,

আইএসের হিটলিষ্টে ১৪০০ ব্যক্তি

জিহাদে সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করছে ইসলামিক ষ্টেটস (আইএস)। এই মিডিয়ার মাধ্যমে জেহাদি তথ্য ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সারা বিশ্বে। সম্প্রতি আইএস রক্ত শীতল করা ‘হিটলিষ্ট’ তৈরী করেছে তারা। ওই হিটলিষ্টের তালিকায় নাম রয়েছে ১৪০০ ব্যক্তির। এদের মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। মার্কিন সেনাবাহিনীর ১০০ জন সদস্যের নাম রয়েছে এফবিআই, নাসা ও ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।  এছাড়াও রয়েছে অষ্ট্রেলিয়ার নাগরিকরা। এদের সবাইকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ‘মেইল অনলাইন’ এ খবর প্রকাশ করে।

ওই খবরে বলা হয়, সম্প্রতি আইএস যে হিটলিষ্ট তৈরী করেছে তাতে সামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনীতিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের নাম রয়েছে। তালিকার মধ্যে মার্কিন সেনা সদস্যরা ছাড়াও অষ্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মচারী অষ্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল অডিট অফিস, এনডব্লিই হেলথ অফিসের কর্মচারী ও যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া এমপি’রা ওই হিষ্টলিষ্টে রয়েছেন। আইএস’র হ্যাকিং বিভাগ এসকল ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকিং করে নামের তালিকা শ্রেনীবিন্যাস করেছে। তাতে ব্যক্তির নাম, ই-মেইল, পাসওয়ার্ড, পেশা, মোবাইল ফোন নম্বর ও পোষ্ট কোড উল্লেখ রয়েছে। জেহাদি সংগঠনটি তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সার্ভার, ডাটাবেইজ হ্যাক করে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ১০০ জন সেনা সদস্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে যাতে ওই দেশে অবস্থান করা আইএস সদস্যরা তাদের টার্গেট করতে পারে।

মার্কিন সৈন্যদের ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাক করা প্রসঙ্গে পেন্টাগনের মুখপাত্র স্টিভ ওয়ারেন বলেছেন, হ্যাক করা তালিকায় অনেক সেনা সদস্য মার্কিন বাহিনীতে নেই।

জিহাদি অষ্ট্রেলিয়ান নাগরিক নীল প্রকাশ ও বৃটিশ জিহাদি জুনায়েদ হোসেনও টুইট করেছেন হিটলিষ্টে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে।

আইএস’র একটি নিজস্ব হ্যাকিং ডিভিশন রয়েছে। এই ডিভিশনে কর্মরতরা ‘সাইবার আর্মি’ হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালের শেষের দিকে এই ডিভিশনটি প্রতিষ্ঠা পায়। সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের ঘটনা উদ্বিগ্ন পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এই ডিভিশন প্রতিষ্ঠা পাবার পর আইএস হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য , অষ্ট্রেলিয়ার ও ফ্রান্সের ৫টি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে। অষ্ট্রেলিয়া বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের সোশাল মিডিয়া আউটলেট, ফরাসী টিভি ৫ মন্ডে লাইফ ফিড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ডাটাবেইজ, টপ সিক্রেট বৃটিশ সরকারের ই মেইল হ্যাকিং করে গুরুত্বপূর্ন তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে আইএস’র জিহাদিরা।

তবে আইএস সদস্যরা হ্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তথ্যগুলো পেয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। কমপিউটর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ট্রয় হান্ট বলেছেন, জনসাধারনের জন্য যে তথ্যগুলো উন্মুক্ত সেখাান থেকে কিছু নেয়া হয়েছে। তারা যে হ্যাকিং বা সাইবার ক্রাইম করতে অভ্যস্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে আইএস’র হ্যাকিং ডিভিশনের নেতা বৃটিশ নাগরিক জুনায়েদ হোসেন গত আগষ্ট মাসে সিরিয়ায় মার্কিন ড্রোন বিমানের আঘাতে মারা গেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রিটা কাৎজ টুইট করে বলেছেন, ‘আইএস সদস্যরা বলেছে‘ আজ হ্যাকিং, কাল হত্যা’। পেন্টাগন বলেছে, তারা এটা তদন্ত করে দেখছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com