হুমায়ূন কবীর ঢালীর ৫৩তম জন্মবার্ষিকী আজ - Nobobarta.com

হুমায়ূন কবীর ঢালীর ৫৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও বাংলাদেশ শিশুসাহিত্যিক ফোরামের সভাপতি হুমায়ূন কবীর ঢালীর আজ ৫৩তম জন্মবার্ষিকী। হুমায়ূন কবীর ঢালী ১৯৬৪ সালের ৩০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে। পৈত্রিক নিবাস চাঁদপুর জেলার সিকিরচর গ্রামে। তবে একাডেমিক স্বীকৃতিপত্রে জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১ এপ্রিল ১৯৬৬৷

সম্ভবত চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে যাতে বেশিদিন দৌড়ঝাপ করা যায়, সেজন্য স্কুলের শিক্ষকগণ লেখকের অজান্তেই দুবছর কমিয়ে দিয়েছিলেন৷ বৈচিত্রপূর্ণ শিক্ষাজীবন তার৷ বাবার ব্যবসা ও চাকরি বারবার পরিবর্তনের কারণে হুমায়ূন কবীর ঢালী শৈশব ও শিক্ষাজীবন কেটেছে অনেকটা ছুটোছুটি আর দৌড়ঝাঁপের মধ্য দিয়ে৷ তার লেখাপড়ায় হাতেখড়ি হয় গ্রামের পাঠশালায় আয়ূব আলী হুজুরের কাছে বাঁশের কঞ্চিতে কলাপাতায় অ আ ক খ লেখার মধ্য দিয়ে৷ এরপর আদর্শলিপির পাঠ শুরু হয় শিকিরচর প্রাইমারী স্কুলে৷ সেখানে প্রথম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ শেষে চলে আসেন গোদনাইল প্রাইমারী স্কুলে৷ সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে চলে আসেন ঢাকেশ্বরী কটন মিল প্রাইমারী স্কুলে৷ এখানে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শেষ হতেই তার বাবা চাকরি ছেড়ে চলে যান গ্রামের বাড়িতে৷ বাধ্য হয়ে তাকেও চলে যেতে হয়৷ গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন শরীফউল­া উচ্চ বিদ্যালয়ে৷ কিন্তু প্রচণ্ড অসুখের কারণে বার্ষিক পরীক্ষা দিতে না পারায় ফি বছর একই শ্রেণীতে ভর্তি হতে হয়৷ তবে এবার অন্য স্কুলে৷ ঢাকায়৷ বাড্ডা আলাতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে৷ ষষ্ঠ শ্রেণীর পাঠ কোনোরকমে এখানে শেষ করে আবার গ্রামের স্কুলে চলে যেতে হয়৷ ছেংগারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন সেভেনে৷ একই স্কুলে এস.এস.সি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ ঘটে৷ এরপর হাসানপুর শহীদ নজরুল কলেজ ও পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে লেখাপড়ার দৌড়ঝাঁপ থেমে যায়৷ হাফ ছেড়ে বাঁচেন তিনি৷

শিশুসাহিত্য, কথাসাহিত্য ও কাব্যসাহিত্যে রয়েছে তার অবাধ ও সাবলিল বিচরণ৷ লেখালেখির শুরু লিটল ম্যাগাজিনে কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে হলেও বর্তমানে তার বিচরণ প্রায় পুরোটাই কথাসাহিত্যে৷ লেখালেখির শুরু কবিতা দিয়ে এবং প্রথম প্রকাশিত বই প্রেমের উপন্যাস হলেও এখন শিশুসাহিত্যেই নিবেদিত। তাঁর লেখা প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৭৫টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো, একাত্তরের মিলিটারি ভূত, নীল গ্রহের রহস্য, ক্লাসমেট, কাব্য ও এনজেলের বন্ধুরা, কালোমূর্তি রহস্য, পিতাপুত্র, এক যে ছিল হাঙ্গর, মউতবাড়ির প্রেতাত্মা, পরিকন্যা, লজিংবাড়ি, দুষ্টু ছেলের গল্প, ডিয়াওয়ালা, বোকাকাহিনি, তোমার চোখের জল।

