শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

English Version


মানিকগঞ্জে সন্ত্রাসীকান্ড ’পুলিশের ঘুষ’ সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

মানিকগঞ্জে সন্ত্রাসীকান্ড ’পুলিশের ঘুষ’ সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা



নববার্তা রিপোর্ট:

গত বছরের ২৪ আগষ্ট মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার চিহ্নিত সন্ত্রাসী  ও একাধিক মামলার আসামী নুরুল ইসলাম বাহিনীর অপকর্মের প্রতিবেদন একাধিক পত্রিকায় প্রকাশ করলে সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান ও  মামলার বাদীর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন সন্ত্রাসী নুরুল  ইসলাম ও তার বাহিনী। সিংগাইর থানার এস আই কাজল সন্ত্রাসী নুরুল ইসলাম বাহিনীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে আদালতে মিথ্যা রিপোর্ট পেশ করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়,  গত বছর ২৭ আগষ্ট পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একাধিক মামলার আসামী সন্ত্রাসীদের লিডার নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খুন- জখম করার উদ্দেশে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাদীনির বাড়িতে প্রবেশ করে বাদীনির পরিবারের সবাইকে আক্রমণ করেন।পরিবারের লোকজন দৌড়ে ঘরে প্রবেশ করে সকাল ৬ টা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মোট সাড়ে ৯ ঘণ্টা ঘরের দরজা -জানালা বন্ধ করে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন।

আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই ভুক্তভোগীদের ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে খুন -জখমের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেন আসামী পক্ষ। এছাড়াও এ বিষয়ে কেউ পুলিশ সাংবাদিককে জানালে তাদের সবাইকে খুন করে লাশ গুম করারও হুমকি দিয়েছেন আসামী পক্ষ। বাদী পক্ষ গৃহবন্ধী অবস্থায় প্রথমেই সিংগাইর থানার ওসিকে ফোন করে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন এবং তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য সাহায্য চান কিন্তু কোন ধরনের সাহায্য পাননি। ওসির পক্ষ থেকে কোন ধরনের সাহায্যে না পাওয়ার ফলে মানিকগঞ্জ জেলার এসপি মাহফুজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়াও বাদী পক্ষের একটি মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মমিনুল ইসলাম ও আরেক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ জেলার পিভিআই এর  এসআই মুজিবুর রহমান ও সিংগাইর থানার ডিউটি অফিসারকে একাধিকবার ফোনে কান্না কন্ঠে অনুনয় বিনয় করার পরেও ঘটনাস্থলে কেউ উপস্থিত হননি ।

ঘটনা শুরু হওয়ার পর পরই এলাকার মেম্বার মোঃ মোতালেব হোসেন ও চেয়ারম্যান হালিম রাজুকে বিষয়টি একাধিকবার অবগত করা হলেও ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। একপর্যায়ে বাদী পক্ষের আত্মীয় একই উপজেলার বাহাদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান মেম্বার পাবেল  থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে সম্পূর্ণ ঘটনার বর্ণনা দেন এবং ভুক্তভোগীদের সাহায্য করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশ যাননি ।

প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে ঘুষ নিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে পুলিশ

বিষয়টি ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউণ্ডেশনের  চেয়ারম্যান ও অপরাধ অনুসন্ধান টিম লিডার সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান বিষয়টি ওসিকে অবগত করেন এবং বাঁচার জন্য আকুতি মিনতি করেন । আতিকুর রহমান বিষয়টি জানার পর পরই ওসিকে একাধিকবার ফোন করেন কিন্তু ওসি ফোন রিসিভ করেন নি। এছাড়াও এলাকার চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করা হলে কিছুক্ষণ পরেই চেয়ারম্যানের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সমস্যার সমাধান করবেন বলে আতিকুর রহমানকে নিশ্চয়তা প্রদান করেন। কিন্তু সারাদিনেও চেয়ারম্যান বা তার কোন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে আসেন নি।

ওসি ও চেয়ারম্যান এর পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা না পাওয়ার ফলে বিষয়টি অবগত করার জন্য মানিকগঞ্জের এসপি মাহফুজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেন নি। একপর্যায়ে আতিকুর রহমান থানার ডিউটি অফিসারের সাথে একাধিকবার কথা বলেন এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার করার জন্য অনুরোধ করেন। আতিকুর রহমানের বিশেষ অনুরোধে সাড়া দিয়ে বিকাল সাড়ে তিনটার সময় বাদী পক্ষের সাধারণ ডায়েরির তদন্তকারী অফিসার  এএসআই মানিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসেন এবং  বন্ধীদশা থেকে বাদী পক্ষের লোকজনকে উদ্ধার করেন।

একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে  আটক করে থানায় নিয়ে যাবেন বলে শাসিয়ে দেন আসামী পক্ষের সবাইকে এএসআই মানিক । এএসআই মানিক আসামী পক্ষের লোকজনকে শাসিয়ে দেওয়ার সময় বাদী পক্ষের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকেই এএসআই মানিক তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার থেকে  আতিকুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ফোন করে ওই দিনের সমস্ত ঘটনার বর্ণনা দেন এবং তার উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা আর হবেনা বলে নিশ্চয়তা প্রদান করেন এএসআই মানিক।

আতিকুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে এএসআই মানিক বলেন, ভবিষ্যতে আজকের মত একই ধরনের আচরণ করলে আসামী পক্ষের সকলের বিরুদ্ধে আমি কঠিন ব্যবস্থা নিবো। এদিকে পুলিশের উপস্থিতি জানতে পেরে ঐ ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মোতালেব হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আসামী পক্ষের হয়ে স্বাক্ষী দেন। এছাড়াও উপস্থিত সকলের সামনে সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থা নিয়ে কিছু বাজে মন্তব্য করেন মেম্বার মোতালেব হোসেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আসামী পক্ষের সব ধরনের অপরাধের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন  মেম্বার মোতালেব হোসেন। এই বিষয়ে জানার জন্য আতিকুর রহমান মোতালেব হোসেন মেম্বারকে কয়েকদিন একাধিকবার ফোন করার পর একপর্যায়ে ফোন রিসিভ করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। আলোচনার একপর্যায়ে আসামীদের পক্ষে সাফাই স্বাক্ষী দেন এবং এলাকার মেম্বার- চেয়ারম্যানের কথা অমান্য করে কোর্টে মামলা করায় বাদী পক্ষের উপর অসন্তোষের কথা জানান মেম্বার মোতালেব হোসেন । এদিকে বাদী পক্ষ ও এলাকার শান্তিপ্রিয় লোকজন গত ২৩/৭/২০১৭ ইং  তারিখের প্রথম ঘটনার পর থেকেই বার বার অভিযোগ করে আসছেন, আসামী পক্ষ মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে থানা পুলিশসহ সবাইকে আগেই ম্যানেজ করে রেখেছেন। ২৭শে আগস্ট সাড়ে ৯ ঘন্টা গৃহবন্ধীর ঘটনা প্রমাণ করে বাদী পক্ষের অভিযোগের যথেষ্ট সত্যতা আছে  বলে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ । তিনটি মামলা ,২টি ৭ ধারা মামলা ও একটি সাধারণ ডায়েরী করার পরেও বাদী পক্ষের প্রতি থানা পুলিশ ও মেম্বার চেয়ারম্যানের এত অবহেলা কেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রশ্ন।

ঐ দিনের ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ২৮/৮/২০১৮ খ্রি. তারিখ সন্ত্রাসীদের লিডার নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে  মানিকগঞ্জ জর্জ কোর্টে বাদী পক্ষের  বিরুদ্ধে একটি কাউন্টার মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এমনকি সত্য নিউজ প্রকাশ করায় সিনিয়র সাংবাদিক ও ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউণ্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান  আতিকুর রহমানকে ১২ নম্বর আসামী করা হয়েছে।

মিথ্যা অভিযোগে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, সংবাদ প্রকাশ করার জের

নুরুল ইসলামের মামলার নথি থেকে সাংবাদিক আতিকুর রহমান এর বিরুদ্ধে অভিযোগটি হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো।

