,

বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী

শিক্ষা-স্বাস্থ্য আর উন্নয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ নিয়ে বহু প্রতীক্ষিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সরকারের চলতি মেয়াদের ৩য় আর নিজের ব্যক্তিগত ১০ম বাজেট এটি। বাজেট পেশের আগে প্রথমেই সংসদের কাছে অনুমতি চান অর্থমন্ত্রী। পরে স্পিকার সম্মতি দিলে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন তিনি। ৭.২% জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে মোট ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী।

এবার প্রথমবারের মতো ১০টি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের জন্য থাকছে আলাদা বাজেট। এবারের বাজেটে বাড়ছে না করমুক্ত আয়ের সীমা। থাকছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। আগের মতোই বহাল থাকছে ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজ ভ্যাটের সুবিধা। বাজেটে সরকার ব্যয়ের যে পরিকল্পনা করছে, তাতে এডিপি বহির্ভূত প্রকল্প ব্যয় ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা মিলিয়ে, মোট উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে, ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। আর সরকারের প্রাত্যহিক ব্যয় ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহে অনুন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দ থাকছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট বাজেটের আকার দাঁড়াচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

বাজেট অর্থায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের মাধ্যমে বিভিন্ন কর থেকে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা সরকারের। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন সেবা ও অন্যান্য উৎস থেকে আসবে ৩৯ হাজার ৬০০ কোটি। আগামী অর্থবছরে ৫ হাজার ৫১৬ কোটি টাকার বৈদেশিক অনুদানও পাওয়ার আশা করছে সরকার। সব মিলিয়ে বাজেটে সরকারের মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। আর ঘাটতি থাকছে ৯২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা।

এ ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে সরকার ঋণ নেবে, ৩০ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীন ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয়পত্র মিলিয়ে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকার যোগান দেওয়ার পরিকল্পনা থাকছে বাজেটে। সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পুরণে ৩ লাখ নতুন করদাতা সনাক্ত করণের নির্দেশনা দেবেন অর্থমন্ত্রী। এজন্য করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে আর বাড়ানো হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে প্যাকেজ মূসক বহাল রেখে, মূসকের আওতা এবং পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্যাকেজ মূসকের পরিমাণ ১৪ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেবেন অর্থমন্ত্রী। চাল আমদানিতে কর ১০% থেকে বাড়িয়ে ২৫% করার প্রস্তাব দেয়া হবে।

কর্নফ্লাউয়ার টালকম পাউডারসহ প্রায় ১০০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হচ্ছে। কমছে হাইব্রিড গাড়ি, গ্যাস সিলিন্ডার, ওয়াই-ফাইসব ১৫০টি পণ্য ও সেবার কর। পোশাক কারখানার উৎসে কর ০.৩% থেকে বাড়িয়ে ১% এবং এ খাতের করপোরেট কর ৩৫% থেকে কমিয়ে ১৫% করা হতে পারে। শেয়ার বাজার থেকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার থেকে বাড়ানো হচ্ছে। এবারও বহাল থাকছে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ। এ ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেতে কর ১০% এর বদলে ৫% করা হতে পারে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com