এছাড়াও তিনি শিশুকিশোর আনন্দবার্ষিকী ‘আলোকলতা’র সম্পাদক। গ্রিসের নবম স্টেট প্রাইমারি স্কুল অব ইয়ান্নিতিসারের একটি স্কুলে A cowboy and a magic mango tree বইটি পাঠ্য। ভারতের ওডিয়া ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে ‘কাব্য ও এনজেলের বন্ধুরা’ ও ‘পিচ্চি ভূতের কাণ্ড’। এছাড়া তাঁর বই প্রকাশিত হয়েছে কলকাতা ও ত্রিপুরা থেকে। তাঁর গল্প অনুবাদ হয়েছে ফিলিপিনো ভাষায়। হুমায়ূন কবীর ঢালী পাঠাগার আন্দোলনে জড়িত। নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন ‘আমাদের পাঠাগার’। একজন প্রকাশনা কর্মী ও সাহিত্য সংগঠক হিসেবেও রয়েছে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি।

সাহিত্যে অবদানের জন্য দেশবিদেশে একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন হুমায়ূন কবীর ঢালী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ইউনিসেফ প্রদত্ত মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, সালেহীন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, চিলড্রেন অ্যান্ড উইমেন ভিশন ফাউন্ডেশন পদক, কবি আবুজাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি ফাউন্ডেশন পদক, পদক্ষেপ শিশুসাহিত্য পুরস্কার, কবি সংসদ বাংলাদেশ শিশু সাহিত্য পুরস্কার, লোকছড়া ফাউন্ডেশন সম্মাননা, ভারতের চোখ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩ এবং বিশেষ সম্মাননা : লেখালেখি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, ওডিয়া, ভারত।

পেশা হিসেবে প্রথমে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতাকে৷ ১৯৮৮ সালে মাসিক বুড়িগংগা পত্রিকায় প্রথম, এরপর সাপ্তাহিক সমীক্ষণ পত্রিকায় প্রথমে স্টাফ রিপোর্টার ও পরে সহকারী সম্পাদক৷ দু,বছরের মাথায় পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাবার পর কিছুকাল দৈনিক সংবাদসহ উলে­খযোগ্য দৈনিক-সাপ্তাহিক-পাক্ষিক-মাসিক পত্রিকায় প্রদায়ক হিসেবে নিয়মিত লেখালেখি৷ সর্বশেষ বাংলাদেশের একমাত্র শিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক ম্যাগাজিন পাঞ্জেরী শিক্ষা সংবাদ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন৷ সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করতে গিয়ে ১৯৯২ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতরভাবে আহত হন৷ শিশুকিশোরদের জন্য লিখতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন৷ শিশুকিশোরদের শব্দ ও ভাষার ব্যবহারের উপর ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেন (ইউএসএ) এবং প­্যান বাংলাদেশ-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ও আহসানিয়া মিশন আয়োজিত বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেছেন৷ একজন অর্গানাইজার হিসেবেও বেশ সুনাম রয়েছে৷

তিনি একদা বাংলাদেশ-চীন লিসেনার্স ক্লাব এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা কর্মচারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জাতীয় শ্রমিক জোট এর সমাজকল্যান সম্পাদক এক দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে শাপলা দোয়েল ফাউন্ডেশনের ট্রাষ্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোটার্স এসোসিয়েসনসহ অনেক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছেন৷ বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের উলে­খযোগ্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাংলাপ্রকাশের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন৷

হুমায়ূন কবীর ঢালী সদাহাস্য-সদালাপি একজন মানুষ৷ তিনি ভালোবাসেন শিশুকে, প্রকৃতিকে৷ তিনি বিশ্বাস করেন ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা সম্ভব৷ ভালোলাগার সবকিছুই তার প্রিয়৷ প্রিয় রং সবুজ ও খয়েরি৷ প্রিয় ব্যাক্তি মা-বাবা৷ প্রিয় ব্যাক্তিত্ব হযরত মুহাম্মদ (স.)৷ প্রিয় লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাস, নাদিম গর্ডিমার, গুন্ট্রার গ্রাস, অরুন্ধতি রায়, শওকত ওসমান, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, সমরেশ মজুমদার, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ৷ শিশুদের নিয়ে তিনি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন৷ তাই ভবিষ্যত পরিকল্পনায় শিশুদের নিয়ে কিছু করা৷ তিনি আজীবন লিখতে চান৷ আমৃত্যু লিখতে চান৷ হুমায়ূন কবীর ঢালী বর্তমানে নিউইয়র্ক সফররত। জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বন্ধুরা ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬.০০ টায় আয়োজন করেছে সানন্দ সমাবেশ। নববার্তার পক্ষ থেকে শিশুসাহিত্যিক, কথাসাহিত্যিক ও কাব্যসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালীর আজ ৫৩তম জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com