১ থেকে ১১ নং আসামীগনের সক্রীয় সহযোগিতায় ও কু-প্ররোচনায় ১২ নং আসামী   তাহার মোবাইলের ইমু হইতে বাদীর এবং তাহার কতক লোকজনের মানহানিকর ছবি এবং লেখালেখি সৃজন করিয়া বাদী ও তাহার কতক স্বাক্ষীগনের ইমুতে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছাড়িয়া দেয়। নুরুল ইসলামের মামলায় আতিকুর রহমানের কোন ধরনের কর্ম -পরিচয় তুলে ধরেননি । এমনকি মামলার নথিতে শুধু আতিকুর রহমানের নাম ও মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে নুরুল ইসলাম ও তার দোসোরদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা, ২টি ৭ ধারা ও একটি সাধারণ ডায়েরী এবং একাধিক পত্রিকায় নিউজ করার বিষয়টি উল্লেখ করেন নি। আমাদের অপরাধ অনুসন্ধানে নুরুল ইসলামের মামলার অভিযোগের কোন ধরনের সত্যতা পাইনি। বরং বাদী পক্ষের লোকজন ও সাংবাদিক আতিকুর রহমানকে হয়রানি করার জন্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছেন নুরুল ইসলাম।

আমাদের অনুসন্ধানে আরও জানা যায় , মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার পানিসাইল গ্রামের মৃত আব্দুল হক ওরফে হক আলি মূলত একজন সুদের ব্যবসায়ী, স্বাধীনতা বিরোধী ও সন্ত্রাসীদের লিডার ছিলেন।  দৈনিক /সাপ্তাহিক /মাসিক ও বার্ষিক সুদের চুক্তিতে টাকা  খাটাতেন। গরীব ও অসহায় মানুষেরা হক আলির সব ধরনের অবৈধ সুদের চুক্তি মেনে টাকা নিতে বাধ্য হতেন। সুদ দিতে দেরী হলে গরীব অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উপর শুরু হয়ে যেত নানান প্রকার জুলুম অত্যাচার। টাকা ফেরত না দিতে পারলে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় জোর করে বাড়িঘর দখল করে নিতেন হক আলি । সুদের টাকার জন্য তার বিরুদ্ধে মানুষ খুনের কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হক আলির অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলার  মত কেউই ছিলনা । যদি কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করতেন তার জীবনে নেমে আসতো কঠিন নির্যাতন খুন জখমের মত ঘটনা। এছাড়াও হক আলি এলাকার বিভিন্ন প্রকার অপরাধীদেরকে আশ্রয়- প্রশ্রয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এমনকি হক আলির নেতৃত্বে চুরি, ডাকাতি, খুন – জখম, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে যা হক আলির ২য় ছেলে নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে বর্তমানে অব্যাহত আছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী হক আলি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। একই সাথে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় স্বাধীনতার পক্ষের মানুষের উপর সব ধরনের জুলুম, নির্যাতন ও লুটতরাজ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ অসংখ্য অভিযোগ দিয়েছেন হক আলি ও তার সন্ত্রাসী ছেলেদের বিরুদ্ধে। হক আলির ৫ ছেলে ও এক মেয়েকে  তার মতো করে তৈরি করেছেন। ছেলেদেরকে বিএনপি জামাতের ক্যাডার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। গত কয়েক বছর আগে হক আলির বড় ছেলে আরেক সন্ত্রাসী ও সুদখোর আবদুস সামাদ মাত্র ২ হাজার টাকার জন্য একই গ্রামের পানিসাইল বাজারের পাশে নুরু মিয়ার স্ত্রীকে নির্যাতন করে খুন করেন। এই বিষয়ে মামলা হয়েছিল কিন্তু কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে রফা দফা করেন। এভাবে ঐ সন্ত্রাসীদের হাতে অসংখ্য মানুষ খুন হয়েছেন। হক আলির থেকেও তার ছেলেরা আরও ভয়ংকর। গত দুই বছর আগে মৃত্যুর  মধ্য দিয়ে হক আলির জীবনের অবসান ঘটলেও ছেলেরা সব ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।  হক আলির  ছেলে মেয়ে হচ্ছেন,  আবদুস সামাদ(৬০) , মৃত রাহেলা বেগম(৫৮), নুরুল ইসলাম (৫৫), বসির(৪৫), নাসির(৪০), কহিনুর (৩৮)।

আন্না বেগমের মামলার আসামীগণ হচ্ছেন হক আলির ৫ ছেলে ও তার মেয়ের স্বামীর বাড়ির লোকজন। আসামী পক্ষ বিএনপি- জামাতের ক্যাডার বাহিনী। গত বিএনপি -জামাত জোট সরকারের আমলে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজী থেকে শুরু করে সব ধরনের অপকর্মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আসামী পক্ষ। বর্তমান সরকারের কিছু হাইব্রিড নেতাদের সাথে লিয়াজু করে তাদের পূর্বের সব ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ি- গাড়ি থেকে শুরু করে কোন কিছুর অভাব নেই। এক কথায় আসামী পক্ষ খুবই প্রভাবশালী তাই যখন যা খুশি তাই করে যাচ্ছেন । যেকোনো ধরনের অপরাধ করে টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে নিচ্ছেন। এরা পুলিশ সাংবাদিক কাউকে পরোয়া করে না।

