আজ কবি-প্রাবন্ধিক রুদ্র আমিন'র ৩৭তম জন্মবার্ষিকী - Nobobarta.com
কবি-প্রাবন্ধিক ও গল্পকার রুদ্র আমিন

আজ কবি-প্রাবন্ধিক রুদ্র আমিন’র ৩৭তম জন্মবার্ষিকী

আজ ১৪ জানুয়ারি, কবি-প্রাবন্ধিক-গল্পকার-সাংবাদিক রুদ্র আমিন’র ৩৭তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের আজকের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটগল্প ও কলাম লিখেন, এক কথায় তিনি সাহিত্যের নানা শাখায় সমান বিচরণ করছেন। তবুও তিনি নিজেকে মূলত একজন কবি হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

লেখক পরিচিতিঃ
কবি রুদ্র আমিন, এটি মূলত ছদ্মনাম। প্রকৃত নাম মোঃ আমিনুল ইসলাম, পিতা- মোঃ আব্দুল হাই, মাতা- আমেনা বেগম। জন্ম মানিকগঞ্জ জেলার ফুলহারা গ্রামে। বেড়ে ওঠা লোকজ পল্লীতে, পাহাড় থেকে সমতল ভূমির নানা জেলা শহরে। বাবার সরকারি চাকরির সুবাধেই এই ঘুরে বেড়ানো। মায়ের একান্ত অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে মানুষের মানুষ হতে পথ খুঁজতে গিয়ে সমসাময়িক সমাজ ও জীবনের বর্ণময় চরিত্রকে অনুভবের প্রগাঢ়তা দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ অভিজ্ঞতার সাথে কল্পনার সংমিশ্রণে সমসাময়িক বাস্তবতা তার লেখার আঁকার চেষ্টা করেছেন।

২০১৫ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় উদাহরণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় কবি’র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যোগসূত্রের যন্ত্রণা’। শব্দকোষ প্রকাশন থেকে ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘আমি ও আমার কবিতা‘, এরপর নিজেকে কবি’র পাশে গল্পকার হিসেবে প্রকাশ করেন, শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় গল্পগ্রন্থ “আবিরের লালজামা”, জেব্রাক্রসিং প্রকাশনী থেকে ২০১৮ সালে প্রকাশ হচ্ছে কবি’র ৪র্থ বই “বিমূর্ত ভালোবাসা” (কাব্যগ্রন্থ)।

পেশায় তিনি ডিজাইনার, (ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইনার)। অনলাইন নিউজ প্রোটাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক, অন্যধারা সাহিত্য সংসদ এর ফিচার সম্পাদক, ত্রৈমাসিক সাহিত্য দিগন্ত’র নির্বাহী সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সাহিত্য সংসদ লিটল ম্যাগ এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল কবিতা প্রতিযোগিতায় কবিতা বিভাগে ২০১৪, ১৫, ১৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছেন, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন এর গল্প প্রতিযোগিতায় গল্প বিভাগে সম্মানা গ্রহণ করেন, কবি সাহিত্যিক ফোরাম বাংলাদেশ কর্তৃক লেখক সম্মাননা-২০১৭ তে শ্রেষ্ঠ বই নির্বাচনে “আবিরের লালজামা” গল্পগ্রন্থ নির্বাচিত হয়।

রুদ্র আমিন -এর কবিতা

চরিত্র

আমি উলঙ্গ হলেই যত সমস্যা পৃথিবীর
কিন্তু চ ছ জ ঝ এক চুল রাখেনি গায়ে বস্ত্র, কই?
কোথাও তো শুনিনি কান কথা কিংবা আন্দোলন
গ্রীষ্মের তাপদাহেও পুড়েনি কোনো চায়ের দোকান
তবু ক্যানো স্বর্গ নরকের হিসেব বুঝানো হয় শুধু আমাকেই!

ছায়া

আমি যখন তোমাকে দেখলাম তখন গোধুলি সন্ধ্যা
চতুর্দিকে দৃষ্টি ফেলতেই দেখি কোথাও কেউ নেই
নিশ্চুপ অন্ধকার আর ঝিঝিপোকারা শুধু ডাকছে।

ছায়ায় ঘুরতে ঘুরতে এক সময় ছায়াহীন হয়ে
অচেনা একটি রেখায় এসে দাঁড়িয়েছিলাম
অথচ কী আশ্চার্য, নিজেই হারিয়ে ফেলেছি নিজের ছায়া।

আলোর সম্মুখে আর দাঁড়ানো হলো না বুঝি আয়নায়
আজ দেখি ছায়াটা অনেক অনেক বদলে গেছে
ফুলের বাগান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, বাসস্থান
অতঃপর নিষিদ্ধ পল্লী।

সত্যি ছায়াহীন পৃথিবীতে মানুষ বড্ড বেমানান
ঠিক তেমনি ছায়াহীন মানুষ বড্ড বেমানান মানুষে।

সময়

স্নিগ্ধতার মতো বেড়ে ওঠা ভালোবাসা ছিঁড়ে গেলে
এখন আর তেমন রঙ-বেরঙয়ের রুধি বের হয় না,
ছিঁড়ে গেলেই নাকি বৃক্ষ শুকিয়ে যায়, অনেকেই বলে।

হারিয়ে যায় দিন, হারিয়ে যায় রাত!
ভালোবাসায় দিনই বা কি, রাতই বা কি?
যে যাবার সে চলে যাবেই, এখানে দিন বা রাতের কি যায় আসে!
দিন দিনের ঘরে, রাত রাতের ঘরে
জন্ম আর মৃত্যু মিলে গেলে কিছু করার থাকে না, কিচ্ছু না
যত আলগোছে তুলে রাখা হোক না কেন
ভালোবাসা থেকে ভালোবাসা ছিঁড়ে গেলে ধরে রাখা যায় না
যেমন জীবন থেকে মৃত্যু।

