,

আলোকিত মানুষ একজন আদম তমিজি হক : আবু রায়হান মিসবাহ

মাত্র ৯ বছর বয়সের পাড়ি জমান লন্ডনে। সেখানেই তিনি তার লেখাপড়া শেষ করেন। চাইলে সেখানেই স্থায়ী হতে পারতেন। দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটালেও মাতৃভূমির প্রতি টান বিন্দুমাত্র কমেনি। দেশের প্রতি ভালবাসার টানে ফিরে আসেন দেশে। বাবার কাছ থেকে বুঝে নেন হক গ্রুপের দায়িত্ব। হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিজের মতো করে। স্বাধীনতা অব্যবহিত পরে ১৯৭৬ সালে জন্ম নিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাবার মতোই একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে নিজেকে আলোকিত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজেকে নিবেদিত করেছেন সাধারণ মানুষের সেবায়। বিভিন্ন সামাজিক এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বরাবরাই অবদান রেখে চলেছেন। দেশে বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে অবদান রেখেছেন নিজেদের সাধ্যমত। আবার সাম্প্রতিক সৃষ্ট রোহিঙ্গা সমস্যায়ও দেখা গেছে তার উদার অংশগ্রহণ। নিজের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে গেছেন দুঃস্থ রোহিঙ্গাদের সেবায়।

সৎ, নির্লোভ বহুমাত্রিক কৃতিত্বের অধিকারী একজন আলোকিত মানুষ, যিনি সারা জীবন অসহায় মানুষ ও সমাজের জন্য নীরবে-নিভৃতে কাজ করে চলেছেন। সমাজকে আলোকিত করার এক মহাকর্মযজ্ঞে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন সারাটি জীবন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এ সাদা মনের আলোকিত মানুষটির নাম আদম তমিজি হক। সব শ্রেণির মানুষকে আপন করে নেয়ার গুণ রয়েছে তার মধ্যে। তিনি সকলের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন খোলা মনে। অর্থ-প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও তিনি নিজেকে শৈশব থেকে জনসেবায় নিয়োজিত রেখেছেন।

জীবনের শৈশব ও কৈশোর প্রবাসে কাটালেও নিজের মন বরাবরই দেশে পড়ে ছিল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার বাবার ছোটবেলা থেকেই খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সূত্রে পারিবারিকভাবেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত। ৯ বছর বয়সে বিদেশ গমন করে এবং সেখানেই পড়াশোনা শেষ করেন। কিন্তু মন পড়ে ছিল দেশে। সময় ও সুযোগ পেলেই দেশে চলে আসতেন। দেশ তাকে সব সময়ই টানতো। তাই পারিবারিকভাবে দেশকে চেনা ও বুঝা বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে। বাবার কাছ থে‌কে বঙ্গবন্ধুর গল্প শু‌না, বাবার কলকাতায় লেখাপড়া করার সুবাদে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক তৈ‌রি হয়। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, বাবার কাছ থেকে বুঝতে পারেন। কারণ, বঙ্গবন্ধুই দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

যান্ত্রিক এ যুগে মানুষ বড়ো আত্মকেন্দ্রিক। নিজের জগত নিয়ে ব্যস্ত হওয়ায় অন্যকিছু নিয়ে ভাবার সময় কারোর নেই। মানুষ যেন ভুলে গেছে গীতার সেই অমৃত বানী “যত্র জীব তত্র শিব” অর্থাৎ স্রষ্টার সৃষ্টির মধ্যেই শিব বা সৃষ্টিকর্তা বিরাজমান । আর সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকে ভালবাসলেই স্রষ্টার নৈকট্য লাভ সম্ভব। স্বার্থপর পৃথিবীতে নিজস্বার্থ ছেড়ে নিস্বার্থ হওয়া সাদা মনের মানুষ পাওয়া ভার। কিন্তু এই কঠিন ব্যস্তবতায়ও কিছু মানুষ থাকে যাঁদের জন্যই বোধকরি এগিয়ে যাবার আলো দেখতে পাই। তেমনি একজন আলোকিত মানুষ আদম তমিজি হক।

একজন সংস্কৃতিমনষ্ক রাজনীতিক হিসাবে তাঁর কাজ ছড়িয়ে আছে দেশের সর্বত্র। তাঁর কাজকর্মের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত উন্নত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। যা সমাজের অন্যসব মানুষদের মধ্যে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। সুন্দর ও ভাল মনের মানুষ হলে জীবনের সকল পর্যায়ে ভাল কাজ করা সম্ভব এ বিষয়টির অন্যতম নিদর্শন আদম তমিজি হক। তিনি ভালবাসা, দয়া ও সৌহার্দ্যরে এক অনন্য প্রতিমূর্তি। তার সেই স্বত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে দানশীলতার বদান্যতায়। ইইতোমধ্যে ব্যতিক্রমী ও বরেণ্য এ দ্বিতীয় প্রজন্মের শিল্পপতি ও উদীয়মান রাজনৈতিকের অনন্য কিছু জনসেবা সকলের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

যে মানুষটি দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে সেই মানুষটিকে এই দেশের কিছু ষড়যন্ত্রকারী হত্যা করেছে। এই বিষয়টি সবসময়ই তার মনকে পীড়া দেয়। তাই, বিদেশে পড়াশোনা করলেও দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছে- সে সোনার বাংলা গড়ার জন্য যতটুকু সম্ভব অবদান রেখে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ী হিসেবে দক্ষ আদম তমিজি হকের জনসেবায়ও সুনাম রয়েছে। টঙ্গী, গাজীপুরের বেশ কয়েকটি মসজিদের উন্নয়নসহ আঞ্জুমান হেদায়াতুল উম্মত এতিমখানার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। শীতার্ত মানুষের জন্য প্রতিবছর কম্বল বিতরণ করে আসছেন। কক্সবাজারের হিমছড়িতে তমিজুল হক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

ব্যবসায়িক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ইচ্ছা আছে নিজেকে মূলধারা রাজনীতিতেও প্রতিষ্ঠিত করতে। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনসেবায় কাজ করতে চান। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতি দেশের মানুষের এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা বিদ্যমান। তবে এই সব নেতিবাচক ধারণা একমাত্র তরুণ ও আদর্শবান রাজনীতিবিদরাই দূর করতে পারেন বলেই তার বিশ্বাস। ‘বর্তমান দেশ পরিচালনার জন্য অ্যাডভান্সড এডুকেইটেড ও সফিস্টিকেটেড লোক প্রয়োজন। যার সবগুলো গুণই তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে বিদ্যমান। কয়েক বছর পরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে চলে যাবে। তাই যু‌গের সা‌থে তাল মি‌লি‌য়ে চল‌তে হ‌লে তরুণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

সবকিছু ঠিক থাকলে এবং দেশনেত্রী শেখ হাসিনা চাইলে তিনি রাজধানীর কোন একটি আসন থেকে সামনের সংসদ নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। সেক্ষেত্রে তার নির্বাচনি এলাকা হবে গুলশান। তাঁর ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ মানেই জননেত্রী শেখ হা‌সিনা। তি‌নি এই বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সবই উনার হাতে। শেখ হাসিনা যদি বলেন- রাজনীতিতে আসতে, আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে রাজনীতি আসবো। আর নেত্রি যদি মনে করেন- এখনো আমার আসার সময় হয়নি, তাহলে চুপ থাকবো। আমার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সবকিছুই নেত্রির হাতে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com