উল্লেখ্য  , ১ থেকে ৫ নং আসামী  ও বাদী পক্ষ একই বংশের লোক। ৬ থেকে ৯ নং আসামী ২ নং আসামী কলিমুদ্দিনের শ্যালক । কলিমুদ্দিন ও তার শ্বশুর হক আলি একই নীতি আদর্শের মানুষ। নিজের ১ মেয়ে ও ২ ছেলেকেও নিজের মত করে তৈরি করেছেন। তার ছেলে মেয়ে হচ্ছেন , আলামিন(৩৮), জামাল(৩০), রেহানা(২৮)  । রেহানার এই পর্যন্ত দুইটি বিবাহ হয়েছে কিন্তু দুই স্বামী কর্তৃক ডিভোর্স হয়েছেন । ১ম স্বামীর ঔরসে ১৩ বছরের একটি মেয়ে আছে। সে বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ২য় স্বামীর ৬ বছরের একটি ছেলে আছে । কলিমুদ্দিন শ্বশুর  ও শ্যালকদের সহযোগিতায় সব ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছেন বহু বছর যাবৎ । ১ নং আসামী বাদীনি আন্না বেগমের চাচা শ্বশুর । বাদী পক্ষ আর্থিকভাবে আসামী পক্ষের তুলনায় খুবই নগণ্য, শান্তিপ্রিয় ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ।

আসামী পক্ষ অর্থনৈতিক শক্তি ও পেশীশক্তি কাজে লাগিয়ে বাদী পক্ষকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য কয়েক বছর যাবত নির্যাতন করে আসছেন। এছাড়াও আসামী পক্ষ দীর্ঘদিন যাবত বাদীনিকে কু – প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। আসামী পক্ষের কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় গত বছর ২৩  জুলাই রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকার সময় স্বামীর অনুপস্থিতিতে সু-কৌশলে বাদীনির ঘরে প্রবেশ করেন এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন। বাদীনির আর্তচিৎকারে পরিবারের সবাই এগিয়ে আসলে পরিবারের সবাইকে  কঠিন নির্যাতন করেন এবং  স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় এক লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যান । এই ঘটনার পর পরই এলাকার লোকজনকে জানানো হলে এবং মামলা করার প্রস্তুতি নিলে আসামী পক্ষ খবর পেয়ে পুনরায় এসে  সবাইকে খুন করার উদ্দেশে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন। ঘটনার পর পরই আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন। ভুক্তভুগীদের আত্মীয়রা সিংগাইর থানায় মামলা করতে গেলে  পুলিশ মামলা না নিয়ে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন।

অবশেষে মানিকগঞ্জ জর্জ কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সিআর – ৩২৯ , তারিখ: ২৪/৭/২০১৭  ধারা ৩২৩/৩২৫/৩৭৯/৩৮০/৩০৭/৩৫৪/৫০৬( ll )
আসামীগণ হচ্ছেন,  কলিমুদ্দিনের ছেলে জামাল মিয়া (২৬) , চানু মিয়ার ছেলে কলিমুদ্দিন (৬০) ,  কলিমুদ্দিনের ছেলে আলামিন (৩৭) ,  আঃ আলীর ছেলে হারু মিয়া (৩৭) ,  মৃত আঃ আলীর ছেলে মিন্নু আলী (৫০) ,  মৃত আঃ হক আলীর ছেলে নুরু মিয়া (৫৫) ,  আঃ হক আলীর ছেলে কহিনুর (৪০) ,  আঃ হক আলীর ছেলে বছির মিয়া (৪৫) ,  আঃ হক আলীর ছেলে নাসির (৫০)।

প্রথম মামলা করার পরে আসামীপক্ষ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বার বার হত্যার হুমকি দিলে বাদী পক্ষের নিরাপত্তার জন্য একটি ১০৭, ১১৭ ধরায় মামলা দায়ের করা হয়।

