,

রোহিঙ্গা পরিস্থিতির পুরো দায় মিয়ানমারের : থেরেসা মে

রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবিক বিপর্যয় আখ্যায়িত করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, ‘এটিকে জাতিগত নিধনই মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, এসব ঘটনায় মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে, বিশেষ করে দেশটির সেনাবাহিনীকে পুরো দায়–দায়িত্ব নিতে হবে। গত সোমবার লন্ডনে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে দেওয়া যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক এক বক্তৃতায় থেরেসা মে এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার খবরগুলোকে হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লন্ডনের গিল্ডহলে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এ বক্তৃতায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের মতো বড় সমস্যা মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন থেরেসা মে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা প্রদানে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে বড় দাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে মে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর জঘন্য ও অমানবিক নিপীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে যুক্তরাজ্য নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবে। সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সব ভূমিকা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করবে।

রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্য এ পর্যন্ত ৪৭ মিলিয়ন পাউন্ড মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। রোহিঙ্গা বিষয়ে থেরেসা মের বক্তব্যের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যের কুইনমেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ পেনি গ্রিন ও ড. টম ম্যাকমেনাস স্কাই নিউজকে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে তাঁরা প্রমাণসহ চিঠি লিখে যুক্তরাজ্য সরকারকে জানিয়েছেন যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে।

অধ্যাপক ম্যাকমেনাস বলেন, মিয়ানমার সব রোহিঙ্গাকে বিতাড়ন করতে চাইছে। তাদের গোষ্ঠীসহ নিধন করতে চাইছে। এমন কর্মকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন ম্যাকমেনাস। সোমবার রাতে বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে এক বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়। ২৫ মিনিটের ওই প্রামাণ্যচিত্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বীভৎস বিবরণ তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের টুলাটোলি (তুলাতলি) গ্রামে গত ৩০ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী গণহত্যা চালিয়ে বহু লোককে হত্যা করেছে বলে প্রমাণ হাজির করা হয় এই প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ওই গ্রামের ছয়জন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার এবং স্থানীয়দের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও চিত্র থেকে ওই গণহত্যার প্রমাণ মেলে। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নৃশংস উপায়ে হত্যা এবং যুবতী মেয়েদের ধর্ষণের বীভৎস বর্ণনা তুলে ধরে প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েল গেইটহাউজ বলেন, সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের (ইসলামিক স্টেট) বর্বরতার খবর সংগ্রহ করেছেন তিনি। কিন্তু মিয়ানমারের ঘটনা আইএসের নৃশংসতাকেও হার মানিয়েছে।

প্রতিবেদক বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের মদদে এমন ঘটনা ঘটছে, যেখানে নেতৃত্বে রয়েছেন নোবেল শান্তি বিজয়ী অং সান সুচি। বিবিসির এ প্রামাণ্যচিত্রে বলা হয়, মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ। এর মধ্যে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, যাদের বেশির ভাগই রাখাইন রাজ্যে বসবাস করত। ২৫ অক্টোবরের পর থেকে প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পাড়ি দিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান রোহিঙ্গা নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এমন স্বীকৃতি দেওয়া হলে জাতিসংঘ গণহত্যাবিষয়ক কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী ১৪৭টি দেশ এ সংঘাত বন্ধে প্রয়োজনে মিয়ানমারের ওপর শক্তি প্রয়োগ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com