,

জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের পুলিশ সফল: আইজিপি

গত সাড়ে তিন বছরে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি। পরিমাণ ও মাত্রায় বছরে বছরে বেড়েছে হামলা। তারপরও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের পুলিশ সফল বলে দাবি করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করেন। তবে তার বিভিন্ন তথ্যের অসংগতি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে তিনি একপর্যায়ে তড়িঘড়ি করে চলে যান। ২০১৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ব্লগার রাজিব হায়দার হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে মুক্তমনাদের উপর হামলার শুরু। ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটে ৩৭টি। তবে ২০১৪ সালে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সে হিসেবে ৩৭টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে আড়াই বছরে।

২০১৩ সালে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২টি। এতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ১ জনকে হত্যা ও আরেক জনকে আহত করে। ২০১৫ সালে হামলা কয়েকশ গুণ বেড়ে যায়। এ সময় ১৬ জনকে হত্যা এবং ৯টি হত্যা চেষ্টা চালানো হয়। এর মধ্যে ৬টি ঘটিয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। জেএমবি ঘটিয়েছে ১৮টি। তবে ইতালীয় নাগরিক তাবেলা সিজারকে কোন জঙ্গি গোষ্ঠী হত্যা করেছে তা নিশ্চিত নয় পুলিশ। ২০১৬ সালের প্রথম ৪ মাসে ৯ জনকে হত্যা এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে এসব পরিসংখ্যান সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক দাবি করলেন জঙ্গিবাদ দমনে তারা সফল।

শহীদুল হক বলেন, ‘জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলে অনেকে বলে থাকেন সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ব্যবস্থা নেয় না। তারা পুলিশের কোনো অর্জন দেখে না। শুধু ব্যর্থতা দেখে। বাংলাদেশ জঙ্গি দমনে সারা বিশ্বের কাছে রোল মডেল হতে পারে। এখানেই শীর্ষ সন্ত্রাসীর ফাঁসি হয়েছে। ২৩ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। ৯০ ভাগ হামলার কারণ পুলিশ উদ্‌ঘাটন করেছে।’ আইজিপি বলেন, একটি ঘটনা ঘটলে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ নিয়েই পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেফতার করে। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিরোধের কারণে হামলার সংখ্যা অনেক কমেছে। পুলিশি তৎপরতা না থাকলে বিভিন্ন ধরনের আরও ঘটনা ঘটতো।

বিভিন্ন হত্যা মামলায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তের ইচ্ছে প্রকাশের বিষয়টি আপনারা কীভাবে দেখছেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে এ কে এম শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের ঘটনাগুলো বাংলাদেশ পুলিশই তদন্ত করবে। তবে এফবিআই সহায়তা করতে চাইলে করতে পারবে। ‘অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এফবিআই বাংলাদেশ পুলিশকে সহযোগিতা করেছে। তারা ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরার কয়েকটি ছবি ডেভেলপ করে দিয়েছে। আমরা আসামিদের শনাক্ত করেছি’। পুলিশের পরিসংখ্যানে কলাবাগানের ডাবল মার্ডার মামলায় এখনো কেউ গ্রেফতার না হলেও এর মূল ঘটনা উদঘাটনের দাবি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তা সংশোধন করা হয়। তবে পুলিশের দেয়া পরিসংখ্যানে প্রথমবারের মত ব্লগার অভিজিৎ হত্যা মামলায় ৮ জনকে গ্রেফতারের কথা বলা হয়েছে।

ব্যক্তি পর্যায়ে সবাইকে আলাদাভাবে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে এ ঘটনাগুলো ঘটছে। এসব দেখে ‘হোম গ্রোন’ (দেশীয়) জঙ্গিরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। তবে এদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর কোনো যোগাযোগ নেই। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এসব তথ্য পুলিশকে নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে আইএস বা আল-কায়েদার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর কোনো অস্তিত্ব নেই।

তবে বিদেশি কোনো সংস্থা সহযোগিতার কথা বললে তাদের স্বাগত জানানো হবে বলে এক প্রশ্নের জবাবে শহীদুল হক বলেন। তিনি বলেন, অভিজিৎ রায় খুনের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে, তারা ফুটেজ দেখে বেশ কিছু ছবি তৈরি করেছে। পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে যে বা যারা খুন করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হলেই জানানো হবে। তবে মামলাটির ‘মূল’ উদ্‌ঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে কলাবাগানে জোড়া খুনের ঘটনায় কোনো অগ্রগতির খবর সংবাদ সম্মেলনে দিতে পারেনি পুলিশ।

আইজিপি তার দাবির পক্ষে সাফল্যের যে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেছেন তাতে আরো দেখা যায়, ৩৭টি মামলার মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছে মাত্র একটির। চার্জশিট দেয়া হয়েছে ৬টি মামলার। ৩৪টি মামলার মূল ঘটনা উদঘাটন করার দাবি করা হলেও ৩১টি মামলারই এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। সফলতার দাবি ও সরবরাহ করা তথ্যের নানা অসংগতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com