যাহার নং – ৬২১, তারিখ : ২৬/৭/২০১৭

আসামী পক্ষ ৭ ধারা মামলা করার কথা জানতে পেরে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে জোর পূর্বক বাদীনির বাড়িতে প্রবেশ করে বাদীনির পরিবার এবং   স্বাক্ষীগনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনার পর পরই আহতরা  হাসপাতালে ভর্তি হন। এই বিষয়ে বার বার থানাকে অবগত করা হলেও কোনও ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপায়ান্তর না পেয়ে পুনরায় আলিমুদ্দিন বাদী হয়ে কোর্টে মামলা দায়ের করেন।

মামলা নং সিআর -৩৫৩ , তারিখ : ৩১/৭/২০১৭

অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আসামী হলেন প্রতিবাদকারী নিজেই

কোর্টে দুইটি মামলা ও একটি ৭ ধারা করার পরেও আসামীপক্ষ হত্যার হুমকি -ধামকী অব্যাহত রাখে। গত ২২ আগস্ট  বিনা অনুমতিতে বাদীনীর বাড়িতে প্রবেশ করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ  হত্যার হুমকি দিয়েছেন । উপায় আপায় না পেয়ে পরের দিন নিরাপত্তার জন্য সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার নং – ৯০১ , তারিখ : ২৩/৮/২০১৭  । নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও  গত ২৬/৮/২০১৭ খ্রি.  তারিখ পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেনি। এমনকি সাধারণ ডায়েরীর তদন্তকারী কর্মকর্তা কে তা-ও বাদীকে অবহিত করা হয়নি। সাধারণ ডায়েরীর বাদী কয়েকদিন পর্যন্ত থানার নির্ধারিত টেলিফোন নাম্বারে ফোন করেও তদন্ত কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বার পাননি । অবশেষে  ২৭ আগস্ট বাদীপক্ষের লোকজনকে বন্ধীদশা থেকে  মুক্ত করেন সাধারণ ডায়েরীর তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মানিক। একজন ডিউটি অফিসার কর্তৃক যে সমস্ত মামলা বা সাধারণ ডায়েরী গ্রহণ করা হয় সেই সমস্ত মামলা বা সাধারণ ডায়েরীর তদন্তকারী কর্মকর্তা সে নিজে হতে পারে না কিন্তু এএসআই মানিক কর্তৃক জিডি গ্রহণ করে সে নিজেই তদন্ত কর্মকর্তা হন কীভাবে ? আসামী কর্তৃক বাদীর লোকজন ১ম যেদিন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন সেদিনের ঘটনার পর পরই বিষয়টি ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আতিকুর রহমানকে অবগত করেন। আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের অনুসন্ধান টিম দীর্ঘ অনুসন্ধান করে গত ২৫ আগস্ট একাধিক অনলাইন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করেছিলাম । নিউজ প্রকাশ করার পর থেকেই নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে নিয়মিত মিথ্যা বানোয়াট কথাবার্তা লিখে যাচ্ছেন। এছাড়াও ফেইসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ হুমকি ধামকি  দিয়ে আসছেন। এমনকি একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করারও হুমকি দিয়ে আসছেন । একপর্যায়ে গত ২৮ আগস্ট নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ওদের এই ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বিভাগের সিও শেখ আকাশ সাহেবকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি ধামকি  দিয়ে আসছেন। এছাড়াও যারাই ওদের এই ধরনের অপরাধের প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকে গালমন্দ ও হুমকি ধামকি  দিয়েছেন। আসামী পক্ষের অপকর্মের বিষয়ে শেখ আকাশ ও আতিকুর রহমান সিংগাইর থানায় ওসিকে অবগত করেছেন। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন।

এদিকে আসামী পক্ষকে রক্ষা করার জন্য সিংগাইর উপজেলার কিছু হলুদ সাংবাদিকদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে। এরা টাকার বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য লিখে যাচ্ছেন। এছাড়াও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধ ও করে যাচ্ছেন সাংবাদিক নামধারী এই চক্রটি। এদিকে আসামী পক্ষ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পূর্বের ন্যায়ে হুমকি ধামকি দেয়া অব্যাহত রাখেন বাদী পক্ষের লোকজনকে।                      

 আমাদের একাধিক অনুসন্ধান টিম  দীর্ঘ অনুসন্ধান করে বাদীপক্ষের অভিযোগের যথেষ্ট সত্যতা পেয়েছি। বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও ফেইসবুকে ভাইরাল। অতি শীঘ্রই আসামী পক্ষের সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ।

সূত্র : ক্রাইম পেট্রোল ও একাধিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com