,

জননী সাহসিকা

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের নারী জাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবি বেগম সুফিয়া কামালের আজ ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজ ২০ নভেম্বর; ১৯৯৯ সালের এই দিনে ৮৮ বছর বয়সে মহীয়সী এই নারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্ণাঢ্য এক কর্মজীবনের অধিকারী সুফিয়া কামাল দীর্ঘ জীবনে সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি নিজেকে যুক্ত করেছিলেন প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক সব আন্দোলেন-সংগ্রামে। বাংলাদেশে নারীমুক্তি আন্দোলনেও রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। স্বতন্ত্র এক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন তিনি। আবহমান বাঙালি নারীর মমতাময়ী মা হিসেবে তাকে যেমন দেখা গেছে, একই সঙ্গে তিনি ছিলেন প্রতিবাদী এক মানুষ। বাংলার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল তার আপোসহীন দৃপ্ত পদচারণা।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আজ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজিমপুর কবরস্থানে কবির কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণ সভা। বিকাল ৩টায় মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে ‘মানবতার সংকট এবং নারী ও শিশুর প্রতি অব্যাহত সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে এই স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। সুফিয়া কামাল তেমন কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেননি। তার বাবা সৈয়দ আবদুল বারি ছিলেন উকিল। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। মাত্র ১২ বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুফিয়া কামাল। তখনকার পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে বাস করেও নিজস্ব চেষ্টায় এবং মায়ের স্নেহ ও পরিচর্যায় তিনি স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত হন।

১৯২৩ সালে সুফিয়া কামাল রচনা করেন তার প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূয়া’। ১৯২৬ সালে সওগাত পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা বাসন্তী প্রকাশিত হয়। ১৯২৯ সালে তিনি যোগ দেন বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠিত আঞ্জুমান-ই-খাওয়াতিন-ই-ইসলামে। ১৯৩১ সালে সুফিয়া কামাল মুসলিম নারীদের মধ্যে প্রথম ইন্ডিয়ান মহিলা ফেডারেশনের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’। এই কাব্যগ্রন্থে ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রশংসা। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে; সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, দিওয়ান, মোর জাদুদের সমাধি পরে প্রভৃতি। গল্পগ্রন্থ ‘কেয়ার কাঁটা’। ভ্রমণকাহিনী ‘সোভিয়েত দিনগুলি’। স্মৃতিকথা ‘একাত্তরের ডায়েরি’। ১৯৪৭-এ সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকা প্রকাশিত হলে তিনি তার প্রথম সম্পাদক হন। ১৯৩৩-৪১ সাল পর্যন্ত কলকাতা করপোরেশন প্রাইমারি স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বাংলার মানুষ তাকে ভূষিত করেছে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে। ১৯৪৭ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির ‘শান্তি মিছিলে’ তিনি সম্মুখভাগে ছিলেন। তিনি ছায়ানট, কচি-কাঁচার মেলা ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ নানা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তারা ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

সুফিয়া কামাল ৫০টিরও বেশি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক জাতীয় পুরস্কার ‘তঘমা-ই-ইমতিয়াজ’ লাভ করেন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি তা বর্জন করেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, উইমেনস ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস ক্রেস্ট, বেগম রোকেয়া পদক, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস স্বর্ণপদক ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com