷ উন্মোচিত হলো ডায়নার জীবনের আরও এক রহস্যময় অধ্যায়৷
 
প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বৈবাহিক জীবন কাটানোর সময়েই এসেছিলেন জিভোজিনোভিচ৷ ১৯৯২-তে টেনিসকে অবসর জানানোজিভোজিনোভিচ এখন সার্বিয়ার টেনিস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট৷ তার দেশেরই সংবাদপত্র ‘কুরির’এ সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন জিভোজিনোভিচ৷ ডায়নার জীবনে যখন জিভোজিনোভিচ আসেন তখন ডায়না বৈবাহিক সূত্রে চার্লসের সঙ্গে আবদ্ধ৷ঠিক তেমনই জিভোজিনোভিচও সেসময় জোরিকা ডেসনিকার স্বামী ছিলেন৷
 
জিভোজিনোভিচ বলছেন, “দেখুন ডায়না আজ আমাদের মধ্যে নেই৷ ওর সম্বন্ধে বেশি কিছু বলব না আমি৷ডায়নার মতো ব্যক্তিত্বের একজন আমার খেলা দেখতে আসত৷ এটা ভেবেই আমার অসাধারণ লাগত৷কারণ তার আগে রাজ-পরিবাবের কোনো সদস্যই আমার সমর্থনে টেনিস দেখতে আসেনি৷”
 
১৯৮৭-তে ডায়নার প্রথম উইম্বলডনের আসরে এসেছিলেন জিভোজিনোভিচের ম্যাচ দেখতে৷ ততদিনে ডায়না-চার্লস বৈবাহিক জীবনের ছয়টি বছর পার করে ফেলেছেন৷ কুরির লিখছে, “ডায়না এরপর থেকে যতবারই ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন কখনই ভিআইপি সিটে বসেননি৷ কারণ স্ট্যান্ডে বসলেই জিভোজিনোভিচকে অনেক কাছ থেকে দেখতে পেতেন৷” ডায়নার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা আজও স্পষ্ট মনে আছে প্রাক্তন সার্বিয়ার টেনিস খেলোয়াড়ের৷তিনি বলছেন, “আজও প্রথম দেখার কথা মনে আছে৷ ডায়না জিজ্ঞাসা করেছিল, টেনিসে তোমার সার্ভই কি বিশ্বের দ্রুততম? আমি বলেছিলাম হ্যাঁ৷ডায়নার পরের প্রশ্নে আমি চমকে গিয়েছিলাম৷ও আমায় বলেছিল, টেনিসের মতো তোমার সার্ভও কি ভালো? এটা শোনার পর আমি আর কিছু বলতে পারিনি৷ ওর দিকে হাঁ করে তাকিয়ে ছিলাম৷”
 
ডায়নার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন জিভোজিনোভিচ৷তিনি বলছেন, “ আমি যখন ডায়নাকে বলেছিলাম যে আমার কল্পনার প্রিন্সের মতোই ওকে দেখতে৷ একজন অসাধারণ মহিলা ছিল ডায়না৷ বাচ্চাদের সঙ্গেও ওর বোঝাপড়া ছিল৷৷রাজ-পরিবারের ভিআইপি লজে না-থেকে ও টাব্রিউনেই উঠত৷ আমার পাশে থাকার জন্য৷ডায়নার সঙ্গে আমি অত্যন্ত ঘনিষ্ট হয়েছিলাম৷”
 
ডায়না যেরকম লাস্যময়ী সুন্দরী ছিলেন ঠিক তেমনই সুপুরষ ছিলেন জিজোজিনোভিচ৷ একেবার পোস্টার বয় ইমেজ ছিল তার৷ বৃটিশ যুবরাজ চার্লসের থেকে ১৩ বছরের ছোট ছিলেন ডায়না৷ নব্বই দশকের শেষের দিকে দু’জনের ডিভোর্সও হয়ে যায়৷ এবং জিজোজিনোভিচও সেময় খেলাও ছেড়ে দেন সঙ্গে স্ত্রীকে৷ পরে তিনি আবার লিপা ব্রেনাকে বিয়ে করেন৷ ১৯৯৭-এর ৩১ অগস্ট মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ডায়না৷ মাত্র ৩৬ বছরেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন ডায়না৷

– ডেইলি মেইল

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com