মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:২১ অপরাহ্ন

English Version
‘একক মাতৃত্ব’ সচেতনতায় বিয়ে না করেই সন্তান জন্ম দিলেন ডাঃ শিউলি

‘একক মাতৃত্ব’ সচেতনতায় বিয়ে না করেই সন্তান জন্ম দিলেন ডাঃ শিউলি

শিউলি মুখোপাধ্যায়
শিউলি মুখোপাধ্যায়



কলকাতায় ‘একক মাতৃত্ব’ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে দীর্ঘদিন কাজ করছেন বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসক শিউলি মুখোপাধ্যায়। বিভিন্ন নারীকে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণের সুযোগও করে দেন তিনি। এবার তিনি নিজেই সেই পথে হাঁটলেন।

শিউলি মুখোপাধ্যায় কলকাতার বালির বাসিন্দা। দেড় বছর আগে একক মাতৃত্বের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। তার একাকিত্ব ঘোঁচাতে ও অন্যদের উৎসাহিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। বালির বাসিন্দা শিউলি মুখোপাধ্যায় বছর দেড়েক আগে আচমকাই তার মনে হয়েছিল, অন্যকে সচেতন করার পাশাপাশি তিনি নিজেও যদি একক মাতৃত্বের পথে হাঁটতে পারেন তাহলে আরও অনেকে সেই পথে এগোতে উৎসাহী হবেন। সেই ভাবনা থেকেই অবিবাহিত শিউলিদেবী এখন এক পুত্রসন্তানের মা।

৩৯ বছরের শিউলিদেবী আদর করে ছেলের নাম রেখেছেন ‘রণ’। যদিও ছোট থেকেই মেয়ের কোনও বিষয়ে আপত্তি না করা স্বপনবাবু ও ভারতীদেবী নাতির নাম রেখেছেন দেবদূত। তবে ছেলের জন্মের পরেই এক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে শিউলির। তিনি বলেন, ছেলের জন্মের শংসাপত্রে বাবার নামের জায়গায় পুর কর্মীরা কী লিখবেন সেটা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। শিউলি বলেন, শেষে আদালতে অ্যাফিডেভিট করে এবং সিঙ্গল মাদারের ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার দেয়া একটি শিশুর জন্মের শংসাপত্রের কপি ও সুপ্রিমকোর্টের রায়ের কাগজপত্র পুরসভায় জমা দেয়ার পরেই মেলে প্রশংসাপত্র।

শিশু বয়স থেকেই রণ-কে সিঙ্গল পেরেন্ট বা সিঙ্গল মাদারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বোঝাতে চান শিউলি। শনিবার নিজের বেসরকারি হাসপাতালে বসে তিনি বলেন, ছোট থেকেই ওকে বুঝিয়ে দিলে বড় হয়ে আর মনে কোনও সংশয় থাকবে না। প্রায় ১১ বছর আগে স্ত্রী-রোগ চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করার পরে তার হাতেই জন্ম হয়েছে অসংখ্য শিশুর। তবে সিজারিয়ান করে ছেলের জন্মের পরে প্রথম তাকে কোলে নেয়ার অনুভূতি একেবারে অন্যরকম বলেই জানান তিনি। শিউলিদেবী বলেন, এমডি পড়ার সময় থেকেই বাড়ি থেকে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া শুরু হয়। কিন্তু বিয়ে বিষয়টি ছিল তার অপছন্দের। একান্নবর্তী পরিবারে প্রথম মেয়ে-সন্তান হওয়ায় জন্মের পরেই আমার মা আমাকে নিয়ে মামারবাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। ছয় মাস পর বাড়িতে ফিরলেও সব সময় ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ফারাক করা হত।

শিউলি বলেন, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্রমশ একাকিত্বও বাড়ছিল। অল্পেতেই রেগে যাচ্ছিলাম। তখনই এ সিদ্ধান্ত নিলাম। এর পরেই বাবা এবং মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে পাকাপাকি ভাবে সিঙ্গল পেরেন্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। নিজের হাসপাতালের স্পার্ম ব্যাঙ্ক থেকে শুক্রাণু নিয়ে প্রবেশ করানো হয় তার শরীরে। হায়দরাবাদ ও মালদহের দুই মহিলাও তার চিকিৎসাতে সিঙ্গল মাদার হতে চলেছেন। ছেলেকে নিয়ে বেজায় খুশি শিউলিদেবী। ছেলের অন্নপ্রাশনের প্রস্তুতির ব্যস্ততার মধ্যেই বললেন, কতক্ষণে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে ছেলের আবদার মেটাবো, সেই চিন্তাতেই থাকি।

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com