সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন



টাইগারদের আরেকটি বড় জয়, বাংলাদেশের রেকর্ডের ছড়াছড়ি

টাইগারদের আরেকটি বড় জয়, বাংলাদেশের রেকর্ডের ছড়াছড়ি



দারুণ বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের টানা বড় জয় পেল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিক বাংলাদেশের পুঁজিটা খুব বড় ছিল না। মাত্র ২১৬ রান করতেই নির্ধারিত ওভার শেষ হয়ে যায়। অল আউট হওয়ারও সম্ভাবনা ছিলো স্বাগতিকদের। তবে ছোট পুঁজিতেও বড় জয়ই তুলে নিলো টাইগাররা। মাশরাফি-সাকিবদের বোলিং তোপে জিম্বাবুয়ে যে গুটিয়ে গেল ১২৫ রানেই। ৯১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় মাশরাফিরা। যদিও আগেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছিলো টাইগাররা।

বল হাতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আঘাত শুরু করেছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। মধ্যে সাকিব আল হাসানের জোড়া আঘাত। এরপর আবারও দৃশ্যপটে মাশরাফি। পেস আর স্পিনের এ যুগলবন্দিতে মিরপুরে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে আগেভাগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথমে জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে ১৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছেন মাশরাফি। মাশরাফির সুইংয়ে বিভ্রান্ত হয়ে প্রথম স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন মাসাকাদজা। সাব্বির রহমান ভুল করেননি, দারুণভাবে ক্যাচটা তালুবন্দি করে নেন তিনি। ১৫ বলে মাত্র ৫ রান করে আউট হয়েছেন মাসাকাদজা।

এরপর সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণি জাদুর সামনে পড়েছে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের সপ্তম ওভারের শেষ দুই বলে সলোমন মিরে আর ব্রেন্ডন টেলরকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। ৭ রান করে মিরে হয়েছেন বোল্ড। রানের খাতা খোলার আগেই এলবিডব্লিউ ব্রেন্ডন টেলর। পরের ওভারের প্রথম বলটাও একটুর জন্য ব্যাটে লাগেনি ক্রেইগ আরভিনের, হ্যাটট্রিকটাও তাই হয়নি। বিপদে পড়া জিম্বাবুয়েকে এরপর আরও চাপে ফেলেছেন মাশরাফি। ম্যাচে তার দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরের পথে হেঁটেছেন ১১ রান করা আরভিন। এবারও স্লিপে ক্যাচ, ফিল্ডার সেই সাব্বির রহমান।

পরে সিকান্দার রাজা আর পিটার মুরের ৩৪ রানের জুটিটা প্রায় থিতু হয়ে গিয়েছিল। এ জুটিটি ভেঙে দেন সানজামুল ইসলাম। বাঁ হাতি এ স্পিনারের ঘূর্ণিতে ১৪ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মুর। ওই ওভারেই পরের বলে একই পরিণতি ম্যালকম ওয়ালারের। সানজামুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে তিনি ফিরেছেন শূন্য রানে। এরপর উইকেটের দেখা পেয়েছেন রুবেল হোসেন আর মোস্তাফিজুর রহমানও। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারকে ২৩ রানে এলবিডব্লিউ করেছেন রুবেল। আর টানা ৩ ওভার মেডেন করা মোস্তাফিজ আউট করেছেন সফরকারী দলের হয়ে সবচেয়ে বড় লড়াই করা সিকান্দার রাজাকে। ৩৯ রান করে সরাসরি বোল্ড হয়েছেন এ ব্যাটসম্যান। সাকিব আল হাসান ৩টি আর মোস্তাফিজুর রহমান, সানজামুল ইসলাম আর মাশরাফি বিন মর্তুজা নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। একটি উইকেট রুবেল হোসেনের।

শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এর আজে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। তামিম ইকবাল (৭৬) আর সাকিব আল হাসানের (৫১) জোড়া হাফসেঞ্চুরির পরও ৯ উইকেটে ২১৬ রানের বেশি এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। পরের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন কেবল আসা যাওয়ার মধ্যে। তবে শেষ সময়ে মোস্তাফিজের হার না মানা ১৮ আর সানজামুলের ১৯ রান দুইশ’ পার করে দিয়েছে টাইগারদের। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন বাংলাদেশি ওপেনার তামিম ইকবাল।

