,

পানামা পেপারসে ৫৬ জন বাংলাদেশির নাম

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকরা ফাঁস হওয়া পানামা পেপারসের নথিতে দুটি কোম্পানিসহ কমপক্ষে ৫৬ জন বাংলাদেশির নাম এসেছে। এদেরমধ্যে ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকরা রয়েছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসিআইজ গতকাল (সোমবার) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় নতুন তথ্য প্রকাশ করে। এতে দেশভিত্তিক ডেটা বেইসে নতুন ব্যক্তিদের নাম, তাদের অফশোর প্রতিষ্ঠানের নাম, নিবন্ধনের স্থান, বর্তমান অবস্থা, প্রতিষ্ঠানে তাদের ভূমিকা কী সেসব তথ্য উল্লেখ করা হয়।

নতুন এ তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ সংশ্লিস্ট মোট ৫৬ নাম। এর মধ্যে নতুন যোগ হয়েছে ২৪ নাম। একাধিক অফশোর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে দুজনের নাম এসেছে দুবার করে। এরা প্রত্যেকে কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আইসিআইজের প্রকাশ করা ডেটা বেইসে বাংলাদেশিদের তালিকায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাফরউল্যাহ ও তার স্ত্রী নীলুফারের নাম দেখা গেছে। জাফরউল্যাহ ও নীলুফারকে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে নিবন্ধিত পাথফাইন্ডার ফিন্যান্স এবং হ্যানসিটিক লিমিটেডের পরিচালক বা অংশীদার হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই তথ্যভাণ্ডারে নাম রয়েছে সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরীর, যিনি আগে গ্রামীণফোনেও কাজ করেছেন।

তালিকায় রয়েছে আইজিডাব্লিউ অপারেটর সেল টেলিকমের কফিল এইচ এস মুয়ীদ, এক্সেসটেলের মালিক জাইন ওমর, কিউবির অংশীদার আফজালুর রহমান, টেকনোমিডিয়ার মালিক সরকার জীবন কুমারের নাম।বাংলাট্রাকের মালিক আমিনুল হক, তার ছেলে নাজিম আসাদুল হক ও তারিক একরামুল হকের নামও এসেছে। সিটিসেলের সাবেক চেয়ারম্যান আজমাত মঈনও এর মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া, আব্দুল মোনেম গ্রুপের এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম এবং আসমা মোনেমের নামও রয়েছে এই তালিকায়।

তথ্য ভাণ্ডারে থাকা এদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নাম রয়েছে দিলীপ কুমার মোদি, মল্লিক সুধীর, কাজী রায়হান জাফর, মো. ইউসুফ রায়হান রেজা, মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী, বেনজির আহমেদ, ইসরাক আহমেদ, নোভেরা চৌধুরী, সৈয়দা সামিনা মির্জা, উম্মে রুবানা, বিলকিস ফাতিমা, সালমা হকের।

এছাড়াও ফরহাদ গনি মোহাম্মদ, মো. আবুল বাশার, নিজাম এম সেলিম, মোহাম্মদ মোকসেদুল ইসলাম, মো. মোতাজ্জারুল ইসলাম, মো. মোতাজ্জারুল ইসলাম, মো. সেলিমুজ্জামান, সৈয়দ সেরাজুল হক, এফ এম জুবাইদুল হক, ক্যাপ্টেন এম এম জাউল, মোহাম্মদ শহীদ মাসুদ, খাজা শাহাদত উল্লাহ, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খান, মোহাম্মদ শহীদ মাসুদ, জুলফিকার হায়দার, মির্জা এম ইয়াহিয়া, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, এফ এম জুবাইদুল হক, এ এফ এম রহমাতুল বারী, খাজা শাহাদাত উল্লাহ’র নামও রয়েছে।

দুই অফশোর প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ডাটাবেজে ৫৬ ব্যক্তির নাম ছাড়াও রয়েছে ২ টি অফশোর প্রতিষ্ঠানের নাম। একটি সোয়েন ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। অপরটি সেভেন সি’জ অ্যাসেটস লিমিটেড। দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই গুলশান-২ এর একই ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। আর প্রতিষ্ঠান দুটিতে সংশ্লিষ্ট দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন: স্টেফান পিরকার ও রুখসানা পিরকার। ইন্টারমিডিয়ারি ৩: বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট ইন্টারমিডিয়ারি ৩ ব্যক্তির নাম রয়েছে। এর মধ্যে নতুন যোগ হয়েছে স্টিফান পিরকারের নাম। বাকি দুজন হলেন, বিবিটিএল ও দিলিপ কুমার মোদি।

বাংলাদেশের ঠিকানা ৪২: অফশোর প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের মোট ৪২টি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। ডাটাবেজে ঠিকানা ও ঠিকানা ব্যবহারকারী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নামগুলো থেকে বোধগম্য হয় বাংলাদেশি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এসব ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। ঢাকার, গুলশান, বারিধারা, বনানি, মিরপুর, বসুন্ধরা ছাড়াও রয়েছে, টঙ্গি, গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঠিকানা।

গতকাল রাতে পানামা পেপার্সে বিশ্বব্যাপী নতুন দুই লাখেরও বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় এই তথ্যগুলো যেকোনো স্থান থেকে দেখার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এসব তথ্যে বেরিয়ে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ২০টিরও বেশি ‘ট্যাক্স হেভেনে’র নাম। পানামাভিত্তিক আইনি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার কাছে রক্ষিত ছিল এসব নথি। জার্মানির পত্রিকা সুয়েডডয়চে জেইটাং প্রথম এই নথিগুলো অজ্ঞাতসূত্র থেকে হাতে পায়। পরে তারা তা শেয়ার করে আইসিআইজের সঙ্গে। প্রায় ৮০টি দেশের ৩৭০ জনেরও বেশি রিপোর্টার এক বছর ধরে গবেষণা করে এসব নথি নিয়ে। এরপর ৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো তার কিছু অংশ বিশ্বের গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা হয়।

তেহরান রেডিও

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com