,

আমার মা একজন যৌনকর্মী : শীতল জৈন

জন্ম থেকেই তিনি দেখছেন মা একজন পেশাদার যৌনকর্মী | জন্মদাতার নাম অবধি বলতে পারেননি মেয়েকে | মুম্বইয়ের কুখ্যাত যৌনপল্লী কামাথিপুরায় বড় হওয়া তাঁর | কিন্তু সন্ধের অন্ধকারে রাস্তার ধারে মুখে রংচং মেখে দাঁড়ানোর ভবিতব্যকে নিজেই পাল্টেছেন শীতল জৈন | কামাথিপুরা থেকে সোজা ওয়শিংটন পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি | সেখানে এক মিউজিক স্কুলে ড্রাম বাজানোর কোর্স করেছেন |

তবে যাত্রার পথ খুব একটা গোলাপ বিছানো ছিল না | ছিল যথেষ্ট কণ্টকময় | সেসব অতিক্রম করে স্বপ্নের পথে পা রেখেছেন শীতল | হতে পারে ১৯ বছর বয়সে দশম দশম শ্রেণী পাশ করেছেন, কিন্তু তাতে তাঁর স্বপ্ন পূরণে বাধা আসেনি | জীবনের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা আর পদে পদে বিস্ময়ের উপাদান লুকিয়ে থাকে, তাকে অস্বীকার করবে কে। শীতলের ইচ্ছে পূরণে তার পাশে এসে দাঁড়ায় এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। যেহেতু দশম শ্রেণি পাস করা হয়নি, তাই ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠানে ড্রাম শেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু ওই সংস্থার দৌলতে সুদূর মার্কিন মুলুকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে শীতল। সেখানে ড্রামিং-এর কোর্স করেছে সে। শিখেছে ড্রাম বাজানো কেবল বিনোদন মাত্র নয়। তা আসলে এক প্রতিবাদেরও অস্ত্র। এই যন্ত্র দিয়েই নিজের আগামী দিনকে সুন্দর করে তুলতে চায় শীতল।

স্বপ্নপূরণের জন্য আছে স্বার্থত্যাগও | উদয়পুরে এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ এসেছিল | কিন্তু সেটা ছাড়তে হয়েছে | মস্তিষ্ককে উপেক্ষা করে হৃদয়ের ডাক শুনে তাই মার্কিন মুলুক পাড়ি দেওয়াকেই বেছে নিয়েছিলেন শীতল | এখন পুণের একটি মিউজিক স্কুলে ইন্টার্নশিপ করছেন তিনি | পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে চায় সে।

শীতল এখন থাকে যেখানে, সেখানে তার সঙ্গে থাকা বাকিরাও যৌনপল্লিরই কোনো না কোনো পরিবারের সন্তান। কিন্তু সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় অটল তারা সকলেই। আপাতত পুনের এক সঙ্গীত শেখানোর স্কুলে ইন্টার্নশিপ করছে শীতল। আগামী দিনের স্বপ্ন ভিড় করে আছে শীতলের দু’চোখে। যে রূপকথার সূচনা হয়েছে, তা পরিপূর্ণতা পাবে, সেই আশাতেই আপাতত বুক বেঁধেছে শীতল।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com