গুরুত্বপূর্ণ কথাটির আগে ‘অ’ যোগ করলে হয় অগুরুত্বপূর্ণ। তখন বাক্যটির দুটি অর্থ দাঁড়ায়, প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয়।  ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচটিও ঠিক তেমনই। একদলের কাছে এটি অনেক গুরুত্বের এবং অন্যদলের কাছে কমগুরুত্বে। মূল গন্তব্যে পৌঁছাতে একদলের বাঁচা-মরার, অন্যদলের নিয়ম রক্ষার।

তবে এমন কম গুরুত্বের মাঝেও রেকর্ড গড়ার প্রত্যয় ছিল টিম বাংলাদেশের। সেটি হলো, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১৩ বার জয়ের মাইলফলক। সফরকারী দলটির বিপক্ষে সর্বশেষ বারোবারের মুখোমুখিতে সবকটিতে জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবারের (২৩ জানুয়ারি) ম্যাচটিতেও জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। সেই হিসেবে এখন পর্যন্ত দলটির বিপক্ষে ৬৯  ওয়ানডেতে ৪১টিতেই টাইগারদের জয়ের বিপরীতে জিম্বাবুয়ের জয় ২৮টি।  বাংলাদেশ ৯১ জয় লাভ করে। এ নিয়ে দলটির বিপক্ষে টানা ১৩টি ওয়ানডেতে জয় পায় মাশরাফিরা।

প্রসঙ্গত, ম্যাচটিতে মোটে তিনটি রেকর্ড গড়েন তামিম ইকবাল। হোম অব ক্রিকেট মিরপুর স্টেডিয়ামে ৫টি শতক ও ১৫টি অর্ধশকের বিনিময়ে তামিমের রান সংখ্যা এখন ২৫৪৯ রান (২৪৭৩+৭৬)। অন্যদিকে তালিকায় দ্বিতীয়তে নেমে আসা শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক সনাৎ জয়সুরিয়া কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৭১ ম্যাচে ৭০ ইনিংস খেলে ৪টি শতক ও ১৯টি অর্ধশতকের সাহায্যে করেন ২৫১৪ রান।

এ ছাড়াও ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ৬০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম।  ১৭৬ ম্যাচে ১৭৪ ইনিংস খেলে তামিমের রান ছিল ৫,৯৩৪। ৪০টি অর্ধশতক ও ৯টি শতকের সাহায্যে তিনি এই রান করেন। তবে আজ ৮৬ রান যোগ হওয়াতে ৬ হাজার ছাড়িয়ে তামিমের রান ৬০২০। আরেকটি রেকর্ড হচ্ছে, এই ৫ থেকে ৬ হাজার রানের ঘরে পৌছাতে সবচেয়ে কম ইনিংস খেলেছেন তামিম। এ দিক থেকে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও হাশিম আমলাকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।  তামিম খেলেছেন ১৭ টি  ইনিংস, কোহলি ২২ এবং আমলা ২৩ ইনিংস খেলেছেন।

হাবিবুল বাশারকে ছাড়িয়ে গেলেন মাশরাফি

ত্রিদেশীয় সিরিজে শুরুর আগেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে জেতা অধিনায়কের অনন্য মাইলফলকটি ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি দিচ্ছিলো মাশরাফি বিন মর্তুজার সামনে। অবশেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯১ রানের জয় তুলে নিয়ে সেই মাইলফলক ছাড়িয়ে গেলেন লাল-সবুজের ক্রিকেটের দিন বদলের এ দলপতি। নিজের অধিনায়কত্বে ৩০ ম্যাচ জয় তুলে নিয়ে টপকে গেলেন হাবিবুল বাশার সুমনকে। যেখানে হাবিবুল বাশারের অধিনায়কত্বে জয় এসেছিল ২৯ ম্যাচ। এই দিয়ে ৫৩ ম্যাচে মাশরাফির নেতৃত্বে ৩০টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এতদিন ৬৯ ম্যাচে ২৯ জয় নিয়ে হাবিবুল বাশার ছিলেন সবার ওপরে।মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) ত্রিদেশীয় সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৯১ রানে হারায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media








© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com