এক জীবনে

জল হয়ে জন্ম নিলি আর পাতিল বদল করবি না…
এটা কি করে হয়?
জল তো তরঙ্গে তরঙ্গে ছলাৎ ছলাৎ নৃত্যে স্থান পরিবর্তন করে
তুই না করলে হয়?
মাটি বলেও ভাবতে পারি না তোকে, পারি না বলতে বাউরা বাতাস
আলোও না আবার আঁধারও না, আবার দুটোতেই তোর চলে শ্বাস।

কেউ বলে জীবন, কেউ বলে সুখ, কেউ বলে ঝড়ো মেঘ কিংবা
দুধে জলে মেশানো এক ফোটা বিষ, আর কত এক জীবনে?

এক টুকরো সীমান্ত

অবশেষে জোড়াতালির দেহ জোড়াতালিই রয়ে গেলো
স্বপ্নগুলো নিদ্রামাঝে যেমন আজও কানামাছি হয়ে খেলা করে,
ঠিক হলুদ ময়না পাখিটির মতোন, সজাগ পৃথিবীতে ঘুমন্ত
ছায়া কায়া। মানুষ গুলো রঙধনুর মতো বিবেক রাঙিয়ে উঠে চরে
তবুও রোজ প্রভাতে খুঁজে ফিরি মানবতার এক টুকরো সীমান্ত ।

সম্ভবত কারণ রেখেই পৃথিবীকে জানাবো বিদায়

আমি সম্ভবত কারণ রেখেই পৃথিবীকে জানাবো বিদায়
যেন কোন বেলি আকাশ-পাতাল ফুটো না করে ফেলে,
মানুষ হয়ে মরতে পারবো না সেও নিশ্চিত বলে রাখি
পৃথিবীতে নামানুষের আয়ু বেশ দীর্ঘ মানুষ হওয়ার দায়ে।

আজ থেকে এক অনুভূতিহীন জানোয়ার হয়ে গেলাম
তুমি চাইলে যা ইচ্ছে তাই করতে পারো, কালো বনের
ভেতর সরু জ্বলন্ত ইস্পাত দন্ডের দ্বারা বিভাজন করতে
পারো খরস্রোত জলের দু’টি পাড়, এক দীর্ঘশ্বাসের জন্য।

ভয় নেই, আত্মাহুতি দেবো সেটাও ভেবো না; মরে গেলে
তো বেঁচেই গেলাম, কিন্তু তিল তিল করে নিজ হৃদপিন্ড
নিজেই কাবাব করে খেতে পারলেই বুঝবো আমি অনুভূতিহীন
এক জানোয়ার হয়ে উঠেছি শুধু একফোঁটা সৌন্দর্যের জন্য।

আমি সম্ভবত কারণ রেখেই পৃথিবীকে জানাবো বিদায়
পৃথিবী যেমন পৃথিবী নেই, মানুষ যেমন মানুষ নেই, প্রেম-
ভালোবাসা-বন্ধুত্ব নেই, লাল বেনারশির যেমন কদর নেই
ঠিক তেমনি চলে যাবো একদিন সমাজ সভ্যতার নামে
মানবিকতার নষ্ট দানবের আনন্দ উল্লাসে অশ্লীল উরুতে।

ভালো থেকো বেলি, ভালো থেকো নীলাকাশ, ভালো
থেকো জন্মভূমির সেই ইছামতি নদীর পাড় স্মৃতিবিজড়িত
আমার গাও; আমি সম্ভবত কারণ রেখেই পৃথিবীকে জানাবো
বিদায়, ছোট একটি দুঃখ ও ছোট একটি স্বপ্নকে বাঁচার জন্য।

হোটেল আমির, কসাইবাড়ি, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০, রাত: ১০:০০, ১৯১২১৬।

স্তন

আমি তাঁর স্তন স্পর্শ করেই পৃথিবীর সুখ অনুভব করি
বুঝতে পারি আমার মতো সেও এমন স্পর্শে কাতর
এমনটা শুনে তোমরা পৃথিবীর নিকৃষ্ট প্রাণী বলে যে যার মতো
ঘৃণার অবাধ্য লালা আকাশে ছুড়ে মুখ ফিরিয়ে নাও

তোমরা আমাকে যে যাই বলো না ক্যানো, বলবো ঠিক বলেছো
আমি অন্ধ হলে তো তোমরা অন্ধ হতে পারোনা, দ্যাখো এবং বুঝো;

কিন্তু আমি, অতিসয় সহজ সরল, অবুঝ এক জীব; যার
বোধের ঘরে ভালোবাসা আর সরলতা ছাড়া কিছুই নেই
কোনটা অশালীন কোনটা অশ্লীল বুঝি না, শুধু বুঝি ভালোবাসা।

তোমরা যেটাকে অশ্লিলতা বলো আমি বলবো সেটাই শালীন
ক্যানো না আমার স্পর্শে যদি কেউ সুখানুভ করে তবেই আমি সুখী
তোমরা হয়তো স্পর্শ করতেই জানো না কিংবা তোমাদের ত্বক
ফেলে রাখা মরিচার বসবাসে আজ কাঠ থেকে পাথর হয়ে গ্যাছে,

মনে রেখো কতটুকু অধিকার থাকলে কারো স্তন স্পর্শ করা যায়,
তোমরা হয়তো সেটাই বুঝো না…

ফরিদমার্কেট, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০, দুপুর: ১২:৩০, ০৬০৬২০১৭।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com