,

লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যায় ৬ জঙ্গিকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

অভিজিৎ রায়-দীপন- নীলাদ্রিসহ কয়েকজন ব্লগারকে হত্যায় সন্দেহভাজন ৬ জনের ছবি প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সন্দেহভাজন ৬ হলো : এবিটির অন্যতম সংগঠক শরীফ ও সেলিম এবং সদস্য সিফাত, রাজু, সিহাব ও সাজ্জাদ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো সন্দেহভাজন ৬ জনের ছবিসহ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সঠিক নাম-ঠিকানা পরিচয়সহ তাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য তথ্যদাতাকে পুরস্কার দেয়া হবে। এ জন্য সর্বসাধারণের সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

আর বলা হয়, এবিটির শীর্ষ সারির দুই সংগঠক শরিফুল ওরফে সাকিব ও সেলিম ওরফে ইকবালকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা করে এবং সদস্য সিফাত ওরফে সামির, আঃ সামাদ ওরফে সুজন, শিহাব ওরফে সুমন এবং সাজ্জাদ ওরফে সজিবের জন্য ২ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেয়া হবে। এ বিষয়ে তথ্য দেয়ার জন্য ০১৭১৩৩৭৩১৯৪, ০১৭১৩৩৭৩১৯৮, ০১৭১৩৩৭৩২০৬ এবং ০২-৯৩৬২৬৪০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়াও dcdbsouth@police.gov.bd.com-এ ঠিকানায় ইমেইলও পাঠানো যাবে।

শরীফ
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সংগঠক শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরিফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী-১ নামে পরিচিত। টিএসসিতে অভিজিৎ রায় হত্যা, গোড়ানে নীলাদ্রী নীলয় হত্যা, লালমাটিয়ায় আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টা এবং সাভারে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যা মামলার তদন্তে তার সরাসরি উপস্থিতি ও সার্বিক নের্তৃত্ব প্রদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি ডিবি পুলিশের।

এছাড়াও শরিফুল ও জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা, তেজগাঁও এ ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা এবং গত দুই মাসে সূত্রাপুরে সংগঠিত ব্লগার নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে জানা যায়। অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতি ধরা পড়ে।

শরীফুলের বাড়ি বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়াও আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন অপারেশনের সদস্য নির্বাচন ও সংগ্রহে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তার সমন্ধে তথ্য দাতাকে ৫ লাখ টাকা পুরুস্কার ঘোষণা করেছে ডিএমপি।

সেলিম
এবিটির আরেক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সংগঠক সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদী-২ নামে পরিচিত। সেলিমও প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাসহ একই রকম সকল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি উপস্থিত ছিল বলেই দাবি পুলিশের।

এছাড়াও গত দুই মাসে সূত্রাপুরে সংগঠিত ব্লগার নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যাকাণ্ডেও তার সরাসরি উপস্থিতি ও সার্বিক নের্তৃত্ব প্রদাণের বিষয়টি মামলার তদন্তে জানা যায়।

সেলিম শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলে। তার উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, চশমা পড়ে এবং শ্যামলা বর্ণের, তার বাড়ি উত্তরবঙ্গে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সদস্যদের সামরিক, আইটি ও কথিত জিহাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তার সমন্ধে তথ্য দাতাকে ৫ লাখ টাকা পুরুস্কার দেয়া হবে।

সিফাত
সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তার বাড়ি সিলেট অঞ্চলে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যতম সদস্য। আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ওই হত্যাকাণ্ডে সে সার্বিক সমন্বয়কারী ও অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে।

এছাড়াও তদন্তে সাভারে শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি পাওয়া যায়। তার সর্ম্পকে তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরুস্কার ঘোষণা করেছে ডিএমপি।

রাজু
আব্দুস সামাদ ওরফে সুজনৌরফে রাজু ওরফে সালমান ওরফে সাদ এবিটির আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বাড়ি কুমিল্লা অঞ্চলে। সে সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যতম সদস্য। প্রকাশক আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টা ঘটনার মামলার তদন্তে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। হত্যাচেষ্টায় সে সার্বিক সমন্বয়কারী ও হত্যাচেষ্টায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালনসহ সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

সে এবিটির দুর্ধর্ষ সক্রিয় সদস্য হিসাবে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়। এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সর্ম্পকে তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেবে ডিএমপি।

শিহাব
এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাদের সংগঠনে শিহাব @ সুমন @ সাইফুল নামে পরিচিত। তার বাড়ি চট্রগ্রাম অঞ্চলে বলে জানা যায়। সে সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যমত সদস্য। প্রকাশক আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টা ঘটনার মামলার তদন্তে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ওই হত্যাচেষ্টায় সে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। সে এবিটির বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়। এবিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সর্ম্পকে তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।

সাজ্জাদ
সাজ্জাদ ওরফে সজিব ওরফে সিয়াম ওরফে শামস নামে পরিচিত এবিটির এ গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের বাড়ি ঢাকার পার্শ্ববর্তী কোনো জেলায়। সে সংগঠনের সামরিক শাখার একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল নেতা। অভিজিৎ রায় হত্যা, নিলাদ্রী নীল হত্যা মামলার তদন্তে তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ওই সকল ঘটনায় সে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

এছাড়াও তদন্তে জানা যায় সাজ্জাদ সাভারে শান্ত মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যাকাণ্ডেও সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এবিটির দুর্ধর্ষ সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করে বলে জানা যায়। সাজ্জাদ সম্পর্কে তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেবে ডিএমপি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com