,

সবার জন্য পেনশনের প্রাথমিক কাজ আগামী বছর : অর্থমন্ত্রী

কেবল সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন, অবসরকালীন এই সুবিধা সব নাগরিকের জন্যই নিশ্চিত করতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগামী অর্থবছর থেকেই এর প্রাথমিক কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি। বুধবার রাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেই উন্নত বিশ্বের নাগরিকদের মতো বাংলাদেশেও বেসরকারি খাতে পেনশন চালুর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তবে কবে থেকে এই সুবিধা চালু হবে এবং এর হার কী হবে, কারাই বা পাবে, সেসব বিষয়ে তিনি কিছু না বলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে জানানোর কথা বলেন। আর আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু বলা নেই।

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পেনশনের একটা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া হয়। কিন্তু পেনশন একটি সীমিত সংখ্যক লোকেরা পায়। এ জন্য ভবিষ্যতে আমরা একটি জাতীয় পেনশন স্কিমের চিন্তাভাবনা করছি এবং আমরা স্থির নিশ্চিত আগামী বছরেই আমরা সর্বজনীন পেনশনের প্রাথমিক কাজটি শুরু করতে সক্ষম হব।’

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ছে না বলে অর্থনীতিবিদরা যে সমালোচনা করছেন, তারও জবাব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ৪.৩ শতাংশ থেকে নেমে ৪ শতাংশ হয়েছে। যে কোনো বিবেচনায় এটা উল্লেখযোগ্য পতন। কর্মসংস্থান যদি বৃদ্ধি না হতো বেকারত্বের হার কম সম্ভব হতো না।’

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন হচ্ছে জানিয়ে মুহিত বলেন, ‘কৃষি হতে শিল্প এবং সেবাখাতে শ্রমশক্তি স্থানান্তরিক হচ্ছে। ২০১৩ সালে কৃষিখাতে ছিল দুই কোটি ৬২ লাখ শ্রমিক। ২০১৫ সালে সেটা নেমেছে দুই কোটি ৪৪ লাখে। অন্যদিকে ২০১৩ সালে শিল্প ও সেবাখাতে শ্রমিকের সংখ্যা ছিল এক কোটি ২১ লাখ ও এক কোটি ৯৮ লাখ। সেটা এখন দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৯ লাখ এবং দুই কোটি ২৬ লাখ।’

‘দেশে প্রবৃদ্ধির সিংহভাগ আসে শিল্প ও সেবাখাত থেকে। এই দুই খাতেই কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। এ থেকে বোঝা যায় আমাদের প্রবৃদ্ধি এখনও কর্মসংস্থানবিহীন হয়নি’-বলেন অর্থমন্ত্রী। বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে সংশয় অমুলক বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেকেই ধারণা করেছেন এটা সম্ভব হবে না। তবে বেসরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগের প্রস্তাব করছি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়নের প্রসার ঘটবে অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।’

শিল্প স্থাপনের পথে বাধাগুলো দূর করার চেষ্টা করছি। এসব পদক্ষেপের মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, দক্ষ ও গতিশীল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি, বেসরকারি বিনিয়োগ অর্থায়নে ফান্ড স্থাপন উল্লেখযোগ্য। বিদেশি বিনিয়োগ বাধা দূর করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা ওয়ানস্টপ সার্ভিসসহ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সাধিত হবে’-বলেন অর্থমন্ত্রী।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com